প্রথম জুমার খুতবায় রাসুলের (সা.) যে বার্তা আজও প্রাসঙ্গিক

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১৩:০৩:১৭
প্রথম জুমার খুতবায় রাসুলের (সা.) যে বার্তা আজও প্রাসঙ্গিক
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের ইতিহাসে জুমার খুতবার সূচনালগ্নে মুহাম্মদ (সা.) যে বাণী উচ্চারণ করেছিলেন, তা আজও মানবজীবনের নৈতিক দিশা হিসেবে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। প্রথম জুমার খুতবায় তিনি মানুষের মুক্তি, দায়িত্ব ও আখিরাতের জবাবদিহির বিষয়ে গভীর ও স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেন।

প্রথম খুতবার মূল শিক্ষা

ইসলামের প্রাচীনতম জীবনীকারদের একজন ইবনে ইসহাক আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমানের বর্ণনায় জানা যায়, জুমার প্রথম খুতবা শুরুতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও গুণগান করেন। এরপর তিনি উপস্থিত মানুষদের উদ্দেশে বলেন, প্রত্যেক মানুষকে নিজের মুক্তির জন্য নিজ দায়িত্বে আমল করতে হবে।

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন, একদিন হঠাৎ মৃত্যু এসে মানুষকে গ্রাস করবে। তখন সে তার সম্পদ, দায়িত্ব কিংবা পার্থিব ব্যস্ততা সবকিছুই ফেলে চলে যাবে। এরপর মানুষ তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে। সেদিন তার ও আল্লাহর মাঝে কোনো মধ্যস্থতাকারী থাকবে না, কোনো পর্দাও থাকবে না।

সেদিন আল্লাহ তাআলা প্রশ্ন করবেন, তাঁর রাসুল কি মানুষের কাছে হেদায়াতের বাণী পৌঁছে দেননি? দুনিয়ায় যে নেয়ামত ও সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর বিনিময়ে মানুষ আখিরাতের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছে?

এই জবাবদিহির দৃশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে রাসুল (সা.) বলেন, মানুষ তখন ডানে-বামে তাকাবে কিন্তু কোনো সহায়তা পাবে না। সামনে তাকালে সে কেবল জাহান্নামের ভয়াবহ পরিণতিই দেখতে পাবে।

এই বাস্তবতার আলোকে তিনি মানুষকে আহ্বান জানান, কেউ যদি মাত্র একটি খেজুর দান করেও জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে, তবে সে যেন সেই সুযোগ হাতছাড়া না করে। আর যদি কারও পক্ষে দান করাও সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত উত্তম কথা ও সুন্দর আচরণের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। কারণ একটি সৎ কাজের প্রতিদান আল্লাহ এক থেকে বহু গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন।

দ্বিতীয় খুতবার বার্তা

দ্বিতীয় খুতবায় রাসুলুল্লাহ (সা.) আবারও আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং বলেন, তিনি একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য চান। মানুষ যেন নিজের নফসের কুপ্রবৃত্তি ও মন্দ আমল থেকে আল্লাহর আশ্রয় কামনা করে।

তিনি সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, আল্লাহ যাকে হেদায়াত দেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট হতে দেন, তাকে কেউ সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে না। তিনি সাক্ষ্য দেন, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং তিনি এক ও অদ্বিতীয়।

রাসুল (সা.) বলেন, মানুষের জন্য সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে আল্লাহর কিতাব। সেই ব্যক্তি প্রকৃত সফল, যার অন্তর আল্লাহ তাআলা কোরআনের আলো দিয়ে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন এবং কুফরির অন্ধকার থেকে ইসলামের আলোয় ফিরিয়ে এনেছেন।

তিনি মানুষকে উপদেশ দেন, আল্লাহ যা ভালোবাসেন, মানুষ যেন তাই ভালোবাসে। আল্লাহর ভালোবাসা দিয়ে অন্তর ভরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। কোরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর স্মরণে যেন কেউ ক্লান্তিবোধ না করে এবং অন্তর যেন কোরআন থেকে বিমুখ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন।

রাসুল (সা.) আরও বলেন, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতের মধ্য থেকে উত্তম বিষয়গুলো নির্বাচন করেন। বান্দার আমলসমূহের মধ্যে কোরআন তিলাওয়াতকে তিনি সর্বোত্তম আমল হিসেবে পছন্দ করেছেন। কোরআনের মধ্যেই মানুষের জন্য হালাল ও হারামের পূর্ণ দিকনির্দেশনা রয়েছে।

খুতবার শেষাংশে তিনি তাগিদ দেন, মানুষ যেন একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে, তাঁর সঙ্গে কোনো শরিক না করে এবং তাঁকে যথাযথভাবে ভয় করে চলে। মুখে উচ্চারিত কথাবার্তার মধ্যেও যেন সর্বোত্তম কথার মাধ্যমে আল্লাহর সত্যতার সাক্ষ্য দেওয়া হয়। পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আল্লাহর রহমতের ভিত্তিতে গড়ে তোলার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে সতর্ক করেন, আল্লাহ তাঁর সঙ্গে করা অঙ্গীকার ভঙ্গকারীদের পছন্দ করেন না।

শেষে রাসুলুল্লাহ (সা.) উপস্থিত সবাইকে শান্তি, রহমত ও বরকতের দোয়া জানান।

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪


বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা ও সহিংসতার বিচার চেয়ে সাদপন্থিদের ৬ দফা দাবি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ২০:৪৫:৪৫
বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা ও সহিংসতার বিচার চেয়ে সাদপন্থিদের ৬ দফা দাবি
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব ইজতেমার সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা, বিগত বছরগুলোতে ঘটে যাওয়া সহিংসতার বিচার এবং তাবলিগ জামাতের কার্যক্রমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধসহ মোট ছয় দফা দাবি জানিয়েছে মাওলানা সাদপন্থি তাবলিগ জামাতের অনুসারীরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের (মাওলানা সাদ অনুসারী) মিডিয়া সমন্বয়ক মো. সায়েমের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাবিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সম্প্রতি ‘ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ’ ব্যানারে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। সাদপন্থিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওই সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা মূল তাবলিগ জামাতের প্রতিনিধিত্ব করেন না এবং তাদের উপস্থাপিত বক্তব্যগুলো সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানকে কেন্দ্র করে ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

বিশেষ করে ২০১৮ সালে টঙ্গী ময়দানে ইসমাইল মণ্ডল ও শামসুদ্দিন বেলাল, ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর বেলাল হোসেন ও মিজানুর রহমান, ২০১৯ সালে কিশোরগঞ্জে আব্দুর রহিম রাজন এবং ২০২৩ সালে ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় শামসুল হকের মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে সংগঠনটি।

এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় ইজতেমা ময়দান খালি করার বিষয়ে একটি লিখিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়নের পাশাপাশি ১৭ ডিসেম্বর রাতে ডা. আসগরের নামে প্রচারিত কথিত অডিও রেকর্ডের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট গভীরভাবে যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির জোরালো অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মসজিদে তাবলিগের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে, মার্কাজ মসজিদ নিয়ে বিরোধ বাধানো হচ্ছে এবং এই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে নানামুখী পাল্টাপাল্টি প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা সামগ্রিক ধর্মীয় পরিবেশ ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য মারাত্মক হুমকি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধর্মীয় কার্যক্রমের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব বিরোধ আইনানুগ উপায়ে নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়।

মাওলানা সাদপন্থিদের পেশ করা ছয় দফা দাবিগুলো হলো

১. বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে মাওলানা সাদ সাহেবের অনুসারীদের উদ্যোগে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের জন্য দ্রুত সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

২. সহিংসতার তদন্ত ও বিচার

২০১৮ ও ২০২৪ সালের সহিংসতা, প্রাণহানি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা।

৩. রাজনৈতিক ও বহিরাগত হস্তক্ষেপ বন্ধ

তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিরাগত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, ধর্মভিত্তিক দলের রাজনৈতিক নেতা এবং ধর্মীয়-রাজনৈতিক সংগঠনের অযাচিত হস্তক্ষেপ কঠোরভাবে বন্ধ করা।

৪. ইজতেমা ময়দানের ব্যবহার নিশ্চিত করা

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং ময়দান দখলসংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।

৫. মার্কাজ মসজিদ নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি

বিভিন্ন জেলা ও থানার মার্কাজ মসজিদ নিয়ে উদ্ভূত বিরোধ ও দখলসংক্রান্ত অভিযোগগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দ্রুত নিষ্পত্তি করা।

৬. মসজিদে ধর্মীয় কার্যক্রমের নিরাপত্তা

‘তৌহিদি জনতা’ বা অন্য যে কোনো পরিচিতি ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে দেশের কোনো মসজিদে তাবলিগের নিয়মিত কার্যক্রমে বেআইনি বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, তার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া।

বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, তাবলিগ জামাতের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসনকে পুরোপুরি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে, সব পক্ষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং উত্থাপিত দাবিগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। দেশের সার্বিক ধর্মীয় পরিবেশ, শান্তি, শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে সংশ্লিষ্ট সব মহলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

/আশিক


২০২৭ সালে কবে শুরু রোজা? সম্ভাব্য তারিখ জানাল আমিরাত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১৯:১৮:১৯
২০২৭ সালে কবে শুরু রোজা? সম্ভাব্য তারিখ জানাল আমিরাত
ছবি : সংগৃহীত

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব ও চাঁদ দেখার সম্ভাব্য সময় অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালে পবিত্র রমজান মাস ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হতে পারে। চাঁদের অবস্থানের ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ৮ ফেব্রুয়ারি এবং বাংলাদেশে ৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম রোজা পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বরাবরের মতোই রমজান শুরুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি নির্ভর করবে আকাশে নতুন চাঁদ দেখার ওপর।

ইসলামি চান্দ্রবর্ষ মূলত গ্রেগরিয়ান বা খ্রিষ্টীয় সৌরবর্ষের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন ছোট হয়ে থাকে। চান্দ্রবছর সাধারণত ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনের হওয়ার কারণে প্রতি বছরই রমজান মাস আগের বছরের নির্ধারিত তারিখের চেয়ে প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে। চক্রাকারে দিন এগিয়ে আসার এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই প্রতি কয়েক বছর পরপর ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি (রোববার) সন্ধ্যায় মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে সে রাতেই সেখানে প্রথম তারাবিহ নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা এবং পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) থেকে প্রথম রোজা রাখা শুরু হবে।

ভৌগোলিক অবস্থান ও স্থানীয় পর্যবেক্ষণের পার্থক্যের কারণে বাংলাদেশে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের এক দিন পর রমজান শুরু হতে দেখা যায়। সেই হিসেবে, বাংলাদেশে আগামী ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) সন্ধ্যায় রমজান মাসের চাঁদ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই দিন চাঁদ দেখা গেলে রাতে প্রথম তারাবিহ আদায়ের মধ্য দিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) থেকে বাংলাদেশে রোজা শুরু হতে পারে।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস বলছে, ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাসটি ২৯ অথবা ৩০ দিনের হতে পারে। সেই গণনা অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হতে পারে আগামী ৯ অথবা ১০ মার্চ। অন্যদিকে বাংলাদেশে রোজা এক দিন পরে শুরু হলে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে ১০ অথবা ১১ মার্চ। তবে এই সমস্ত হিসাবই আগাম জ্যোতির্বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে অনুমান করা হয়েছে; এর চূড়ান্ত তারিখ শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপরই পুরোপুরি নির্ভর করবে।

ইসলাম ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী রমজান মাসের সূচনা ও ঈদুল ফিতর উদযাপনে প্রত্যক্ষ চাঁদ দেখার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক পূর্বাভাস থেকে আগাম একটি ধারণা পাওয়া গেলেও, বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে রোজা ও ঈদের মূল তারিখ।

সূত্র: গালফ নিউজ


মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্যে জানা গেল রোজা শুরুর সম্ভাব্য সময়

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১০ ১৯:২১:৩৯
মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্যে জানা গেল রোজা শুরুর সম্ভাব্য সময়
ছবি : সংগৃহীত

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র ১২১ দিন বাকি রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের প্রাক্কলন বলছে, ২০২৭ সালের আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার থেকে পবিত্র রোজা শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে, চলতি বছরের আগামী ১২ অক্টোবর জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু হলে রমজানের আগমনী বার্তা হিসেবে বাকি থাকবে কেবল চারটি চন্দ্র মাস।

ইমেরিটাস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, শনিবার সূর্যাস্তের পর স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৭টা ৫০ মিনিটে নতুন চাঁদের জন্ম বা মহাজাগতিক সংযোগ ঘটেছে। ‘আল খালিজ’ পত্রিকার বরাতে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রোববার বা ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় খালি চোখে নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে আগামী ১২ অক্টোবর সোমবার ১৪৪৮ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাসের প্রথম দিন গণনা শুরু হতে পারে।

ইসলামিক নতুন এই চন্দ্র মাসের সূচনার অর্থ দাঁড়ায় যে, পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র চারটি চন্দ্র মাস বাকি আছে। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এই পূর্বাভাস শেষ পর্যন্ত চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গণনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের রমজান মাসটি ২৯ অথবা ৩০ দিনের হতে পারে। সেই হিসাব অনুযায়ী, আগামী ৯ মার্চ মঙ্গলবার কিংবা ১০ মার্চ বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

/আশিক


বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আসছে পবিত্র রমজানের নতুন সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১৮:৫১:৪৮
বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আসছে পবিত্র রমজানের নতুন সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

হিজরি সনের গণনায় সময় দ্রুত গড়াচ্ছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র ১৪৭ দিন বাকি রয়েছে। সব হিসাব ঠিক থাকলে এবং চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার থেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে সিয়াম সাধনার মাস রমজান শুরু হতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রোববার সন্ধ্যায় হিজরি ১৪৪৮ সনের রমজান মাসের নতুন চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক চেষ্টা চালানো হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় আকাশে নতুন চাঁদ দেখা গেলে সে রাতেই প্রথম তারাবির সালাত আদায় এবং ভোররাতে সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে পরদিন সোমবার প্রথম রোজা পালন করবেন বিশ্বের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান। অন্যদিকে রমজানের ২৯ বা ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার ওপর ভিত্তি করে এবং শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ১০ মার্চ বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসলামি বর্ষপঞ্জি বা হিজরি ক্যালেন্ডার সম্পূর্ণরূপে চান্দ্রবছরের গতিপথের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। সৌরছক বা ইংরেজি গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় চান্দ্রবছর সাধারণত ১০ থেকে ১১ দিন ছোট হয়। এই প্রাকৃতিক ব্যবধানের কারণে প্রতি বছরই ইংরেজি বর্ষপঞ্জিতে রমজান মাসের সূচনা ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে। এর ফলে আনুমানিক ৩৩ বছরের এক পূর্ণ চক্র আবর্তনের মাধ্যমে বছরের প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে (গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, শীত) রোজা রাখার অনন্য ধর্মীয় সুযোগ পেয়ে থাকেন মুসলিমরা।

উল্লেখ্য, জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আধুনিক গাণিতিক হিসাব পূর্বধারণা প্রদান করলেও ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী রমজান মাসের চূড়ান্ত সূচনা ও ঈদুল ফিতরের দিনক্ষণ নির্ধারণ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও চাঁদ প্রত্যক্ষ করার ওপর।

সূত্র: গালফ নিউজ।


চব্বিশ ঘণ্টার রুটিনেই মিলবে অশেষ সওয়াব, জেনে নিন ৫টি ছোট দোয়া

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ১৯:৪৮:৩১
চব্বিশ ঘণ্টার রুটিনেই মিলবে অশেষ সওয়াব, জেনে নিন ৫টি ছোট দোয়া
ছবি : সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কাজগুলোকে সহজেই পুণ্যে রূপান্তর করতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বেশ কিছু সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। ঘর থেকে বের হওয়া, মসজিদে প্রবেশ, কিংবা যানবাহনে আরোহণের মতো প্রাত্যহিক অভ্যাসে এসব দোয়ার নিয়মিত চর্চা একজন মুমিনের জীবনে আল্লাহর রহমত ও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

দৈনন্দিন জীবনে আমল করার মতো পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়ার বিবরণ

যানবাহনে ওঠার দোয়া: সুরা যুখরুফের ১৩-১৪ নম্বর আয়াতের এই দোয়াটি বাহনে চড়ে আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া এবং তাঁর কাছে চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়—

আরবি: سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাজি সাখখারালানা হা-যা ওয়া মা কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনকালিবুন।

অর্থ: তিনি পূতপবিত্র, যিনি এ বাহনকে আমাদের অধীন করে দিয়েছেন। অথচ এটি আয়ত্তে আনার ক্ষমতা আমাদের ছিল না। আর নিশ্চয়ই আমরা আমাদের রবের কাছেই ফিরে যাব।

মসজিদে প্রবেশের দোয়া: আল্লাহর বিশেষ রহমত ও অনুগ্রহ কামনায় মসজিদে প্রবেশের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি পাঠ করতেন (আবু দাউদ: ৪৬৬)—

আরবি: اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রহমাতিক।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।

মসজিদ থেকে বের হওয়ার দোয়া: ইবাদত শেষে পার্থিব রিজিক ও জীবিকায় আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি পড়তেন (আবু দাউদ: ১২৬)—

আরবি: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদ্বলিক।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।

ঘরে প্রবেশের দোয়া: ঘরে কল্যাণ ও বরকত নিশ্চিত করতে এবং পরিবারের নিরাপত্তায় আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল প্রকাশে এই দোয়াটি পাঠের বিধান রয়েছে (আবু দাউদ: ৫০৯৬)—

আরবি:اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلِجِ وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ، بِسْمِ اللَّهِ وَلَجْنَا، وَبِسْمِ اللَّهِ خَرَجْنَا، وَعَلَى اللَّهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাল মাউলাজি, ওয়া খাইরাল মাখরাজি; বিসমিল্লাহি ওয়ালাজনা, ওয়া বিসমিল্লাহি খারাজনা; ওয়া আলাল্লাহি রাব্বিনা তাওয়াক্কালনা।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রবেশ ও প্রস্থানের কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আল্লাহর নামে আমরা প্রবেশ করলাম এবং আল্লাহর নামেই বের হলাম। আর আমাদের রব আল্লাহর ওপরই আমরা ভরসা করলাম।

ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া: ঘর থেকে বাইরে যাওয়ার মুহূর্তে আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে হেফাজত পেতে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া শিখিয়েছেন (তিরমিজি: ৩৪২৬)—

আরবি: بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থ: আল্লাহর নামে বের হলাম। আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।

/আশিক


বাড়বে না হজের নিবন্ধনের সময়, চূড়ান্ত সময়সীমা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৯:৩৩:৩৪
বাড়বে না হজের নিবন্ধনের সময়, চূড়ান্ত সময়সীমা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের পবিত্র হজে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটার বিপরীতে এখন পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৩ হাজার ৭৪১ জন যাত্রী। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৬৭৬ জন নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন; ফলে নির্ধারিত জাতীয় কোটার একটি বড় অংশই এখনও ফাঁকা রয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হজ নিবন্ধনের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে এবং এর পর আর কোনোভাবেই সময় বৃদ্ধি করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১। সার্কুলারে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সমস্ত নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ জুলাই শুরু হওয়া এই নিবন্ধনের সময়সীমা পার হওয়ার পর সৌদি সরকারের কাছে হজযাত্রীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রেরণ করা হবে এবং সেই তালিকার ভিত্তিতেই সৌদি পর্বের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের অর্থ স্থানান্তর করা হবে। একই সাথে চূড়ান্ত তালিকার ওপর ভিত্তি করে শুরু হবে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফিটনেস সনদ প্রদান, বাধ্যতামূলক টিকাদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত কোটা পূরণ হতে এখনও ৭৪ হাজার ৭৫৯ জনের নিবন্ধন বাকি রয়েছে।

/আশিক


২০২৭ সালের পবিত্র রমজান কবে শুরু? সামনে এলো সম্ভাব্য তারিখ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৯:৩৩:৩৩
২০২৭ সালের পবিত্র রমজান কবে শুরু? সামনে এলো সম্ভাব্য তারিখ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সাল শুরু হতে আর মাত্র তিন মাস বাকি থাকতেই মুসলিম বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে আসন্ন বছরের পবিত্র রমজান মাসের সম্ভাব্য সময় নিয়ে গভীর কৌতূহল দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে যে, আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে। তবে চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী মাসের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত সূচনা নির্ভর করবে সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর।

এরই মধ্যে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে ১৪৪৮ হিজরি সনের রবিউস সানি মাস। এর ফলে হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পবিত্র রমজান শুরুর অপেক্ষা এখন শেষ পাঁচটি চন্দ্রমাসে এসে ঠেকেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রবিউস সানি মাসের চতুর্থ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে রমজানের নতুন চাঁদ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই সন্ধ্যায় যদি আকাশে একফালি চাঁদের দেখা মেলে, তবে ওই রাতেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আদায় করবেন প্রথম তারাবির নামাজ এবং পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি পালন করবেন প্রথম রোজা।

তবে নির্ধারিত সন্ধ্যায় যদি নতুন চাঁদ দৃশ্যমান না হয়, সে ক্ষেত্রে রমজান শুরুর সম্ভাব্য এই তারিখ এক দিন পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। ইসলামিক চান্দ্র ক্যালেন্ডারের প্রতিটি মাস যেহেতু কেবলই চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, তাই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের সঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সামান্য তারতম্য হওয়া স্বাভাবিক। একইভাবে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রমজান মাস ২৯ কিংবা ৩০ দিন স্থায়ী হতে পারে। সিয়াম সাধনার মাস শেষে শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখা সাপেক্ষে উদযাপিত হবে মুসলিমদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ২০২৭ সালের ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য দিন হিসেবে আগামী ১০ মার্চকে ধারণা করা হলেও সেই তারিখটিও পুরোপুরি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করছে।

/আশিক


আগামী বছরের হজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ২১:৫৪:৩৬
আগামী বছরের হজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের হজের আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনপ্রক্রিয়া আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে এবং নির্ধারিত এই সময়ের পর আর কোনোভাবেই সময় বাড়ানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করার জরুরি তাগিদ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌদি সরকারের দেওয়া কঠোর দিকনির্দেশনার আলোকে নিবন্ধন সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। এরপরই মূলত সৌদি পর্বের বাড়িভাড়া ও প্রয়োজনীয় অর্থ প্রেরণ, মেডিক্যাল চেকআপ, ফিটনেস সনদ ইস্যু, বাধ্যতামূলক টিকা প্রদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মতো সময়সাপেক্ষ কাজগুলো শুরু হবে। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের জন্য বাংলাদেশের মোট হজযাত্রী কোটা নির্ধারিত রয়েছে ৭৮ হাজার ৫০০ জন। গত ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি মাধ্যমে ১ হাজার ৬৫ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে ২ হাজার ৬৭৬ জনসহ সর্বমোট ৩ হাজার ৭৪১ জন হজযাত্রী নিবন্ধন চূড়ান্ত করেছেন।

/আশিক


২০২৭ সালের হজ প্যাকেজে বড় ছাড়: প্যাকেজ-১ ও ২-এ যত টাকা সাশ্রয় হচ্ছে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ২০:৪৮:৩৭
২০২৭ সালের হজ প্যাকেজে বড় ছাড়: প্যাকেজ-১ ও ২-এ যত টাকা সাশ্রয় হচ্ছে
ছবি : সংগৃহীত

হজযাত্রীদের সার্বিক অর্থনৈতিক বোঝা লাঘব করতে খাবারের ব্যয় যুক্ত করার পরও ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের খরচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানো হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে অবহিত করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন তিনি।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করে আগামী বছরের হজ প্যাকেজকে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য অধিকতর সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্যাকেজভিত্তিক বিস্তারিত খরচের হিসাব দিয়ে তিনি জানান, ২০২৬ সালে হজ প্যাকেজ-১-এর মূল্য যেখানে ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৭৭ টাকা, ২০২৭ সালে তা ৭৫ হাজার ৩৫৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২২৩ টাকায়। বিশেষ বিষয় হলো, নতুন এই প্যাকেজের মধ্যেই খাবার বাবদ ৩৯ হাজার ১৩৬ টাকার খরচটি আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। একইভাবে হজ প্যাকেজ-২-এর ব্যয়ও ৫৩ হাজার ২৩৩ টাকা কমানো হয়েছে। পূর্ববর্তী বছরে এ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা থাকলেও আগামী বছরের জন্য তা ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে খাবার বাবদ ২৯ হাজার টাকার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্যাকেজের সামগ্রিক ব্যয়ের পাশাপাশি বিমান ভাড়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৬ সালে হজের বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা, যা ২০২৭ সালের জন্য ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। সাধারণত সময়ের পরিক্রমায় নানা সেবামূলক খাতের ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী হলেও হাজিদের সার্বিক কল্যাণ বিবেচনায় সরকার বিমান ভাড়া ও প্যাকেজের মূল্য কমিয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পূর্ববর্তী বছরের হিসাবের স্বচ্ছতা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বমোট ৪ হাজার ৩৮১ জন ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরবে পবিত্র হজব্রত পালন করেছেন। বিভিন্ন খাতে নির্ধারিত বাজেটের তুলনায় ব্যয় সাশ্রয় হওয়ায় চূড়ান্ত হিসাব শেষে সরকারের কাছে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ব্যাংকিং লেনদেন ব্যবস্থার (বিএফটিএন) মাধ্যমে সেই বাড়তি অর্থ সরাসরি প্রত্যেক হাজির নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সরকারের কঠোর জবাবদিহিতা ও আর্থিক স্বচ্ছতার কারণেই এই পদক্ষেপ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

চলতি বছরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সফল ও নির্বিঘ্ন ছিল দাবি করে তিনি বলেন, সরকারপ্রধানের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও নিবিড় তদারকির কারণে কোনো ধরনের সংকট ছাড়াই হাজিরা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পেরেছেন, যা খোদ সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে। আল্লাহর মেহমানদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানই প্রশাসনের মূল ব্রত উল্লেখ করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে আগামী দিনগুলোতেও সততা, মানবিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই সেবামূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: