ইসরায়েলে আটক শহিদুল আলমকে ফিরিয়ে আনার চূড়ান্ত চেষ্টা—তুরস্কের বিশেষ বিমান প্রস্তুত, অপেক্ষা শেষ মুহূর্তের সম্মতির

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ১০ ১০:২৮:৪৭
ইসরায়েলে আটক শহিদুল আলমকে ফিরিয়ে আনার চূড়ান্ত চেষ্টা—তুরস্কের বিশেষ বিমান প্রস্তুত, অপেক্ষা শেষ মুহূর্তের সম্মতির

বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলমকে ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্ত করতে তুরস্কের কূটনৈতিক সহায়তায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রেস উইং।

শুক্রবার সকালে প্রকাশিত সরকারি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তুর্কি কর্তৃপক্ষ আশাবাদী যে, আজ (শুক্রবার) বিশেষ বিমানযোগে শহিদুল আলমকে আঙ্কারায় নিয়ে আসা সম্ভব হতে পারে। তবে এ ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চয়তা এখনও পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের আঙ্কারাস্থ রাষ্ট্রদূত আমানুল হক বৃহস্পতিবার রাতেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শহিদুল আলমের আটক হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে জর্ডান, মিশর ও তুরস্কে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো সক্রিয় কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে শহিদুল আলমের মুক্তির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও শুক্রবার সকালে একই তথ্য প্রকাশ করা হয়। পোস্টে বলা হয়,

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দ্বারা অবৈধভাবে আটক শহিদুল আলমের মুক্তি নিশ্চিতে তুরস্কের সহায়তায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে। তুর্কি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আজই বিশেষ বিমানযোগে তাঁকে আঙ্কারায় নেওয়া সম্ভব হবে।

তবে কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা বিবেচনায় তুরস্ক এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি।

গত ৮ অক্টোবর ২০২৫, গাজা অভিমুখী ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন–এর সবচেয়ে বড় জাহাজ ‘কনসায়েন্স’ আটক করে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। জাহাজটিতে ছিলেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, যিনি ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা গড়ে তুলতে সক্রিয় ছিলেন।

‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ ছিল এমন এক উদ্যোগ যা গাজায় চলমান ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিকভাবে সংগঠিত হয়।এই বহরে ৯টি জাহাজ অংশ নেয়, যার মধ্যে একটি ছিল “থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজা”—একটি শান্তিকামী উদ্যোগ, যেখানে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও মানবাধিকারকর্মীরা যোগ দেন।

ইসরায়েলি সেনারা ওই বহর আটক করে ৯৩ জন অধিকারকর্মী ও নাবিককে বন্দি করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে শহিদুল আলমের কোনো স্বাধীন যোগাযোগ ছিল না।

শহিদুল আলম বাংলাদেশের অন্যতম প্রখ্যাত আলোকচিত্রী ও ‘দৃক পিকচার লাইব্রেরি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বরাবরই মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের পক্ষে সরব কণ্ঠস্বর। ২০১৮ সালে বাংলাদেশেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় আন্দোলনের সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এবার তাঁর ইসরায়েলি বন্দিত্ব আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার শহিদুল আলমের অবৈধ আটক নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল এবং আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শহিদুল আলমের মুক্তির বিষয়টি “মানবিক অগ্রাধিকার” হিসেবে বিবেচনা করছে। আঙ্কারায় কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, তুরস্ক কেবল মধ্যস্থতা নয়, প্রয়োজনে মানবিক করিডর তৈরির প্রস্তাবও দিতে পারে।

শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যমতে, তুরস্কের একটি বিশেষ মেডিকেল ও কূটনৈতিক দল ইতোমধ্যে আঙ্কারা বিমানবন্দরে প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে, যদি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মুক্তির চূড়ান্ত সম্মতি দেয়।বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, শহিদুল আলম মুক্তি পেলে তাঁকে আঙ্কারায় নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ব্রিফিং শেষে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

শহিদুল আলমের মুক্তি এখন কেবল বাংলাদেশ নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অঙ্গনেও নজর কাড়ছে। তুরস্ক, জর্ডান, মিশরসহ মুসলিম বিশ্বের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই তাঁর মুক্তির দাবিতে নীরব কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন—ইসরায়েল কত দ্রুত আন্তর্জাতিক চাপ মেনে তাঁকে মুক্তি দেয়, এবং আজই কি সত্যিই আঙ্কারায় পৌঁছাতে পারবেন শহিদুল আলম?


এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌপ্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১২:০৫:২৮
এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌপ্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ভাইস এডমিরাল থেকে এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত আনুষ্ঠানিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাকে এডমিরাল র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নবপদোন্নতিপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান।

র‍্যাংক ব্যাজ পরানোর সময় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিব এবং সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্য দিয়ে নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মাথায় এডমিরাল পদে উন্নীত হলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।

এর আগে গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে নৌবাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড, প্রশিক্ষণ, কৌশলগত পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। দেশের বাইরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।

খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন। রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে নৌ-প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর ১৯৮৯ সালের ১ জুলাই এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চে কমিশন লাভ করেন। নৌবাহিনীর ৮৭-এ ব্যাচে জ্যেষ্ঠতা ও মেধার বিচারে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন।

শিক্ষাজীবনেও ধারাবাহিক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন এডমিরাল আজীম। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক—উভয় পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেছেন তিনি। এমফিল ডিগ্রির পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক, ডিফেন্স এবং অপারেশনাল স্টাডিজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশ থেকে প্রথম শ্রেণিসহ তিনটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স এবং ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের একজন কৃতী গ্র্যাজুয়েট।

দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ারে এডমিরাল আজীম কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন, বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্ট এবং নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পরিচালক নৌ-অপারেশন্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। নৌবাহিনীর অপারেশনাল ও কৌশলগত পর্যায়ের এসব দায়িত্ব তাকে বাহিনীর বিভিন্ন সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি কাজ করার বিস্তৃত অভিজ্ঞতা দিয়েছে।

সমুদ্রে কমান্ডের ক্ষেত্রেও রয়েছে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। বানৌজা ওমর ফারুক, বানৌজা এস আর আমিন, বানৌজা নির্ভয় ও বানৌজা সৈকতসহ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধজাহাজের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সামরিক কর্মকর্তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নেও ভূমিকা রেখেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে এডমিরাল আজীমের। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি লেবানন এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন। নৌবাহিনী প্রধান হওয়ার আগে ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে দায়িত্বকালে বাংলাদেশ-ওমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

পেশাগত দক্ষতা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এডমিরাল আজীম নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন সম্মাননা ‘নৌবাহিনী পদক’ (এনবিপি) এবং ‘নৌ পারদর্শিতা পদক’ (এনপিপি) অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার ও জাতীয় স্কাউট পুরস্কারের ‘রৌপ্য ইলিশ পদক’ পেয়েছেন। তিনবার নৌবাহিনী প্রধানের প্রশংসাসূচক ইনসিগনিয়া লাভের পাশাপাশি ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন’ পুরস্কার, সেরা ব্যক্তিগত গবেষণাপত্র পুরস্কার এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে সেরা শিক্ষার্থীর স্বীকৃতিও রয়েছে তার ঝুলিতে।

সামরিক দায়িত্বের বাইরেও এডমিরাল আজীম গবেষণা ও লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, সামরিক কৌশল এবং নৌ-কৌশলগত বিভিন্ন বিষয়ে তার একাধিক প্রবন্ধ জার্নাল ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে গলফ, বাস্কেটবল, দাবা ও টেবিল টেনিসে আগ্রহী তিনি। বাংলা ও ইংরেজিতে সাবলীল হওয়ার পাশাপাশি মালে ও ফরাসি ভাষায় ব্যবহারিক দক্ষতা রয়েছে তার। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বেগম নুরতাজ আজীমের সঙ্গে বিবাহিত এবং তাদের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।

-রফিক


গার্ড অব অনারে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১১:৫৬:১২
গার্ড অব অনারে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বঙ্গভবনে গিয়ে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনে পৌঁছান তিনি। সেখানে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়।

বঙ্গভবনে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল নতুন রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন এবং রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন।

এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এ প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

শপথের পরদিন শনিবার (২২ আগস্ট) সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান রাষ্ট্রপতি। সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তার অন্যতম প্রথম রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি।

রোববার বঙ্গভবনে প্রথম অফিস করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হলো। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে এখন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় নথি, সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব সম্পাদন করবেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন। রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি বিএনপির মহাসচিবের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নতুন দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় ও সরকারের নির্বাহী দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগসহ সংবিধান ও আইনে নির্ধারিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। ফলে বঙ্গভবনে নিয়মিত অফিস শুরু করার মধ্য দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক কার্যক্রমও পূর্ণাঙ্গ দাপ্তরিক রূপ পেল।

-রফিক


গার্ড অব অনারে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১১:৫৬:১২
গার্ড অব অনারে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বঙ্গভবনে গিয়ে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনে পৌঁছান তিনি। সেখানে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়।

বঙ্গভবনে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল নতুন রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন এবং রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন।

এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এ প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

শপথের পরদিন শনিবার (২২ আগস্ট) সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান রাষ্ট্রপতি। সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তার অন্যতম প্রথম রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি।

রোববার বঙ্গভবনে প্রথম অফিস করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হলো। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে এখন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় নথি, সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব সম্পাদন করবেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন। রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি বিএনপির মহাসচিবের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নতুন দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় ও সরকারের নির্বাহী দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগসহ সংবিধান ও আইনে নির্ধারিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। ফলে বঙ্গভবনে নিয়মিত অফিস শুরু করার মধ্য দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক কার্যক্রমও পূর্ণাঙ্গ দাপ্তরিক রূপ পেল।

-রফিক


বিনামূল্যে প্রাথমিক-জরুরি চিকিৎসার অঙ্গীকার সরকারের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১০:৫৭:০২
বিনামূল্যে প্রাথমিক-জরুরি চিকিৎসার অঙ্গীকার সরকারের
ছবি : সংগৃহীত

সবার জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, জনগণের স্বার্থ ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার প্রশ্নে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না। বিনামূল্যে প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে বিশেষায়িত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ৮টায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘২য় ঢাকা আন্তর্জাতিক হাঁটু সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আর্থ্রোপ্লাস্টি সোসাইটির সহযোগিতায় বাংলাদেশ আর্থ্রোস্কোপি অ্যান্ড আর্থ্রোপ্লাস্টি একাডেমি আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে দেশের অর্থোপেডিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সামনে থাকা নতুন ও জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু অবকাঠামো কিংবা প্রযুক্তি যথেষ্ট নয়; দক্ষ জনবল, হালনাগাদ চিকিৎসাজ্ঞান এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগ প্রয়োজন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার পরিধিও ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে চিকিৎসকদেরও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নতুন জ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তির সঙ্গে নিয়মিতভাবে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, রোবোটিক প্রযুক্তি, উন্নত ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থা এবং সুপার-স্পেশালাইজেশনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা এখন প্রযুক্তিনির্ভর নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে না পারলে ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ ও জটিল রোগের চিকিৎসা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হবে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা বিভাগ, পেশাজীবী সংগঠন এবং বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হাঁটু ও অস্থিসন্ধির চিকিৎসায়ও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এসেছে। আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি থেকে শুরু করে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট বা আর্থ্রোপ্লাস্টির মতো বিশেষায়িত চিকিৎসায় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ বলে সম্মেলনে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ধরনের আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন দেশের চিকিৎসকদের নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ খাতে এমন বড় বরাদ্দ আগে দেখা যায়নি। তবে শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না; বরাদ্দ করা অর্থের দক্ষ, স্বচ্ছ এবং ফলপ্রসূ ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বিশেষভাবে চিকিৎসাশিক্ষার মানোন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, বিশেষায়িত চিকিৎসা সম্প্রসারণ এবং রোগীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান ও দীর্ঘমেয়াদি ফল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্য খাতে বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ দেওয়াকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, পর্যাপ্ত বিনিয়োগের পাশাপাশি চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের রোগীদের বিদেশমুখিতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসাক্ষেত্রে দক্ষতা ও পেশাগত উন্নয়নে উৎসাহ দিতে ছয়জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ঢাকা আর্থ্রোপ্লাস্টি সোসাইটির পক্ষ থেকে ফেলোশিপ দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে হাঁটুর সুস্থতা, রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রকাশিত ‘সেভ ইয়োর নি’ শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক। সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আর্থ্রোপ্লাস্টি সোসাইটির সভাপতি ডা. এম. আলী।

-রফিক


আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১০:২০:৩০
আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ রোববার (২৩ আগস্ট) আনুষ্ঠানিক বাসভবন বঙ্গভবনে উঠছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বঙ্গভবনে তাঁর আনুষ্ঠানিক বসবাস শুরু হচ্ছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করা মির্জা ফখরুল গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। সরকারি গেজেটেও ২১ আগস্ট তাঁর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

এর এক দিন আগে, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মির্জা ফখরুল। নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন। মির্জা ফখরুল পান ২৫৫ ভোট। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশন মির্জা ফখরুলকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে।

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও মির্জা ফখরুলের নির্বাচন বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে স্থান পেয়েছে।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক নেতা ছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন এবং তার আগেও কয়েক বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার পর দলীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনটিও শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে আসা মির্জা ফখরুল দীর্ঘ সময় ধরে দেশের জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ। বিরোধী রাজনীতির দীর্ঘ পর্ব পেরিয়ে বিএনপি সরকারে আসার পর তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দলীয় রাজনীতির সক্রিয় নেতৃত্ব থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তাঁর যাত্রা শুরু হলো।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর সামনে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রত্যাশাও রয়েছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ মূলত সাংবিধানিক হলেও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এই পদের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক আস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত ও ভূমিকার দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

আজ বঙ্গভবনে ওঠার মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যায় আরও পূর্ণতা পাচ্ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির দীর্ঘকালীন মহাসচিব থেকে এখন তিনি রাষ্ট্রপ্রধান। ফলে আগামী দিনে বঙ্গভবন থেকে তাঁর সাংবিধানিক ভূমিকা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার সক্ষমতার ওপরও বিশেষ নজর থাকবে।

-রফিক


সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান জোটে ঢাকার ইতিবাচক অবস্থান, গুরুত্ব পাবে জাতীয় স্বার্থ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ২১:৫২:৪২
সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান জোটে ঢাকার ইতিবাচক অবস্থান, গুরুত্ব পাবে জাতীয় স্বার্থ
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্পাদিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে এ ধরনের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার সুবিধা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করবে ঢাকা। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করেন, সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে চলছে। ফলে যেকোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চ বা আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওঠানামাকে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

একই সঙ্গে তিনি জানান, স্বাভাবিক কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ ধরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে আরও দৃঢ় হচ্ছে। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আদান-প্রদান সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুতই সৌদি আরব সফর করবেন বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এই উচ্চপর্যায়ের সফরের মধ্য দিয়ে রিয়াদের সঙ্গে ঢাকার দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


তীব্র গ্যাস সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে দেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ২০:০১:৩০
তীব্র গ্যাস সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে দেশ
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে চলা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহের জটিলতায় অবশেষে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে নতুন একটি এলএনজিবাহী কার্গো জাহাজ এসে ভিড়েছে। এর ফলে স্থানীয় দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে ‘ফ্লেক্স কারেজেস’ নামের এলএনজিবাহী বিশেষায়িত জাহাজটি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে নোঙর করে। আন্তর্জাতিক খোলাবাজার বা স্পট মার্কেট থেকে সংগৃহীত এলএনজি বোঝাই করে জাহাজটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামেরন বন্দর থেকে বাংলাদেশে এসেছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে টার্মিনালে নতুন আসা এলএনজির সংযোগ সম্পন্ন হলে সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এর মাধ্যমে বিদ্যমান গ্যাস সংকট সাময়িকভাবে অনেকটাই প্রশমিত হবে।

তবে নতুন জাহাজের গ্যাস যুক্ত হওয়ার আগে থেকেই শনিবার দুপুর থেকে টার্মিনালে আগে থেকে জমা থাকা তরল গ্যাস রূপান্তর করে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়। যার ফলে দুপুরের পর থেকেই দেশের সার্বিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

একই সময়ে মহেশখালীতে থাকা সামিট গ্রুপের অপর ভাসমান টার্মিনাল থেকেও প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে শনিবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সচল ছিল।

আরপিজিসিএলের এলএনজি বিভাগের একজন উপমহাব্যবস্থাপক পদমর্যাদার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে দৈনিক মোট ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহের পূর্ণ সক্ষমতা ফিরে পেতে রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে শনিবার রাতের মধ্যেই এই সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৮০০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালের বয়লারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই দেশে বড় ধরনের এলএনজি সরবরাহ সংকট তৈরি হয়। দুর্ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর টার্মিনালটি মেরামত করে চালু করা সম্ভব হলেও পরবর্তীতে নতুন এলএনজির অভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়নি। একই সাথে জ্বালানি সংকটের কারণে সামিটের টার্মিনালটিও বন্ধ হয়ে পড়েছিল।

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রবিবার থেকে দুটি টার্মিনাল তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করতে শুরু করলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যমান ঘাটতি অনেকটাই মিটে যাবে। দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত গ্যাস রূপান্তর ও সরবরাহের সর্বোচ্চ দৈনিক সক্ষমতা রয়েছে প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

/আশিক


অবসান হচ্ছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির: নতুন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ১৯:২৮:২৭
অবসান হচ্ছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির: নতুন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ
ছবি : সংগৃহীত

দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে নতুন মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। এই অবকাঠামোগত উদ্যোগের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের এই তথ্য অবহিত করেন।

তিনি জানান, ভোলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও বিভাগীয় শহর বরিশালের সরাসরি সড়ক সংযোগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সভায় তিনটি বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সার্বিক দিক বিবেচনা শেষে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত বরিশাল (রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা) রুটটি চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। এই নতুন মহাসড়ক বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ভোলা জেলা সরাসরি মূল জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে।

উচ্চপর্যায়ের এই সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রসারে একটি সুসমন্বিত সড়ক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে ভোলাকে দ্রুততম সময়ে জাতীয় মহাসড়ক ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেন তিনি।

প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত এই রুটে বিদ্যমান রাস্তাগুলো প্রশস্ত করার পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন সড়ক নির্মাণ করতে হবে এবং একই সাথে তিনটি ছোট সেতু নির্মাণের প্রয়োজন হবে। পুরো প্রকল্পটির কারিগরি সম্ভাব্যতা ও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের বাস্তবতা দ্রুত যাচাই করে দেখা হবে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকা, বরিশালসহ সারা দেশের সঙ্গে ভোলার সরাসরি স্থল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ফলে দীর্ঘদিনের নদী পারাপারের ঝামেলা দূর হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সময় ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

চারপাশ নদী দিয়ে ঘেরা হওয়ায় ভোলার বাসিন্দাদের যাতায়াতে এতদিন নৌপথের ওপরই পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকতে হতো। নতুন এই সড়ক সংযোগ চালু হলে সেই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও নৌপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া নীতিনির্ধারকেরা উল্লেখ করেন, হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটের মূল সুবিধা হলো এর মাধ্যমে সড়কপথে দূরত্ব কমার পাশাপাশি সময় ও সার্বিক ব্যয়ের বড় ধরনের সাশ্রয় হবে। যার ফলে ঢাকা ও বরিশালের সঙ্গে যোগাযোগ সহজতর করতে এটি অত্যন্ত কার্যকর বিকল্প হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির বড় বিপ্লব: সরকারের নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ১৮:৫৮:৫৪
দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির বড় বিপ্লব: সরকারের নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ
ছবি : সংগৃহীত

সারাদেশের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমকে একটি একক তথ্যপ্রযুক্তি কাঠামোর অধীন নিয়ে আসতে ‘ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শুরুতেই নির্দিষ্ট কিছু জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২২ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বাস্থ্যখাতে সমন্বিত তথ্যপ্রযুক্তি রূপরেখা নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। উচ্চপর্যায়ের এই পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই সভাপতিত্ব করেন।

উক্ত বৈঠকে ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের সম্ভাব্য পরিকাঠামো, পরিচালনা প্রক্রিয়া এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবায় এর প্রয়োগের বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, দেশব্যাপী পুরোপুরি বাস্তবায়নের পূর্বে নির্বাচিত কয়েকটি জেলায় পাইলট প্রকল্প পরিচালনা করে প্ল্যাটফর্মটির কার্যকারিতা, সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা, আর্থিক ব্যয় এবং সামগ্রিক সম্ভাব্যতা যাচাই করে নেওয়া হবে।

পাইলট প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ও ফলাফলের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ শেষেই পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পরিধি সম্প্রসারণের পথরেখা নির্ধারণ করবে সরকার।

চিকিৎসাসেবায় প্রযুক্তির সময়োপযোগী ব্যবহারের বিষয়ে আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেন, পুরো পরিকাঠামো এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যাতে নাগরিকরা নির্বিঘ্নে এর সুফল লাভ করতে পারেন এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির পথ আরও সহজ হয়।

বিশেষ করে রোগীর যাবতীয় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নথিপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা করে তা নিরাপদভাবে সংরক্ষণ এবং জরুরি মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের জন্য তা সহজলভ্য করার ওপর তিনি বিশেষ তাগিদ দেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এই ডিজিটাল কাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে নাগরিকের তথ্যের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিটি যেন সহজে ব্যবহারযোগ্য, কম ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয়, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। সেই সাথে পরীক্ষামূলক প্রকল্পের ফলাফল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করেই পরবর্তী চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন।

বৈঠকের শুরুতে প্রকৌশলী জাকারিয়া স্বপন ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের সামগ্রিক রূপরেখা ও কার্যপ্রণালী নিয়ে একটি বিশদ তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও ড. শাকিরুল ইসলাম খান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব মো. মামুনুর রশীদসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: