চোরের মন পুলিশ-পুলিশ: জামায়াত আমিরের রহস্যময় ফেসবুক পোস্টে তোলপাড়

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ২০:৪৭:৫২
চোরের মন পুলিশ-পুলিশ: জামায়াত আমিরের রহস্যময় ফেসবুক পোস্টে তোলপাড়
ছবি : সংগৃহীত

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি রহস্যঘেরা পোস্ট দেওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে এই আকস্মিক পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই সংক্ষিপ্ত পোস্টে জামায়াত আমির লিখেছেন, ‘চোরের মন পুলিশ-পুলিশ। সাধু সাবধান।’

তবে এই সংক্ষিপ্ত ও প্রতীকী বার্তার পেছনে ঠিক কী ধরনের প্রেক্ষাপট বা অন্তর্নিহিত কারণ রয়েছে কিংবা তিনি এটি সুনির্দিষ্টভাবে কাকে বা কাদের উদ্দেশে লিখেছেন, সে বিষয়ে পোস্টে কোনো ধরনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। কোনো সুনির্দিষ্ট নাম বা ঘটনার উল্লেখ না থাকায় রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ নেটিজেনদের মাঝেও নানা ধরনের কৌতূহল ও জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

পোস্টটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার ব্যবহারকারী কমেন্ট বক্সে নিজেদের মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা পোস্টটির পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য করায় এটি মুহূর্তেই টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে এই বার্তার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

/আশিক


মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর তদবির চলছে: ববি হাজ্জাজ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৯:৩২:৫২
মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর তদবির চলছে: ববি হাজ্জাজ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা মেয়েদের বিয়ের বয়সসীমা কমিয়ে আনার বিষয়ে নানা তদবির ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার বনানীর একটি হোটেলে কোইকা ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ববি হাজ্জাজ জানান, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ ব্যক্তিরা বিয়ের বয়সসীমা কতটা কমিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে সচেষ্ট রয়েছেন। এই ধরনের দাবি ও অবস্থানের পেছনে তাদের কী ধরনের যুক্তি রয়েছে, তা জ্ঞানভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব সরকারের রয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য জানানোর ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মী ও উন্নয়ন সহযোগীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিয়ের বয়সসীমা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগের মিশর কিংবা আড়াই হাজার বছর আগের গ্রিসের সামাজিক ব্যবস্থার সঙ্গে বর্তমান যুগের বাস্তবতার কোনো তুলনাই চলে না। বর্তমান সময়টি রোবটিকস ও প্রযুক্তির যুগ—এমনকি ২০২৬ সালে এসেও মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হওয়াটা অত্যন্ত হতাশার ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নারীর টেকসই ও প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কেবল কিছু পেশাগত প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন ববি হাজ্জাজ। তার মতে, নারীর ভেতরের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, যোগাযোগের দক্ষতা অর্জন, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং পরিশেষে পরিবার ও সমাজের সামগ্রিক মানসিকতার পরিবর্তন হওয়াও সমানভাবে জরুরি।

বাল্যবিয়ে রোধ করার ক্ষেত্রে পরিবারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার উদ্বেগ, বিভিন্ন সামাজিক চাপ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মেয়েদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করা, যথাযথ দক্ষতা অর্জন এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার সুযোগ বাড়াতে পারলে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ জীবনের বড় সিদ্ধান্তগুলো নিজেরাই নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আলোর বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের জন্য হাতে নেওয়া বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে তাদের পরিবারকেও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। ববি হাজ্জাজ তার বক্তব্যে বলেন, নারীর সামগ্রিক ক্ষমতায়নের জন্য কেবল কঠোর আইনগত সুরক্ষা ও সচেতনতা বাড়ালেই চলবে না, এর পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বহুলাংশে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

উক্ত সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শঙ্কর। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

/আশিক


চুয়েটের ভিসি একজন গুন্ডা: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিস্ফোরক হাসনাত আবদুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৮:৩২:৫৫
চুয়েটের ভিসি একজন গুন্ডা: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিস্ফোরক হাসনাত আবদুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চলমান ভিসি-বিরোধী আন্দোলন ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। চুয়েটের উপাচার্যকে ‘গুন্ডা’ অভিহিত করে তিনি বলেন, চুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষক—কোনো পক্ষই বর্তমান ভিসিকে চাচ্ছেন না। এত দিন ধরে তিনি সার্কিট হাউসে অবস্থান করে অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।

সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে নারায়ণগঞ্জ ছাত্রশক্তি আয়োজিত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

চুয়েটে সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, আজ ছাত্রদলের কয়েকজন গুন্ডাকে ব্যবহার করে তাকে (চুয়েটের ভিসি) জোরপূর্বক কার্যালয়ে প্রবেশ ও চেয়ার দখল করতে হয়েছে। এসব চক্র দেশকে আবারও পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়। এদের নূন্যতম লজ্জা বা ব্যক্তিত্ব নেই মন্তব্য করে সব জায়গায় থাকা এমন অপশক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, চুয়েটে দীর্ঘদিন ধরে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে জোরালো আন্দোলন চালিয়ে আসছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সোমবার ভিসি কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নিজ দফতরে অফিস শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষার্থীরা পুনরায় তাকে তার নিজ কার্যালয়ের ভেতরে রেখেই বাইর থেকে তালা আটকে দেয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক ও মহানগর আহ্বায়ক শওকত আলী, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জুবায়ের সরদার এবং মহানগর ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্য নেতারা।

/আশিক


জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিএনপি বেইমানি করেছে: আল্লামা মামুনুল হক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১০ ২৩:৪২:৪৬
জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিএনপি বেইমানি করেছে: আল্লামা মামুনুল হক
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির আল্লামা মামুনুল হক মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিএনপি ‘বেইমানি’ করেছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার গঠনের পর বিএনপি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে এবং তাদের অধিকার পদদলিত করছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকরের প্রশ্নে দলটি নিজেদের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পৌর মুক্তমঞ্চের কাচারিপাড়া মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সংবিধান সংশোধনের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করে মামুনুল হক বলেন, অতীতে যে দল গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নজির সৃষ্টি করেছিল, তারাই এখন গণভোটের রায় নিয়ে ছলচাতুরী করছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে সরকার গঠিত হলেও গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায়কে উপেক্ষা করা হচ্ছে। কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে দলটির অনীহা জনগণের রায়ের প্রতি বড় ধরনের অবজ্ঞা বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, তাঁরা সংবিধানের সাধারণ কোনো সংশোধন চান না, বরং চান কাঠামোগত সংস্কার। ভবিষ্যতে যাতে কোনো সরকার বা আদালতের একক সিদ্ধান্তে জনগণের মৌলিক আকাঙ্ক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো বাতিল হয়ে না যায়, সেই নিশ্চয়তা রাখার পক্ষে মত দেন তিনি। জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে এমন একটি সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে জুলুম, বঞ্চনা ও একনায়কতন্ত্রের সুযোগ থাকবে না।

সংস্কার প্রস্তাবের অংশ হিসেবে দলীয় প্রধান ও সরকারপ্রধানের পদ ও ক্ষমতা পৃথক করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগের নিয়োগ ও কার্যক্রমে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমানোর মতো বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরেন খেলাফত মজলিশের এই শীর্ষ নেতা।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা খন্দকার আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসেন আকন্দ, এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান দুর্বল করতে ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১০ ১৯:০১:২০
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান দুর্বল করতে ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে কোনোভাবেই মুনাফা অর্জন করতে না পারে এবং দুর্বল হয়ে পড়ে, ষড়যন্ত্রকারীরা বরাবরই সেই চক্রান্তে লিপ্ত থাকে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই ধরনের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকার এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে গতিশীল রাখার আহ্বান জানান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে টঙ্গীর হোন্ডা রোডে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) অধীনস্থ ‘বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি লিমিটেড’-এর আধুনিকায়ন ও নতুন আঙ্গিকে কারখানার বাণিজ্যিক কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেওয়া বক্তব্যে রিজভী স্মরণ করেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যেই এই কারখানাটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। দীর্ঘদিন পর আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কারখানাটি পুনরায় চালু হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সবাইকে আরও উদ্যমী হওয়ার তাগিদ দেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানের পক্ষে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রাশিদুল ইসলাম এবং অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের ‘উইলকিনসন সর্ড কোম্পানি’র সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে টঙ্গীতে কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮৫ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৮ সালে ৫২ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পুরনো যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন ও ডিসপোজেবল রেজর সংযোজনের একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যার সফল সমাপ্তির পর আজ এর আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হলো।

/আশিক


আমরা ভারতবিরোধী নই, আধিপত্যবাদের বিরোধী: আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ২০:৫৭:৪৩
আমরা ভারতবিরোধী নই, আধিপত্যবাদের বিরোধী: আসিফ মাহমুদ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তারা ভারতবিরোধী নন, বরং আধিপত্যবাদের বিরোধী। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা না করে অন্য কোনো দেশের লাভ নিশ্চিত করার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, তারা মূলত সেটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। তাঁর মতে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ধারণাটি কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কাজে রূপ দেওয়া প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘আবরার ফাহাদ: দিল্লির আধিপত্যবাদ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতকে অকাতরে সব দিয়েছেন বলে নিজেই দাবি করেছিলেন, যেখানে দেশের স্বার্থের চেয়ে ভারতের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ভারত সংক্রান্ত নীতি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতির মূল ভিত্তি বুঝতে শহীদ আবরার ফাহাদের ঘোষিত 'আট স্তম্ভ' বা কনসেপ্টকে সঠিকভাবে গ্রহণ করতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের মেয়াদে বিভিন্ন প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, পলিসিগত কাজ করতে গিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। বিশেষ করে, দেশের বিভিন্ন বিকেএসপি সেন্টার ব্যবহার করে তিন বছরে আট হাজার তরুণকে আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি ছোট প্রকল্পে নানামুখী বাধা আসে। এমনকি এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ‘রক্ষীবাহিনী’ বা সশস্ত্র গোষ্ঠী তৈরির অপপ্রচার চালিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমেও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থে অনেক রাজনীতিক আধিপত্যবাদের কাছে নিজেদের বিকিয়ে দেন উল্লেখ করে তিনি সিকিমের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে কয়েকজন নেতার রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের কারণে পুরো রাষ্ট্রের স্বাধীনতা সংকটে পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি সরকার কর্তৃক চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় ডিবি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেকোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি দেশের জন্য লাভজনক ও ঝুঁকিমুক্ত হলে তাতে আপত্তি নেই। একই নীতি ভারতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; পদ্মা বা তিস্তার পানি বণ্টনে ন্যায়সংগত চুক্তি হলে তাতে বাধা নেই, কিন্তু দেশীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে একতরফা কোনো চুক্তির সমর্থন তারা করবেন না।

/আশিক


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর নির্দেশ গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৮:৪৪:৪৮
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর নির্দেশ গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নারীরা জাতীয় পর্যায়ের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে আরও বড় স্থান দখল করবে—সরকার এটাই প্রত্যাশা করে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মেয়েদের ক্রীড়া চর্চার সুযোগ ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার লালমাটিয়া গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গভর্নিং বডির সভাপতি রুনা লায়লা রুনা।

বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, দাবা, ব্যাডমিন্টন, ফুটবল কিংবা ক্রিকেট—যে যে খেলায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ রয়েছে, সেটিতেই তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করে দেওয়া জরুরি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাঠ, প্রশিক্ষণ, কোচিং কিংবা প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জামের অভাব থাকলে কর্তৃপক্ষকে তা অবিলম্বে জানানোর নির্দেশ দেন তিনি এবং এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও সরকারি সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। নারী শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের গর্ব হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শিক্ষা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে উপযুক্ত নেতৃত্ব গুণাবলি অর্জন করে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ পরিচালনায় নারীরা আরও শক্ত ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে লালমাটিয়া গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর তাগিদ দেন তিনি।

/আশিক


আবরার হত্যার আসামিদের আইনজীবী শিশির মনিরকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাশেদ খাঁন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৮:৩৪:২৭
আবরার হত্যার আসামিদের আইনজীবী শিশির মনিরকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাশেদ খাঁন
ছবি : সংগৃহীত

শহীদ আবরার ফাহাদের বুয়েট হত্যাকাণ্ডের আসামিদের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব করায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনিরকে জামায়াতে ইসলামী থেকে অবিলম্বে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহের উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি তোলেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও পূর্ণাঙ্গ বিচারের দাবিতে ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্রশিবির ও এনসিপিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক সংগঠন রাজপথে কর্মসূচি পালন করেছে। কিন্তু যে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সাবেক এমপি প্রার্থী ও দলের পরিচিত আইনজীবী শিশির মনির সরাসরি আবরার ফাহাদের খুনিদের পক্ষে আদালতে দাঁড়িয়েছেন, সেই দল ও তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবির কীভাবে বা কোন নৈতিকতা নিয়ে রাজপথে আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করে—তা নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক এই বিপরীতমুখী আচরণকে জামায়াত-শিবিরের সুস্পষ্ট 'দ্বিচারিতা' বলে আখ্যা দেন তিনি।

বক্তব্যে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেন, আন্দোলন চলাকালীন আইনজীবী শিশির মনির কিংবা জামায়াতের অনেক শীর্ষ নেতাকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি; এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে প্রোফাইল ছবি লাল করার বিষয়েও তাদের অনীহা ছিল। আন্দোলনে ছাত্র-জনতা ও বিরোধী দল বিএনপি রাজপথে জীবন বাজি রেখে অংশ নিলেও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের রাজপথে উপস্থিতির কোনো প্রমাণ নেই বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। আবরার হত্যার বিচার চাওয়া এবং অন্যদিকে খুনিদের আইনি সহায়তা দেওয়া—এই রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে জামায়াত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দলটির রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী।

/আশিক


আবরারের রক্তে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য ও গণপ্রতিরোধের জন্ম: রুহুল কবির রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ২০:১৬:৪৯
আবরারের রক্তে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য ও গণপ্রতিরোধের জন্ম: রুহুল কবির রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মদান গোটা জাতিকে জাগ্রত করেছিল। তার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়েই দেশের ভেতরে আগ্রাসী ও সম্প্রসারণবাদী শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিরোধের শক্তি আরও সংগঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অডিটোরিয়ামে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 'বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি: আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা সুরক্ষার অঙ্গীকার' শীর্ষক এই সভাটির সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাবি কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা মো. বরকত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় রিজভী উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদের করাল গ্রাসে দেশ তলিয়ে যাওয়ার পর এক সময় চারদিকে ভয়াবহ হতাশা তৈরি হয়েছিল এবং আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায় মুক্তির স্বপ্ন ধূসর হয়ে উঠেছিল। সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর 'পার্শ্ববর্তী দেশকে যা দিয়েছি তা মনে রাখবে'— এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে রিজভী বলেন, এর মূল সুরেই লুকিয়ে ছিল সার্বভৌমত্ব দুর্বল করা ও দেশের অস্তিত্ব বিকিয়ে দেওয়ার বার্তা। তিনি বলেন, ইতালি বা জার্মানির নাৎসিবাদ ও ফ্যাসিবাদের মতোই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বৈরাচারী নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে দেশপ্রেমিক পোস্টের কারণে আবরারের ওপর যে নির্মম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, তা সমগ্র জাতির বিবেককে নাড়া দেয় এবং রুশ সাহিত্যিক লিও টলস্টয়ের দর্শন স্মরণ করিয়ে দিয়ে পুরো জাতিকে উদ্দীপ্ত ও ঐক্যবদ্ধ করে তোলে।

রুহুল কবির রিজভী দাবি করেন, আবরারের এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে গণপ্রতিরোধ ও আন্দোলনের ভিত তৈরি হয়েছিল, তারই চূড়ান্ত বহির্প্রকাশ ঘটে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের মাধ্যমে। এ সময় ছাত্রদলের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শত নির্যাতন ও আঘাত সহ্য করেও সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব ও আপসহীন ধারা বিসর্জন দেননি। আওয়ামী লীগ চক্রান্তের মাধ্যমে আবরারকে হত্যা করে চরম ভয়ভীতি ছড়াতে চেয়েছিল, কিন্তু সেই ভুল বার্তা উল্টো জনগণের প্রতিরোধের আগুনকে আরও জ্বালিয়ে তুলেছিল। বর্তমানে অবাধ ও মুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশে দেশের জনগণ আবারও জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে তাদের সমর্থন জানাচ্ছে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

/আশিক


পাঁচ-ই লাগবে, নুরের নির্দেশ: ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলায় গ্রেপ্তার ফারুক হোসেন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ২১:০৯:২৩
পাঁচ-ই লাগবে, নুরের নির্দেশ: ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলায় গ্রেপ্তার ফারুক হোসেন
ছবি : সংগৃহীত

‘পাঁচ, পাঁচ–ই লাগবে, এটা ভিপি নুরের নির্দেশ’—এমন একটি অডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ ও ছড়িয়ে পড়ার পর লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত সভাপতি ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (০৫ অক্টোবর) রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

পরদিন মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) বিকেলে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের নাম ভাঙিয়ে অর্থ দাবি ও ১০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। জেলা গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান চৌধুরী বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত ফারুক হোসেন ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, বিদেশগমনে ইচ্ছুক এক ব্যক্তির কাছে পাসপোর্ট, ভিসা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও বিএমইটি কার্ডের সুবিধার্থ প্রাথমিক খরচের কথা বলে প্রতিমন্ত্রী নুরের নাম ভাঙিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন ফারুক, যা পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে কেন্দ্রীয় দলের ভাবমূর্তি চরম ক্ষুণ্ন হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই ফারুক হোসেনকে সংগঠনের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুব অধিকার পরিষদ। এক বিবৃতিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিস্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর পরপরই সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর; তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তাঁর নাম ভাঙিয়ে বা দলের পরিচয় ব্যবহার করে কোনো প্রকার অনৈতিক ধান্দাবাজি বরদাশত করা হবে না এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত ফারুক নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ করেন যে, স্থানীয় একটি চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে পাঁচ হাজার টাকার কথাকে বিকৃত ও কণ্ঠ সম্পাদনা করে এই বিতর্ক তৈরি করেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: