‘হরমুজ বন্ধ হলে মাসের পর মাস তেল পেতাম না’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার পেছনে শুধু কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশ নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, যুদ্ধ অব্যাহত রাখার পরিবর্তে আলোচনার পথে এগোনো ছাড়া কার্যত তার সামনে আর কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প ছিল না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় নজিরবিহীন সংকট তৈরি হতে পারত। তিনি বলেন হরমুজ বন্ধ হলে মাসের পর মাস তেল পেতাম না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, টানা বোমাবর্ষণ চলতে থাকলে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ অচল করে দিতে পারত।
ট্রাম্প বলেন, সামরিক অভিযান আরও দীর্ঘ হলে ইরান পুরো জলপথে মাইন পেতে দিতে পারত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যেত। সেই পরিস্থিতিতে বিলিয়ন ডলার মূল্যের তেলবাহী জাহাজগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে পড়ত এবং কোনো কোম্পানিই সেখানে জাহাজ পরিচালনার সাহস দেখাত না।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে কয়েক মাস ধরে বৈশ্বিক বাজারে তেলের প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো। এতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের প্রায় সব বড় অর্থনীতিই বড় ধরনের সংকটে পড়ে যেত।
ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে যারা মত দিয়েছেন, তাদের উদ্দেশেও সরাসরি জবাব দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুদ্ধ আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ বাড়িয়ে বোমাবর্ষণ চালানো সম্ভব ছিল, কিন্তু তাতে বাস্তবিক কোনো সুফল মিলত না।
ট্রাম্পের মতে, সামরিক চাপ বাড়ালেও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব হতো না। বরং দীর্ঘ সময় ধরে এই জলপথ অচল থাকত এবং বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে পারত।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর অধিকাংশ রপ্তানি এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রণালি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত অস্বাভাবিক মাত্রায় পৌঁছে যেতে পারত। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্য, সার, পরিবহন ব্যয় এবং শিল্প উৎপাদনেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতো।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব জ্বালানি মজুদের অবস্থাও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র কিউশিংয়ে অপরিশোধিত তেলের মজুদ কমে ২ কোটি ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি।
শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুদও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এর পরিমাণ প্রায় ৩৪ কোটি ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, যা ইতিহাসের অন্যতম নিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
মার্কিন জ্বালানি খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও কয়েক সপ্তাহ ধরে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন। তাদের আশঙ্কা, জুনের শেষ ভাগ থেকে জুলাইয়ের শুরুতে তেলের মজুদ এমন পর্যায়ে নেমে যেতে পারে, যেখানে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়বে।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত অবস্থানেও পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। শুরুতে কঠোর সামরিক অবস্থানের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিতে হয়েছে ওয়াশিংটনকে।
তাদের মতে, বর্তমান সমঝোতা কেবল যুদ্ধবিরতির একটি পদক্ষেপ নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির নতুন বাস্তবতার প্রতিফলন।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আগামী ৬০ দিনের আলোচনা কতটা সফল হয় এবং ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হয়ে ওঠে কি না। কারণ এই জলপথের নিরাপত্তা এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
ইরান যুদ্ধে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা, তথ্য ফাঁসে ট্রাম্পের তীব্র ক্ষোভ
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৩৬০ কোটি (৪৩.৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো হালনাগাদ হিসাব অনুসারে, এই বিপুল খরচের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই চলে যাচ্ছে ব্যবহৃত সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণ করতে। হিসাব অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরাসরি সামরিক অভিযানে পেন্টাগনের ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১২০ কোটি ডলার। এর বাইরে অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনঃস্থাপনে প্রায় ২ হাজার ৮১০ কোটি ডলার এবং ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে আরও ৪৩০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত ক্ষতির আর্থিক অঙ্ক আরও ব্যাপক হতে পারে, কারণ হামলায় ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের ব্যয় সেন্টকমের এই হিসাবে আসেনি। পেন্টাগনের ইনস্পেক্টর জেনারেলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শত শত ভবন, উন্নত রাডার ব্যবস্থা এবং বেশ কিছু যুদ্ধবিমান ও নজরদারি আকাশযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর বিশ্লেষণমতে, প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ইরানি আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশটির সামগ্রিক প্রতিরক্ষা শিল্পের পুনঃসরবরাহের দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক মজুতের ঘাটতি ও ব্যয় সংক্রান্ত ফাঁস হওয়া এসব প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে নস্যাৎ করেছেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
তিব্বত-নেপালে বরফ ধস ও পাহাড়ি ঢল: চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ আট দেশ
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক আকস্মিক বরফ ধস ও সর্বনাশা পাহাড়ি ঢল কেবল একটি বিচ্ছিন্ন বা স্থানীয় দুর্যোগ নয়, বরং এটি সমগ্র হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ ব্যবস্থার ওপর নেমে আসা এক মারাত্মক অশনিসংকেত। হিমালয়ের পানির ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভর করে টিকে থাকা বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের আটটি দেশের জন্য এই বিপর্যয় এক তীব্র সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমালয়ের হিমবাহগুলো আশঙ্কাজনক গতিতে গলতে থাকায় এ ধরনের চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির পৌনঃপুনিক ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
বিশেষ করে ভৌগোলিকভাবে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার ভাটির প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় উজানের পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ (GLOF) কিংবা বরফ ধসের সরাসরি প্রভাব এসে পড়ে বাংলাদেশের ওপর। জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনের কারণে নদীভাঙন, অসময়ে তীব্র পাহাড়ি ঢল এবং পূর্বাভাসবিহীন প্রলয়ঙ্করী বন্যার তীব্র ঝুঁকি আরও গভীর হচ্ছে।
এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে এ ধরনের বিপর্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব নয় বলে একমত হয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। বিপর্যয় কমাতে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট আটটি দেশের মধ্যে অবিলম্বে একটি সমন্বিত আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উজানের পাহাড়ি আবহাওয়ার পূর্বাভাস, নদ-নদীর প্রবাহ এবং পানি বৃদ্ধির রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদানে যৌথ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে যথাসময়ে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বহুলাংশে কমিয়ে আনা যাবে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস ।
রাশিয়ার তেল কেনায় ভারতের ওপর শতভাগ শুল্কের খাঁড়া? স্বাক্ষরিত হলো ট্রাম্পের নতুন বিল
রাশিয়া থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা ভারতসহ অন্যান্য দেশের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের এখতিয়ার দিয়ে একটি নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্বাক্ষরিত এই আইনটির নাম রাখা হয়েছে প্রয়াত রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা লিন্ডসে গ্রাহামের নামে। এর আগে গত ৭ আগস্ট মার্কিন সিনেটে এবং পরবর্তীতে প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। তবে আইনটি স্বাক্ষরিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে ভারতের ওপর এখনই এই ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়ে গেছে; বরং নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনকে এই শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই আইনের বিধান অনুযায়ী, আইনটি কার্যকর হওয়ার পূর্ববর্তী ১২ মাসে রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বা গ্যাস আমদানি করা শীর্ষ পাঁচটি দেশকে নজরদারিতে রাখা হবে। আইন কার্যকরের ৩০ দিন পরও যদি তারা জেনেশুনে রাশিয়ার তেল ক্রয় অব্যাহত রাখে, কিংবা মস্কোকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করে—তবেই তাদের ওপর এই কঠোর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। তবে যেসব দেশ রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা লক্ষণীয়ভাবে কমিয়েছে অথবা যাদের আমদানির পরিমাণ রাশিয়ার মোট গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের নিচে, তারা এই শুল্ক থেকে বিশেষ ছাড় পেতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধের খরচ জোগাতে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি আয়ে আঘাত হানতেই মূলত ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এদিকে বিলটি মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়ার পর নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ‘বহুমুখী উৎস’ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নীতিতেই অটল থাকবে ভারত।
সূত্র: স্ক্রল
ইরান ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেগা পদক্ষেপ, নতুন আইনে সই ট্রাম্পের
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বৃদ্ধি করে ২০৩১ সাল পর্যন্ত কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর নতুন ও বিস্তৃত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, অতিরিক্ত শুল্ক ও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ সংক্রান্ত এক কঠোর আইনে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ বিলে স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা কার্যকর আইনে পরিণত করেছেন।
নতুন এই আইনের আওতায় ইরানের জ্বালানি খাতের বাণিজ্যিক লেনদেনে যুক্ত বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের ওপর সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পেট্রোলিয়াম কেনাবেচা, আন্তর্জাতিক পরিবহন, অর্থায়ন, সামুদ্রিক বীমা সুবিধা এবং দেশটির তেল-গ্যাস প্রকল্পে বিনিয়োগকারী যে কোনো তৃতীয় পক্ষের ওপর মার্কিন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরিধি বিস্তৃত করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই নিষেধাজ্ঞাকে সরাসরি ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান।
আইনটির মাধ্যমে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, শীর্ষ রুশ নীতি-নির্ধারক ও শীর্ষস্থানীয় ধনকুবেরদের (অলিগার্ক) লক্ষ্যবস্তু বানানোর পাশাপাশি রাশিয়ার একাধিক প্রধান বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন একতরফা ও আক্রমণাত্মক নিষেধাজ্ঞা চলমান ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও জটিল ও দুরূহ করে তুলবে।
সূত্র: মিডলইস্ট আই
শেষ মুহূর্তে ধরা পড়ল এআই-এর জাল গোয়েন্দা রিপোর্ট, রক্ষা পেল চীন-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) তৈরি একটি ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মধ্যপ্রাচ্যে চীনা একটি জাহাজে সরাসরি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছিল মার্কিন সেনাবাহিনী। তবে অপারেশন শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে তথ্যটির অসঙ্গতি ধরা পড়ায় পরাশক্তি দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য এক ভয়াবহ সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
চলতি বছরের বসন্তকালে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে একটি বিভ্রান্তিকর গোয়েন্দা রিপোর্ট পৌঁছায়, যেখানে দাবি করা হয়—মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় অবস্থানরত একটি চীনা বাণিজ্যিক জাহাজে পারমাণবিক অস্ত্রের সংবেদনশীল সরঞ্জাম পরিবহন করা হচ্ছে। এমন সংবেদনশীল তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজটি আটকে তল্লাশি চালাতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
এজন্য যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করার পাশাপাশি নৌ কমান্ডোরা জাহাজটিতে প্রবেশের লক্ষ্যে মোতায়েন হন। কিন্তু চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগমুহূর্তে গোয়েন্দা নথিটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হলে মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন যে প্রতিবেদনটি কোনো মানবিক গোয়েন্দা সূত্রের নয়, বরং একটি এআই চ্যাটবটের ভুয়া ও কাল্পনিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি। এআই-এর এই মিসআইডেন্টিফিকেশন বা ভুল শনাক্তকরণের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় শেষ মুহূর্তে অভিযানটি স্থগিত করা হয়। এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন যে, এই ভুয়া তথ্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।
বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে দ্রুতগতিতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এর জন্য বিশেষ কৌশলগত নীতিমালাও প্রণয়ন করেছেন। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, সংবেদনশীল যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণে এআই প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রযুক্তির দেওয়া তথ্যের অন্ধ বাস্তবায়ন ভবিষ্যতে যে কোনো সময় বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে সামরিক বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে জোর সতর্কতা উচ্চারণ করা হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন।
গাম্বিয়ার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে ব্যারিস্টার নাজির আহমদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

শহিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার গাম্বিয়ার ন্যাশনাল পার্লামেন্টের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার সিডি এস.কে. এনজি এমপি’র সাথে বর্তমানে গাম্বিয়া সফররত লন্ডন বারা অব নিউহ্যামের টানা তিন বারের সাবেক ডেপুটি স্পীকার ও ইক্বরা ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজির আহমদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ আজ সকালে নির্ধারিত সময়ে পার্লামেন্টে পৌঁছলে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার সিডি এস.কে. এনজি এমপি তাকে স্বাগত জানান। সৌজন্য সাক্ষাত ও মতবিনিময়কালে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার গাম্বিয়ায় ইক্বরা ইন্টারন্যাশনালের বহুমুখী চ্যারিটি কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ব্যারিস্টার নাজির আহমদ গাম্বিয়াসহ অন্যান্য আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলোতে ইক্বরা ইন্টারন্যাশনালের চ্যারিটি কার্যক্রম প্রসারিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ আরো বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর মায়ানমার সরকার কর্তৃক চালানো ইতিহাসের নির্মম গণহত্যা নিয়ে বিশ্ব যখন নীরব তখন গাম্বিয়া সরকার মায়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে ঐতিহাসিক ও সাহসী ভূমিকা রেখেছে। এজন্য ব্যারিস্টার নাজির আহমদ গাম্বিয়ার জনগণ ও গাম্বিয়া সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
পরে ইক্বরা ইন্টারন্যাশনাল গাম্বিয়ার টীম প্রধান ও পার্লামেন্টের সদস্য মদৌ লামি বি. বাহ এমপি ব্যারিস্টার নাজির আহমদকে পূরো পার্লামেন্টে ঘুরে ঘুরে দেখান। এরপরে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের আমন্ত্রণে ব্যারিস্টার নাজির আহমদ পার্লামেন্টের অধিবেশন পর্যবেক্ষণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার সিডি এস.কে. এনজি এমপি অধিবেশনের শুরুতে ঘোষণা করেন “We have an important guest from London Barrister Nazir Ahmed with us who will be observing our session today” অর্থাৎ “লন্ডন থেকে আগত ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ আমাদের মাঝে একজন গুরুত্বপূর্ণ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন; তিনি আমাদের আজকের এই অধিবেশন পর্যবেক্ষণ করবেন”।
উল্লেখ্য, গাম্বিয়ার বর্তমান স্পিকার ফাবাকারি তোমবং জাতা এমপি রাষ্ট্রীয় কাজে সাউথ আফ্রিকা সফরে থাকায় ডেপুটি স্পিকার সিডি এস.কে. এনজি ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মক্কার ড্রোন হামলার ভিডিও নিয়ে তোলপাড় নেটদুনিয়া, যা জানা গেল ফ্যাক্ট চেকে
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই একটি হুতি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে এ ঘটনার ভিডিও দাবি করে আকাশ থেকে আলোকিত বস্তু নিচে ভেঙে পড়ার যে ৩৫ সেকেন্ডের দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, তা সত্য নয়। অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, প্রচারিত ভিডিওটি মক্কার বর্তমান ঘটনার নয়; বরং এটি এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মদিনার আকাশে ঘটা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ঘটনার পুরোনো ফুটেজ।
সামাজিক মাধ্যমে শতাধিক পেজ ও প্রোফাইল থেকে দাবি করা হয়, মক্কার আকাশে হুতি ড্রোন প্রতিহতের দৃশ্য এটি, যা একটি পেজেই ছয় লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। কিন্তু রিভার্স ইমেজ সার্চ ও অনলাইন তথ্য বিশ্লেষণে বেরিয়ে এসেছে, ভিডিওটি ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকেই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে রয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে, ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভোরে মদিনায় একটি অননুমোদিত ড্রোন শনাক্তের পর তা ভূপাতিত করা হলে আকাশে বিস্ফোরণ ও উজ্জ্বল বস্তু পড়ে যাওয়ার ওই দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার প্রমাণও মেলেনি। ফলে মক্কার সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে প্রচারিত ভিডিওটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্যে ছড়ানো হয়েছে।
/আশিক
সুন্দরবনে ফাইভ-স্টার ‘ট্রি-হাউস’ ও আকাশপথে বাঘ দর্শনের মেগা পরিকল্পনা
পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অংশে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একগুচ্ছ উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারতের রাজ্য সরকার। এর অংশ হিসেবে সুন্দরবনের জনবসতিহীন দ্বীপগুলোতে পরিবেশবান্ধব ফাইভ-স্টার ‘ট্রি-হাউস’ রিসোর্ট নির্মাণ এবং উড়োজাহাজে করে আকাশপথে বাঘ দর্শনের মতো ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সাজানো হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সুন্দরবনের গোসাবা সফরকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব রূপরেখার কথা তুলে ধরেন পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন ও সাংস্কৃতিকবিষয়ক উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী।
মিঠুন চক্রবর্তী জানান, সুন্দরবনের প্রায় ৮ থেকে ১০টি জনমানবহীন দ্বীপে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে উচ্চমানের পরিবেশবান্ধব ট্রি-হাউস রিসোর্ট নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে। এ জন্য আগ্রহী বেসরকারি সংস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে জমি ইজারা কিংবা স্থায়ী বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে; তবে সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান রক্ষায় কোনো অবস্থাতেই কংক্রিটের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হবে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে এসব রিসোর্টে ৮০ শতাংশ কর্মীই স্থানীয়দের মধ্য থেকে নিয়োগ করা বাধ্যতামূলক থাকবে, যার মাধ্যমে প্রতিটি রিসোর্টে গড়ে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ জন স্থানীয় যুবকের নিশ্চিত কর্মসংস্থান তৈরি হবে। সাধারণ হেলিকপ্টারের বিকট শব্দ বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করে বিধায় কম শব্দের বিশেষ উড়োজাহাজ ব্যবহার করে পর্যটকদের আকাশ থেকে বাঘ দেখানোর পরিকল্পনা করছে সরকার, যা বন ও পরিবেশ আইন পুরোপুরি মেনেই বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকৃতি পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজ ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্থানগুলোকে ঘিরে একটি ‘ট্রি-সার্কিট’ গড়ে তোলার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর আওতায় ‘মা মনসা’ ও ‘বনবিবি’র মন্দির সংস্কার, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী হাট স্থাপন, সুন্দরবনের খাঁটি মধু ও হস্তশিল্প বিক্রির প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ এবং পর্যটকদের জন্য সন্ধ্যায় নিয়মিত লোকসংগীত পরিবেশনের ব্যবস্থা থাকবে। তা ছাড়া ডলফিন দেখার সুবিধার জন্য দুটি নতুন জেটি নির্মাণ, একটি অত্যাধুনিক ম্যানগ্রোভ পরিচিতি কেন্দ্র এবং একটি জীববৈচিত্র্য জাদুঘর গড়ে তোলার উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গোসাবায় আয়োজিত এই সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পর্যটন দপ্তরের সচিব, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক এবং সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে ম্যানগ্রোভ বনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে পরিবেশবিদদের পরামর্শ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীদের একাংশ।
/আশিক
মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণে বড় মোড়, হুতি ঠেকাতে এক টেবিলে সৌদি ও ইসরায়েল?
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক সামরিক আগ্রাসন মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় নিয়ে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রভাবশালী দৈনিক ‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’। হুতিদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে রিয়াদের পক্ষ থেকে জানানো অনুরোধের ভিত্তিতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
মঙ্গলবার এক আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যকার সাম্প্রতিক বৈঠকের পরপরই রিয়াদ ও তেল আবিবের মধ্যে এই কার্যকর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, হুতিদের তীব্র আক্রমণের মুখে থাকা সৌদি বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তা দিতে সেন্টকমের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এএফপির প্রতিবেদনে সৌদি-ইসরায়েল সরাসরি বৈঠক বা সেন্টকমের মধ্যস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি এবং জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনেও রিয়াদ কিংবা তেল আবিবের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার সরাসরি উদ্ধৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে ইসরায়েলের অপর সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’ জানিয়েছে, হুতিদের বিরুদ্ধে সংঘাতে সরাসরি সামনের সারিতে না জড়ানোর জন্য নিজ দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) শীর্ষ কর্মকর্তারা। বিশেষ করে হুতিরা ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা মনে করছেন, এ হুমকি একা মোকাবিলা না করে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সামরিক জোট গঠনের মাধ্যমে প্রতিহত করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
জেরুজালেম পোস্টের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, লোহিত সাগর অঞ্চলে হুতিদের সঠিক অবস্থান চিহ্নিতকরণ ও পাল্টা সামরিক অভিযানের নিখুঁত রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যেই মূলত ইসরায়েলের কাছে উন্নত গোয়েন্দা সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার অনুমতি দেওয়ায় তেল আবিবের নিরাপত্তা মহলে গভীর অস্বস্তি ও শঙ্কা বিরাজ করছে, কেননা সৌদি সীমান্ত থেকে ইসরায়েলের নিকটতম দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটার।
ট্রাম্প প্রশাসন রিয়াদের এই পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তিকে যুক্ত করার চেষ্টা করলেও রিয়াদ অনড় অবস্থান নিয়ে জানিয়েছে যে স্বাধীন ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান ছাড়া তেল আবিবের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব নয়। এ ছাড়া মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালী থেকে হুতিদের হঠাতে যুক্তরাজ্যের সহায়তাও চেয়েছিল রিয়াদ; যার জবাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম কেবল সামরিক উপদেষ্টা পাঠাতে সম্মত হলেও অতিরিক্ত কোনো প্রকার সামরিক রসদ বা সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- অপ্রতিমের মৃত্যু যে প্রশ্ন রেখে গেল: নিরাপত্তা, জনআস্থা ও আইনশৃঙ্খলার নতুন পরীক্ষা
- ইরান যুদ্ধে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা, তথ্য ফাঁসে ট্রাম্পের তীব্র ক্ষোভ
- ৯ দফা না মানলে ১ দফার ডাক দিতে বাধ্য হব: ডা. শফিকুর রহমান
- কিশোর অপ্রতিমের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোক ও ক্ষোভে স্তব্ধ শোবিজ অঙ্গন
- তিব্বত-নেপালে বরফ ধস ও পাহাড়ি ঢল: চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ আট দেশ
- রাশিয়ার তেল কেনায় ভারতের ওপর শতভাগ শুল্কের খাঁড়া? স্বাক্ষরিত হলো ট্রাম্পের নতুন বিল
- কালিগঞ্জে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক সভা
- মিরপুরে আবারও বাসে আগুন আতঙ্ক, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দ্বিতীয় ঘটনা
- প্রকাশিত হলো একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির চূড়ান্ত ফল, যেভাবে জানবেন মনোনীত কলেজ
- শেখ হাসিনার পথে গেলে মোদির সঙ্গে দেখা হবে: তারেক রহমানকে এনসিপির হুঁশিয়ারি
- চব্বিশ ঘণ্টার রুটিনেই মিলবে অশেষ সওয়াব, জেনে নিন ৫টি ছোট দোয়া
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গত ৬ মাসের ‘সাফল্য’ তুলে ধরে হাসনাত আবদুল্লাহর ব্যঙ্গাত্মক স্ট্যাটাস
- মক্কা-মদিনায় হামলার চেষ্টা হলে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়বে মুসলমানরা: ধর্মমন্ত্রী
- প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে শুরু, সরকারি দপ্তরগুলোতে আসছে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের বিপ্লব
- অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বড় সুখবর: ৫ ধাপে বাড়ল সরকারি পেনশন, কার কত বৃদ্ধি?
- ইরান ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেগা পদক্ষেপ, নতুন আইনে সই ট্রাম্পের
- নারী শিক্ষা নিয়ে তারেক রহমানের নতুন প্রস্তাবের কথা জানালেন রিজভী
- শেষ মুহূর্তে ধরা পড়ল এআই-এর জাল গোয়েন্দা রিপোর্ট, রক্ষা পেল চীন-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ
- দিল্লিতে সরাসরি বৈঠকের তথ্য ফাঁস! নেতাদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন শেখ হাসিনা
- পরমাণু শক্তির নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ, ভিয়েনায় তুলে ধরলেন মন্ত্রী
- ব্যাট হাতে রূপকথার ঝড়, রেকর্ড বই তছনছ করে এলিট ক্লাবে তরুণ ভারতীয় তারকা
- শনিবার রাজপথে নামছে ১১ দলীয় ঐক্য, চূড়ান্ত হলো লংমার্চের দিনক্ষণ ও পথনকশা
- গেজেট প্রকাশের আগেই সামনে এলো নতুন পে-স্কেলের বিস্তারিত, কার কত বাড়ছে?
- এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাল্টে গেল চিত্র, ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে দুই তারকার সরাসরি লড়াই
- টানা ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না রাজধানী ও আশপাশের যেসব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়
- সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারের মেগা ঋণ কর্মসূচি, মিলবে সাশ্রয়ী সুদে
- গাম্বিয়ার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে ব্যারিস্টার নাজির আহমদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুলের ভুষি: সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা
- মক্কা চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের বড় ঘোষণা, সতর্কবার্তা তেহরানের উদ্দেশে
- বাড়বে না হজের নিবন্ধনের সময়, চূড়ান্ত সময়সীমা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা
- মক্কার ড্রোন হামলার ভিডিও নিয়ে তোলপাড় নেটদুনিয়া, যা জানা গেল ফ্যাক্ট চেকে
- বিদেশের আরাম নয়, দেশে ১০ বছর জেল খাটাই বেছে নেব: আসিফ মাহমুদ
- ‘শুধু পুরুষেরই কি তওবার অধিকার?’ এক সংলাপেই তোলপাড় পাকিস্তানি নাটক
- বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ও কাদের সিদ্দিকীর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ, যা আলোচনা হলো
- নিম্নমুখী প্রবণতার পরেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় লাফ, বাড়ল রুপার দামও
- ৮ অঞ্চলের নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত, ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস
- ওয়াদা অস্বীকার করে উল্টো পথে হাঁটছে সরকার: জামায়াত আমির
- ৬ জুনের মধ্যে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার ভোট সম্পন্ন করার লক্ষ্য ইসির
- আগামী মাসে রূপপুর থেকে গ্রিডে আসবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত
- সেপ্টেম্বরের শেষভাগে রাতের আকাশে চোখ জুড়ানো মহাজাগতিক দৃশ্য
- শেষ হতে চলেছে স্মার্টফোনের যুগ? রহস্যময় ডিভাইস নিয়ে আসছে ওপেনএআই
- তাপপ্রবাহের মাঝে বৃষ্টির পূর্বাভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা
- এলএনজি, জ্বালানি তেল ও টিসিবির পণ্য কেনায় সরকারের মেগা অনুমোদন
- একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ
- সুন্দরবনে ফাইভ-স্টার ‘ট্রি-হাউস’ ও আকাশপথে বাঘ দর্শনের মেগা পরিকল্পনা
- মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণে বড় মোড়, হুতি ঠেকাতে এক টেবিলে সৌদি ও ইসরায়েল?
- ২০৩১ সালের মধ্যে চালু হচ্ছে নতুন ইলেকট্রিক ট্রেন, মেগা বরাদ্দ একনেকে
- বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের গর্জন, আইসিসির নতুন র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের চমক
- ১ মিনিটের বিজ্ঞাপনে তোলপাড় নেটদুনিয়া, তীব্র সমালোচনার মুখে তারকা অভিনেত্রী
- নিম্নমুখী ধারার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় লাফ, কোন পথে হাঁটছে বাজার?
- ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করল এনসিপি
- দেড় বছরেই অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার: দুর্নীতির পোস্টার বয় আসিফ মাহমুদ
- ‘শত্রুদের কোনো হুমকিকেই গুরুত্ব দেয় না ইরান’: প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইবনুর রেজা
- যোগ্যতা ছিল না, দুর্নীতির গন্ধ রয়েছে: পুতুলের নিয়োগ নিয়ে তোপ উপদেষ্টার
- ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কর মামলায় চেম্বার আদালতের নতুন আদেশ
- সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে বড় আঘাত, জ্বালানি বিশ্বে অশনিসংকেত
- ঢাকার যানজট ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপ
- গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই প্রধান কাজ: রাষ্ট্রপতি
- শিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বড় ঘোষণা
- মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মধ্যেই পবিত্র মক্কায় বিরল সতর্কতা জারি
- আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের নতুন অভিযোগ দুদকে
- ভরদুপুরে সেলুনে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ও কোপ, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল রোমহর্ষক দৃশ্য
- গ্যাস সংকট কাটাতে নতুন ক্ষেত্রে শেভরনকে বড় বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- টানা ১৪ দিন গ্রিন টি পানে শরীরে যেসব পরিবর্তন ঘটে: বিশেষজ্ঞের তথ্য
- কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরুর দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের স্মারকলিপি








