নেপালি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণে নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ২১:০৩:৫৪
নেপালি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণে নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা
ছবি : সংগৃহীত

আগামী মাসে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পর নেপালের হিমালয়া এয়ারলাইন্স সেখানে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই প্রত্যাশার কথা জানান।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হলে নেপালি পর্যটকদের সরাসরি বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের এই শহরে ভ্রমণের দারুণ সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দুই দেশের মধ্যকার পর্যটন সহযোগিতায় এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এই প্রেক্ষাপটেই তিনি হিমালয়া এয়ারলাইন্সকে কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, বৈঠকে নেপালি পক্ষ থেকেও ঢাকা-পোখারা রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর বিষয়ে জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি আকাশপথে যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় দুই দেশের পর্যটক বিনিময় বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং পর্যটন প্রসারে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। পরিশেষে, আকাশপথের এই যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের অংশীদারত্ব সুদৃঢ় হলে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে উভয়পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।

/আশিক


সৌদি বিমানবন্দরে হামলার জেরে ঢাকা থেকে ১০০ ফ্লাইট বাতিল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৯:৫৮:০৬
সৌদি বিমানবন্দরে হামলার জেরে ঢাকা থেকে ১০০ ফ্লাইট বাতিল
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ফাইল ছবি

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত ঢাকা থেকে মোট ১০০টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, এই ফ্লাইটগুলোর মাধ্যমে ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী ভ্রমণের কথা ছিল। ফ্লাইট বাতিলের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা, যার মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে থাকা প্রবাসী কর্মীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া এই ১০০টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪১টি সরাসরি এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের সাতটি রয়েছে। বর্তমানে ঢাকা থেকে রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দায় সরাসরি এবং ট্রানজিটের মাধ্যমে ফ্লাইট চলাচল করে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মাম রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে। তবে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণ সচল রয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্সগুলো বিকল্প বিমানবন্দরের মাধ্যমে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হলেও তা সম্পূর্ণভাবে বিকল্প ফ্লাইটে আসন খালি থাকার ওপর নির্ভর করছে। ফলে টিকিট পরিবর্তন করেও অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রা নিশ্চিত করতে পারছেন না। এয়ারলাইন্সগুলো টিকিটের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে রিয়াদ ও দাম্মামের যাত্রীদের মদিনা ও জেদ্দা বিমানবন্দরে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে। তবে নতুন রুটে আসনসংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে যেসব প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষের পথে, তাদের বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিমানের কোনো ফ্লাইটে আসন খালি না রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে মাঝে মাঝে ওভারবুকিংয়ের পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে। বিমান সংশ্লিষ্টরা জানান, ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পরও কয়েকজন যাত্রীকে ফিরিয়ে আনার ঘটনা ঘটেছে, তবে পরবর্তীতে তাদের আবার সৌদি আরবে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগের থেকেই এসব রুটে যাত্রীদের বুকিং থাকায় বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের নতুন আসন বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা কাটানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৯:২৬:৩৬
ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
ছবি : সংগৃহীত

সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, এ ধরনের মহতী প্রচেষ্টা সমাজে অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করবে।

বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নিজ নিজ কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এই সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সাক্ষাৎকালে অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বাংলাদেশ গঠনে এ ধরনের মানুষদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের অনন্য কাজের প্রশংসা করেন, কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেন এবং প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এই তিন ব্যক্তির মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পাশ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ। বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী এবং পরবর্তীতে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা পদে নিয়োজিত ছিলেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে তিনি শিক্ষকতায় আসেন। গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত এই শিক্ষক শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে নানা ধরনের শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে আসছেন।

অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং তাঁর দুই হাত নেই। তবে অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পা দিয়ে লেখা শিখে ২০০৭ সালে তিনি নরসিংদীর পাঁচদোনা এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’। নিজের জমানো টাকা ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং ১০ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। তিনি নিজেই পা দিয়ে বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা ও লেখালেখির কাজ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর গল্প শুনে বিদ্যালয়টির জন্য নতুন একটি ভবন তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সাক্ষাৎ করা তৃতীয় ব্যক্তি হলেন ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল, যিনি দীর্ঘ তিন দশক ধরে নিজ উদ্যোগে এলাকা জুড়ে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন। পেশায় একজন ইমাম হওয়া সত্ত্বেও তিনি পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রথমে একটি নার্সারি গড়ে তোলেন এবং পরবর্তীতে নিজের অর্থ ও শ্রমে বিভিন্ন রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ করেন। তাঁর লাগানো এসব গাছ এখন পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি পথচারীদের ছায়া জোগাচ্ছে।

/আশিক


ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যুক্ত হচ্ছে জনপ্রিয় ট্রেন ‘মহানগর এক্সপ্রেস’

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৭:২০:০৮
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যুক্ত হচ্ছে জনপ্রিয় ট্রেন ‘মহানগর এক্সপ্রেস’
ছবি : সংগৃহীত

পর্যটনপ্রেমীদের জন্য একটি দারুণ সুসংবাদ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। দেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজারের সঙ্গে যাতায়াত আরও সহজ ও যুগোপযোগী করতে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যুক্ত হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় ট্রেন ‘মহানগর এক্সপ্রেস’। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে এই বর্ধিত সেবা চালুর সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ সফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ বা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’-এর মতো মহানগর এক্সপ্রেস সরাসরি বা বিরতিহীনভাবে চলাচল করবে না। এটি যাত্রাপথে বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে যাত্রাবিরতি নেবে, যার ফলে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের যাত্রীরা কোনো ধরনের ট্রেন পরিবর্তন করার ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি কক্সবাজারে যাতায়াত করার দারুণ সুযোগ পাবেন।

নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রতিদিন রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজারে পৌঁছাবে। অপরদিকে, ৭২১ নম্বর ট্রেনটি সকাল ৮টায় কক্সবাজার থেকে রওনা দিয়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে এবং সেখানে যাত্রাবিরতি শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় এসে পৌঁছাবে।

নতুন এই যাত্রাপথে ট্রেনটি নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট এবং ফেনী জংশন বা স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। তবে নতুন এই সূচি অনুযায়ী ট্রেনটি আর চট্টগ্রামের কুমিরা স্টেশনে থামবে না।

যাত্রীদের দীর্ঘপথের যাতায়াত আরও আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে এই ট্রেনে শোভন চেয়ারের পাশাপাশি স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার), এসি সিট এবং এসি বার্থ-এর আধুনিক সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে পর্যটকরা তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী সহজেই সিট বা বার্থ বেছে নিতে পারবেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ‘সৈকত এক্সপ্রেস’ ও ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ নিয়মিতভাবে চলাচল করছে। এর সঙ্গে নতুন করে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ যুক্ত হওয়ায় দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও গতিশীল ও সহজতর হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

/আশিক


অপারেশন ক্লিন হার্ট বা বিশেষ কোনো যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৭:১৪:৫০
অপারেশন ক্লিন হার্ট বা বিশেষ কোনো যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বক্তব্য দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : সংগৃহীত

অপারেশন ক্লিন হার্টের আদলে বিশেষ কোনো যৌথ অভিযান পরিচালনার আপাতত সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং আসামি গ্রেপ্তারে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে বা অপরাধীদের সহায়তা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন্সে সিআইডির সাইবার কার্যালয় ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আধুনিক যুগে অপরাধের প্রকৃতি বদলানোর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। সাইবার স্পেসের অপব্যবহার করে ডিজিটাল জালিয়াতি, স্ক্যাম এবং স্টক মার্কেট ম্যানিপুলেশনের মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এই ধরনের সাইবার অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই। এই অপরাধ মোকাবিলায় গত ১ অক্টোবর থেকে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পুলিশ সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রামে সিআইডির নতুন এই সাইবার কার্যালয় ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এবং কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কয়কা) সহযোগিতা করেছে। এই প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় দেশের বাকি সাতটি বিভাগীয় সদরেও খুব দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

মন্ত্রী আরও জানান, বিচারপ্রক্রিয়ায় মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ত্বরান্বিত করতে এবং নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করতে এই আধুনিক ল্যাবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পর্যায়ক্রমে কেন্দ্র থেকে শুরু করে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল অপরাধ বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের ধরতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝেমধ্যে হামলার শিকার হলেও অপরাধ দমনের কার্যক্রম থেকে পিছু হটবে না সরকার। আসামি গ্রেপ্তারে বাধা প্রদানকারী বা আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

/আশিক


জেএফকে বিমানবন্দরে হেনস্তার পর ড. ইউনূসকে নিয়ে বড় আপডেট দিলেন লামিয়া মোর্শেদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ২০:৩১:৩৭
জেএফকে বিমানবন্দরে হেনস্তার পর ড. ইউনূসকে নিয়ে বড় আপডেট দিলেন লামিয়া মোর্শেদ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাঁর সফরসঙ্গী লামিয়া মোরশেদ। ড. ইউনূসের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার কোনো ক্ষতি হয়নি এবং তিনি সম্পূর্ণ ভালো ও সুস্থ আছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দুই শিশুর সঙ্গে ড. ইউনূসের একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি প্রকাশ করে তিনি পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

ফেসবুক পোস্টে লামিয়া মোরশেদ উল্লেখ করেন, জেএফকে বিমানবন্দরে ওই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কয়েক মিনিট আগেই তিনি ড. ইউনূসের ছবিগুলো তুলেছিলেন। পুরো সফরজুড়েই সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সম্মান পেয়েছেন ড. ইউনূস। ওই ব্যক্তিদের আচরণকে চরম বর্বর ও হীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা তাদের নিচু মানসিকতাকেই উন্মোচিত করে, এতে স্যারের কোনো ক্ষতি করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে কঠিন সময়ে যাঁরা শুভকামনা জানিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সোমবার (১২ অক্টোবর) নিউ ইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি হঠাৎ ড. ইউনূসের গতিপথ রোধ করেন।

পরিস্থিতির আকস্মিকতায় তাঁর নিরাপত্তায় থাকা সহযোগীরা দ্রুত পদক্ষেপ নেন এবং হুইলচেয়ার ঘুরিয়ে তাঁকে বিমানবন্দরের টার্মিনালের ভেতরের নিরাপদ এলাকায় নিয়ে যান। এ সময় পিছন থেকে ওই উসকানিমূলক মন্তব্য ও স্লোগান দিতে দেখা যায়। তবে সফরসঙ্গীদের তাৎক্ষণিক তৎপরতার কারণে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর অঘটন ছাড়াই তিনি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

/আশিক


১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ২৩:৩২:১৯
১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটের সমস্ত ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিমান কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত একটি সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই জরুরি তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার কারণে বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বিমানের সব নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও নতুন পরিবর্তিত যাত্রাসূচি যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

হঠাৎ এই ফ্লাইট স্থগিতের ফলে যাত্রীদের যে সাময়িক অসুবিধা ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সকল যাত্রীর ধৈর্য এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গত শনিবার থেকেই ঢাকা থেকে রিয়াদগামী কোনো ফ্লাইট ওই বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারছে না। শুধু রিয়াদই নয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে রিয়াদের পাশাপাশি ঢাকা থেকে দাম্মামগামী আকাশ যোগাযোগও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

/আশিক


মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ২০:৪২:৫২
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র দুই নগরী মক্কা ও মদিনার ওপর কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি তৈরি হলে বাংলাদেশ কখনোই হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মক্কা ও মদিনা বিশ্বজুড়ে সকল মুসলমানের ঐক্যের প্রতীক এবং কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় আবেগ এই নগরীগুলোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে বিষয়টি কেবল সাধারণ কূটনীতির বৃত্তে আটকে নেই।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) প্রাঙ্গণে একটি সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বহুল আলোচিত ‘মক্কা প্যাক্ট’ বা জোটে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিচ্ছে কি না এবং সৌদি আরব সেনা সহায়তা চাইলে ঢাকা সেনা পাঠাবে কি না—এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ পরিষ্কার করেন যে, বাংলাদেশ এখনো ওই জোটে যুক্ত হয়নি। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জোটে যোগ দেওয়ার পরই কেবল সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। সুতরাং, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে সেনা পাঠানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তিনি আরও জানান যে, এই কঠিন সময়ে সৌদি আরবের পাশে রয়েছে বাংলাদেশ এবং চলমান সকল প্রকার সশস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্সের নিকট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বার্তা বা চিঠি পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও এ দেশের সাধারণ মানুষ সর্বদা সৌদি জনগণের পাশে অটল রয়েছে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে সম্প্রতি হুথি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ জানান, সরকার এই মুহূর্তে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের কোনো ঝুঁকির আশঙ্কা করছে না। দেশের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বর্তমানে সৌদি আরব সফরে অবস্থান করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া থাকায় জ্বালানি সরবরাহে কোনো গুরুতর বিঘ্ন ঘটবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং ২৪ জনেরও বেশি আহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান কামনা করে তিনি সব পক্ষকে সংযত হওয়ার এবং সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান।

/আশিক


ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক হিসেবে অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৮:৫৭:২২
ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক হিসেবে অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ধর্মের পার্থক্য বিবেচনা না করে দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একজন নাগরিক হিসেবে যার যা প্রাপ্য অধিকার রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে নিজের মূল দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সোমবার (১২ ১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ করে তাকে পূজার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাতে আসেন। সাক্ষাতকালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন পূজামণ্ডপের নেতারা। বিশেষ করে পূজার সরকারি ছুটি এবং অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

প্রতিনিধিদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার অল্প সময়ের মধ্যেই যতটুকু সম্ভব কাজ করার চেষ্টা করেছে। বাকি সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যা সরকারের সদিচ্ছারই বড় প্রমাণ। দেশের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তার পিতা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে লড়াই করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন—কোনোটিই ধর্মের ভিত্তিতে হয়নি, বরং সবাই মিলে একসঙ্গে রাজপথে নেমেছিল।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৎকালীন দমন-পীড়নের শিকার হয়ে বহু নেতাকর্মী নির্যাতিত হয়েছেন। সেখানে মুসলিমদের পাশাপাশি হিন্দু কর্মীরাও একইভাবে নির্যাতন সহ্য করেছেন, ফলে নির্যাতনের ক্ষেত্রেও ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, স্রষ্টা তাকে রাষ্ট্রপরিচালনার যে সুযোগ দিয়েছেন, তা কাজে লাগিয়ে মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়াটাই তার প্রধান অগ্রাধিকার।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জানান, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তারা অত্যন্ত শান্তিতে বসবাস করছেন এবং তাদের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। বিএনপিকে ভোট দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যে ভুল করেননি, নতুন সরকার গঠনের পর তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নেতারা। সরকারের গৃহীত নীতি ও কার্যক্রমের প্রতি সবসময় সমর্থন ও সহযোগিতা বজায় রাখার আশ্বাস দেন তারা।

উক্ত সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচএস পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য। এছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন সভায় অংশ নেন।

/আশিক


ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা পেতে পিএমটি স্কোর কত লাগবে?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৮:৩৬:২১
ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা পেতে পিএমটি স্কোর কত লাগবে?
ছবি : সংগৃহীত

সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আনুমানিক চার কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে জাতীয় ডেটাবেজে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ সময় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার, যার অংশ হিসেবে পরিবারের নারীপ্রধানের নামে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে।

এর আগে চলতি বছরের ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই পাইলটিং ধাপে আটটি বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে এক লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগৃহীত হয়। পরবর্তীতে প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

পাইলটিং কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যার মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।

চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে এই কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য মোট ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা প্রদানের জন্য নির্ধারিত।

কর্মসূচিটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ প্রক্সি মিন্স টেস্ট পদ্ধতির ভিত্তিতে দেশের সকল পরিবারকে তাদের আর্থসামাজিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে—অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত।

নীতিমালা অনুযায়ী, পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম অর্জনকারী নারী পরিবারপ্রধানেরা ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবেন। দেশের সব নারী পরিবারপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পেলেও মূলত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ক্যাটাগরির তুলনামূলক কম স্কোর পাওয়া পরিবারের নারীরা ভাতার সুবিধা পাবেন।

দেশব্যাপী খানা বা পরিবারের তথ্য সংগ্রহের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে একটি নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে, যার অধীনে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ছয় হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহকারীরা বিশেষায়িত ট্যাবলেটে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করছেন। সংগৃহীত সব তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে যুক্ত হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সাইবার নিরাপত্তা, কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) প্রতিষ্ঠার মতো যাবতীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

পাঁচ সদস্যের একক ধরে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আনুমানিক চার কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য ডেটাবেজে যুক্ত করা হবে। পরবর্তীতে পিএমটি বিশ্লেষণের মাধ্যমে চূড়ান্ত উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।

চলতি অর্থবাজেটে নতুন ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী তিন অর্থবছরের মধ্যে দেশের সব যোগ্য নারী পরিবারপ্রধানকে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বিশেষায়িত এই ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড এবং নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তি সংযোজিত থাকবে। এটি সরকারের 'টাকাপেই' পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় উপকারভোগীরা সহজেই যেকোনো ব্যাংকের এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতার টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: