গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহুসহ ৩৭ ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তুরস্কের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ০৮ ১০:৪৩:০৫
গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহুসহ ৩৭ ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তুরস্কের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযানের নামে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ তাঁর সরকারের মোট ৩৭ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক।

শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের শীর্ষ সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর থেকে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে বার্তাসংস্থা সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা

প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ছাড়াও যেসব ইসরায়েলি কর্মকর্তার নামে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ, জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়া’আল জামির।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় গাজায় গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গত সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ত্রাণ বিতরণকারী জোট ফ্লোটিলার ত্রাণের বহরকে আটকে দেওয়াকে মূল অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরায়েল ও হামাসের প্রতিক্রিয়া

পরোয়ানা জারির কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদন সা’র এক প্রতিক্রিয়ায় এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের 'পিআর কৌশল' বা জনসংযোগ কৌশল বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, এরদোয়ান তুরস্কের বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের মুখ বন্ধ রাখতে এবং ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক, বিচারক ও মেয়রদের বন্দি করার কাজে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।

অন্যদিকে, গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস তুরস্কের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। শুক্রবার এক বার্তায় গোষ্ঠীটির হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গাজা ইস্যুতে তুরস্কের জনগণ ও তাদের নেতৃত্বের আদর্শগত অবস্থান এই পরোয়ানা আরও একবার নিশ্চিত করল।


আমরা জয়ী হয়েছি তবে বিজয় সুসংহত করতে হবে: তেহরানে ইরানি সেনাপ্রধান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭ ১৭:৫৪:৩২
আমরা জয়ী হয়েছি তবে বিজয় সুসংহত করতে হবে: তেহরানে ইরানি সেনাপ্রধান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একতরফা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সামরিক লড়াই এখনো শেষ হয়নি এবং সংঘাতটি বর্তমানে একটি অত্যন্ত ‘সংকটপূর্ণ ও সিদ্ধান্তসূচক’ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তেহরানের ইমাম আলী (আ.) অফিসার্স একাডেমিতে আয়োজিত ‘সারবাজ’ (সৈনিক) উৎসবের সামরিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই কড়া হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

জেনারেল হাতামি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর নানা চক্রান্তের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও ইরান শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলে বিজয় অর্জন করেছে, তবে এই অর্জিত বিজয়কে যেকোনো মূল্যে টিকিয়ে রাখতে হবে এবং আরও সুসংহত করতে হবে। তিনি আক্রমণকারী বাহিনীকে সতর্ক করে বলেন, শত্রুপক্ষ ইতিমধ্যে ব্যাপক আঘাতের সম্মুখীন হলেও ইরানি সেনাসদস্যদের কাছ থেকে আরও কঠোর ও বিধ্বংসী আক্রমণের মুখোমুখি হতে তাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। যেকোনো নতুন সামরিক দুঃসাহসিকতা বা আগ্রাসনের উপযুক্ত ও দাঁতভাঙা জবাব দিতে সশস্ত্র বাহিনী শতভাগ প্রস্তুত রয়েছে বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশ্যেও বড় বার্তা দেন ইরানের সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন বা বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরতা কখনোই এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কেবল এ অঞ্চলের স্বাধীন দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি অপশক্তিকে এ অঞ্চল থেকে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত প্রকৃত নিরাপত্তা অর্জিত হবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, সেই দিন আর বেশি দূরে নয়। সাম্প্রতিক সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও সামরিক প্রস্তুতি উচ্চপর্যায়ে রাখার বিষয়ে আইআরজিসি শীর্ষ নেতৃত্বের ধারাবাহিক বৈঠকের পরেই হাতামির এই সামরিক হুশিয়ারি প্রকাশ পেল।

/আশিক


ইরানকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭ ১৭:৩৯:৩৬
ইরানকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’
ইরানের মাহান এয়ার। ছবি: শাফাক নিউজ

ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করতে কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক চাপ চরমপর্যায়ে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের কৌশলগত এই বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে বিশেষ মার্কিন প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ বা অর্থনৈতিক নির্বাসন নামক এই বিশেষ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে ইরানের ব্যাংকিং লেনদেন ও আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সীমিত করতে বিশ্বমঞ্চে চাপ প্রয়োগ করা। ইরাকি বার্তা সংস্থা শাফাক নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান যে, আমেরিকার কৌশলগত এই কূটনৈতিক চাপের ফলে ইতিমধ্যে তুরস্ক ও ওমান ইরানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ‘মাহান এয়ার’-এর সকল ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ ঘোষণা করেছে। একই সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানি এয়ারলাইনগুলোর যাবতীয় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তাছাড়াও, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ইরানের সাথে সমস্ত আর্থিক লেনদেন পুরোপুরি স্থগিত করেছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ চালুর ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন প্রশাসন। ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পথ ও ব্যাংকিং মাধ্যমগুলো চিরতরে রুদ্ধ করে দেশটির ওপর সর্বোচ্চ আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই বৃহৎ অভিযানের আওতায় ইরানের গোপন তেল পাচার, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কৌশল এবং হুন্ডি বা বেআইনি অর্থ স্থানান্তরের সাথে যুক্ত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কগুলো একের পর এক শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

চলমান এই ধারাবাহিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সম্প্রতি ইরানের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত বিশ্বের বহু ব্যক্তি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গত আগস্টের শেষের দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত কেন্দ্রিক কয়েকটি সন্দেহভাজন ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেয় মার্কিন প্রশাসন। পরবর্তীতে বিশ্বের শীর্ষ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্ক ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর গোপন পদ্ধতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ, যেন আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো খুব সহজেই ইরানের অর্থের প্রবাহ ও অবৈধ পণ্য সংগ্রহের পথ বন্ধ করতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের এই সাঁড়াশি চাপের ফলে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও অর্থনৈতিক লেনদেন ব্যবস্থা মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে বলে দাবি করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এসব একতরফা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে তেহরান।

সূত্র: শাফাক নিউজ


ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বার্তা দিল চীন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ২১:৩৬:২০
ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বার্তা দিল চীন
ছবি : সংগৃহীত

চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের তীব্র বিরোধিতা করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক চরম রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনায় সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র চীন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সাধারণ বিতর্কে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা লঙ্ঘন করে পরিচালিত যেকোনো একতরফা সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক যেকোনো সংকট, সীমানা বিরোধ বা কূটনৈতিক মতপার্থক্য কোনো বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং কেবল শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ব্যতিরেকে এবং আন্তর্জাতিক আইনি নিয়মাবলী তোয়াক্কা না করে চালানো একতরফা সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। একই সাথে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সমতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে বিশ্বের বৃহৎ সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ করার উদাত্ত আহ্বান জানান এই শীর্ষ চীনা প্রতিনিধি।

বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্য ও লোহিত সাগর অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে হান ঝেং বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে। চলমান যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাতের কারণে যাতে বৈশ্বিক বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

দীর্ঘদিনের জটিল ফিলিস্তিন সংকট প্রসঙ্গে বেইজিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি জানান, ‘ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই’—এই সুনির্দিষ্ট নীতির ওপর ভিত্তি করেই অধিকৃত পশ্চিম তীরের সঠিক শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন করতে হবে। একই সাথে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য কালবিলম্ব না করে ‘দ্বি-রাষ্ট্র নীতি’ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ইউক্রেন ও কিউবা ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে হান ঝেং জানান, ইউক্রেন সংকট নিরসনে চীন তার নিজস্ব মাধ্যমে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া কিউবার ওপর থেকে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধ ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সর্বশেষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির বিশ্বব্যাপী সুষম ও মানবকেন্দ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে চীন।

/আশিক


লাখ লাখ বছরের পুরনো রহস্য উন্মোচিত: বিজ্ঞানীরা পেলেন নতুন তথ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ২০:৪৮:২৬
লাখ লাখ বছরের পুরনো রহস্য উন্মোচিত: বিজ্ঞানীরা পেলেন নতুন তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

বাদুড়ের উৎপত্তি এশিয়া, আফ্রিকা কিংবা আমেরিকা মহাদেশে নয়, বরং ইউরোপের ভূখণ্ডে হয়েছিল। প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে ইউরোপ মহাদেশেই বাদুড়ের প্রথম পূর্বপুরুষের আবির্ভাব ঘটেছিল বলে বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী 'নেচার'-এ প্রকাশিত এক সর্বাধুনিক গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে। অর্থাৎ, গবেষণার তথ্যমতে ডাইনোসরদের বিলুপ্তির সময়কালেই পৃথিবীতে প্রথম প্রাচীন বাদুড়ের অস্তিত্ব রূপ পেয়েছিল।

সংবাদমাধ্যম ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই বিস্তৃত গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ১০৩টি ভিন্ন প্রজাতির বাদুড়ের জিনগত বিন্যাস (জিনেটিক ডেটা) এবং ৪৪টি বিলুপ্ত জীবাশ্ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। এটি বাদুড়ের বিবর্তন ও ইতিহাসের ওপর বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত করা সবচেয়ে সমৃদ্ধ গবেষণাগুলোর একটি। গবেষকেরা নিশ্চিত করেছেন যে, ইউরোপে জন্ম নেওয়া এই স্তন্যপায়ী প্রাণীটি প্রথমে আফ্রিকায় পাড়ি জমায় এবং পরবর্তী সময়ে প্রজাতি ভেদে এশিয়া, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

গবেষণার অন্যতম চমকপ্রদ তথ্য হলো, আকাশে ডানা মেলে ওড়া এবং অন্ধকারের বুকে প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে দিক বা শিকার চেনার ক্ষমতা (ইকোলোকেশন) বিবর্তনের অনেক পরে অর্জিত হয়নি। বরং বাদুড়ের শুরুর দিকের প্রজাতিগুলোতেই এই অসাধারণ দুই ক্ষমতা বিদ্যমান ছিল। বৈজ্ঞানিক এই জিনগত বিশ্লেষণ থেকে বাদুড়ের অনন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, বয়স বৃদ্ধিতে জিনগত স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘ জীবন পাওয়ার নেপথ্য কারণগুলোও পরিষ্কার হবে, যা ভবিষ্যতে মানুষের চিকিৎসাবিজ্ঞান ও নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে প্রায় ১,৫০০ প্রজাতি ছড়িয়ে থাকা এই প্রাণীটি পরাগায়ন, বীজ বিস্তার এবং ক্ষতিকর পোকামাকড় নিধনে বাস্তুতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

সূত্র: ইউরো নিউজ


ইসরায়েলি মানচিত্রের ভুলে গাজার উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি ফাঁস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ২০:২৫:০৭
ইসরায়েলি মানচিত্রের ভুলে গাজার উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি ফাঁস
গাজার উত্তরে একটি ইসরায়েলি আর্টিলারি ঘাঁটি। ছবি: গভম্যাপ

যুদ্ধকালীন সময় সামরিক তথ্য এবং সংবেদনশীল কৌশলগত দৃশ্য চরম নিয়ন্ত্রণের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই এক বড় ভুল করে বসেছে ইসরায়েলের সরকারি মানচিত্র সেবা সংস্থা 'গভম্যাপ'। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে নিজেদের ওয়েবসাইটে উপত্যকার উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে ফেলে তারা। যাতে গাজার উত্তরাঞ্চলের নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি খোদ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অন্তত ১১টি গোপনীয় ও কৌশলগত স্থাপনার ছবিও জনসম্মুখে চলে আসে।

মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার ‘@Stinky915846091’ নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে জানাজানি হয়। ওই অ্যাকাউন্টটি মূলত উন্মুক্ত উৎসের ভূ-সামরিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। ইসরায়েলি সেনার এই প্রযুক্তিগত ভুলের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরপরই তড়িঘড়ি করে নিজেদের সরকারি পোর্টাল 'গভম্যাপ'-এ গাজা উপত্যকা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও স্পর্শকাতর সেনাক্যাম্পের স্যাটেলাইট ভিজ্যুয়াল পুনরায় ঝাপসা করে দেওয়া হয়।

অস সতর্কতাবশত প্রকাশ পাওয়া ছবিগুলো মূলত ২০২৫ সালের তোলা বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বল্প সময়ের জন্য অনলাইনে দেখতে পাওয়া সেই উচ্চমাত্রার ছবিগুলোতে গাজার উত্তরাঞ্চলীয় বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুন শহরের ব্যাপক বিপর্যয়ের স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ে। এসব অঞ্চলে শত শত বহুতল ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে যেতে হয়েছে। গাজা সিটির শুজাইয়া ও জেইতুন এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের ফলে অধিকাংশ অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সেখানে জনজীবনের কোনো স্বাভাবিক অস্তিত্ব দেখা যায়নি।

অন্যদিকে এই ছবিগুলোতে সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় ছিল ইসরায়েল সেনাবাহিনীর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীন সীমান্ত বাফার জোন ও সীমান্ত ক্রসিংয়ে তৈরি করা সামরিক ঘাঁটিগুলো। কারনি ক্রসিংয়ের দক্ষিণ-পূর্বে গাজার ভেতরে ইসরায়েলের একটি অগ্রবর্তী সামরিক ঘাঁটি ও সেনা উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এছাড়া পূর্ব জাবালিয়া অঞ্চলে মাটির প্রকাণ্ড প্রাকার দিয়ে ঘেরা এলাকায় বিপুলসংখ্যক ইসরায়েলি সাঁজোয়া ও সামরিক যান মোতায়েন থাকতে দেখা যায়। ছবিগুলোর কপি সংরক্ষণ করে অন্য একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করেছে 'সোয়ার অ্যাটলাস'। স্বাধীন কোনো পর্যবেক্ষণ সংস্থা দিয়ে মিডল ইস্ট আই এসব ছবির সম্পূর্ণ সত্যতা যাচাই করতে না পারলেও গাজায় ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ধ্বংস হওয়া সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোর সাথে এই স্যাটেলাইট ছবির ব্যাপক মিল রয়েছে।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই


যুদ্ধাপরাধীদের জায়গা জাতিসংঘের মঞ্চে নয়, আদালতে: ইস্তাম্বুলে এরদোয়ান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ২০:১৫:১৫
যুদ্ধাপরাধীদের জায়গা জাতিসংঘের মঞ্চে নয়, আদালতে: ইস্তাম্বুলে এরদোয়ান
ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধাপরাধীদের উপযুক্ত স্থান জাতিসংঘের কোনো মঞ্চ নয়, বরং আদালতের কাঠগড়া বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গণহত্যা চালায়, তাদের বিচার ও উপযুক্ত শাস্তির মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ২১তম মুসিয়াদ এক্সপো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও ২৯তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ফোরামের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে এরদোয়ান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের স্থান কোনো বৈশ্বিক আলোচনা মঞ্চ হতে পারে না; তাদের সংঘটিত অপরাধ এবং হাজার হাজার নিরীহ মানুষের প্রাণহানির জন্য আদালতের মুখোমুখি হয়ে জবাবদিহি করতে হবে। বিচারিক প্রতিক্রিয়া না থাকলে এই ধরনের নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি হতেই থাকবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

চলমান ফিলিস্তিন সংকটে ফিলিস্তিনিদের প্রতি তুরস্কের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এরদোয়ান। গাজাবাসীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, ন্যায়বিচার ও সার্বভৌম অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে ফিলিস্তিনের সাধারণ জনগণ একা কিংবা পরিত্যক্ত নন। আঙ্কারা তার সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক সক্ষমতা ও প্রভাব প্রয়োগ করে নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে বিশ্বমঞ্চে সত্য তুলে ধরা অব্যাহত রাখবে। বর্তমানে তুরস্ককে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চলটি একটি বহুমুখী ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যমান বৈশ্বিক ন্যায়বিচার ও প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা কার্যকারিতা হারিয়ে চরম অচলাবস্থার মুখোমুখি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির পাশাপাশি তুরস্কের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী নানা অস্থিরতার পরও টানা ২৪টি প্রান্তিকজুড়ে তুরস্ক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, যার ফলে দেশটি বর্তমানে বিশ্বের ১৬তম এবং সমগ্র ইউরোপের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। এরদোয়ান তথ্যের মাধ্যমে জানান যে, ২০০২ সালে যেখানে তাদের মোট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৩ হাজার, সেখানে ২০২৫ সালের তথ্যমতে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজারে। ২০ দিন আগে ঘোষিত নতুন মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার আওতায় আগামীতে দেশটিতে ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আঙ্কারা সুদৃঢ় পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি


৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক কমাতে সম্মত চীন ও যুক্তরাষ্ট্র: এআই নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংলাপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ১৭:৫৮:০১
৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক কমাতে সম্মত চীন ও যুক্তরাষ্ট্র: এআই নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংলাপ
ছবি : সংগৃহীত

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক উত্তেজনা হ্রাসে ঐতিহাসিক অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। দুই বিশ্ব পরাশক্তি ৩০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পারস্পরিক বাণিজ্য শুল্ক কমানোর বিষয়ে একমত হওয়ার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির উদীয়মান ঝুঁকি ও সম্ভাবনা নিয়ে নতুন দ্বিপাক্ষিক সংলাপ প্রক্রিয়া শুরু করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে গৃহীত আট দফা শীর্ষ চুক্তির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করে নতুন একটি বাণিজ্য পরিষদ গঠন এবং ইতিপূর্বে কুয়ালালামপুরে হওয়া আলোচনার সিদ্ধান্তগুলোকে আরও জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ১০ নভেম্বর দুই দেশের মধ্যকার ঘোষিত বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সম্ভাব্য বড় অর্থনৈতিক চুক্তি বাস্তবায়নের সুবিধার্থে সেই সময়সীমা আরও দুই মাস বাড়ানোর বিষয়ে সম্প্রতি মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট একমত হন।

এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্র পুনর্গঠনে দুই দেশ একটি সমন্বিত আলোচনা কাঠামো চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা আগামী নভেম্বরেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত প্রযুক্তিগত সংকট বা সাইবার ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত নিরসনে একটি ডেডিকেটেড বা পৃথক যোগাযোগের চ্যানেল স্থাপনের বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ফ্রন্টের বাইরেও এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) এবং জি-২০ (G20) সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনে ওয়াশিংটন ও বেইজিং পরস্পরকে পূর্ণ সহায়তা দেবে বলে জানানো হয়।

পররাষ্ট্র নীতি ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির বিচারেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি প্রসঙ্গে দুই নেতাই স্পষ্ট করেন যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে। একই সাথে লোহিত সাগর বা হরমুজ প্রণালির মতো আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর কোনো দেশ বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর একতরফা ট্রানজিট টোল আরোপের ধারণাকে সরাসরি নাকচ করেন তারা। ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব স্মরণ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দুই দেশের মিত্র শক্তির ভূমিকা পুনরুল্লেখের মধ্য দিয়ে তিন দিনের সফর শেষে চিনের প্রেসিডেন্ট বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স


মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার নেপথ্যে চীনা প্রযুক্তি? সিএনএনের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ১৭:৩৪:১৬
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার নেপথ্যে চীনা প্রযুক্তি? সিএনএনের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন
ইরানের হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর স্যাটেলাইট চিত্র। ছবি: রয়টার্স

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের এই প্রযুক্তিগত ও সামরিক নির্ভুলতা বৃদ্ধির পেছনে চীনা বিভিন্ন গোষ্ঠীর সরবরাহ করা উচ্চমানের স্যাটেলাইট ছবি ও ভূ-স্থানিক গোয়েন্দা তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সম্প্রতি তৈরি একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, চীনা স্যাটেলাইটের সরবরাহ করা সুনির্দিষ্ট তথ্য ব্যবহার করে গত জুলাই মাসে জর্ডানের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে হামলা চালায় ইরানি বাহিনী, যাতে তিন জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই ধরনের উচ্চ প্রযুক্তির বাইরের গোয়েন্দা সহায়তা ছাড়া এমন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালানো ইরানের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াতকারী মার্কিন পাহারাদারি জাহাজ ও বাণিজ্যিক নৌযান শনাক্ত করতেও ইরানি বাহিনীকে চীনা জিওস্প্যাশিয়াল ডেটা সাহায্য করছে। এর ফলে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার নিখুঁত সম্ভাবনা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করে আরও জানা গেছে, চীনা ভূ-স্থানিক ডেটা ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান তাপ-অনুসরণকারী এক বিশেষ ধরনের ড্রোন কৌশলগতভাবে প্রয়োগ করছে, যা উড্ডয়নের পর মাঝপথে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। জাহাজগুলো একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পয়েন্টে (যাকে মার্কিন কর্মকর্তারা 'নাকল' হিসেবে অভিহিত করেছেন) পৌঁছানোর সঠিক সময় হিসাব করে একসাথে বিপুল সংখ্যক ড্রোন উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে, যা জাহাজের কাঠামো থেকে নির্গত তাপ শনাক্ত করে আঘাত হানে।

সম্প্রতি লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের এক ডজনের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত এবং প্রায় ২০টি ড্রোন ভূপাতিত করলেও, চীনের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত হয়েছে।

তবে চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতিপূর্বে এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং চীনের স্যাটেলাইট কোম্পানিগুলোর ওপর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। যদিও চীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনে চলার দাবি করেছে এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ইরান সংঘাতের গতিপথ নিয়ন্ত্রণে চীনের কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন।

তবুও দীর্ঘ সাত মাস ধরে চলা এই মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চীন ও রাশিয়ার পরোক্ষ কারিগরি সহায়তায় ইরান যে তাদের ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক হামলা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে শক্তিশালী করেছে—সে বিষয়ে একমত মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র : সিএনএন


হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা মিসরের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ২১:২১:৫৮
হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা মিসরের
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করে দেশটির পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে মিসর। মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। এর আগে সৌদি আরবের সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশে সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

সাক্ষাৎকারে আবদেলাত্তি আরও বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তার বিষয়টি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ এবং যেকোনো সংকটে মিসর সবসময় রিয়াদের পাশেই অবস্থান করবে।

একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়েও কায়রোর শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বদর আবদেলাত্তি জানান, গাজা উপত্যকায় আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে ইসরায়েলের কাছ থেকে গঠনমূলক ও ইতিবাচক পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে মিসর।

তিনি আরও দাবি করেন, আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়ে যথেষ্ট দায়িত্বশীল ও পরিপক্ব অবস্থান গ্রহণ করেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসার দাবিদার।

এছাড়া ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বা উচ্ছেদের যেকোনো চক্রান্তকে মিসরের জন্য একটি স্পষ্ট 'রেড লাইন' বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, কায়রো কখনোই ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত হতে দেবে না।

/আশিক

পাঠকের মতামত: