আগামী ৫ বছরে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৪ ২১:২০:৩৭
আগামী ৫ বছরে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক
ছবিঃ সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলো। বিশেষ করে বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানকে এর ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সোমবার ২৪ নভেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে ঝুঁকি থেকে স্থিতিস্থাপকতা বা দক্ষিণ এশিয়ায় মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের অভিযোজনে সহায়তা শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি সেখানেই উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ চরম জলবায়ু ঝুঁকির মুখে পড়বে। উচ্চ তাপমাত্রা ভয়াবহ বন্যা এবং উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে গ্রামীণ অর্থনীতি কৃষি উৎপাদন ও কর্মসংস্থান। পাশাপাশি পারিবারিক পর্যায়েও ঝুঁকি বাড়বে বহুগুণ।

জরিপে দেখা যায় আগামী ১০ বছরে আবহাওয়াজনিত ধাক্কার আশঙ্কা করছে দক্ষিণ এশিয়ার তিন চতুর্থাংশ পরিবার ও প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৬৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এবং ৮০ শতাংশ পরিবার কোনো না কোনোভাবে অভিযোজনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা উন্নত প্রযুক্তি বা অবকাঠামোর বদলে কম খরচের সাধারণ সমাধানের ওপর নির্ভর করছে যা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়।

বাংলাদেশের উপকূলের ২৫০টি গ্রামে পরিচালিত জরিপে দেখা যায় জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামোই এখন সবচেয়ে বড় অপূর্ণ চাহিদা। দীর্ঘমেয়াদে ৫৭ শতাংশ পরিবার পর্যাপ্ত দুর্যোগ সুরক্ষা অবকাঠামোর অভাবকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং ৫৬ শতাংশ পরিবার বলেছে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তারা প্রয়োজনীয় অভিযোজন করতে পারছে না। এর প্রভাব শুধু পরিবেশগত নয় বরং সবচেয়ে বেশি ভুগছে দরিদ্র ও কৃষিনির্ভর পরিবার।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয় বাংলাদেশের বাঁধ ও সাইক্লোন শেল্টারসহ সরকারি বিনিয়োগ অনেক প্রাণ বাঁচিয়েছে। বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন কেস স্টাডিতে দেখা গেছে সঠিকভাবে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং হালনাগাদ তথ্য দ্রুত সম্প্রসারণযোগ্য যা দুর্যোগের সময় দরিদ্র মানুষের বড় সহায়ক হতে পারে। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে সরকারি উদ্যোগের পরিধি সীমিত থাকায় এ অবস্থায় জলবায়ু অভিযোজনে বেসরকারি খাতকে সামনে এনে একটি সমন্বিত নীতি প্যাকেজ প্রয়োজন বলে মত দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে বলেন বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা বারবার নতুনভাবে পরীক্ষিত হচ্ছে। অভিযোজন ব্যাপক হলেও ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে ফলে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। দেশের সহনশীলতা গড়ে তুলতে আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা সামাজিক সুরক্ষা জলবায়ু স্মার্ট কৃষি এবং ঝুঁকিভিত্তিক অর্থায়ন বাড়াতে হবে। এছাড়া শহরাঞ্চলে লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপও জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনটি সমন্বিত ও বহুমুখী অভিযোজন কৌশল গ্রহণের তাগিদ দেয়। এতে বলা হয় আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা বীমা ও আনুষ্ঠানিক ঋণপ্রাপ্তি সহজ করা গেলে জলবায়ুজনিত ক্ষতির প্রায় এক তৃতীয়াংশই এড়ানো সম্ভব। বাজেট সংকটের মধ্যেও সরকার পরিবহন ও ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থায়নে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ সচিব ডক্টর ফারহিনা আহমেদ বলেন জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় শক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন ও তথ্য সংগ্রহ সবই ব্যয়বহুল। জলবায়ু অভিযোজন মোকাবিলায় বাংলাদেশের অনেক পলিসি রয়েছে তবে তা বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং। তিনি আরও জানান এ বিষয়ে পাইলট প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগের সমন্বয়ে বাংলাদেশ বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে।


গ্যাস সংকটের জন্য সরকার দায়ী নয়, যুদ্ধের প্রভাব: রিজভী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১৮:০৯:৩০
গ্যাস সংকটের জন্য সরকার দায়ী নয়, যুদ্ধের প্রভাব: রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব দেশীয় গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহের ওপর পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, চলমান গ্যাস সংকটের পেছনে বৈশ্বিক অস্থিরতা ও প্রাকৃতিক পরিস্থিতি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে এবং গ্যাস সংকটের প্রভাবে কোথাও কোথাও শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সাধারণ মানুষের জন্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে। যেসব অঞ্চলে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, সেখানে দ্রুত জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

প্রশাসনের প্রতিটি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, জনগণের কাছে সরকারের পূর্ণ দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। জনসেবা ও সামাজিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে একটি দায়িত্বশীল সরকার কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, বর্তমান প্রশাসন তা প্রমাণ করছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মো. জহির উদ্দিন স্বপনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


পরিবার নিয়ে বঙ্গভবনে উঠলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১৮:০৩:৪৮
পরিবার নিয়ে বঙ্গভবনে উঠলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বঙ্গভবনের সরকারি বাসভবনে উঠেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বঙ্গভবনে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। এ সময় বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানায়। পরে অশ্বারোহী দলের এসকর্টে রাষ্ট্রপতির গাড়ি বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল মাঠে পৌঁছায়।

ক্রেডেনশিয়াল মাঠে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার দেয় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি চৌকস দল। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জনবিভাগের সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, প্রেস সচিব সরওয়ার আলম এবং সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর কার্যালয়ে যান। সেখানে তিনি বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে নিজ কার্যালয়ে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় তিনি বঙ্গভবনের পরিদর্শন বইয়েও স্বাক্ষর করেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে মির্জা ফখরুল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী হিসেবে মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে বসবাস করতেন।

/আশিক


এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌপ্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১২:০৫:২৮
এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌপ্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ভাইস এডমিরাল থেকে এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত আনুষ্ঠানিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাকে এডমিরাল র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নবপদোন্নতিপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান।

র‍্যাংক ব্যাজ পরানোর সময় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিব এবং সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্য দিয়ে নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মাথায় এডমিরাল পদে উন্নীত হলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।

এর আগে গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে নৌবাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড, প্রশিক্ষণ, কৌশলগত পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। দেশের বাইরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।

খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন। রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে নৌ-প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর ১৯৮৯ সালের ১ জুলাই এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চে কমিশন লাভ করেন। নৌবাহিনীর ৮৭-এ ব্যাচে জ্যেষ্ঠতা ও মেধার বিচারে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন।

শিক্ষাজীবনেও ধারাবাহিক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন এডমিরাল আজীম। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক—উভয় পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেছেন তিনি। এমফিল ডিগ্রির পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক, ডিফেন্স এবং অপারেশনাল স্টাডিজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশ থেকে প্রথম শ্রেণিসহ তিনটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স এবং ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের একজন কৃতী গ্র্যাজুয়েট।

দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ারে এডমিরাল আজীম কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন, বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্ট এবং নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পরিচালক নৌ-অপারেশন্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। নৌবাহিনীর অপারেশনাল ও কৌশলগত পর্যায়ের এসব দায়িত্ব তাকে বাহিনীর বিভিন্ন সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি কাজ করার বিস্তৃত অভিজ্ঞতা দিয়েছে।

সমুদ্রে কমান্ডের ক্ষেত্রেও রয়েছে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। বানৌজা ওমর ফারুক, বানৌজা এস আর আমিন, বানৌজা নির্ভয় ও বানৌজা সৈকতসহ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধজাহাজের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সামরিক কর্মকর্তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নেও ভূমিকা রেখেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে এডমিরাল আজীমের। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি লেবানন এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন। নৌবাহিনী প্রধান হওয়ার আগে ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে দায়িত্বকালে বাংলাদেশ-ওমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

পেশাগত দক্ষতা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এডমিরাল আজীম নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন সম্মাননা ‘নৌবাহিনী পদক’ (এনবিপি) এবং ‘নৌ পারদর্শিতা পদক’ (এনপিপি) অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার ও জাতীয় স্কাউট পুরস্কারের ‘রৌপ্য ইলিশ পদক’ পেয়েছেন। তিনবার নৌবাহিনী প্রধানের প্রশংসাসূচক ইনসিগনিয়া লাভের পাশাপাশি ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন’ পুরস্কার, সেরা ব্যক্তিগত গবেষণাপত্র পুরস্কার এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে সেরা শিক্ষার্থীর স্বীকৃতিও রয়েছে তার ঝুলিতে।

সামরিক দায়িত্বের বাইরেও এডমিরাল আজীম গবেষণা ও লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, সামরিক কৌশল এবং নৌ-কৌশলগত বিভিন্ন বিষয়ে তার একাধিক প্রবন্ধ জার্নাল ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে গলফ, বাস্কেটবল, দাবা ও টেবিল টেনিসে আগ্রহী তিনি। বাংলা ও ইংরেজিতে সাবলীল হওয়ার পাশাপাশি মালে ও ফরাসি ভাষায় ব্যবহারিক দক্ষতা রয়েছে তার। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বেগম নুরতাজ আজীমের সঙ্গে বিবাহিত এবং তাদের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।

-রফিক


গার্ড অব অনারে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১১:৫৬:১২
গার্ড অব অনারে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বঙ্গভবনে গিয়ে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনে পৌঁছান তিনি। সেখানে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়।

বঙ্গভবনে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল নতুন রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন এবং রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন।

এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এ প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

শপথের পরদিন শনিবার (২২ আগস্ট) সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান রাষ্ট্রপতি। সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তার অন্যতম প্রথম রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি।

রোববার বঙ্গভবনে প্রথম অফিস করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হলো। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে এখন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় নথি, সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব সম্পাদন করবেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন। রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি বিএনপির মহাসচিবের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নতুন দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় ও সরকারের নির্বাহী দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগসহ সংবিধান ও আইনে নির্ধারিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। ফলে বঙ্গভবনে নিয়মিত অফিস শুরু করার মধ্য দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক কার্যক্রমও পূর্ণাঙ্গ দাপ্তরিক রূপ পেল।

-রফিক


গার্ড অব অনারে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১১:৫৬:১২
গার্ড অব অনারে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বঙ্গভবনে গিয়ে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনে পৌঁছান তিনি। সেখানে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়।

বঙ্গভবনে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল নতুন রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন এবং রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন।

এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এ প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

শপথের পরদিন শনিবার (২২ আগস্ট) সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান রাষ্ট্রপতি। সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তার অন্যতম প্রথম রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি।

রোববার বঙ্গভবনে প্রথম অফিস করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হলো। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে এখন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় নথি, সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব সম্পাদন করবেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন। রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি বিএনপির মহাসচিবের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নতুন দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় ও সরকারের নির্বাহী দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগসহ সংবিধান ও আইনে নির্ধারিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। ফলে বঙ্গভবনে নিয়মিত অফিস শুরু করার মধ্য দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক কার্যক্রমও পূর্ণাঙ্গ দাপ্তরিক রূপ পেল।

-রফিক


বিনামূল্যে প্রাথমিক-জরুরি চিকিৎসার অঙ্গীকার সরকারের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১০:৫৭:০২
বিনামূল্যে প্রাথমিক-জরুরি চিকিৎসার অঙ্গীকার সরকারের
ছবি : সংগৃহীত

সবার জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, জনগণের স্বার্থ ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার প্রশ্নে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না। বিনামূল্যে প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে বিশেষায়িত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ৮টায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘২য় ঢাকা আন্তর্জাতিক হাঁটু সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আর্থ্রোপ্লাস্টি সোসাইটির সহযোগিতায় বাংলাদেশ আর্থ্রোস্কোপি অ্যান্ড আর্থ্রোপ্লাস্টি একাডেমি আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে দেশের অর্থোপেডিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সামনে থাকা নতুন ও জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু অবকাঠামো কিংবা প্রযুক্তি যথেষ্ট নয়; দক্ষ জনবল, হালনাগাদ চিকিৎসাজ্ঞান এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগ প্রয়োজন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার পরিধিও ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে চিকিৎসকদেরও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নতুন জ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তির সঙ্গে নিয়মিতভাবে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, রোবোটিক প্রযুক্তি, উন্নত ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থা এবং সুপার-স্পেশালাইজেশনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা এখন প্রযুক্তিনির্ভর নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে না পারলে ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ ও জটিল রোগের চিকিৎসা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হবে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা বিভাগ, পেশাজীবী সংগঠন এবং বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হাঁটু ও অস্থিসন্ধির চিকিৎসায়ও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এসেছে। আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি থেকে শুরু করে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট বা আর্থ্রোপ্লাস্টির মতো বিশেষায়িত চিকিৎসায় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ বলে সম্মেলনে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ধরনের আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন দেশের চিকিৎসকদের নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ খাতে এমন বড় বরাদ্দ আগে দেখা যায়নি। তবে শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না; বরাদ্দ করা অর্থের দক্ষ, স্বচ্ছ এবং ফলপ্রসূ ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বিশেষভাবে চিকিৎসাশিক্ষার মানোন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, বিশেষায়িত চিকিৎসা সম্প্রসারণ এবং রোগীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান ও দীর্ঘমেয়াদি ফল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্য খাতে বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ দেওয়াকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, পর্যাপ্ত বিনিয়োগের পাশাপাশি চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের রোগীদের বিদেশমুখিতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসাক্ষেত্রে দক্ষতা ও পেশাগত উন্নয়নে উৎসাহ দিতে ছয়জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ঢাকা আর্থ্রোপ্লাস্টি সোসাইটির পক্ষ থেকে ফেলোশিপ দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে হাঁটুর সুস্থতা, রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রকাশিত ‘সেভ ইয়োর নি’ শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক। সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আর্থ্রোপ্লাস্টি সোসাইটির সভাপতি ডা. এম. আলী।

-রফিক


আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১০:২০:৩০
আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ রোববার (২৩ আগস্ট) আনুষ্ঠানিক বাসভবন বঙ্গভবনে উঠছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বঙ্গভবনে তাঁর আনুষ্ঠানিক বসবাস শুরু হচ্ছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করা মির্জা ফখরুল গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। সরকারি গেজেটেও ২১ আগস্ট তাঁর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

এর এক দিন আগে, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মির্জা ফখরুল। নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন। মির্জা ফখরুল পান ২৫৫ ভোট। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশন মির্জা ফখরুলকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে।

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও মির্জা ফখরুলের নির্বাচন বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে স্থান পেয়েছে।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক নেতা ছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন এবং তার আগেও কয়েক বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার পর দলীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনটিও শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে আসা মির্জা ফখরুল দীর্ঘ সময় ধরে দেশের জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ। বিরোধী রাজনীতির দীর্ঘ পর্ব পেরিয়ে বিএনপি সরকারে আসার পর তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দলীয় রাজনীতির সক্রিয় নেতৃত্ব থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তাঁর যাত্রা শুরু হলো।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর সামনে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রত্যাশাও রয়েছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ মূলত সাংবিধানিক হলেও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এই পদের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক আস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত ও ভূমিকার দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

আজ বঙ্গভবনে ওঠার মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যায় আরও পূর্ণতা পাচ্ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির দীর্ঘকালীন মহাসচিব থেকে এখন তিনি রাষ্ট্রপ্রধান। ফলে আগামী দিনে বঙ্গভবন থেকে তাঁর সাংবিধানিক ভূমিকা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার সক্ষমতার ওপরও বিশেষ নজর থাকবে।

-রফিক


সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান জোটে ঢাকার ইতিবাচক অবস্থান, গুরুত্ব পাবে জাতীয় স্বার্থ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ২১:৫২:৪২
সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান জোটে ঢাকার ইতিবাচক অবস্থান, গুরুত্ব পাবে জাতীয় স্বার্থ
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্পাদিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে এ ধরনের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার সুবিধা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করবে ঢাকা। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করেন, সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে চলছে। ফলে যেকোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চ বা আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওঠানামাকে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

একই সঙ্গে তিনি জানান, স্বাভাবিক কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ ধরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে আরও দৃঢ় হচ্ছে। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আদান-প্রদান সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুতই সৌদি আরব সফর করবেন বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এই উচ্চপর্যায়ের সফরের মধ্য দিয়ে রিয়াদের সঙ্গে ঢাকার দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


তীব্র গ্যাস সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে দেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ২০:০১:৩০
তীব্র গ্যাস সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে দেশ
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে চলা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহের জটিলতায় অবশেষে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে নতুন একটি এলএনজিবাহী কার্গো জাহাজ এসে ভিড়েছে। এর ফলে স্থানীয় দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে ‘ফ্লেক্স কারেজেস’ নামের এলএনজিবাহী বিশেষায়িত জাহাজটি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে নোঙর করে। আন্তর্জাতিক খোলাবাজার বা স্পট মার্কেট থেকে সংগৃহীত এলএনজি বোঝাই করে জাহাজটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামেরন বন্দর থেকে বাংলাদেশে এসেছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে টার্মিনালে নতুন আসা এলএনজির সংযোগ সম্পন্ন হলে সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এর মাধ্যমে বিদ্যমান গ্যাস সংকট সাময়িকভাবে অনেকটাই প্রশমিত হবে।

তবে নতুন জাহাজের গ্যাস যুক্ত হওয়ার আগে থেকেই শনিবার দুপুর থেকে টার্মিনালে আগে থেকে জমা থাকা তরল গ্যাস রূপান্তর করে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়। যার ফলে দুপুরের পর থেকেই দেশের সার্বিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

একই সময়ে মহেশখালীতে থাকা সামিট গ্রুপের অপর ভাসমান টার্মিনাল থেকেও প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে শনিবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সচল ছিল।

আরপিজিসিএলের এলএনজি বিভাগের একজন উপমহাব্যবস্থাপক পদমর্যাদার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে দৈনিক মোট ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহের পূর্ণ সক্ষমতা ফিরে পেতে রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে শনিবার রাতের মধ্যেই এই সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৮০০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালের বয়লারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই দেশে বড় ধরনের এলএনজি সরবরাহ সংকট তৈরি হয়। দুর্ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর টার্মিনালটি মেরামত করে চালু করা সম্ভব হলেও পরবর্তীতে নতুন এলএনজির অভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়নি। একই সাথে জ্বালানি সংকটের কারণে সামিটের টার্মিনালটিও বন্ধ হয়ে পড়েছিল।

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রবিবার থেকে দুটি টার্মিনাল তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করতে শুরু করলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যমান ঘাটতি অনেকটাই মিটে যাবে। দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত গ্যাস রূপান্তর ও সরবরাহের সর্বোচ্চ দৈনিক সক্ষমতা রয়েছে প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

/আশিক

পাঠকের মতামত: