১৮০ দিনের অ্যাকশন প্ল্যান! শিক্ষা খাতে বড় বদল আনছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ২১:২৫:৫৩
১৮০ দিনের অ্যাকশন প্ল্যান! শিক্ষা খাতে বড় বদল আনছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য এক বড় সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে। সংসদ নেতা হিসেবে এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রশ্নোত্তর পর্ব, যেখানে তিনি সরাসরি সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

অধিবেশনের নির্ধারিত ৩০ মিনিটে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীরের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের রায়ে আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছি। যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন তাদের প্রতি যেমন কৃতজ্ঞতা রয়েছে, তেমনি যারা ভোট দেননি—সবার জন্যই সমানভাবে কাজ করা আমার সাংবিধানিক দায়িত্ব। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে।’

শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তন আনতে ১৮০ দিন, এক বছর এবং পাঁচ বছর মেয়াদী পৃথক কর্মপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে স্কুল ড্রেস বিতরণের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার প্রসারেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার শিক্ষককে স্মার্ট ট্যাব প্রদান করা হবে।

এছাড়া ডিজিটাল ক্লাসরুম প্রসারের লক্ষ্যে ৩ হাজার ৮৩২টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের কাজ চলছে। ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ৪১৮টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসায় উচ্চগতির বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ১৭২ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষায়িত ইতালিয়ান ও জাপানি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

/আশিক


২৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক উপদেষ্টাকে দুদকের জরুরি তলব

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ১৮:৪৬:১৩
২৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক উপদেষ্টাকে দুদকের জরুরি তলব
ছবি : সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিককে জিজ্ঞাসাবাদ ও বক্তব্য গ্রহণের জন্য জরুরি তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ৭ অক্টোবর সকাল ১০টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল আলোচিত তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প থেকে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই তাকে এই তলব করা হয়। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান শুভ্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই নোটিশ জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ১৯ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬০ ধারার আইনি বিধানে তারিক আহমেদ সিদ্দিকের জবানবন্দি শ্রবণ ও গ্রহণের উদ্দেশ্যে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ দায়ের করা ৮৩ নম্বর মামলার সূত্রে নোটিশটি ইস্যু করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, তারিক সিদ্দিকসহ অপরাপর আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল সম্প্রসারণ কাজ থেকে বেআইনিভাবে মোট ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

প্রসঙ্গতঃ ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন অবকাঠামো থেকে সর্বমোট ৮১২ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে তারিক সিদ্দিকসহ মোট ১৯ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আলাদা চারটি পৃথক মামলা দায়ের করে দুদক। থার্ড টার্মিনাল কেন্দ্রিক ২৫০ কোটি টাকা দুর্নীতির এই মামলাটিতে সিভিল এভিয়েশন ও প্রশাসনিক উচ্চপদস্থ ১০ জনকে আসামি তালিকাভুক্ত করা হয়।

তারিক সিদ্দিক ব্যতীত মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব মুহিবুল হক, সাবেক যুগ্ম সচিব জনেন্দ্রনাথ সরকার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাবেক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মালেক, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী, সুপারিনটেনডেন্ট হাবিবুর রহমান এবং প্রকল্প পরিচালক এ কে এম মাকসুদুল ইসলাম। এ ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনালের মালিক লুৎফুল্লাহ মাজেদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহবুব আনামকে আসামি করা হয়।

দুদকের দায়ের করা মামলার এজাহার বিশ্লেষণ করে জানা যায়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের মূল কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল 'এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম' (এডিসি)-কে। তবে নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনালকে অবৈধ উপায়ে প্রকল্পের সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে অর্পণ করা হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের প্রাক্কলিত বাজেট প্রাথমিক ১৩ হাজার কোটি টাকা থেকে অন্যায়ভাবে বৃদ্ধি করে ২১ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয় এবং আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।

একই দিনে দুদক শাহজালাল বিমানবন্দরের সিএনএস-এটিএম সিস্টেম ও আধুনিক রেডার স্থাপন প্রকল্প থেকে ২০০ কোটি টাকা, কক্সবাজার বিমানবন্দরের টার্মিনাল ও রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১৫০ কোটি টাকা এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজে ২১২ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে আরও তিনটি পৃথক মামলা রুজু করে।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই তারিক সিদ্দিক, তাঁর স্ত্রী এবং দুই কন্যার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরও চারটি মামলা দায়ের করে সংস্থাটি। এর মধ্যে কেবল তারিক সিদ্দিকের নামেই ২৮ কোটি ৫৯ লাখ ৬৩ হাজার ২৩২ টাকার অসঙ্গতিপূর্ণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং তাঁর মালিকানাধীন চারটি ব্যাংক হিসাবে ৬২ কোটি ৬০ হাজার ৯৮৩ টাকার বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পায় দুদক। উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে শেখ হাসিনার টানা শাসননামলে দীর্ঘ সময় প্রভাবশালী সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক। গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের পতনের পর থেকে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সব ধরনের দুর্নীতির নজিরবিহীন তদন্ত শুরু করে সংস্থাটি।

/আশিক


একনেক বৈঠকে ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দে মেগা সিদ্ধান্ত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ১৭:৪৫:০৭
একনেক বৈঠকে ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দে মেগা সিদ্ধান্ত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আর্থিক খাত সংস্কারসহ মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত ও উন্নয়ন প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। অনুমোদিত এই নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পগুলো সফল বাস্তবায়নে সর্বমোট ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৭১২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

অনুমোদিত বরাদ্দের সংস্থান বিষয়ে জানা গেছে, মোট বাজেটের সিংহভাগ অর্থাৎ ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা জোগানো হবে সরকারি তহবিল বা রাজস্ব খাত থেকে। এর বাইরে বৈদেশিক ঋণ সহায়তার অংশ হিসেবে পাওয়া যাবে ৫ হাজার ২১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে বাকি ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা অর্থায়ন করবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত চলতি অর্থবছরের একনেক বৈঠকে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পসমূহের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ঘোষণা করা হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান নীতি নির্ধারণী এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

অনুমোদন পাওয়া প্রধান প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের যক্ষ্মা, এইডস ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের লক্ষে সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংস্কারের উদ্দেশ্যে বিশেষ 'ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২' অন্যতম।

এ ছাড়া দেশের আঞ্চলিক অবকাঠামো ও সামাজিক খাত উন্নয়নে বেশ কয়েকটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের শার শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর গুণগত আধুনিকায়ন, ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদী ব্যবস্থাপনায় মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণ এবং নদীভাঙন কবলিত ভোলা সদরের শিবপুর-ধানিয়া ও মেদুনা এলাকা রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক কাজ।

একই সাথে দেশের যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ কাঠামোর সম্প্রসারণে রংপুর বিভাগের উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলায় গ্রামীণ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, সোনাগাজীতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ এবং তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সংশোধনীও একনেক সভায় পাস করা হয়।

/আশিক


শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়টিকে দ্বিপক্ষীয় দেখছে সরকার, প্রয়োজন নেই যুক্তরাষ্ট্রের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ১৭:৪২:১৪
শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়টিকে দ্বিপক্ষীয় দেখছে সরকার, প্রয়োজন নেই যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের মাটিতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার একটি আন্তর্জাতিক দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবেই বিবেচনা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। ভারতের ওপর কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারে কোনো তৃতীয় পক্ষকে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা দেখছে না ঢাকা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতির বিবরণ তুলে ধরতে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করে জানান, বিচারাধীন বিভিন্ন মামলায় সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের লক্ষ্যে শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত পেতে চায় বাংলাদেশ। এই বন্দি হস্তান্তরের আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নয়াদিল্লির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের আদালত প্রাঙ্গণে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিচারিক নথিপত্র ও রায়সমূহকে এ আলোচনার ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান উল্লেখ করেন, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও বাংলাদেশের এই দৃঢ় দাবির কথা স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া ভারত সরকারের প্রতিনিধি ও কূটনৈতিক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে সরকারের অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বৈঠকেও বিষয়টি প্রথাগতভাবে উত্থাপন করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা বা মধ্যস্থতা থাকবে কি না—সংবাদকর্মীদের এমন প্রশ্নের উত্তর দেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, ঢাকা সম্পূর্ণ বিষয়টি দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী পরিচালনা করতে ইচ্ছুক। ফলে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার এই প্রচেষ্টায় তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো কোনো দেশের সম্পৃক্ততা কিংবা আন্তর্জাতিক সহায়তার দরকার নেই।

/আশিক


নেপালে আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ২১:৫০:৩৭
নেপালে আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি
ছবি : সংগৃহীত

নেপালে অব্যাহত মুষলধারে বৃষ্টিপাত, ভয়াবহ বন্যা ও প্রাণঘাতী ভূমিধসের পটভূমিতে ক্ষতিগ্রস্ত এবং দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশি পর্যটক ও পাহাড়ি ট্রেকারদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার অনুশাসন দিয়েছে কাঠমান্ডুস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় না ফেরা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যেকোনো প্রকার ভ্রমণ পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নেপাল দূতাবাসের এই সতর্কবার্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে পিসাং, চামে, মানাং এবং এর আশেপাশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরতদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লাগাতার বৃষ্টি, আকস্মিক তুষারপাত ও পাহাড়ি ধসের কারণে বিভিন্ন আন্তঃঅঞ্চল মহাসড়ক ও হাঁটার ট্রেইল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে করে জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধার অভিযান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নেপাল প্রশাসন মানাং অঞ্চলের বিখ্যাত তিলিচো লেক, থরং লা পাস, আইস লেক, কাংলা ও ভীমথাং এলাকাগুলোতে সকল প্রকার ট্র্যাকিং ও পর্বতারোহণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি ভূমিধস ঝুঁকির কারণে পর্যটন শহর পোখারা ও এর সংলগ্ন জেলাগুলোতে চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

অন্যান্য পার্বত্য অঞ্চল যেমন মুস্তাং ও জমসম অভিমুখী যাত্রীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, যাত্রার পূর্বে অবশ্যই গান্দাকি প্রদেশের হালনাগাদ সড়ক যোগাযোগের খবর জেনে নিতে হবে। পার্বত্য সড়কগুলো যেকোনো মুহূর্তে ভূমিধসে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে।

একই সঙ্গে অন্নপূর্ণা, মানাং, মুস্তাং ও মানাসলু অঞ্চলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ট্রেইলে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস, ট্র্যাকিং কিংবা পর্বতারোহণে যাওয়ার পূর্বে পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও নেপাল সরকারের নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ মিশন।

ইতোমধ্যে যারা এই দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে অবস্থান করছেন, তাদের নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি নদীর তীরবর্তী অঞ্চল বা ধসপ্রবণ খাদের কিনার এড়িয়ে চলা, নিয়মিত ভ্রমণের রুট চেক করা এবং ট্রাভেল এজেন্সির পাশাপাশি কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস স্পষ্ট করেছে যে, এটি একটি সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতা। তবে রাজধানী কাঠমান্ডু শহর এবং এর সংলগ্ন এলাকাগুলো এই ভ্রমণ সতর্কতার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

/আশিক


মার্কিন চাপে কি বোয়িং কিনছে বাংলাদেশ? মুখ খুললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ২১:০৯:৪৫
মার্কিন চাপে কি বোয়িং কিনছে বাংলাদেশ? মুখ খুললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

কোনো কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক চাপের মুখে নয়, বরং অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন ও যাত্রীচাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখেই বোয়িং থেকে নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রভাব নেই এবং এর পেছনে কোনো গোপন উদ্দেশ্যও লুকিয়ে নেই।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মূলত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে সফল অংশগ্রহণের বিস্তারিত তুলে ধরতে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

হুমায়ুন কবির জানান, একটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে কেনাকাটার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবেই বাংলাদেশ বিমানের বহরে বোয়িংয়ের বড় উড়োজাহাজ ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে আন্তর্জাতিক রুটের পরিধি বাড়ানো এবং বাংলাদেশকে একটি আধুনিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বহরে বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজের মিশ্রণ জরুরি।

উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বোয়িংয়ের কাছ থেকে নতুন করে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর আগে গত এপ্রিলে আরও ১৪টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের প্রাথমিক চুক্তি হয়েছিল। নতুন এই চুক্তির অধীনে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। এর ফলে দুই দফায় বাংলাদেশ বিমানের কেনা মোট বোয়িং উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।

আগের দফায় ১৪টি উড়োজাহাজ ক্রয়ে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। তবে নতুন করে যুক্ত হওয়া ১১টি উড়োজাহাজের চূড়ান্ত মূল্য, অর্থায়নের উৎস ও সরবরাহের সময়সীমা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়নি।

রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রভাব সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী পুনরুল্লেখ করেন যে, দেশের স্বার্থই এখানে মুখ্য। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে বিমানের বহর আরও বড় করা হবে। ঢাকা-নিউইয়র্ক রুট পুনরায় চালুর বিষয়ে তিনি জানান, বিষয়টির কারিগরি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

নিউইয়র্কের এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন ও বিনিয়োগ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ও উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও অংশ নেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর চার দিনব্যাপী জাতিসংঘ সফরকে অত্যন্ত সফল বলে অভিহিত করা হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, এই সফরের মাধ্যমে নতুন সরকারের গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার ও বৈশ্বিক প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। সফরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে মূল ভাষণসহ মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন, যার মধ্যে ১১টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অন্তর্ভুক্ত ছিল। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, তুরস্ক, থাইল্যান্ডসহ একাধিক রাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধি এবং বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ ও বোয়িং গ্লোবালের সিইওর সঙ্গে আলোচনায় নতুন বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস ও সম্মান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

/আশিক


'ছাত্ররা নামলেই গুলি করে মারা হবে' ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলেন জুলাইযোদ্ধা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ২০:৩৬:৪৯
'ছাত্ররা নামলেই গুলি করে মারা হবে' ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলেন জুলাইযোদ্ধা
ছবি : সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান দমনে রাজপথে ‘ছাত্ররা মাঠে নামলেই গুলি করে মেরে ফেলা হবে’—এমন পৈশাচিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি জবানবন্দি দিয়েছেন মো. হান্নান মিয়া নামের এক গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা। ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত আসামিদের উপস্থিতিতে দেওয়া চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্যে তিনি রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় আন্দোলন দমনে তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন জোটের চালানো নির্মমতার লোমহর্ষক বর্ণনা তুলে ধরেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর প্রধান বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং প্যানেল সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর উপস্থিতিতে এ ঐতিহাসিক সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়। শুনাকালে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন শেখ হাসিনার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং ছাত্র-জনতার ন্যায়সংগত আন্দোলন দমনে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেন এই দুই প্রবীণ নেতা। তৎকালীন ১৪ দলের শীর্ষ পদে থেকে মারণাস্ত্র প্রয়োগ ও কারফিউ জারির প্ররোচনায় তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের ফলেই শুধু বাড্ডা ও সংলগ্ন এলাকাতেই প্রাণ হারান অন্তত ২৩ জন আন্দোলনকারী।

পেশায় ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক এবং সরকারি গেজেটভুক্ত ‘খ’ শ্রেণির আহত জুলাইযোদ্ধা মো. হান্নান মিয়া সাক্ষ্যে জানান, গত বছরের ১৫ জুলাই থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে বৈষম্যবিরোধী কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন। ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও ক্ষমতাসীনদের যৌথ গুলিবর্ষণে বহু ছাত্র-জনতা হতাহত হন। ওই দিন সন্ধ্যার পর গণমাধ্যমে প্রচারিত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ১৪ দলীয় জোট নেতাদের জরুরি বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উক্ত বৈঠকে উপস্থিত রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামের পূর্ণ সমর্থনে ওবায়দুল কাদের কারফিউ জারি করে ছাত্রদের দেখামাত্র গুলির পৈশাচিক নির্দেশ ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট 'লং মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে রামপুরা ব্রিজে গুলবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। সাক্ষ্যদান শেষে হান্নান মিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননসহ গণহত্যায় জড়িত সবার সর্বোচ্চ বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

/আশিক


চীনের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ১৯:৪২:০৮
চীনের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
ছবি : সংগৃহীত

উন্নয়ন অংশীদার চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, নতুন বিনিয়োগ এবং সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধানমন্ত্রী এই প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দ্বিপক্ষীয় এই আলোচনায় বাণিজ্যিক সম্পর্কের বাইরেও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বহুমাত্রিক ইস্যুতে আলোচনা হয়। বৈঠকের প্রারম্ভেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের সফল নেতৃত্ব প্রদান এবং নিউইয়র্কের সমস্ত বিশ্বমঞ্চীয় কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চীনের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের চলমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রচেষ্টায় চীনের সার্বিক সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সাথে সামনের দিনগুলোতে দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের নতুন অবস্থান: প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের অর্জন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ১৮:৪৩:৩১
আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের নতুন অবস্থান: প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের অর্জন
ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের এক অনন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন ক‌বির। সামগ্রিক রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে নতুন বাংলাদেশের এই প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত সার্থক ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তা‌রেক রহমা‌নের চার দিনের সফর ও ঐতিহাসিক অর্জনের বিষয়গুলো বিস্তারিত তুলে ধরতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছেন এবং মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নিয়েছেন।

এর মধ্যে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে একটি রাষ্ট্রীয় ও ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান, ৭টি উচ্চপর্যায়ের বৈশ্বিক সভায় বক্তব্য প্রদান, ১১টি সার্বভৌম দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। স্বতঃস্ফূর্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের নিরঙ্কুশ ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব দরবারে দেশের আত্মবিশ্বাস ও সম্মানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বহুল আলোচিত বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘বোয়িং’ কেনার চুক্তির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বাংলাদেশ সরকারের চারজন মন্ত্রীর উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের গোপনীয় বা লুকায়িত এজেন্ডা নেই। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচলে বোয়িংয়ের ওপর নির্ভরশীল হলেও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং দেশকে একটি আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে মিশ্র বিমান বহরের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করেই বাণিজ্যিক শর্তে আরও বোয়িং বিমান কেনা হবে।

/আশিক


বঙ্গোপসাগরের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জ্বালানি সম্ভাবনা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭ ২২:০২:২৩
বঙ্গোপসাগরের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জ্বালানি সম্ভাবনা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের বামদিকে মিয়ানমার এবং ডানদিকে ভারত ধারাবাহিকভাবে মূল্যবান প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক আনুগত্যের কারণে আমাদের অংশের গ্যাস তোলায় কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বঙ্গোপসাগরের তলদেশে আন্তর্জাতিক জরিপ অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ গ্যাসের অক্ষয় ভাণ্ডার বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার বিদেশি শক্তির অসন্তুষ্টির ভয়ে তা অব্যবহৃত ফেলে রেখেছিল।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, গ্যাস না থাকার কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বিগত সরকার শত শত কোটি টাকা দুর্নীতির উদ্দেশ্যে আটটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কেবল প্রদর্শনের জন্য তৈরি করেছিল। বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক দরকষাকষির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের গভীর তলদেশ থেকে অতি দ্রুত গ্যাস উত্তোলনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যা দিয়ে জাতীয় জ্বালানি চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জাতীয় বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে দেশের সকল সরকারি হাসপাতাল এবং বাসা-বাড়িতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত করার কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অতীতের দুর্নীতিগ্রস্ত অর্থনৈতিক ও বিদ্যুৎ খাতের কঠোর সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, তথাকথিত কুইক রেন্টালের নামে কতিপয় সুবিধাভোগীকে কোটি কোটি টাকার 'ক্যাপাসিটি চার্জ' দেওয়া হয়েছে, যা প্রবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স লুণ্ঠনের সামিল ছিল। বর্তমানে ভারতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি আদানি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ দেওয়া অর্ধেক কমিয়ে দিয়ে সংকট তৈরির যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তা অত্যন্ত শক্ত হাতে সামাল দিচ্ছে সরকার। কৃত্রিম কৃষি সংকট ও সার পাচার রোধে প্রতিটি ইউনিয়নে ১ জন নতুন মূল ডিলারের সাথে ৩ জন অতিরিক্ত সাব-ডিলার নিয়োগ করে বাজার ব্যবস্থাপনাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।

কৃষি ও পানিসম্পদ রক্ষায় ঐতিহাসিক তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে বর্ষায় বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে খরা দিয়ে বাংলাদেশকে মরুকরণের যে চক্রান্ত চালিয়ে আসছে, তা আর বরদাশত করা হবে না। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সুরমা নদীর প্রবাহ আটকে সিলেটকে ধ্বংসের পাঁয়তারা রোখে এবং সার্বিক পানিসম্পদ রক্ষায় চীনের সরাসরি প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতায় তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর এসব গণমুখী রাজনৈতিক যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পলাতক ফ্যাসিস্ট ও বিদেশি অনুচর গোষ্ঠী দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চক্রান্ত চালাচ্ছে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

/আশিক

পাঠকের মতামত: