স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ: নতুন যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২২ ২০:০৬:০৫
স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ: নতুন যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন
ছবি : সংগৃহীত

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা জোরদার এবং শ্রমবাজারের আধুনিকায়নসহ বহুমুখী ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য জোট আরসিইপিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক সংগঠন আসিয়ানের সঙ্গে ঢাকার সম্পৃক্ততা বাড়াতে কুয়ালালামপুর পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সে দেশে সরকারি সফরকালে দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম মালয়েশিয়া যাত্রা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতা পারস্পরিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা দলিল ও প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি বিনিময় সম্পন্ন হয়। বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। এই সফরের অন্যতম প্রধান সাফল্য হলো প্রস্তাবিত মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) সংক্রান্ত আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের প্রতিশ্রুতি। উভয় পক্ষ ২০২৭ সালের মধ্যে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

দুই দেশের শীর্ষ নেতা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি বর্তমানের চেয়ে আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বৈঠকে উল্লেখ করা হয় যে, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হলো বাংলাদেশ। এই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে উভয় দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগের জন্য ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল’ (জেবিসি) গঠনের অগ্রগতির প্রশংসা করা হয়। বৈঠকে মূলত টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা, হালাল পণ্য শিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর খাত এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংসহ বিভিন্ন উদীয়মান খাতে যৌথ বিনিয়োগের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়।

কূটনৈতিক ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিশ্বের বৃহত্তম আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য জোট আরসিইপি (রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ)-এ যোগদানের জন্য বাংলাদেশের যে আগ্রহ ও আবেদন রয়েছে, তার প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছে মালয়েশিয়া। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে কুয়ালালামপুর জানিয়েছে, এই জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইনকে আরও মজবুত করবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এই জোরালো সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে সদস্যপদ লাভের জন্য প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে আসিয়ান জোটে বাংলাদেশের সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে কুয়ালালামপুর ঢাকার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।

উভয় প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি এবং শ্রমবাজারের বিদ্যমান পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায়। মালয়েশিয়ার জাতীয় অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের কথা দুই নেতাই ইতিবাচকভাবে স্বীকার করেন। কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া নতুন প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া জানিয়েছে, তাদের বর্তমান অভ্যন্তরীণ কোটা নীতি অনুসরণ করে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়া বর্তমান সময়ের বাস্তবতা ও চাহিদা বিবেচনা করে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান জনশক্তি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পরিমার্জন ও হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে একটি বিশেষ ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ (জেডব্লিউজি) গঠন করা হবে, যা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে নির্ভরযোগ্য এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া তদারকি করবে।

আধুনিক প্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফিনটেক, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের মতো ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই লক্ষ্যে দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা সংস্থার মধ্যে প্রযুক্তি ও জ্ঞান আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করা হবে। বাংলাদেশ তার হাইটেক পার্ক ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে মালয়েশীয় বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং ও টেস্টিং খাতে মালয়েশিয়ার যে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের প্রকৌশলবিদ্যার স্নাতকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের হালাল খাতের প্রসারে মালয়েশিয়ার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট বিভাগ (জাকিম) এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে যৌথ সনদ প্রদান, উদ্ভাবন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।

উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও পর্যটন খাতের উন্নয়নেও দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষারত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কথা উল্লেখ করে দুই প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অংশীদারিত্ব ও যৌথ গবেষণার পরিধি বাড়ানোর তাগিদ দেন। দুই দেশের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং শ্রমবাজারের উপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়নের বিষয়েও তারা একমত হন। এছাড়া মালয়েশিয়ার জাতীয় পর্যটন কর্মসূচি ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ এবং ‘মেডিকেল ট্যুরিজম ২০২৬’ এর আলোকেই দুই দেশের পর্যটন শিল্প ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়াতে যৌথ প্রচারণার বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করা হয়।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ সংক্রান্ত বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। বাংলাদেশ পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ার সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও অনাবিষ্কৃত খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সম্পূর্ণ কার্যকর করার অঙ্গীকার করা হয়। সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের উদ্দেশ্যে খুব শীঘ্রই ‘প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক যৌথ কমিটি’ (জেসিডিসি)-র বৈঠক আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন, যৌথ সামরিক মহড়া এবং আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও উগ্রবাদ দমনে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে দুই নেতা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এই সংকটের নিরাপদ ও স্থায়ী সমাধানের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশও আসিয়ান, ওআইসি এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বিশ্বমঞ্চে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালয়েশিয়ার অবিচল অবস্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধিকার রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশ আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে একযোগে কাজ করার এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সরকার ও প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

সূত্র: বাসস


দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আসছে বড় পরিবর্তন, নতুন আইনের রূপরেখা প্রকাশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ২১:৩৯:০২
দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আসছে বড় পরিবর্তন, নতুন আইনের রূপরেখা প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া ইতোমধ্যে জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালকের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে এসআরবি। পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে প্রেষণে (ন্যূনতম দুই বছর মেয়াদে) সদস্য এনে এই বাহিনী গঠিত হতে পারে। এসআরবির মূল দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক ও সাইবার অপরাধ দমন, মানবপাচার রোধ এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ, গ্রেপ্তার ও মামলার তদন্ত পরিচালনার জন্য এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ইউনিটটিকে।

নতুন এই বাহিনীর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এসআরবির অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর এবং মানবাধিকার বা বিচার প্রশাসনের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা সদস্য হিসেবে থাকবেন, যারা নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ করতে পারবেন। পাশাপাশি বাহিনীর সদস্যদের জন্য সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনটি চূড়ান্ত ও কার্যকর হওয়ার পর র‌্যাবের বিদ্যমান সব সম্পদ, জনবল, তহবিল, চলমান মামলা ও দায়-দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে।

/আশিক


গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নতুন আশার খবর দিলেন জ্বালানিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ১৮:০৬:০২
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নতুন আশার খবর দিলেন জ্বালানিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) দেখা দেওয়া যান্ত্রিক গোলযোগ সমাধান শেষে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল থেকেই পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে, যার ইতিবাচক প্রভাবে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে সারা দেশের গ্যাস সংকট কেটে যাবে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে এসব কথা বলেন।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, এফএসআরইউ সংস্কারের কাজ বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। মেরামত কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সঞ্চালন ফের চালু করা হবে।

বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় গ্যাসের সরবরাহ না থাকলে সাধারণ গ্রাহকের পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও চাপ তৈরি হয়। গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক করা যায়।

/আশিক


নদীদূষণ দূর করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জবাব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ১৮:০১:৫১
নদীদূষণ দূর করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জবাব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের নদীদূষণ মারাত্মক ও দুর্বিষহ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, এই মুহূর্তে কঠোর ও টেকসই কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে নদী দূষণ ঠেকাতে সার্বিক এবং সমন্বিত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বিন্দুমাত্র অবহেলা বা শিথিলতা দেখানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি কেবল নতুন কর্মপরিকল্পনা তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, তা যেন দ্রুত ও সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অবস্থিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকা শহরের চারপাশের নদ-নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে একটি বিস্তৃত সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা দাঁড় করানো এবং তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।

এই বিশেষ বৈঠকে রাজধানীর কোলঘেঁষে বয়ে যাওয়া নদীসমূহ—বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যাসহ আশপাশের জলাশয়গুলোর বিদ্যমান পরিবেশগত বিপর্যয়, বর্জ্য ও দূষণের প্রধান প্রধান উৎস, বর্তমানে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং এসব সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে বিস্তারিত ও গভীর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, নদীকে বাঁচাতে হলে শিল্পকারখানাসমূহে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) নিয়মিত ও কার্যকর রাখা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শহরের খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন এবং নদী দূষণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

/আশিক


ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তির জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি: মাহদী আমিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ২১:৫৮:০৫
ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তির জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি: মাহদী আমিন
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে সংঘটিত আন্দোলনকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক পর্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, মুক্তিকামী মানুষের কাছে ৫ আগস্ট কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এটি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক উজ্জ্বল মাইলফলক।

আজ বুধবার (৫ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিশেষ বার্তায় মাহদী আমিন বলেন, আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের এই দিনে সব রাজনৈতিক শক্তি ও সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনীতিতে নতুন বার্তা নিয়ে আসে। তীব্র গণমানুষের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন শাসকশ্রেণি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক যাত্রায় পথচলা শুরু করে। এই স্মরণীয় অবদানকে সম্মান জানাতে দিবসটি জাতীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।

মুখপাত্র তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আত্মত্যাগ এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তির আন্দোলনই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আসল পটভূমি তৈরি করেছিল। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন অবস্থান সাধারণ মানুষকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, কৃষক, পোশাকশ্রমিক ও নারীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ছিল এই বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি। মানুষের এই স্রোতকে থামিয়ে দিতে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে নির্মম নির্যাতন ও আকাশপথ থেকে গুলি চালানো হলেও রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ কিংবা চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরামদের মতো বীরদের অদম্য সাহস জাতিকে মুক্তির পথ দেখায়।

তিনি গভীর বেদনার সাথে স্মরণ করেন যে, জুলাই-আগস্টের লড়াইয়ে হাজার হাজার মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। শত শত মানুষ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ কিংবা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। গণতান্ত্রিক দলগুলো দল-মত ভুলে ‘ফ্যাসিবাদ বনাম বাংলাদেশ’ এই এক অভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই ঐতিহাসিক ঐক্য গড়ে উঠেছিল।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে একক অর্জন হিসেবে দাবি করতে গিয়ে একটি রাজনৈতিক দল যেমন পরবর্তীতে জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে, তেমনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব নেওয়ার কোনো প্রতিযোগিতা দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ভিন্নমত ও ইতিবাচক সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে একত্রিত থাকার আহ্বান জানান, যেন রাজপথে বয়ে যাওয়া রক্ত ও আত্মত্যাগ বৃথা না যায়।

মাহদী আমিন আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সাল ছিল আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ এবং ২০২৪ সাল হলো সেই স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। একাত্তর, নব্বই এবং চব্বিশের লড়াইয়ের শিক্ষাকে পাথেয় করেই আগামীর পথ নির্ধারণ করবে দেশ। রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচিত বিএনপি সরকার বিগত সময়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত রূপকল্প, ৩১ দফা কর্মসূচি, নির্বাচনী ইশতেহার, জুলাই সনদ এবং প্রয়োজনীয় সংবিধান সংস্কারের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শকে ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মেধাভিত্তিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

/আশিক


জুলাইয়ের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে, যেন তা হারিয়ে না যায়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ২১:৪৩:০১
জুলাইয়ের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে, যেন তা হারিয়ে না যায়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অভ্যুত্থানের চেতনাকে কোনোভাবেই হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।

বুধবার (৫ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্তৃক আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি। সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে দীর্ঘ ১৬ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের নিরবচ্ছিন্ন আত্মত্যাগের ফলেই স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছে। এটিকে জাতির ইতিহাসের এক অনন্য ও গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। দুপুরের একটি আবেগঘন ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দৃষ্টিশক্তি হারানো এক সন্তানকে নিয়ে এক মায়ের আকুতি তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণ উৎসর্গকারী ও অঙ্গহানির শিকার হওয়া বীরদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান সরকার ও জাতীয় সংসদের অন্যতম প্রধান দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার।

সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জাতীয় জীবনে ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরের মতো ৫ আগস্টও এক ঐতিহাসিক বিজয়ের দিন। তিনি মন্তব্য করেন, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরে বিদেশি শত্রুকে পরাজিত করা হয়েছিল, আর ৫ আগস্ট অর্জিত হয়েছে দেশীয় ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটিয়ে। স্বাধীনতার পর ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অভাবে জনগণ যে বঞ্চিত হয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে সহনশীল ও উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে আইন বা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মানুষের মনোজগতে প্রকৃত সংস্কার আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মৌলিক সংস্কার শুরু হতে হবে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে। চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ৫ আগস্টের অর্জনকে স্বাধীনতার গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে সুসংহত করার নতুন অধ্যায় বলে অভিহিত করেন। তিনি বিগত সরকারের অর্থপাচার, বাকস্বাধীনতা হরণ ও 'আয়নাঘর'-এর মাধ্যমে কায়েম করা ভয়ের রাজত্বের তীব্র সমালোচনা করেন এবং রূপান্তরে সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে সংসদের বিভিন্ন হুইপ, সংসদ সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


জুলাই কার-এ নিয়ে বিভাজন করলে অর্জন হারিয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ২০:০৯:১৫
জুলাই কার-এ নিয়ে বিভাজন করলে অর্জন হারিয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব দাবি করে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভাজন সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি মন্তব্য করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের একার প্রাপ্তি নয়; বরং দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলন, গুম, খুন, নির্যাতন ও হাজারো মানুষের অকাতরে প্রাণদানের ধারাবাহিকতার ফসল এটি।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের হাত থেকে দেশ মুক্ত হওয়ার পর যদি এটিকে নির্দিষ্ট সীমানায় ভাগ করার চেষ্টা করা হয়, তবে জুলাইয়ের মূল চেতনা নষ্ট হয়ে যাবে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক জাতি স্বাধীনতার জন্য শতাব্দী ধরে আন্দোলন করলেও তা অর্জন করতে পারেনি, অথচ সঠিক সময়ে মাত্র কয়েক দিন বা সপ্তাহের লড়াই শতাব্দীর পরিবর্তন এনে দেয়। জুলাই অভ্যুত্থানকে এই ধরনের এক ঐতিহাসিক রূপান্তর হিসেবে উল্লেখ করে তিনি একে দলীয়করণের ঊর্ধ্ব রাখা এবং এর মূল দর্শন বাস্তবায়নে সকলকে এক হয়ে কাজ করার অনুরোধ জানান।

নিজের গুম হওয়ার দুঃসহ স্মৃতির কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত জমানার চড়া মূল্য দেওয়ার ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কেবল বিএনপির নেতাকর্মী নয়, সমাজ ও রাজনীতির অসংখ্য মানুষ দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন। চৌধুরী ইলিয়াস আলীর মতো অনেক নেতা গুম হয়ে আর ফিরে আসেননি। তাই দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ত্যাগ ও সংগ্রামকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র জুলাইয়ের শেষ ৩৬ দিনের হিসাব কষলে এই অভ্যুত্থানের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আন্দোলন অহিংস থাকবে নাকি সহিংস রূপ নেবে তা বিক্ষোভকারীরা ঠিক করে না; বরং যখন গণতান্ত্রিক ও শান্তিময় পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়, তখনই আন্দোলন রক্তক্ষয়ী হয়ে ওঠে। এছাড়া তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান।

জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারসমূহ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, তা কেবল সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই কার্যকর করা সম্ভব। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংস্কার পরিষদ বা জাতীয় সংস্কার পরিষদ—নাম যেটাই দেওয়া হোক না কেন, সংসদে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়েই একেকটি সংস্কার বাস্তবে রূপ নেবে।

সংগঠিত অন্যায়ের বিচারে আইনি কাঠামোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দেশে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আলাদা আইন তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতির মাত্রা বিবেচনা করে ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণিতে ভাগ করে সহায়তা দেওয়া হবে। যাতে গুরুতর আহতদের এবং কর্মক্ষমদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। এখনো যারা তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন, তাঁদের নিবন্ধনের অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাসও দেন তিনি।

ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো একক ব্যক্তির পাশাপাশি রাজনৈতিক দলও যদি মানবতাবিরোধী অপরাধ করে থাকে তবে তাদেরও আইনি কাঠামোর মুখোমুখি দাঁড় করানো সম্ভব। তবে তিনি প্রশাসনিক নির্দেশে বা নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে নন; বরং আদালতই এ বিষয়ে চুড়ান্ত ফয়সালা দেবেন বলে মনে করেন।

আগামীতে যাতে দেশে আর কোনো স্বৈরাচারের জন্ম না হতে পারে সে বিষয়ে সতর্ক করে তিনি জানান, ইতিহাসের এই আত্মত্যাগকে ধরে রাখতে জুলাই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা আগামীর সরকারকে ফ্যাসিবাদী আচরণ থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করবে। জুলাইয়ের অর্জনকে বাংলাদেশ ও সাধারণ মানুষের যৌথ জয় বলে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

/আশিক


বাংলাদেশ আর কোনো দেশের 'ক্লায়েন্ট স্টেট' থাকবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ১৮:৩০:১৫
বাংলাদেশ আর কোনো দেশের 'ক্লায়েন্ট স্টেট' থাকবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ আর কখনো কোনো দেশের ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে থাকবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান সাফল্য হলো দেশের স্বাধীন ও স্বাবলম্বী পররাষ্ট্রনীতিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা। পরিবর্তিত বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর এক বিশেষ স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই বছর পূর্বের উত্তাল সময় স্মরণ করে জানান, প্রবাসে থাকা অবস্থাতেও শিশু-কিশোরদের নির্মম হত্যা, বিদায়ী সরকারের দমন-পীড়ন এবং সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘটনা তিনিসহ প্রবাসীরা গভীর শঙ্কার সাথে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি খেদ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করা হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সেটি ছিল অন্যতম অন্ধকার ও নৃশংস একটি সময়। তিনি জানান, সেই সময় জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন নীতিনির্ধারকদের কাছে বাংলাদেশে পরিচালিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে এবং সরকার পতনের গতিকে ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রেখেছিল।

পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রের সার্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা এবং একটি নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটানো—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সামাল দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলও সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনকে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে।

কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দেশের অর্জনের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক রাজনীতিতে বাংলাদেশ যে গুরুত্ব হারাতে বসেছিল, তা আবার শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সূত্র ধরে তিনি জানান, বর্তমান প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন হলো ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। বাংলাদেশ আর কখনোই কোনো একক পরাশক্তি বা প্রতিবেশী দেশের তোষামোদি বা নির্ভরশীলতার নীতি অনুসরণ করবে না।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের বিষয়টি তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রধান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী দিকনির্দেশনাতেই এই অসম্ভব মিশন জয় করা সম্ভব হয়েছে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত কূটনীতিকদের নিরলস ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই আজ এই ঐতিহাসিক অর্জন সম্ভব হয়েছে।

দেশের যুবসমাজের ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্ম নিজেদের জীবন বাজি রেখে এক স্বৈরাচারী দানবের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে। এখন মেধা, দেশপ্রেম এবং দায়িত্ববোধ দিয়ে দেশ পুনর্গঠন ও এগিয়ে নেওয়ার মূল দায়িত্ব আমাদের সকলের।

/আশিক


আবু সাঈদের ছবি ছাড়া কোনো ডকুমেন্টারি হতে পারে না: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ১৮:০৭:২৬
আবু সাঈদের ছবি ছাড়া কোনো ডকুমেন্টারি হতে পারে না: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেন্দ্র করে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে (ডকুমেন্টারি) শহীদ আবু সাঈদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবি অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়টিকে বড় ভুল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি মন্তব্য করেন, শহীদ আবু সাঈদ হলেন এই গণঅভ্যুত্থানের মূল প্রতিচ্ছবি ও প্রতীক; তাঁকে বাদ দিয়ে নির্মিত চিত্রকে প্রকৃতপক্ষে ডকুমেন্টারি বলা যায় না।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যকালে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি প্রামাণ্যচিত্রটির নানা ত্রুটি তুলে ধরে জানান, এতে শুরুতেই যে বড় ভুলটি পরিলক্ষিত হয়েছে, তা হলো শহীদ আবু সাঈদের ছবির অনুপস্থিতি। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পটভূমি বিচারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবিও সেখানে থাকা উচিত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব ভুলের বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে ক্ষমা চেয়েছেন জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও যোগ করেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিষয়টি মনে পুষে রেখে জাতীয় সংসদের মতো ওয়াকআউট করা মোটেই সমীচীন হয়নি।

বর্তমান সরকারের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রশাসন জনগণের নির্বাচিত একটি সরকার। ফলে কাজের কোনো ভুল হলে তা শুধরে দেওয়ার অধিকার জনগণের রয়েছে। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদায়ী শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে কোনো প্রকার লজ্জাবোধ ছিল না, তবে বর্তমান সরকার কোনোভাবেই তাদের মতো আচরণ করবে না।

এর আগে অনুষ্ঠান চলাকালে গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শিত হওয়ার পর মিলনায়তনে উপস্থিত শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, প্রদর্শিত তথ্যে আন্দোলনের মূল ঘটনাপ্রবাহ, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস যথাযথভাবে ফুটে ওঠেনি।

ডকুমেন্টারির প্রদর্শন শেষ হতেই মিলনায়তনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ শুরু হয়। উপস্থিত অনেকেই স্থান ত্যাগ করে দাঁড়িয়ে উচ্চকণ্ঠে অসন্তোষ জানালে অডিটোরিয়ামে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদকারীদের মূল দাবি ছিল, প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঠিক ইতিহাস ও শহীদদের অবদান সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।

/আশিক


জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ১০:৩৩:৫৮
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে নির্মিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে জাদুঘরটির যাত্রা শুরু করেন তিনি। বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তথ্যপ্রমাণসহ তুলে ধরাই প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির দিনে এই জাদুঘর উদ্বোধন করা হলো। সাবেক গণভবনকে রূপান্তর করে সেখানে আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের দলিল, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, স্মারক, শিল্পকর্ম এবং প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার উপকরণ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, জাদুঘরটি শুধু অতীতের ঘটনাবলি প্রদর্শনের স্থান নয়; বরং গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, নাগরিক প্রতিরোধ এবং শহীদদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে গবেষণা ও জনসচেতনতার একটি কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে।

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। সেখানে সংরক্ষিত আলোকচিত্র, নথিপত্র, আন্দোলনের সময় ব্যবহৃত উপকরণ এবং শহীদ ও আহতদের স্মৃতিবাহী নিদর্শন সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে অবহিত করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরতে প্রদর্শনীগুলোতে স্থিরচিত্রের পাশাপাশি ডিজিটাল ও মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট সংযোজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছিলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়। সেই আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের ত্যাগকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ঘটনাগুলো নির্ভরযোগ্যভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যেই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ও অংশগ্রহণকারী যোদ্ধা, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আন্দোলনের বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগ স্মরণ করে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই যোদ্ধাদের বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচিও রাখা হয়।

উদ্বোধনের দিনটি বিশেষ অতিথি, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে জাদুঘরটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। জাদুঘরে প্রবেশের জন্য অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকবে। প্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থীদের টিকিটের দাম ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাদুঘরটি চালুর আগে প্রদর্শনীর উপকরণ স্থাপন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, প্রবেশ ও টিকিট ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল কনটেন্ট সংযোজন এবং ভবনের প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে উদ্বোধনের কয়েক দিন আগেও নিজস্ব জনবল নিয়োগ পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছিল। আপাতত জাতীয় জাদুঘর ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: