রাজধানীতে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন, দগ্ধ চার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ০৩ ১১:৪৭:১২
রাজধানীতে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন, দগ্ধ চার

রাজধানীর ভাটারা থানার নূরেরচালা এলাকায় একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারীসহ একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। বুধবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধরা হলেন—গৃহকর্তা হালিম শেখ (৫০), তাঁর স্ত্রী শিউলি বেগম (৪৫), ছেলে হানিফ শেখ (২৮) এবং হালিম শেখের বোন রহিমা খাতুন (৫০)। এর মধ্যে হানিফ শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে, কারণ তার শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। হালিম শেখ দগ্ধ হয়েছেন ৩৩ শতাংশ, শিউলি বেগম ১ শতাংশ এবং রহিমা খাতুন ২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।

হালিম শেখের ভাগনে সাগর জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে চুলা জ্বালানোর সময় গ্যাস লিকেজ থেকে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে এবং তাৎক্ষণিকভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে রান্নাঘরে থাকা সদস্যরা দগ্ধ হন। তিনি আরও জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরিবারটি ভাটারা থানাধীন আবুল কালাম খন্দকারের মালিকানাধীন একটি টিনশেড বাড়িতে ভাড়া থাকত। ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান এবং দগ্ধদের হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে।


ছাত্রদল-যুবদল ও পুলিশের যৌথ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১১:১৭:০৯
ছাত্রদল-যুবদল ও পুলিশের যৌথ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহে গত শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে নিজের ওপর হওয়া বর্বরোচিত ও পরিকল্পিত হামলার ঘটনার তিন দিন পর সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আজ সোমবার (২৫ মে ২০২৬) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘ফিরে আসা মৃত্যুর মুখ থেকে’ শিরোনামে দেওয়া এক দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্টে তিনি এই দাবি ও অভিযোগগুলো করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, হামলাকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ, উপুর্যপরি ঘুষি, ধাক্কা, ইট-পাটকেল ও হকিস্টিক দিয়ে নৃশংস হামলা চালায়, যা মূলত তাঁকে হত্যার একটি সুপরিকল্পিত নীল নকশা ছিল।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, ঝিনাইদহের প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ প্রয়াত ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের কবর জিয়ারত এবং আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ পথ ও সড়কের দুরবস্থার কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে ঝিনাইদহে পৌঁছে শহরের কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ছবি তোলার পর হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় মসজিদ প্রাঙ্গণেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রদলের সাবেক একজন আহ্বায়ক তাঁকে প্রথম হুমকি দিতে শুরু করেন। তিনি বিষয়টি উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে গেলেও মুহূর্তের মধ্যে চারপাশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাটওয়ারী দাবি করেন, ‘হঠাৎ করে চোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করি।

পাশ থেকে জানানো হয় আমার চোখে ডিম মারা হয়েছে। এরপর পাশ থেকে একজন জোরে ধাক্কা দেয়, একজন ঘুষি মারে, আমার মাথা ভোঁ ভোঁ করতে থাকে। আমাদের সহযোদ্ধারা ব্যারিকেড তৈরি করে আমাকে রক্ষা করে। এর মাঝে কয়েকজনের মাথা থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। হঠাৎ দেখি বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ছুড়ছে আমাদের দিকে। এরপর শুরু হয় হকিস্টিক দিয়ে আঘাত।’ তবে তিনি দমে না গিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধের ডাক দেন এবং সহযোদ্ধাদের নিয়ে হামলাকারীদের হাত থেকে কিছু হকিস্টিক ও লাঠি উদ্ধার করতে সক্ষম হন— যা পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উল্টো প্রচার করা হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ফেসবুক পোস্টে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা আরও একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনে বলেন, হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু পুলিশ সদস্য নীরব ভূমিকা পালন করে প্রকারান্তরে হামলাকারীদেরই পক্ষ নিয়েছেন। তিনি ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপির কর্মী এবং পুলিশের এই রহস্যজনক উপস্থিতিকে একটি ‘পরিকল্পিত যৌথ ষড়যন্ত্রের অংশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন; যদিও স্থানীয় সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসে তাঁদের প্রাণ রক্ষা করেন। হামলার পর বিকেলে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত একটি যোগদান কর্মসূচির নিরাপত্তা এবং মামলার দাবিতে তাঁরা ঝিনাইদহ সদর থানায় যান। কিন্তু থানায় যাওয়ার পর পুলিশ তাঁদের বিকালের অনুষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দেয় এবং কমিউনিটি সেন্টারটি সিলগালা করে দেয়। এমনকি পুলিশ তাঁদের নিরাপত্তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে অবিলম্বে ঝিনাইদহ ছেড়ে চলে যাওয়ার মৌখিক নির্দেশ দেয়।

পাটওয়ারী দাবি করেন, থানায় লিখিত অভিযোগপত্র প্রস্তুত করার পর পুলিশ প্রশাসন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ডাউন সার্ভার সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে মামলা গ্রহণে চরম গড়িমসি শুরু করে। এ নিয়ে থানায় প্রায় আট ঘণ্টা টানটান উত্তেজনা ও অপেক্ষা চলে। একপর্যায়ে তিনি থানায় অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলে পরিস্থিতি বদলে যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত এক প্রভাবশালী নেতার নাম বাদ দেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে মন্ত্রী ও এমপিদের ফোন আসছিল এবং স্থানীয় পুলিশও সেই নাম বাদ দিয়ে মামলা নিতে চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু এনসিপি নেতাদের অনড় অবস্থান এবং উপর মহলের বিশেষ নির্দেশে অবশেষে দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ আসে এবং পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করতে বাধ্য হয়। মামলা শেষ করে তাঁরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

পোস্টের শেষভাগে তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে দাবি করেন, হামলার পর থেকেই ঝিনাইদহে এনসিপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে গভীর রাতে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও গেট ভেঙে গ্রেপ্তারের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি বিচার ব্যবস্থার প্রতি হতাশা ব্যক্ত করে লেখেন, ‘আমরা যদি কখনো মারা যাই, আমাদের খুনের বিচার যেন হয়— এটুকুই অনুরোধ। হাদি ভাইয়ের বিচার হয়নি। তাই আশা কম, কিন্তু আল্লাহ আছেন। কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ যেন সব অন্যায়কারীর বিচার করেন— এই দোয়া ছাড়া এই মজলুমের আর কিছু বলার নেই।’

/আশিক


এনসিপি নেতা তানাইমের বাসার গেট ভেঙে গ্রেপ্তারের চেষ্টা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ২১:৪১:৩৫
এনসিপি নেতা তানাইমের বাসার গেট ভেঙে গ্রেপ্তারের চেষ্টা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) ঝিনাইদহ জেলার সক্রিয় নেতা ও সংগঠক তানাইমের বাসভবনের প্রধান ফটক ভেঙে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন দলটির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক জরুরি ও বিস্ফোরক পোস্টে তিনি এই অভিযোগটি সামনে আনেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর ফেসবুক পোস্টে ঝিনাইদহের ওই ঘটনার একটি লাইভ বা ধারণকৃত ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে বাসার ফটক ভাঙার দৃশ্য বা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন— ‘আইয়্যামে জাহেলিয়াত যেন আবার ফিরে এসেছে।

এই অন্ধকারের বিরুদ্ধে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতেই হবে লাল জুলাইয়ের মতো।’ তিনি দেশের বর্তমান শাসনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অন্ধকারের সঙ্গে তুলনা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘লাল জুলাই’ বা জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে দেশবাসীকে আবারও রাজপথে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হওয়ার জোর আহ্বান জানান। তিনি সরাসরি লেখেন, ঝিনাইদহে গভীর রাতে তানাইমের বাসার গেট ভেঙে জোরপূর্বক প্রবেশ করে তাকে গ্রেপ্তারের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) তানাইম হলেন ঝিনাইদহ অঞ্চলের একজন অত্যন্ত সক্রিয় মাঠপর্যায়ের নেতা। সম্প্রতি ঝিনাইদহ শহর ও জেলা এলাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাংগঠনিক সফর এবং মতবিনিময় সভা চলাকালে স্থানীয় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক বা ফ্যাসিবাদের দোসরদের দ্বারা তানাইমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ও সমন্বয়ক বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছিলেন। সেই হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ ভুক্তভোগী নেতার বাসাতেই গভীর রাতে গ্রেপ্তারি অভিযানের নামে এই ধরনের হয়রানি চালানো হচ্ছে বলে দাবি করছেন দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।

/আশিক


ফ্যাসিবাদী শক্তি পালালেও দেশ এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ২০:৪০:৩০
ফ্যাসিবাদী শক্তি পালালেও দেশ এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি: জামায়াত আমির

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার মূল চেতনাকে ধারণ করে দেশ থেকে সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং শোষণমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কোরবানির শিক্ষা সবাইকে গভীর অনুপ্রেরণা জোগায় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

লিখিত বিবৃতিতে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.), তাঁর স্ত্রী হজরত হাজেরা ও প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর মহান স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের দ্বারে সমাগত। এই উৎসব আমাদের ত্যাগ ও কোরবানির মহান আদর্শে উজ্জীবিত করে এবং একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নিজের প্রিয় সবকিছু উৎসর্গ করার চেতনা জাগ্রত করে। তিনি মনে করেন, কেবল পশু জবেহ করার মধ্য দিয়ে কোরবানি সীমাবদ্ধ নয়; বরং ত্যাগ ও কোরবানির প্রকৃত মানসিকতা নিয়ে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বস্তরে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইন-শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে কড়া বক্তব্য দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশ থেকে ফ্যাসিবাদী শক্তি পালিয়ে গেলেও দেশ এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত ও নিরাপদ হয়নি।’ তিনি অভিযোগ করেন, পরাজিত শক্তিরা বিদেশে অবস্থান করে এবং দেশের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থেকে নানাভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যাতে শান্তি, অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য তারা এখনো নানামুখী ষড়যন্ত্র-চক্রান্তে লিপ্ত। এই অবস্থায় দেশবাসীকে সর্বোচ্চ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের সব চক্রান্ত রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি সত্যিকারের মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আদর্শিক আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

বিবৃতির শেষাংশে ইব্রাহিমী ত্যাগের ইতিহাস গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, তাঁদের সেই ত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যদি আমরা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেদের জানমাল ও প্রিয় বস্তু কোরবানি করতে পারি, তবেই আমাদের কোরবানি আল্লাহর দরবারে সার্থক হবে। তিনি দেশবাসীর সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবনের জন্য মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ মোনাজাত করেন এবং নিজের ও দলের পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদুল আজহার আন্তরিক মোবারকবাদ জানান।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জের: ফেঁসে গেলেন ২২ এনসিপি নেতা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ২১:৩৫:৫৫
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জের: ফেঁসে গেলেন ২২ এনসিপি নেতা
ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহ শহরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতাদের ওপর প্রকাশ্য ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এনসিপি-র মামলার পর ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এবার জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও থানায় একটি পাল্টা মেগা ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) ঝিনাইদহ সদর থানায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মো. এনামুল কবির বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।

মামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজাকে প্রধান (১ নম্বর) আসামি করে ২২ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতেই ছাত্রদলের শীর্ষ ৮ নেতার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা ঠুকেছিলেন এনসিপি নেতা তারেক রেজা।

আদালত ও থানা সূত্রে প্রাপ্ত মামলার এজাহার অনুযায়ী, এই মামলার অন্য সুনির্দিষ্ট আসামিরা হলেন—মেহেদী হাসান (আশিক), সিয়াম উদ্দিন তুর্য, তানাঈম, আসিফ, অয়ন রহমান খান, তাইন, জয়নাল, আলমগীর, শাহরিয়ার অভীক, লাবাবুল বাশার, শিহাব শাহ, নয়ন, সুলতান, হৃদয়, রুবায়োত হাসান, শেখ সামি, রিফাত, হাকিম, কাইসার ও ইমরান।

এজাহারে বাদী অভিযোগ করেছেন, গতকাল শুক্রবার দুপুরে তিনি ঝিনাইদহ পৌরসভার পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বের হয়ে দেখতে পান, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপির চেয়ারম্যান ও দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ এবং নবনিযুক্ত আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর ভাষায় প্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন। এই বক্তব্যে প্রধান আসামি তারেক রেজা সরাসরি উসকানি দিচ্ছিলেন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সাধারণ মুসল্লি ও ছাত্রদল নেতারা এই ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানালে তারেক রেজার নির্দেশে এনসিপি ক্যাডাররা পিস্তলের বাঁট, ধারালো দা এবং ইট নিয়ে চড়াও হয়। একপর্যায়ে আসামি তানাঈম বাদী এনামুল কবিরকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তাঁর কপাল ফেটে গুরুতর জখম হয়। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ, ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সভাপতি হৃদয় হোসেন এবং জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সহসভাপতি নয়ন হাওলাদারসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান জানিয়েছেন, বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দণ্ডবিধির মারাত্মক ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে। গতকাল জুমার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের পর থেকে ঝিনাইদহ শহরজুড়ে বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি ও চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

/আশিক


এটাই এনসিপির মূল বসন্ত, মামলা খেয়ে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর রহস্যময় অভিনন্দন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১৯:৫০:২১
এটাই এনসিপির মূল বসন্ত, মামলা খেয়ে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর রহস্যময় অভিনন্দন
ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজাসহ দলটির ২২ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করে একটি মেগা ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই মামলার একটি অফিসিয়াল কার্ড শেয়ার করে ঝিনাইদহ এনসিপি ইউনিটকে উপহাস ও ‘অভিনন্দন’ জানিয়েছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।

আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) বেলা ৩টা ৪৮ মিনিটে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে লিখেছেন, ‘এটাই এনসিপির মূল বসন্ত। অভিনন্দন ঝিনাইদহ এনসিপি ইউনিট। দেখা হবে শিগগিরই।’

থানা ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহ সদর থানায় এই মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এনামুল কবির। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “এনামুল কবির নামে একজন বাদী হয়ে এনসিপির ২২ নেতাকর্মীর নামে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিয়েছেন।

আমরা তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছি, যার ঝিনাইদহ সদর থানার মামলা নং-৪৩।” মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গতকাল শুক্রবার (২২ মে) এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঝিনাইদহ সফরে এলে স্থানীয় এনসিপি নেতাকর্মীরা অবৈধভাবে সমবেত হয়ে দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মী ও বাদীর ওপর সশরীরে হামলা চালান এবং হত্যার হুমকি দেন। তবে এনসিপির বিরুদ্ধে করা এই মামলার বাকি ২১ জন আসামির নাম এখনো প্রকাশ করেনি পুলিশ।

উল্লেখ্য, এই মামলার নেপথ্যে রয়েছে গতকাল জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ শহরে ঘটা এক নজিরবিহীন ও চরম নোংরা রাজনৈতিক হামলার ঘটনা। শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বাইরে বের হওয়া মাত্রই এনসিপির মূল স্তম্ভ ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর অতর্কিতে ডিম নিক্ষেপ ও সশরীরে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এই হামলায় এনসিপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার পর চরম ক্ষোভে দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ঝিনাইদহ সদর থানায় অবস্থান নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে এনসিপির পক্ষ থেকে স্থানীয় ছাত্রদলের ৮ নেতার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১১০-১১৫ জনকে আসামি করে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করা হয় এবং রাত ১০টার দিকে জেলা পুলিশের বিশেষ পাহারায় ঝিনাইদহ ত্যাগ করতে বাধ্য হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রথমে ডিম হামলা এবং পরে ছাত্রদল ও এনসিপির একে অপরের বিরুদ্ধে এই পাল্টাপাল্টি মেগা মামলা ঝিনাইদহের স্থানীয় রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাস্টিস কার্ড চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ২১:৪৩:০৪
প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাস্টিস কার্ড চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কার্ড দেওয়া হলেও এবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ‘জাস্টিস কার্ড’ দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।বুধবার (২০ মে) রাতে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হাসান মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ গেট এলাকায় এনসিপি আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এই দাবি জানানএ সময় দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

পথযাত্রায় সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের শিকার সাত বছরের শিশু রামিসার প্রসঙ্গ টেনে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জুলাই আন্দোলন জাতি এজন্য করেনি যে, আজ সাত বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের শিকার হতে হবে। বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় যদি একটি শিশুর পরিবার হতাশ হয়ে পড়ে, তবে তা পুরো রাষ্ট্রের জন্য চরম লজ্জার বিষয়।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজ সেই অসহায় শিশুর বাবা বুঝে গেছেন যে, তিনি বিচার পাবেন না। সাধারণ মানুষ আজ সর্বত্র নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মানুষ কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন চায়নি, মানুষ অপরাধের অবসান ও সঠিক ন্যায়বিচার চায়।

সরকারের বিভিন্ন কার্ড ব্যবস্থার সমালোচনা করে এই এনসিপি নেতা বলেন, সরকার জনগণকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, পেট্রোল কার্ডসহ নানা ধরনের কার্ড দিয়েছে। কিন্তু এখন জনগণের সবচেয়ে বড় দাবি হলো 'জাস্টিস কার্ড'। এমন একটি বিচারিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ দ্রুত ও নিশ্চিত ন্যায়বিচার পাবে। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা কেবল চাঁদাবাজের পরিবর্তন চাইনি, আমরা চেয়েছি চাঁদাবাজি যেন পুরোপুরি বন্ধ হয়। জনগণ পরিবর্তনের আশায় ভোট দিয়েছিল, কিন্তু তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর সরকার অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এভাবে দেশে যদি বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকে, তবে দেশের সাধারণ জনগণ একদিন সরকারকে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে দেবে।


মাছ-কার্ড বাদ দিয়ে তারেক রহমানেরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চালানো উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ২২:০৬:০৩
মাছ-কার্ড বাদ দিয়ে তারেক রহমানেরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চালানো উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ছবি : সংগৃহীত

দেশে প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি, লাগামহীন দুর্নীতি ও সীমান্তের নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পিপলস পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি সরাসরি দাবি তুলে বলেন, “দেশের নেতৃত্বে থাকা রাঘববোয়ালরাই এখন দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই পরিস্থিতিতে ফ্যামিলি কার্ড বা মাছের পোনা ছাড়ার মতো প্রান্তিক কর্মসূচিতে সময় নষ্ট না করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উচিত নিজেই অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া।”

আজ বুধবার (২০ মে) বিকেলে রাজধানীর তোপখানা রোডে আয়োজিত ‘জাতীয় অর্থনীতিতে চামড়া শিল্পের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। জাতীয় ওলামা অ্যালায়েন্সের ব্যনারে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “দেশ চালাতে এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর আট বছরের অবুঝ শিশুকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা করা হলো, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাহ আলী মাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে কারা মব জাস্টিস (Mob Justice) বা তাণ্ডব চালাল—সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এই প্রশ্নগুলোর কোনো কার্যকর সমাধান বা কঠোর অ্যাকশন আমরা দেখিনি। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেহেতু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তাই আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রীর নিজেরই এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি ‘ডিল’ করা জরুরি।”

আইন-শৃঙ্খলার পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতি ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে আমাদের দেশের নিরীহ নাগরিকরা প্রতিনিয়ত গুলি খেয়ে নিহত হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবেশি দেশের কাছে একটি কার্যকর ও কড়া কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানাতে পর্যন্ত নজিরবিহীনভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।

এনসিপির এই প্রভাবশালী নেতা আরও অভিযোগ তোলেন যে, দেশের অভ্যন্তরীণ গবাদিপশু ও ডেইরি শিল্প বর্তমানে চরম লোকসানের মুখোমুখি হলেও সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশুর অনুপ্রবেশ বন্ধে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো কার্যকর কঠোর উদ্যোগ নেয়নি। একই সঙ্গে সরকারের সাম্প্রতিক প্রচারণাকে টার্গেট করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—দেশের মূল নদীগুলোর নাব্যতা রক্ষা ও খনন না করে, চারদিকে কৃত্রিমভাবে লোকদেখানো খাল খনন কর্মসূচির যৌক্তিকতা আসলে কতটুকু?

এদিকে একই অনুষ্ঠানে দেশের চামড়া শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে কাঁচা চামড়ার সিন্ডিকেট ভাঙা, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া রপ্তানি সম্প্রসারণসহ গুরুত্বপূর্ণ ৫ দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন জাতীয় ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক আশরাফ মাহাদি। আলোচনা সভায় রাজধানীর বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ী ও ওলামা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


জামায়াতকে এ দেশের মানুষ কখনো ক্ষমতায় বসাবে না: মির্জা ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ১৮:৩২:৪১
জামায়াতকে এ দেশের মানুষ কখনো ক্ষমতায় বসাবে না: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর কলঙ্কজনক ও নেতিবাচক ভূমিকা নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই তীব্র আক্রমণাত্মক ও কড়া বক্তব্য দিয়েছেন নবনির্বাচিত বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলটির কঠোর সমালোচনা করে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “ভোটের আগে তারা খুব ঢাকঢোল পিটিয়েছিল যে তারা নাকি ক্ষমতায় এসে গেছে। কিন্তু এদেশের সচেতন মানুষ জামায়াতকে কোনোদিন ক্ষমতায় আনবে না।

কারণ এই জামায়াতে ইসলামী একাত্তরে আমাদের স্বাধীনতার সরাসরি বিরোধী ছিল, পাকিস্তানি দোসর হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল এবং আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি ঘটিয়েছিল। তাই এ দেশের মাটি ও মানুষ কোনোদিন তাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসাবে না।” আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জে অবস্থিত পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চত্বরে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক বোমা ফাটান।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের পরিত্যক্ত বিমানবন্দরটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে স্পেশাল গেস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কার নীতি ও সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “যারা অবান্তর কথা বলেন যে বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কার করতে চায় না, তারা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথা বলেন। বাংলাদেশে আধুনিক সংস্কারের রূপরেখা আমরাই প্রথম শুরু করেছিলাম। আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১৬ সালেই প্রথম ‘ভিশন ২০৩০’ (Vision 2030) দিয়ে সংস্কারের ডাক দিয়েছিলেন।

আমরা দীর্ঘ দেড় দশক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে রক্তাক্ত লড়াই করেছি এবং টেকসই রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ৩১ দফা রূপরেখা আমরাই দেশবাসীকে দিয়েছি। সুতরাং, বিএনপি সংস্কার করবে না বলে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তারা মিথ্যাচার বন্ধ করুন; জনগণ আপনাদের এই প্রোপাগান্ডা কোনোদিন ক্ষমা করবে না।”

অনুষ্ঠানে এলজিআরডি মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের তরুণ ও জনপ্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষকে যেসব যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে।

তিনি বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেই ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন—‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ (আমার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে); আর নির্বাচনের মাত্র তিন মাসের মাথায় সেই মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষি কার্ড ও দেশব্যাপী খাল খননসহ সকল উৎপাদনমুখী উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হয়ে গেছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনবে। একই পরিদর্শনে বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ঠাকুরগাঁওবাসীর উদ্দেশ্যে বড় ঘোষণা দিয়ে বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের নিয়ত সম্পূর্ণ পরিষ্কার। আমরা সততার সাথে কাজ করতে চাই।

আমাদের নেতা যেহেতু ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেখানে আর কোনো প্রশ্নই আসে না; অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিমানবন্দরের আধুনিকায়নের কাজ শুরু হবে।” জেলা বিএনপির এই মেগা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


রাজনীতিতে অলিখিতভাবে আওয়ামী লীগ ফিরে এসেছে: মাহফুজ আলম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ১২:৪৮:০৩
রাজনীতিতে অলিখিতভাবে আওয়ামী লীগ ফিরে এসেছে: মাহফুজ আলম
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান মাস্টারমাইন্ড এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এক বিস্ফোরক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, দেশের রাজনীতিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ আবার ‘ফিরে এসেছে’।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ ও আত্মলিপিসম পোস্টে তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় অন্তর্বর্তী সরকার, বিএনপি, জামায়াত এবং আন্দোলনের সুফলভোগী আমলাতান্ত্রিক চক্রের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘লীগ’ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি বিশেষ ‘ধর্মতত্ত্ব’। আর সেই ধর্মতত্ত্বে এক শ্রেণির মানুষের বিশ্বাস বা ইমান ফিরে আসার মধ্য দিয়েই দলটির অলিখিত প্রত্যাবর্তন ঘটেছে।

পোস্টে মাহফুজ আলম প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘আওয়ামী লীগ ফিরে এসেছে, দেখো নাই?’ এরপর তিনি দলটির ফিরে আসার নেপথ্যে এক ডজনেরও বেশি সুনির্দিষ্ট সামাজিক, রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রেক্ষাপট ও ব্লিন্ড স্পট তুলে ধরেন। তাঁর মতে, যেদিন থেকে ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানকে ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেদিনই লীগের প্রথম ব্যাক করার রাস্তা তৈরি হয়।

গত ১৭ বছর ধরে নির্যাতিত বা মজলুম জনতা যখন আইনের শাসনের তোয়াক্কা না করে ‘মবের শাসনে’ (Mob Justice) আনন্দ পাওয়া শুরু করল, মাজার ভাঙচুর ও ভিন্নমতাবলম্বীদের মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া উগ্রবাদীদের ‘সেফ স্পেস’ বা নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া হলো এবং হিন্দুদের ওপর নিপীড়নে সবাই চুপ থাকল—তখনই মূলত আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, দেশের সেক্যুলার বা ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষ যখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদে ‘ডানপন্থার’ উগ্র উত্থান দেখে ভয় পেয়ে গেল, তখনই লীগের রাজনৈতিক দর্শন আবার প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

অন্তর্বর্তী সরকারের বর্তমান আমলাতান্ত্রিক চরিত্র ও রাজনৈতিক দলগুলোর ‘বাঁটোয়ারা’ সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করে জুলাই আন্দোলনের এই মাস্টারমাইন্ড লেখেন, “পুরো শাসনব্যবস্থা বিলোপের বদলে যখন ‘ন্যূনতম সংস্কার’ ও ‘ঐকমত্য কমিশন’ নাম দিয়ে জনগণকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও হতাশ করা হলো, তখনই লীগ ব্যাক করেছে।” তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার যখন থেকে ‘পলিটিক্যাল’ চরিত্র হারিয়ে আমলানির্ভর ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ দ্বারা পরিচালিত হওয়া শুরু করল, যার অধিকাংশ লোকই ছিল জামায়াত, বিএনপি কিংবা লীগের ছুপা দালাল; যারা জুলাইকে স্রেফ নিজেদের পরিবার, প্রজন্ম ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে, তখনই মূল সর্বনাশটি হয়েছে।

এছাড়াও ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রের বদলে সংঘতন্ত্রের জয়, বাম-শাহবাগীদের পেটালে এক শ্রেণির মানুষের আনন্দ পাওয়া, জুলাই ঘোষণাপত্র বা সনদ আমলাতন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়া এবং কাওয়ালি বা ইনকিলাবি সংস্কৃতির মতো ‘রিগ্রেসিভ’ কালচার দিয়ে জোর করে বাঙালি জাতীয়তাবাদ মোকাবেলার মহড়া শুরু করার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

মাহফুজ আলমের মতে, নির্বাচনি বাঁটোয়ারার স্বার্থে যখন জুলাইয়ের বিচার ও সংস্কারকে কম্প্রোমাইজ (আপস) করে বিএনপি-জামায়াতের ‘বার্গেইনিং টুল’ বা দরকষাকষির হাতিয়ার বানানো হলো এবং জুলাইয়ে মাঠে থাকা বুদ্ধিজীবীদের বাদ দিয়ে ‘জিরো কন্ট্রিবিউশন’ সম্পন্ন গুপ্তদের ক্ষমতারোহণের সুযোগ দেওয়া হলো, তখনই লীগের ফেরার বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়। পোস্টের শেষে তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে লেখেন, “লীগ ফেরত আসবে। কারণ, সব দোষ মাহফুজ আলমের।”

/আশিক

পাঠকের মতামত: