ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট

বরিশাল-৫: ধানের শীষের সরোয়ার নাকি জামায়াতের হেলাল কার পাল্লা ভারী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ৩০ ১৮:৫২:২২
বরিশাল-৫: ধানের শীষের সরোয়ার নাকি জামায়াতের হেলাল কার পাল্লা ভারী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভাগীয় শহর বরিশালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বরিশাল ৫ বা সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা আসনটি এখন রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং ভোটের সমীকরণে এই আসনটি সব দলের জন্যই প্রেস্টিজ ইস্যু। এখানে বিএনপির হেভিওয়েট নেতা ও সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এবং জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলালের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

মজিবর রহমান সরোয়ারের রাজনৈতিক অবস্থান

বরিশালের রাজনীতিতে মজিবর রহমান সরোয়ার এক অবিসংবাদিত নাম। তিনি একাধারে সাবেক সংসদ সদস্য সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র এবং জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন সরোয়ারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং বরিশাল সদর ও সিটি এলাকার উন্নয়নে তাঁর অবদান এবার ধানের শীষকে বিজয়ী করতে বড় ভূমিকা রাখবে। তিনি দলের চরম দুর্দিনে নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন এবং তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিশমা সাধারণ ভোটারদের কাছে এখনো অটুট রয়েছে বলে মনে করেন সমর্থকরা।

মুয়াযযম হোসাইন হেলালের সাংগঠনিক শক্তি

অন্যদিকে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলালও ছেড়ে কথা বলছেন না। বরিশাল মহানগরী ও সদর উপজেলায় জামায়াতের একটি সুশৃঙ্খল ও নীরব ভোটব্যাংক রয়েছে। মুয়াযযম হোসাইন হেলাল তাঁর ক্লিন ইমেজ এবং নিয়মিত জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের নজর কাড়ছেন। জামায়াতের নেতাকর্মীরা মনে করছেন গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে সততা ও যোগ্যতার বিচারে সাধারণ মানুষ এবার মুয়াযযম হোসাইন হেলালকেই বেছে নেবে। বিশেষ করে বিগত আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে।

ভোটের সমীকরণ ও চ্যালেঞ্জ

বরিশাল ৫ আসনটি মূলত শহুরে ও গ্রামীণ ভোটারদের এক মিশ্র জনপদ। এখানে সিটি করপোরেশনের সচেতন ভোটার এবং সদর উপজেলার গ্রামীণ ভোটারদের মন জয় করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন এই আসনে লড়াইটা হবে মূলত বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংক বনাম জামায়াতের সুশৃঙ্খল কর্মী বাহিনীর মধ্যে। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় নৌকার সমর্থক ও সাধারণ ভোটাররা কোন দিকে ঝুঁকবেন তা এই দুই নেতার ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

তৃণমূলের ভাবনা

বিএনপি এবং জামায়াত উভয় দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। বিএনপির কর্মীরা মনে করছেন মজিবর রহমান সরোয়ারের মতো হেভিওয়েট নেতাকে হারানো সহজ হবে না। অন্যদিকে জামায়াত কর্মীরা মনে করছেন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এবং সেই হাওয়ায় মুয়াযযম হোসাইন হেলাল নতুন নেতৃত্ব হিসেবে উঠে আসবেন। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে বরিশাল ৫ আসনে এই দুই নেতার দ্বৈরথ ততই জমে উঠছে এবং কে শেষ হাসি হাসবেন তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বরিশালবাসী।


ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় শেখ হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ২১:২৩:৪৮
ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় শেখ হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনার জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরাসরি দায়ী করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক প্রতিবাদী পোস্টে এই অভিযোগ তোলেন তিনি। ওই পোস্টে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট শক্তি সুদূর যুক্তরাষ্ট্রেও তাদের অনুগত সন্ত্রাসীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার জন্য উসকে দিচ্ছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তাদের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা যে ধরনের ন্যাক্কারজনক অপকর্ম ঘটিয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ওপরই বর্তায়।

এ ধরনের ঘৃণ্য ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, এই ঘটনাগুলো ফের প্রমাণ করে যে তারা প্রকৃত অর্থেই ফ্যাসিস্ট। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরও তাদের সন্ত্রাসী মানসিকতা এবং তৎপরতা যে থামেনি, তা তারা বিশ্ববাসীর সামনে আবারও উন্মোচন করে দিয়েছে। পোস্টের একেবারে শেষাংশে ইংরেজিতে ‘শেইম’ বা লজ্জা শব্দলিখে নিজের তীব্র ক্ষোভ ও ধিক্কার প্রকাশ করেন জামায়াত আমির।

/আশিক


আত্মপ্রকাশের দুই বছরে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ২০:০৭:৪৭
আত্মপ্রকাশের দুই বছরে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি
ছবি : সংগৃহীত

আত্মপ্রকাশের দুই বছর পূর্তির প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দলটির প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব পদ বহাল রাখা হলেও মুখপাত্র, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং মুখ্য সমন্বয়ক—এই গুরুত্বপূর্ণ চারটি পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পুনর্গঠনের পর দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির মোট সদস্যসংখ্যা হবে ১৫১ জন।

বর্তমানে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং সারজিস আলম উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকের দায়িত্বে আছেন। এ ছাড়া দলটির মুখপাত্রের দায়িত্বে রয়েছেন আসিফ মাহমুদ এবং মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্বে পালন করছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

একাধিক সূত্রে প্রকাশ, পুনর্গঠিত কমিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহ দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেতে পারেন সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ।

গত রবিবার অনুষ্ঠিত এক সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির পুনর্গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনের কাজ চূড়ান্ত করার বিষয়টি জানানো হয়। ওই সভায় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ আল আমিন ও নুসরাত তাবাসসুমসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, আরিফুল ইসলাম আদীব, সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ ও সালেহউদ্দিন সিফাত উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি। সে সময় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক এবং আখতার হোসেনকে সদস্যসচিব করে প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল। দলটির দুই বছর পূর্তিতে প্রথম কাউন্সিলের মাধ্যমে এই কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন সাংগঠনিক কাঠামোতে নতুন গতি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

/আশিক


বিএনপি জনগণের সরকার হতে পারেনি, নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে: সারজিস আলম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১৮:১৪:৩৭
বিএনপি জনগণের সরকার হতে পারেনি, নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে: সারজিস আলম
ছবি: কালবেলা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বিএনপি সরকারের কার্যকারিতা ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, বিএনপি কেবল নিজেদের দলীয় গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং জনগণের প্রকৃত সরকার হয়ে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে শরীয়তপুরে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ এবং চাকরিতে নিয়োগ-বাণিজ্য ও দুর্নীতির প্রতিবাদে এনসিপির শরীয়তপুর জেলা শাখা এই সভার আয়োজন করে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সারজিস আলম বলেন, তারা আশা করেছিলেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অধিক আসন পেয়ে বিএনপি সত্যিকারের অর্থে জনগণের সরকারে রূপ নেবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে প্রতিটি ক্ষেত্রে দলীয়করণ চলছে। সারের ডিলার নিয়োগ কিংবা সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে যোগ্যতা বা ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার চেয়ে কে কোন নেতার আত্মীয় বা দলীয় কর্মী, সেটিই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এর মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষকে পুনরায় ১৬ বছরের পুরোনো জুলুম ও নির্যাতনের যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেন এই এনসিপি নেতা।

প্রশাসন ও বিচার বিভাগের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে সারজিস আলম আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় আদালতের রায় বা আসামির জামিন পাওয়ার বিষয়টি পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের ইশারায় নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এছাড়া থানায় ফোন করে পুলিশ কর্মকর্তাদের দলীয় নির্দেশ মানতে বাধ্য করা এবং অন্যথায় বদলির হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, ক্ষমতার অপব্যবহারের এই পুরোনো সংস্কৃতি যারা ফিরিয়ে আনতে চায়, তাদের আচরণে ১৬ বছর আগের ফ্যাসিবাদী চরিত্রই ফুটে ওঠে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামীর বাংলাদেশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ আর কখনো মসনদে টিকে থাকতে পারবে না।

এনসিপির শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সবুজ তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব ও সদস্য ইমরান হোসেনসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা: তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ ডা. শফিকুর রহমানের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১৮:০৬:২৯
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা: তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ ডা. শফিকুর রহমানের
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হেনস্তার শিকার হওয়ার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরাসরি দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জামায়াত আমির ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট শক্তি সুদূর যুক্তরাষ্ট্রেও তাদের অনুগত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে এ ধরনের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দুর্বৃত্তরা যে অশালীন ও ন্যাক্কারজনক আচরণ করেছে, তার পুরো দায়ভার পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপরই বর্তায়।

সরকারের প্রতি দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও যে এই ফ্যাসিস্ট চক্র তাদের সন্ত্রাসী ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, এই ঘটনা তারই এক স্পষ্ট প্রমাণ। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরও তাদের সন্ত্রাসী মানসিকতা ও অপতৎপরতা বন্ধ হয়নি, যা তারা বিশ্ববাসীর সামনে আবারও প্রমাণ করল। পোস্টের শেষাংশে চরম ঘৃণা প্রকাশ করে তিনি লেখেন—‘শেইম...’।

/আশিক


চোরের মন পুলিশ-পুলিশ: জামায়াত আমিরের রহস্যময় ফেসবুক পোস্টে তোলপাড়

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ২০:৪৭:৫২
চোরের মন পুলিশ-পুলিশ: জামায়াত আমিরের রহস্যময় ফেসবুক পোস্টে তোলপাড়
ছবি : সংগৃহীত

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি রহস্যঘেরা পোস্ট দেওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে এই আকস্মিক পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই সংক্ষিপ্ত পোস্টে জামায়াত আমির লিখেছেন, ‘চোরের মন পুলিশ-পুলিশ। সাধু সাবধান।’

তবে এই সংক্ষিপ্ত ও প্রতীকী বার্তার পেছনে ঠিক কী ধরনের প্রেক্ষাপট বা অন্তর্নিহিত কারণ রয়েছে কিংবা তিনি এটি সুনির্দিষ্টভাবে কাকে বা কাদের উদ্দেশে লিখেছেন, সে বিষয়ে পোস্টে কোনো ধরনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। কোনো সুনির্দিষ্ট নাম বা ঘটনার উল্লেখ না থাকায় রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ নেটিজেনদের মাঝেও নানা ধরনের কৌতূহল ও জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

পোস্টটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার ব্যবহারকারী কমেন্ট বক্সে নিজেদের মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা পোস্টটির পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য করায় এটি মুহূর্তেই টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে এই বার্তার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

/আশিক


মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর তদবির চলছে: ববি হাজ্জাজ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৯:৩২:৫২
মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর তদবির চলছে: ববি হাজ্জাজ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা মেয়েদের বিয়ের বয়সসীমা কমিয়ে আনার বিষয়ে নানা তদবির ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার বনানীর একটি হোটেলে কোইকা ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ববি হাজ্জাজ জানান, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ ব্যক্তিরা বিয়ের বয়সসীমা কতটা কমিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে সচেষ্ট রয়েছেন। এই ধরনের দাবি ও অবস্থানের পেছনে তাদের কী ধরনের যুক্তি রয়েছে, তা জ্ঞানভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব সরকারের রয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য জানানোর ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মী ও উন্নয়ন সহযোগীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিয়ের বয়সসীমা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগের মিশর কিংবা আড়াই হাজার বছর আগের গ্রিসের সামাজিক ব্যবস্থার সঙ্গে বর্তমান যুগের বাস্তবতার কোনো তুলনাই চলে না। বর্তমান সময়টি রোবটিকস ও প্রযুক্তির যুগ—এমনকি ২০২৬ সালে এসেও মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হওয়াটা অত্যন্ত হতাশার ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নারীর টেকসই ও প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কেবল কিছু পেশাগত প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন ববি হাজ্জাজ। তার মতে, নারীর ভেতরের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, যোগাযোগের দক্ষতা অর্জন, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং পরিশেষে পরিবার ও সমাজের সামগ্রিক মানসিকতার পরিবর্তন হওয়াও সমানভাবে জরুরি।

বাল্যবিয়ে রোধ করার ক্ষেত্রে পরিবারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার উদ্বেগ, বিভিন্ন সামাজিক চাপ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মেয়েদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করা, যথাযথ দক্ষতা অর্জন এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার সুযোগ বাড়াতে পারলে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ জীবনের বড় সিদ্ধান্তগুলো নিজেরাই নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আলোর বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের জন্য হাতে নেওয়া বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে তাদের পরিবারকেও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। ববি হাজ্জাজ তার বক্তব্যে বলেন, নারীর সামগ্রিক ক্ষমতায়নের জন্য কেবল কঠোর আইনগত সুরক্ষা ও সচেতনতা বাড়ালেই চলবে না, এর পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বহুলাংশে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

উক্ত সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শঙ্কর। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

/আশিক


চুয়েটের ভিসি একজন গুন্ডা: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিস্ফোরক হাসনাত আবদুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৮:৩২:৫৫
চুয়েটের ভিসি একজন গুন্ডা: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিস্ফোরক হাসনাত আবদুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চলমান ভিসি-বিরোধী আন্দোলন ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। চুয়েটের উপাচার্যকে ‘গুন্ডা’ অভিহিত করে তিনি বলেন, চুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষক—কোনো পক্ষই বর্তমান ভিসিকে চাচ্ছেন না। এত দিন ধরে তিনি সার্কিট হাউসে অবস্থান করে অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।

সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে নারায়ণগঞ্জ ছাত্রশক্তি আয়োজিত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

চুয়েটে সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, আজ ছাত্রদলের কয়েকজন গুন্ডাকে ব্যবহার করে তাকে (চুয়েটের ভিসি) জোরপূর্বক কার্যালয়ে প্রবেশ ও চেয়ার দখল করতে হয়েছে। এসব চক্র দেশকে আবারও পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়। এদের নূন্যতম লজ্জা বা ব্যক্তিত্ব নেই মন্তব্য করে সব জায়গায় থাকা এমন অপশক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, চুয়েটে দীর্ঘদিন ধরে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে জোরালো আন্দোলন চালিয়ে আসছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সোমবার ভিসি কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নিজ দফতরে অফিস শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষার্থীরা পুনরায় তাকে তার নিজ কার্যালয়ের ভেতরে রেখেই বাইর থেকে তালা আটকে দেয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক ও মহানগর আহ্বায়ক শওকত আলী, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জুবায়ের সরদার এবং মহানগর ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্য নেতারা।

/আশিক


জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিএনপি বেইমানি করেছে: আল্লামা মামুনুল হক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১০ ২৩:৪২:৪৬
জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিএনপি বেইমানি করেছে: আল্লামা মামুনুল হক
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির আল্লামা মামুনুল হক মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিএনপি ‘বেইমানি’ করেছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার গঠনের পর বিএনপি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে এবং তাদের অধিকার পদদলিত করছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকরের প্রশ্নে দলটি নিজেদের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পৌর মুক্তমঞ্চের কাচারিপাড়া মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সংবিধান সংশোধনের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করে মামুনুল হক বলেন, অতীতে যে দল গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নজির সৃষ্টি করেছিল, তারাই এখন গণভোটের রায় নিয়ে ছলচাতুরী করছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে সরকার গঠিত হলেও গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায়কে উপেক্ষা করা হচ্ছে। কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে দলটির অনীহা জনগণের রায়ের প্রতি বড় ধরনের অবজ্ঞা বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, তাঁরা সংবিধানের সাধারণ কোনো সংশোধন চান না, বরং চান কাঠামোগত সংস্কার। ভবিষ্যতে যাতে কোনো সরকার বা আদালতের একক সিদ্ধান্তে জনগণের মৌলিক আকাঙ্ক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো বাতিল হয়ে না যায়, সেই নিশ্চয়তা রাখার পক্ষে মত দেন তিনি। জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে এমন একটি সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে জুলুম, বঞ্চনা ও একনায়কতন্ত্রের সুযোগ থাকবে না।

সংস্কার প্রস্তাবের অংশ হিসেবে দলীয় প্রধান ও সরকারপ্রধানের পদ ও ক্ষমতা পৃথক করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগের নিয়োগ ও কার্যক্রমে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমানোর মতো বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরেন খেলাফত মজলিশের এই শীর্ষ নেতা।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা খন্দকার আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসেন আকন্দ, এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান দুর্বল করতে ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১০ ১৯:০১:২০
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান দুর্বল করতে ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে কোনোভাবেই মুনাফা অর্জন করতে না পারে এবং দুর্বল হয়ে পড়ে, ষড়যন্ত্রকারীরা বরাবরই সেই চক্রান্তে লিপ্ত থাকে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই ধরনের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকার এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে গতিশীল রাখার আহ্বান জানান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে টঙ্গীর হোন্ডা রোডে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) অধীনস্থ ‘বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি লিমিটেড’-এর আধুনিকায়ন ও নতুন আঙ্গিকে কারখানার বাণিজ্যিক কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেওয়া বক্তব্যে রিজভী স্মরণ করেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যেই এই কারখানাটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। দীর্ঘদিন পর আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কারখানাটি পুনরায় চালু হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সবাইকে আরও উদ্যমী হওয়ার তাগিদ দেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানের পক্ষে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রাশিদুল ইসলাম এবং অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের ‘উইলকিনসন সর্ড কোম্পানি’র সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে টঙ্গীতে কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮৫ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৮ সালে ৫২ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পুরনো যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন ও ডিসপোজেবল রেজর সংযোজনের একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যার সফল সমাপ্তির পর আজ এর আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হলো।

/আশিক

পাঠকের মতামত: