‘ইরান আর আগের মতো নেই’ দাবি নেতানিয়াহুর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৩ ১১:০৬:২৬
‘ইরান আর আগের মতো নেই’ দাবি নেতানিয়াহুর
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশটির সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার ভাষায়, সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ফলে ইরান এখন আগের অবস্থায় নেই।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চালানো হামলায় ইরান ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সামরিক কাঠামোর ওপর গুরুতর আঘাত হানা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের একাধিক শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি দেশটির প্রভাবশালী সামরিক সংগঠন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং বাসিজ বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ইরান আর আগের সেই শক্তিশালী অবস্থায় নেই।” তার দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলাগুলো ইরানের পরমাণু এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পগুলোকে ভূগর্ভে স্থানান্তর করার পরিকল্পনাকে কার্যত ব্যাহত করেছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতি ইসরায়েলের জন্য অঞ্চলে নতুন কৌশলগত জোট গঠনের সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, “আগে এটি সম্ভব ছিল না। কিন্তু এখন আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

-রফিক


যুদ্ধ উত্তেজনায় তেলের দামে নতুন উল্লম্ফন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৩ ১০:৫৯:১৭
যুদ্ধ উত্তেজনায় তেলের দামে নতুন উল্লম্ফন
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি গত কয়েক দশকের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

আন্তর্জাতিক তেলবাজারের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বৃহস্পতিবার একদিনেই ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

বাণিজ্যিক বাজারে অনেক ব্যবসায়ী এখন আশঙ্কা করছেন যে, জ্বালানি বাজারে এই সংকট কয়েক সপ্তাহ নয়, বরং কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

এই দামের উল্লম্ফনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি। বিশ্বে উৎপাদিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির কার্যকর বন্ধ অবস্থা বজায় রাখা হবে। তার এই ঘোষণার পরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি যদি দীর্ঘ সময় অচল থাকে, তাহলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

কারণ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশ তাদের জ্বালানি রপ্তানির জন্য এই পথের ওপর নির্ভরশীল।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি, পরিবহন খাত এবং শিল্প উৎপাদনের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ করে জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বাড়া এবং শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

-আল জাজিরা


ইরাকে বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্রের কেসি-১৩৫ সামরিক বিমান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৩ ১০:২৪:৫৮
ইরাকে বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্রের কেসি-১৩৫ সামরিক বিমান
আকাশে উড়ন্ত এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি দিচ্ছে কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল একটি বড় আকারের জ্বালানি সরবরাহকারী রিফুয়েলিং বিমান, যা যুদ্ধবিমানের আকাশে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হয়।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের সামরিক অভিযানের সময় বন্ধুপ্রতিম আকাশসীমায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির সঙ্গে দুটি বিমান জড়িত ছিল বলে জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দুটি বিমানের মধ্যে একটি পশ্চিম ইরাকের একটি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে অন্য বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনার পেছনে শত্রুপক্ষের কোনো হামলা বা নিজেদের বাহিনীর ভুলবশত হামলা (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) দায়ী নয়।

দুর্ঘটনার পরপরই সেন্টকম একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে। তবে দুর্গম ভৌগোলিক পরিবেশ এবং চলমান সামরিক পরিস্থিতির কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে।

এই বিমান দুর্ঘটনার আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, চলমান সংঘাতে তাদের সাতজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রায় ১৪০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল।

বিশ্লেষকদের মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনার পর এই বিমান দুর্ঘটনা মার্কিন বাহিনীর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত বিধ্বস্ত বিমানে থাকা আরোহীদের ভাগ্য সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সাধারণত কেসি-১৩৫ বিমানে তিন থেকে চারজন ক্রু সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।

তবে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

-রফিক


হরমুজ প্রণালিতে কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৩ ০১:১৩:১০
হরমুজ প্রণালিতে কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তখত-রাভানচি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তেহরানে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে তাদের বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে পারাপারের বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই ইরান প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান কিছু দেশের অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করেছে এবং পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে।

তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক আগ্রাসনে যুক্ত হয়েছে, তাদের জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে না।

মাজিদ তখত-রাভানচির ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরানের দৃষ্টিতে যারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে অংশ নিয়েছে, তাদের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ থাকা উচিত নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে ইরান কৌশলগতভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে চাপ প্রয়োগের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় এই রুট দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের এই বাছাই করা নীতি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

সূত্র: আল-জাজিরা


ইরান যুদ্ধে না নামলে সৌদিকে কঠোর ‘পরিণতির’ হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৩ ০০:৫২:৩৮
ইরান যুদ্ধে না নামলে সৌদিকে কঠোর ‘পরিণতির’ হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানে অংশ না নেওয়ায় সৌদি আরবের কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো যদি এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়ায়, তবে ভবিষ্যতে তাদের সম্ভাব্য পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)–এ দেওয়া এক পোস্টে গ্রাহাম অভিযোগ করেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে চলমান অভিযানে সৌদি আরব তাদের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

তার বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

গ্রাহাম প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও যদি সৌদি আরব এমন সংঘাতে অংশগ্রহণে অনিচ্ছা দেখায়, তাহলে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বা নিরাপত্তা চুক্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত কি না।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে যে, ১ মার্চ সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আহত সপ্তম মার্কিন সেনাও পরে মারা গেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এর আগে ইরান সৌদি আরবে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি এবং রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের একটি গোয়েন্দা স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে সৌদি আরব এখনো সরাসরি জড়াতে অনিচ্ছুক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে কিছু প্রভাবশালী রাজনীতিক উপসাগরীয় মিত্রদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ঘিরে মার্কিন কংগ্রেসে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অন্যতম জোরালো কণ্ঠ ছিলেন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম।

-রাফসান


সব মার্কিন ঘাঁটি বন্ধের আল্টিমেটাম দিলেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ২১:৫৩:২২
সব মার্কিন ঘাঁটি বন্ধের আল্টিমেটাম দিলেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তাঁর একটি রেকর্ডকৃত ভাষণ ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। গত রবিবার সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, যেখানে তিনি আঞ্চলিক রাজনীতি ও চলমান সামরিক উত্তেজনা নিয়ে তেহরানের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ভাষণে মোজতবা খামেনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি প্রদান করে বলেন যে, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাসী এবং তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু কেবল মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের এই হামলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ওই অঞ্চলের সব মার্কিন ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করার জোরালো দাবি জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, ঘাঁটিগুলো এখনই বন্ধ না করা হলে সেগুলোতে নিয়মিত আক্রমণ চালানো হবে।

বর্তমান যুদ্ধকালীন সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে নবনিযুক্ত এই সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করেন যে, শত্রুপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে। শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি সম্প্রতি ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অংশ নেওয়া সামরিক বাহিনীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে ইরানের সাহসী যোদ্ধারা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি জানান যে, ওই অঞ্চলের প্রতিরোধ যোদ্ধারাও তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে।

সামরিক আলোচনার পাশাপাশি মোজতবা খামেনি সাধারণ মানুষের জন্য কিছু জনকল্যাণমূলক ঘোষণাও দিয়েছেন। তিনি জানান, চলমান যুদ্ধে যারা আহত হয়েছেন, তাঁদের সরকারিভাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে যারা আর্থিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তাঁদের রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। মূলত কঠোর সামরিক অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ জনকল্যাণ—এই দুইয়ের সমন্বয়েই নিজের প্রথম ভাষণে ভবিষ্যৎ ইরানের রূপরেখা তুলে ধরলেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

/আশিক


ইরানের পাশে দুই মুসলিম দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ২০:৪৭:৩৮
ইরানের পাশে দুই মুসলিম দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠী
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে টেলিভিশন ভাষণ দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দেওয়া এই ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ইরান কোনো পরিস্থিতিতেই আত্মসমর্পণ করবে না এবং চলমান সংঘাতের মুখেও প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে।

তার ভাষণে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহতদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং তাদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ইরান দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তার মতে, ইরান তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাবে।

খামেনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রতিরোধ শক্তি ইসলামী বিপ্লবের আদর্শকে সমর্থন করে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলেই তারা সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

বিশেষভাবে ইয়েমেন ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সংগঠনগুলো ইসলামি বিপ্লবের লক্ষ্য ও আদর্শকে সমর্থন করে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে।

নতুন সর্বোচ্চ নেতা ইরানের সামরিক বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সাম্প্রতিক হামলার সময় দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে এবং তাদের ত্যাগই ইরানকে পরাধীনতা বা বিভক্তির ঝুঁকি থেকে রক্ষা করেছে।

তিনি বলেন, যখন দেশ বহুমুখী চাপের মুখে এবং সামরিক আক্রমণের শিকার, তখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এজন্য তিনি সেনা সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে খামেনি বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী হলেও অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানি বাহিনী কেবলমাত্র মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করছে এবং প্রয়োজন হলে এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকবে।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তাই তিনি এই অঞ্চলের সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি দ্রুত বন্ধ করার আহ্বান জানান।


ইসরায়েলে ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা: রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৮:৫৮:৩৩
ইসরায়েলে ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা: রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল অভিমুখে বৃষ্টির মতো রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরান ও লেবানন থেকে পরিচালিত এই যৌথ হামলায় ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরান থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, এসব হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বুধবার সন্ধ্যা থেকে উত্তর ইসরায়েলে ব্যাপক রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই আক্রমণের ফলে উত্তর ইসরায়েলের লক্ষাধিক বাসিন্দাকে বাধ্যতামূলকভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে হয়েছে।

আইডিএফ-এর তথ্যমতে, হিজবুল্লাহ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে প্রায় ২০০টি রকেট নিক্ষেপ করে। যদিও সব রকেট সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি, তবে বেশ কিছু রকেট সরাসরি বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এতে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলায় একজন ৩৫ বছর বয়সী নারী এবং একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড আদম।

বিস্ফোরণের পর উড়ে আসা ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তারা আহত হন এবং পরবর্তীতে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া বিয়িনা শহরে একটি বাড়িতে রকেট আঘাত হানলে সেখানে অন্তত চারজন তীব্র আতঙ্কজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। হামলার সময় উত্তর ইসরায়েলের গ্যালিলি অঞ্চল ও হাইফা এলাকায় বারবার সাইরেন বেজে ওঠে এবং লেবানন সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।

একই সময়ে ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এটি হিজবুল্লাহর সাথে তাদের একটি ‘সমন্বিত ও যৌথ অভিযান’। আইডিএফ দাবি করেছে যে, ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা সম্ভব হলেও কিছু স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা তেল আবিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত গ্লিলট সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। উল্লেখ্য, এই এলাকায় ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০-এর সদরদপ্তর অবস্থিত। মূলত ইরান ও হিজবুল্লাহর এই সাঁড়াশি আক্রমণে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যভাগে এক ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

/আশিক


নিরাপদ মনে করা বৈরুতের এলাকাতেই ইসরাইলি হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৮:১১:০৭
নিরাপদ মনে করা বৈরুতের এলাকাতেই ইসরাইলি হামলা
ছবি: আল জাজিরা

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের আইচা বাক্কার এলাকায় ভোরের দিকে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে একটি আবাসিক ভবনের দুটি তলা ধ্বংস হয়ে গেছে। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকা কাচ, কংক্রিট ও ধুলাবালিতে ঢেকে যায় এবং বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আল-আহমাদ জানান, মঙ্গলবার ভোর প্রায় ৫টা ২০ মিনিটে তিনি পরিবারের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ একটি প্রবল বিস্ফোরণের শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়।

তিনি বলেন, প্রথম বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে তিনি দ্রুত উঠে সন্তানদের খোঁজ নিতে যান। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আরেকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা পুরো এলাকা আরও কাঁপিয়ে তোলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার ফলে একটি আবাসিক ভবনের অন্তত দুটি সম্পূর্ণ তলা ধ্বংস হয়ে যায়। বিস্ফোরণের শক্তিতে আশপাশের রাস্তা ভেঙে পড়া কাচ, কংক্রিটের টুকরো এবং ধুলায় ঢেকে যায়।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ইসরাইলি কিছু গণমাধ্যম দাবি করেছে, যে অ্যাপার্টমেন্টটিতে হামলা হয়েছে সেটি জামা’আ ইসলামিয়ে (ইসলামিক গ্রুপ) নামের একটি সংগঠনের ব্যবহৃত ছিল। তবে সংগঠনটি এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, তাদের কোনো সদস্য বা কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি।

মোহাম্মদ আল-আহমাদ বলেন, তার বাসা হামলার শিকার ভবনের ঠিক পাশেই অবস্থিত এবং একই উচ্চতায় হওয়ায় তার বাসাটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের কারণে ঘরের প্রায় সব কাচ ভেঙে গেছে এবং ঘরের ভেতর সর্বত্র ভাঙা কাচ ছড়িয়ে আছে।

তিনি আরও জানান, হামলার পর ঘটনাস্থলে একটি অবিস্ফোরিত গোলা উদ্ধার করা হয়েছে, যা বিস্ফোরিত হয়নি। তার মতে, সেটি বিস্ফোরিত হলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও ভয়াবহ হতে পারত।

সূত্র: আল জাজিরা


ইরাকের ইরবিলে বিস্ফোরণ, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি আকাশ হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৭:৫৩:৩৮
ইরাকের ইরবিলে বিস্ফোরণ, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি আকাশ হামলা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের কুর্দি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের রাজধানী ইরবিল শহরের আকাশে দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শহরের আকাশে উড়ন্ত ড্রোনকে লক্ষ্য করে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হলে এই বিস্ফোরণ ঘটে।

মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে জানা যায়, ইরবিলের আকাশসীমায় প্রবেশ করা দুটি ড্রোনকে প্রতিহত করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ড্রোন দুটিকে সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।

ইরবিল মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত শহর হিসেবে পরিচিত। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং কূটনৈতিক স্থাপনা থাকায় অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তার দিক থেকে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হামলার চেষ্টা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এদিকে একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননেও নতুন করে ইসরাইলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক আকাশ হামলা চালিয়েছে।

লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানায়, একটি হামলা নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের হারিস ও কাফরা শহরের উপকণ্ঠে আঘাত হানে। আরেকটি হামলা চালানো হয় টাইর জেলার নাকুরা এলাকার কাছাকাছি স্থানে।

স্থানীয় সূত্রের মতে, এসব হামলার ফলে ওই অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আকাশে যুদ্ধবিমানের তীব্র শব্দ শোনা যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক ও লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত এসব সামরিক ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, ইরান এবং তাদের মিত্র শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে তা শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

পাঠকের মতামত: