ভোট নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা সহ্য নয়, ড. ইউনূসের কঠোর বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৯ ১৮:৩৬:১৩
ভোট নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা সহ্য নয়, ড. ইউনূসের কঠোর বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং শান্তি বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখতে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। প্রধান উপদেষ্টা সাফ জানিয়ে দেন, আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না।

সাক্ষাতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান চলাচল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশে ১৭ মাসের দায়িত্বকাল শেষে বিদায় নিতে যাওয়া ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন গত দেড় বছরে ড. ইউনূসের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি আসন্ন নির্বাচন আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া আমাদের সরকারের মূল অঙ্গীকার এবং সেই লক্ষ্যেই গণভোটসহ সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।”

শ্রমিক অধিকার ও সংস্কার প্রসঙ্গে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া নতুন শ্রম অধ্যাদেশকে ‘অসাধারণ ও ব্যতিক্রমধর্মী’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই যুগান্তকারী আইনটি বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও বিগত সরকারগুলোর আমলে শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪৬টি রাজনৈতিক মামলার মধ্যে ৪৫টি প্রত্যাহারের সাহসী সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করেন জ্যাকবসন। জবাবে ড. ইউনূস জানান, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুসরণ করেই এই সংস্কার করা হয়েছে এবং শ্রমিক নেতারাও একে সানন্দে গ্রহণ করেছেন।

আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুটিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় একক বৃহত্তম দাতা দেশ হিসেবে পাশে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাসরত ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অতুলনীয়।” বৈঠক শেষে ড. ইউনূস ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনকে বাংলাদেশের একজন পরম ‘বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং ভবিষ্যতে আবারও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁর বিদায়লগ্নে শুভকামনা জানান।


‘ভূতুড়ে বিলের’ সুনির্দিষ্ট কারণ ও অভিযোগ সমাধানের উপায় জানালেন বিদ্যুৎ সচিব 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১৮:২৪:৪৭
‘ভূতুড়ে বিলের’ সুনির্দিষ্ট কারণ ও অভিযোগ সমাধানের উপায় জানালেন বিদ্যুৎ সচিব 
ছবি : সংগৃহীত

সদ্য বিদায়ী জুন মাসে সাধারণ গ্রাহকদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অসংখ্য অভিযোগ আসার প্রেক্ষিতে এর সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ ও সম্ভাব্য সমাধানের উপায় ব্যাখ্যা করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি ‘ভূতুড়ে বিল’ সংক্রান্ত যাবতীয় সংকটের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের মূল কারণগুলো ব্যাখ্যা করে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে জুন মাসে বিলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি শুধুমাত্র ট্যারিফ বা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে ঘটেনি, বরং এই সময়ে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের সামগ্রিক ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়াটাও অন্যতম একটি প্রধান কারণ। তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যুতের অফিশিয়াল দাম বৃদ্ধি, তীব্র গরমে গ্রাহকদের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া এবং অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বিল উচ্চতর স্ল্যাবে (ধাপে) প্রবেশ করার কারণেই মূলত অনেকের বিল অস্বাভাবিক এসেছে। তবে সাধারণ এই কারণগুলোর বাইরে কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভাগের মাঠপর্যায়ের করণিক ভুল বা টাইপিংয়ের ভুলও তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন এবং সে ধরনের অভিযোগগুলো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ইতিমধ্যে যথাযথ প্রতিকার করা হয়েছে।

করণিক ভুলের একটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরে সচিব বলেন, খাগড়াছড়িতে সম্প্রতি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত করণিক ভুল প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে এক সাধারণ গ্রাহকের প্রকৃত ব্যবহৃত বিদ্যুৎ ইউনিট মাত্র ৭০ হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু ডেটা এন্ট্রির সময় অসাবধানতাবশত করণিক ভুলের কারণে সেটি কাগজে-কলমে ৭০০ ইউনিট হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে যায়।

ফলে নতুন বর্ধিত বিদ্যুতের মূল্য দিয়ে যখন ওই বিশাল ইউনিটকে গুণ করা হয়, তখন গ্রাহকের কাছে একটি অস্বাভাবিক ও কাল্পনিক বিল চলে আসে। এ ঘটনার সুরাহা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলা ও করণিক ভুলের জন্য দায়ী বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আইন অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং একই সঙ্গে ভুক্তভোগী গ্রাহকের বিলটি সম্পূর্ণ সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সচিব আরও জোর দিয়ে বলেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে আসা সব ধরনের ‘ভূতুড়ে বিলের’ অভিযোগ অনুসন্ধান ও দ্রুত সত্যতা যাচাইয়ের জন্য দেশের প্রতিটি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাকে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ও কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও সরকার দেশের সাধারণ গ্রাহকদের স্বস্তির কথা বিবেচনা করে বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া অব্যাহত রেখেছে, যাতে করে উৎপাদনের সম্পূর্ণ ব্যয়ের চাপ সাধারণ মানুষের ওপর না পড়ে।

সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা, সিস্টেম লস সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা, প্রিপেইড ও স্মার্ট মিটারিং ব্যবস্থার দ্রুত সম্প্রসারণ এবং গ্রাহক সেবার মানোন্নয়নে মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বক্তব্যের শেষাংশে সচিব বলেন, যেসব সম্মানিত গ্রাহকের নিজস্ব বিদ্যুৎ বিল সম্পর্কে কোনো ধরনের সন্দেহ, অসঙ্গতি বা অভিযোগ রয়েছে, তাদের আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার স্থানীয় কার্যালয়ে যোগাযোগের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হচ্ছে। গ্রাহকদের সুবিধার্থে প্রয়োজন হলে ল্যাবে মিটার পরীক্ষা করা, বিল পুনর্যাচাই করা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তির সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

/আশিক


অক্টোবরে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভায় ভোটের সম্ভাবনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১৮:১৮:১১
অক্টোবরে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভায় ভোটের সম্ভাবনা
ছবি : সংগৃহীত

আগামী অক্টোবর মাস থেকে দেশে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইনি ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে প্রায় সব স্তরের বকেয়া নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর নির্বাচন ভবনে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় সাপেক্ষে মাত্র এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই এসব নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি শেষ করা সম্ভব। কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভাগুলোতে ভোট গ্রহণ করা হতে পারে। পুরো দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচন কমিশনার জানান, কোন স্তরের নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে কমিশনের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও বাস্তবতা ও প্রশাসনিক কারণে প্রথমে ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। উপজেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে এই দুটি নির্বাচনের গুরুত্ব থাকায় এগুলো আগে শেষ করে পরে উপজেলা নির্বাচনের দিকে এগোবে ইসি।

নির্বাচনের সময়সূচি বা তফসিল নির্ধারণের ক্ষেত্রে পাবলিক পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসব, বর্ষা মৌসুম এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক ও যোগাযোগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হবে। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা বা চিঠি না এলেও ইসি নিজস্ব উদ্যোগে প্রাথমিক প্রস্তুতি এগিয়ে রাখছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ বর্তমানে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংশোধিত আচরণবিধির খসড়া এরই মধ্যে ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মতামত চাওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত মতামত যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও বিয়োজন করা হবে। নতুন বিধিমালায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যার মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি অন্যতম।

এবারের নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। এছাড়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ও পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহার বাতিল করা হয়েছে এবং জাতীয় নির্বাচনের মতো পোস্টার ব্যবহারের সুযোগও থাকছে না। বর্তমানে দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং আনসার সদস্যদের প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন যেহেতু অঞ্চলভিত্তিক ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হবে, তাই প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা ছক তৈরি করা হবে। আব্দুর রহমানেল মাছউদ উল্লেখ করেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে অতীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে সংঘাত বেশি হতো, তবে এবার সহিংসতা কমিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার মান স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ধরে রাখতে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও ভোটারদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে কমিশন।

এদিকে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ইসি ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

/আশিক


বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ, না মানলে বাতিল হবে লাইসেন্স

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১১:৪৬:০৪
বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ, না মানলে বাতিল হবে লাইসেন্স
ছবি : সংগৃহীত

দেশজুড়ে নিরাপদ মাতৃসেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। আগামী শনিবার (১১ জুলাই)-এর মধ্যে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম (ডেলিভারি রুম) স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রসূতি ও নবজাতকের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে মানসম্মত ডেলিভারি সেবা থাকা অপরিহার্য। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লেবার রুম স্থাপন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। যেসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক সরকারি নির্দেশনা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিলসহ আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিসরে জনবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এক লাখ নতুন জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার নারী নিয়োগ পাবেন এবং সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে মিডওয়াইফদের। সরকারের লক্ষ্য হলো মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য এবং দক্ষ জনবলনির্ভর করে তোলা।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, গত দুই মাস ধরে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে লার্ভা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ট্যাবলেট সরবরাহের কার্যক্রমও শুরু হবে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বাধ্যতামূলক লেবার রুম স্থাপনের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে নিরাপদ প্রসবসেবা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যুঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে নতুন জনবল নিয়োগ এবং মিডওয়াইফের সংখ্যা বাড়ানো হলে দেশের প্রাথমিক ও মাতৃস্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘোষিত সময়সীমা শেষে সারাদেশে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

-রফিক


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১১:০৮:৫০
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়া। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন রাষ্ট্রদূত।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।

বৈঠকে সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শুভেচ্ছা ও বার্তা পৌঁছে দেন। চিঠির বিষয়বস্তু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, কূটনৈতিক মহলের ধারণা, দুই দেশের সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ এবং চলমান সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো এতে গুরুত্ব পেয়েছে।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, হজ ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক কূটনীতি এসব ক্ষেত্র দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। যদিও আলোচনার বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে সহায়ক হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সৌদি প্রতিনিধিদলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আবদুল্লাহ।

-রফিক


কলকাতার সেনা আবাসিকে কেন তিন বাংলাদেশি জেনারেল? নতুন তথ্য ঘিরে বাড়ছে নানা প্রশ্ন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১০:১৪:৩৩
কলকাতার সেনা আবাসিকে কেন তিন বাংলাদেশি জেনারেল? নতুন তথ্য ঘিরে বাড়ছে নানা প্রশ্ন
ছবি: আমার দেশ পত্রিকা থেকে সংগৃহীত।

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে সম্প্রতি কলকাতার একটি সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে একাধিক নিরাপত্তা সূত্রের দাবি। এই তিনজন হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মো. মুজিবুর রহমান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন এবং মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ। বিষয়টিকে ঘিরে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ঢাকা ও কলকাতার একাধিক নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এর আগে তারা কলকাতার সল্টলেক ও নিউ টাউনের সঞ্জিবা গার্ডেন কমপ্লেক্সে পরিবারসহ বসবাস করছিলেন। তবে সম্প্রতি তাদের সেখান থেকে সরিয়ে হুগলি সেতুর (হাওড়া ব্রিজ) নিকটবর্তী একটি উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত সেনা আবাসিক এলাকায় নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রগুলোর দাবি।

নিরাপত্তা সূত্রগুলোর ভাষ্য, সাধারণ মানুষের প্রবেশ যেখানে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত, এমন একটি সামরিক আবাসিক এলাকায় এই তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে স্থানান্তরের ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ। তাদের মতে, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং এর পেছনে বৃহত্তর কৌশলগত বিবেচনাও থাকতে পারে।

সূত্রগুলোর আরও দাবি, এই তিন কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গেও বৈঠক করছেন। তাদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ভবিষ্যতে আবার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনার সম্ভাব্য কৌশল নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিরাপত্তা সূত্রের তথ্যমতে, কলকাতার সিটি সেন্টার-২ এবং পার্ক স্ট্রিট এলাকায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এমনকি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গেও তাদের সাক্ষাতের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সূত্রগুলোর ভাষ্য।

তিন কর্মকর্তার মধ্যে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মো. মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। তাদের মতে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, আয়নাঘর পরিচালনা এবং বিরোধী দল দমনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। একই সঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' (RAW)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে বাংলাদেশের সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। পরে ১১ সেপ্টেম্বর তাকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তিনি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে যান বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

অন্যদিকে সাবেক ডিজিএফআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেনের বিরুদ্ধেও গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলোর মতে, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন এবং বিরোধী দল দমনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদের বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর তিনি দেশত্যাগ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। পরবর্তীতে বিশেষ ব্যবস্থায় তিনি তামাবিল সীমান্ত হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ বিষয়টিকে বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর মতে, ভারত যদি সত্যিই এই সাবেক কর্মকর্তাদের বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তার ভাষায়, "ভারত তাদের কেবল মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছে—এমনটি মনে করার সুযোগ খুব কম। ভবিষ্যতে তাদের বিভিন্ন কৌশলগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা হতে পারে।"

আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক অধ্যাপক এম শহীদুজ্জামানও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এসব সাবেক কর্মকর্তা বাংলাদেশের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামো সম্পর্কে অত্যন্ত স্পর্শকাতর তথ্য জানেন। ফলে তাদের বিদেশে অবস্থান এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক যোগাযোগ জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি আরও বলেন, যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা সরকারের একাধিক সাবেক সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং অন্যান্য সংস্থায় মামলা ও তদন্ত চলমান রয়েছে।

-সূত্র: আমার দেশ।


নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না ঠেলে, পিজিআরকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ২১:৪৯:৫৬
নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না ঠেলে, পিজিআরকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল যেন কোনোভাবেই সরকারপ্রধানকে দেশের সাধারণ জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে সর্বোচ্চ ও বিশেষভাবে নজর রাখার জন্য প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) সকল স্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে তিনি জনগণের বিশ্বাস, আস্থা এবং ভালোবাসার ওপরই নিজের পূর্ণ নির্ভরতা বজায় রাখতে চান। তাই নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি, যাতে দেশের সাধারণ মানুষ নিজেদের সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন বা দূরবর্তী মনে না করেন। এই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করার জন্য তিনি পিজিআর সদস্যদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদেরই এই মর্যাদাপূর্ণ রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়ম অনুযায়ী অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। যেহেতু পিজিআর সেনাবাহিনীরই অধীন একটি অত্যন্ত বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, তাই পেশাদারিত্ব, অটল আনুগত্য এবং কঠোর শৃঙ্খলার সমন্বয়ে সদস্যরা নিজেদের ওপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন বলেই তিনি প্রত্যাশা করেন।

পিজিআরের মূল দায়িত্বটিকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের (ভিআইপি) নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্ব পালন করা এই বাহিনীর অন্যতম প্রধান কর্তব্য। এই কঠিন দায়িত্ব পালনকালে তাদের প্রতিনিয়ত নানামুখী জটিল ও স্পর্শকাতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তবে সব পরিস্থিতিতেই পিজিআর সদস্যরা তাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং নিখুঁত কর্তব্যপরায়ণতার মাধ্যমে নিজেদের একটি অনন্য সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করতে সক্ষম হয়েছেন।

এই অনন্য শৃঙ্খলার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর মর্যাদাপূর্ণ ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারে মনোনীত হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। এই অসামান্য সাফল্যের জন্য তিনি বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

সশস্ত্রবাহিনীকে দেশের গৌরব এবং জনগণের সাহসের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর অকুতোভয় ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা আমাদের সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, দেশের সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখে, তবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই কোনো হুমকির মুখে পড়বে না।

পিজিআরের আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখার পাশাপাশি আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত অপরিহার্য। বর্তমান আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে প্রথাগত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বহুমাত্রিক ও নতুন ঘরানার নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন হামলা কিংবা তথ্যযুদ্ধের মতো সর্বাধুনিক ক্ষেত্রগুলোকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।

এসব আধুনিক চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে শুধুমাত্র পিজিআরই নয়, বরং দেশের প্রতিটি বাহিনীকেই যুগোপযোগী ও বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রাখা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তারেক রহমান আরও আশ্বাস দেন যে, সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ‘সফিস্টিকেটেড’ বাহিনীগুলোকে আরও বেশি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

বক্তব্যের শুরুতে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে পিজিআরের গোড়াপত্তনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে মূলত ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে একটি নতুন রেজিমেন্ট প্রথম আত্মপ্রকাশ করেছিল। পরবর্তীতে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর এই ইউনিটটির সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কার করে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ বা পিজিআর নামকরণ করেন, যা এই বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করে।

পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই ঐতিহাসিক দিনে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় শোকাবহ এবং হৃদয়বিদারক অধ্যায়ের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে মহান স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের সময় কর্তব্য পালনরত পিজিআরের কয়েকজন সাহসী সদস্যও ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হয়েছিলেন। আজকের এই বিশেষ দিনে তিনি পিজিআরের সেই বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তাদের এই আত্মত্যাগ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের নিরাপত্তার প্রতি অটল আনুগত্য এবং জীবন উৎসর্গের এক চূড়ান্ত ও অনন্য দৃষ্টান্ত, যা পিজিআরের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সদস্যদের জন্য যুগ যুগ ধরে দেশপ্রেমের বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অফিশিয়াল কেক কাটেন এবং পিজিআর সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে একটি স্মারক চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে শহীদ হওয়া পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে কুশল বিনিময় করেন।

উল্লেখ্য, স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন নিরাপত্তা, বঙ্গভবনের প্রটোকল ও অন্যান্য বিশেষ সামরিক দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই বিশেষায়িত এই বাহিনী গঠিত হয়। সেই থেকে প্রতি বছর ৫ জুলাই ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআর সদর দপ্তরে বার্ষিক দরবার ও সুসজ্জিত কুচকাওয়াজের মাধ্যমে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে দিনটি উদযাপিত হয়ে আসছে।

/আশিক


ওপারে তীব্র যুদ্ধ ও আতঙ্কের মাঝে মিয়ানমার সীমান্তে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদারের ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ২১:৪৬:৪৩
ওপারে তীব্র যুদ্ধ ও আতঙ্কের মাঝে মিয়ানমার সীমান্তে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদারের ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমার সীমান্তে চলমান মারাত্মক অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কয়েক গুণ জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। রোববার (৫ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের ফলে সীমান্তের এপারে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, ওপারের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নতুন করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নজরদারি ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন মহলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির প্রধান গুরুতর আহত হয়ে গোপনে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা গোয়েন্দা রিপোর্ট আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন সরাসরি প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, এই বিষয়টি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের কাছে এখন পর্যন্ত অফিশিয়াল কোনো তথ্য নেই।

উল্লেখ্য যে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রাখাইন রাজ্যে দেশটির সরকারি সামরিক বাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীনভাবে তীব্রতর হয়েছে। ওপারে ভারী অস্ত্রের বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির বিকট শব্দে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী টেকনাফ ও উখিয়া এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে পুরো পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে, যাতে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সীমান্তে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট বা উসকানিমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।

/আশিক


১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনে দেশজুড়ে সরকারের বহুমাত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ২০:১৪:১৭
১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনে দেশজুড়ে সরকারের বহুমাত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে জুলাই মাসকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী বিশেষ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সরকার। রোববার (৫ জুলাই) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির বিস্তারিত রূপরেখা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন জানান, প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও আগামী ১৬ জুলাই তারিখটিকে জাতীয়ভাবে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের ওই দিনের রক্তক্ষয়ী ঘটনাপ্রবাহকে সামগ্রিক গণঅভ্যুত্থানের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদদের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবার দেশজুড়ে বহুমাত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এই বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আন্দোলনের প্রথম সারির শহীদ আবু সাঈদের স্মরণে একটি রাষ্ট্রীয় স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। একই দিনে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় গণঅভ্যুত্থানের আরেক বীর শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মরণে আরেকটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালনের মাধ্যমে এই উৎসব ও শোকের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) আয়োজিত মূল কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। সেই দিন সকাল ঠিক ৬টায় রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা জানানো হবে এবং আন্দোলনের সকল শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।

ঘোষিত সরকারি কর্মসূচির আওতায় জুলাই মাসজুড়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা স্মরণ ও প্রতিবাদী আয়োজন রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আগামী ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর স্বৈরাচারের বর্বরোচিত হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন’ শীর্ষক একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বিশেষ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে বিশাল ছাত্র সমাবেশ ও সচেতনতামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে এবং ২৪ জুলাই যাত্রাবাড়ীর ঐতিহাসিক প্রতিরোধ স্মরণে সেখানে বিশেষ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এর বাইরেও রাজধানীসহ সারাদেশে পুরো আগস্ট মাসজুড়ে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন স্মরণসভা, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগামী ১৬ জুলাই রাষ্ট্রীয় বা সরকারি ছুটি থাকবে কি না—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিলেও সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দিনটিকে ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ফলে নিয়ম অনুযায়ী এদিন কোনো সরকারি সাধারণ ছুটি থাকবে না। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসব্যাপী এই সুদীর্ঘ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের মহান আত্মত্যাগকে অন্তরে স্মরণ করা এবং নতুন প্রজন্মের তরুণদের কাছে ইতিহাসের এই গৌরবময় অধ্যায়কে সঠিকভাবে তুলে ধরা।

/আশিক


পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানালেন ইরানি রাষ্ট্রদূত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ১৮:৪৫:৩৬
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানালেন ইরানি রাষ্ট্রদূত
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে তেহরান। এই সম্মান ও আন্তরিকতার জন্য বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি।

রোববার (৫ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আয়োজিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ইরানের রাষ্ট্রদূত আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

বৈঠক চলাকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা পুনর্ব্যক্ত করেন। এই চরম সংকটের মুহূর্তে ইরানের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের পাশে থাকার এবং বাংলাদেশের জনগণের অবিচল সংহতি প্রকাশের বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে জোর দিয়ে তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য উন্মুক্ত সংলাপ এবং কার্যকর কূটনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা কেবল এই অঞ্চলের জন্যই নয়, বরং এর বাইরেও সামগ্রিক বৈশ্বিক সমৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ও ইরানের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়, বর্তমান ভূ-রাজনীতি এবং আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: