জোনায়েদ সাকিকে সমর্থন দিয়ে বিএনপির বড় ত্যাগ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৪ ১৮:২৫:২৮
জোনায়েদ সাকিকে সমর্থন দিয়ে বিএনপির বড় ত্যাগ
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মেরুকরণে বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ সময় ধরে যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকা শরিক দলগুলোর সাথে অবশেষে আসন সমঝোতা সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই সমঝোতার অধীনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনটি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির জন্য ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন যে আন্দোলনের দীর্ঘদিনের মিত্রদের মধ্যে ঐক্য সুসংহত করতেই এই ত্যাগ স্বীকার করেছে বিএনপি।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন যে যারা বিগত দিনে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির পাশে থেকেছেন তাঁদের সাথে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে কিছু আসনে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। জোনায়েদ সাকির আসন ছাড়াও আরও ৭টি শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের জন্য মোট ৮টি আসনে নির্বাচনী সমঝোতা করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব স্পষ্ট করেন যে এই তালিকাটি প্রাথমিক এবং সামনের দিনগুলোতে আলোচনার মাধ্যমে আরও কিছু আসনে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সমঝোতার ফলে শরিক দলগুলোর প্রার্থীরা এখন বিএনপি জোটের একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী ময়দানে লড়বেন যা ভোটের মাঠে তাঁদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

বিএনপির ছেড়ে দেওয়া অন্য আসনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বগুড়া-২ আসন যা নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে দেওয়া হয়েছে। পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনে একই দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। এছাড়া পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) এর মোস্তফা জামাল হায়দার এবং নড়াইল-২ আসনে এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যশোর-৫ আসনে ইসলামী ঐক্য জোটের মুফতি রশিদ বিন ওয়াক্কাস এবং ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে সমর্থন দিয়েছে রাজপথের প্রধান এই বিরোধী দল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে জোনায়েদ সাকিকে সমর্থন দেওয়ার মাধ্যমে বিএনপি একটি বড় চমক দেখিয়েছে। বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগরের আংশিক নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান থাকা সত্ত্বেও শরিক দলের নেতাকে ছেড়ে দেওয়া জোটের রাজনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা। মির্জা ফখরুল বলেন যে আন্দোলনের সহযাত্রীদের যথাযথ মূল্যায়ন করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জোটের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমিত হবে এবং আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিহীন এই নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় ধরণের বিজয় অর্জন সম্ভব হবে বলে বিএনপি নেতৃত্ব বিশ্বাস করে।


মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে যাবেন- নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস রাখার আহবান

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ২১:২০:৪৬
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে যাবেন- নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস রাখার আহবান

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র (ইসি) বাতিল ঘোষণা করলেও আশা ছাড়েনি দলের নেতাকর্মী। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে তার প্রার্থিতা বাতিলের রায় দেয় (ইসি)।

তবে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এদিকে বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, হাইকোর্টের রায়ে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পেতে পারেন,তবে নেতাকর্মীদের ঐক্য বদ্ধ হয়ে থাকার আহবান করেন। মন্জুরুল আহসান মুন্সীর তার ভেরিফাই আইডি থেকে দেবীদ্বার বাসির উদ্দেশ্য লিখেন' প্রিয় দেবিদ্বারবাসী ও আমার দলের নেতাকর্মী ভাইয়েরা,দৃঢ় বিশ্বাস ও ধৈর্য রাখুন।

আল্লাহই সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সের করা পৃথক আবেদনের (লিভ টু আপিল) শুনানি নিয়ে ৮ জানুয়ারি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আট সপ্তাহের জন্য হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে মঞ্জুরুল আহসান আবেদন করেন, যা বুধবার চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য ওঠে।

আদালতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান ও আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন শুনানিতে ছিলেন। আইডিএলসি ফাইন্যান্সের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী বিভূতি তরফদার শুনানিতে ছিলেন।

পরে আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন বলেন, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্স থেকে মাম পাওয়ার লিমিটেড ঋণ নেয়। মাম পাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুরুল আহসান। প্রিমিয়ার ব্যাংককে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। ব্যাংক ঋণ পুনঃ তফসিল করেছে। আইডিএলসির সঙ্গেও সেটেলমেন্ট হয়েছে; এর অংশ হিসেবে ডাউনপেমেন্ট দেওয়া হয়েছে। এ মামলার সঙ্গে তাঁর (মঞ্জুরুল আহসান) মনোনয়নের সম্পর্ক নেই।এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় জেলা উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রেজভিউল আহসান মুন্সী তার ভেরিফাই আইডি থেকে দেবীদ্বার বাসির উদ্যোগে বলেন- প্রিয় সহযোদ্ধারা,আশা হারাবেন না। এটা এখানেই শেষ নয়, এটা একটি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ মাত্র।

আজ নির্বাচন কমিশনের যে সিদ্ধান্ত এসেছে,সেটাই চূড়ান্ত নয়। আমাদের মামলা এখন উচ্চ আদালতের বিবেচনায় রয়েছে, এবং মামলার মেরিটের ওপরই সত্যের বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা বিশ্বাস করি, উচ্চ আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে এবং আমাদের মনোনয়ন পুনর্বহাল হবে। ধৈর্য রাখুন,ঐক্যবদ্ধ থাকুন। ষড়যন্ত্রের সামনে মাথা নত নয় আইনের পথেই আমরা এগোবো। সত্যের শক্তি আমাদের সঙ্গেই আছে। ইনশাআল্লাহ, বিজয় আমাদেরই হবে। এই আসনে ‘১০ দলীয় নির্বাচনী জোট’ থেকে নির্বাচন করছেন এনসিপির আলোচিত প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীও হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেছিলেন।তার সে আপিল নামঞ্জুর হয়। ফলে হাসনাত আবদুল্লাহর প্রার্থিতা বহাল থাকছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এ আসনটিতে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, ইরফানুল হক সরকার (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ); মোহাম্মদ মজিবুর রহমান (খেলাফত মজলিস); মো. আবু জসিম উদ্দিন (গণঅধিকার পরিষদ- জিওপি), মোফাজ্জল হোসেন (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)। এই আসনে জামায়াতে ইসলামী,এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনী জোট হওয়ায় হাসনাত আব্দুল্লাকে আসন ছেড়ে দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন,জামায়াতে ইসলামীর নেতা সাইফুল শহিদ।


নেপাল, ভুটান ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ২০:৫৪:৫৪
নেপাল, ভুটান ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক
তারেক রহমানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সাক্ষাৎ। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আজ শনিবার এক বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে পৃথকভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকসহ দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ নেপাল ও ভুটানের রাষ্ট্রদূতরা। এই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

দিনের শেষ ভাগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে পৌঁছান। তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপির মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে অবগত হন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন।

এর আগে বিকেলের দিকে তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নেপাল ও ভুটানের রাষ্ট্রদূতরা। নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি বিকেল ৪টার দিকে গুলশান কার্যালয়ে যান। বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশের ভূমিকা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। নেপালের রাষ্ট্রদূতের বিদায়ের পরপরই সেখানে পৌঁছান ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাসো কর্মা হামু দর্জি। তারেক রহমানের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকগুলোতে বিএনপি নেতারা দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী ও জোরালো সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রতিবেশী দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তারেক রহমান। রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ভাবনা এবং রাজনৈতিক সংস্কার বিষয়ে বিএনপির পরিকল্পনাগুলো গভীর আগ্রহের সাথে শোনেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠকগুলোতে বিএনপির পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং দলের যুগ্ম মহাসচিব ও বিএনপি চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির। বিশ্লেষকদের মতে, এক দিনে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দেশের প্রতিনিধিদের সাথে এই ধরণের বৈঠক আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিএনপির কূটনৈতিক অবস্থান এবং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তাদের সক্রিয় ভূমিকারই প্রতিফলন।


শুধু এক দেশের বিরুদ্ধে কথা বললেই দেশপ্রেমিক হওয়া যায় না: মির্জা আব্বাস

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ১৮:৫৮:০৮
শুধু এক দেশের বিরুদ্ধে কথা বললেই দেশপ্রেমিক হওয়া যায় না: মির্জা আব্বাস
ছবি : সংগৃহীত

দেশপ্রেম এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেছেন, কেবল একটি বিশেষ দেশের বিরুদ্ধে কথা বললেই কাউকে দেশপ্রেমিক হিসেবে গণ্য করা যায় না। দেশপ্রেমের মূল ভিত্তি হলো নিজের দেশকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসা। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কচিকাঁচা ভবন মিলনায়তনে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আব্বাস স্পষ্টভাবে জানান যে, তিনি এবং তাঁর দল একটি বিশেষ দেশের বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরে সংগ্রাম করে আসছেন এবং আগামী দিনেও সেই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে, তবে এর অর্থ এই নয় যে কেবল এই বিরোধিতার মাধ্যমেই কেউ অনেক বড় দেশপ্রেমিক হয়ে যাবেন।

উপস্থিত তরুণ মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টারদের উদ্দেশ্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, তরুণ বয়সেই চিনে রাখতে হবে এ দেশে প্রকৃত দেশপ্রেমিক কারা এবং কারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আগে নিজের দেশকে ভালোবাসতে শিখতে হবে এবং তারপরে অন্য দেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য বা অবস্থান নিতে হবে। নিজের দেশের প্রতি মমত্ববোধ না থাকলে অন্য দেশের বিরোধিতা অর্থহীন হয়ে পড়ে। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একটি ঐতিহাসিক বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, দেশনেত্রী বলেছিলেন যে তিনি সবসময় দেশের স্বার্থ ও নিজের দেশ সম্পর্কে কথা বলবেন এবং সেই কথা বলতে গিয়ে যদি অন্য কারো স্বার্থে আঘাত লাগে, তবে তাতে তাঁর কিছুই করার নেই। মির্জা আব্বাস একই সুরে বলেন, অন্য দেশের বিরোধিতা করে কাউকে জোর করে দেশপ্রেম শেখানো সম্ভব নয়। নিজের দেশকে ভালোবেসে অন্য দেশের যৌক্তিক বিরোধিতা করায় কোনো আইনি বা নৈতিক অসুবিধা নেই।

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত গণভোট বা ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নিয়েও মির্জা আব্বাস তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, বিএনপি কখনোই ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের ধারণাকে অস্বীকার করে না। যার প্রয়োজন মনে হবে তিনি ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট দেবেন এবং যার প্রয়োজন তিনি ‘না’ সূচক ভোট দেবেন। এই স্বাধীনতা অর্জন করাই ছিল সংগ্রামের লক্ষ্য। তবে তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেন যে, কোনো পক্ষ জোর করে মানুষের ওপর নির্দিষ্ট কোনো মত চাপিয়ে দিয়ে ভোটের দাবিদার হতে পারে না। জনগণের এই গণতান্ত্রিক স্বাধীনতাকে মান্যতা দেওয়া এবং জোরপূর্বক প্রভাব বিস্তার না করা এখন সময়ের দাবি। মানুষকে নিজের ইচ্ছামতো ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে—এটাই হচ্ছে প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশের বহিঃপ্রকাশ।

অনুষ্ঠানে মির্জা আব্বাস দেশের গণমাধ্যম কর্মীদের সাহসিকতার সাথে সংবাদ পরিবেশন করার আহ্বান জানান এবং জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, সত্য সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমেই দেশের প্রকৃত শত্রু এবং মিত্রদের চিহ্নিত করা সম্ভব। মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে দেশের বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক কর্মী এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।


হাসনাত আব্দুল্লাহর চ্যালেঞ্জে হারলেন মঞ্জুরুল মুন্সী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ১৭:০৫:৫২
হাসনাত আব্দুল্লাহর চ্যালেঞ্জে হারলেন মঞ্জুরুল মুন্সী
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-৪ আসনে এক বড় ধরণের রাজনৈতিক রদবদল ঘটেছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) আজ শনিবার বিকেলে এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানি শেষে এই আসনের অন্যতম আলোচিত প্রার্থী ও বিএনপির মনোনীত প্রতিনিধি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে। ঋণখেলাপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কমিশন এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। আজ ১৭ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনের বেজমেন্ট-২-এর অডিটোরিয়ামে এই আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানেই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়।

কুমিল্লা-৪ আসনের এই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইটি মূলত শুরু হয়েছিল দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর পাল্টা-পাল্টি আপিলের মধ্য দিয়ে। এই আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এনসিপির আলোচিত প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। এর আগে হাসনাত আব্দুল্লাহ বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে তাঁর মনোনয়ন কেন বাতিল করা হবে না, সেই মর্মে নির্বাচন কমিশনে একটি আনুষ্ঠানিক আপিল দাখিল করেছিলেন। অন্যদিকে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীও দমে যাননি; তিনিও হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়নপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে পাল্টা আপিল করেছিলেন। উভয় প্রার্থীর শুনানি আজ কমিশনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

দীর্ঘ শুনানি এবং নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দেয় যে, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে আনা ঋণখেলাপির অভিযোগটি তথ্যপ্রমাণ দ্বারা সমর্থিত। এর ফলে আইন অনুযায়ী তাঁর প্রার্থিতা অযোগ্য বলে গণ্য করা হয় এবং তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেওয়া হয়। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে কুমিল্লা-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ পুরোপুরি পাল্টে গেল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতা হওয়া সত্ত্বেও এই আইনি জটিলতায় পড়ে ছিটকে যাওয়ায় ওই এলাকায় বিএনপি সমর্থক ও নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

বিপরীতে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর জন্য এই রায় একটি বড় ধরণের কৌশলগত জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এনসিপির এই প্রার্থীর মনোনয়ন শেষ পর্যন্ত বৈধ থাকায় এবং প্রধান প্রতিপক্ষের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় ভোটের মাঠে তাঁর অবস্থান আরও সুসংহত হলো। নির্বাচন কমিশন ভবনের আজকের এই শুনানি প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত টানটান উত্তেজনাকর এবং রায়ের পর তাৎক্ষণিকভাবে হাসনাত আব্দুল্লাহর সমর্থকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পক্ষ থেকে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশনের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ফলে কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচনী হাওয়া এখন নতুন মোড় নিল।


শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ১৪:৫২:৩৫
শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার

গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার মানুষদের স্মৃতি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ—এ কথা স্পষ্ট ভাষায় উচ্চারণ করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্যে উঠে এলো শোক, ক্ষোভ এবং ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার। শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন–মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র-এ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, যারা শহীদ হয়েছেন, রাষ্ট্র কখনো তাদের ভুলে যেতে পারে না।

শনিবার সকাল সোয়া এগারোটায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পরিবারগুলোর বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা শুনে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং চোখের জল সংবরণ করতে পারেননি।

তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নির্যাতনের শিকার হাজারো মানুষ আজ তাঁর সামনে বসে আছেন। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান, এই আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়, সে জন্য বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করবে। তাঁর ভাষায়, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা গুম হয়েছেন বা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের বুকের ভেতরের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষাই ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার মূল প্রেরণা হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সরকারের শহীদদের প্রতি গভীর দায়-দায়িত্ব রয়েছে। রাষ্ট্রের পক্ষে কখনোই এই মানুষদের বিস্মৃত হওয়া সম্ভব নয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম যাতে এই আত্মত্যাগ স্মরণে রাখে, সে লক্ষ্যে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম শহীদদের নামে নামকরণ করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

গুপ্ত কৌশল বা সুপ্ত ভূমিকার রাজনীতিতে বিএনপি বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যে দলের নেতাকর্মীরা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকতে পারে, সেই দলকে ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচারের মাধ্যমে দমন করা যায় না। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেড় লাখের বেশি মামলা এবং প্রায় ষাট লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হয়রানি চালানো হয়েছে। বহু মানুষকে বছরের পর বছর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে থাকতে হয়েছে।

তারেক রহমানের মতে, প্রতিটি অন্যায়ের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। এই লক্ষ্যেই বিএনপি আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আমরা বিএনপি পরিবার-এর প্রতিনিধি আতিকুর রহমান রুমন এবং ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি।

সাজ্জাদ/২৩৪৫


নির্বাচনী মিশনে জামায়াত আমির: ঢাকা-১৫ থেকে শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী সফর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ১১:৪৮:৩১
নির্বাচনী মিশনে জামায়াত আমির: ঢাকা-১৫ থেকে শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী সফর
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আগামী বৃহস্পতিবার থেকে দেশব্যাপী 'নির্বাচনী সফর' শুরু করতে যাচ্ছেন। রাজধানী ঢাকার ১৫ নম্বর নির্বাচনী আসনে গণসংযোগ এবং জনসভার মধ্য দিয়ে এই রাজনৈতিক কর্মসূচির সূচনা হবে। শুক্রবার রাতে দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্বাচনী সফরের বিস্তারিত সূচি জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা-১৫ আসনে জনসভার মাধ্যমে সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করার পর তিনি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে দুই দিনের সাংগঠনিক ও নির্বাচনী সফরে অংশ নেবেন।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, জামায়াত আমির আগামী ২৩ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গ সফরে যাবেন। সফরের প্রথম দিন অর্থাৎ শুক্রবার বেলা ২টায় তিনি দিনাজপুর জেলা জামায়াত আয়োজিত ঐতিহাসিক গোর-ই-শহীদ ময়দানে এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। এরপর একই দিন বিকেল ৪টায় ঠাকুরগাঁওয়ে এবং সন্ধ্যায় বিভাগীয় শহর রংপুরে আয়োজিত পৃথক জনসভায় তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের এই জনসভাগুলোতে স্থানীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২৪ জানুয়ারি সকালে ডা. শফিকুর রহমান পীরগঞ্জে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সেই উত্তাল সময়ে আবু সাঈদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, আর সেই বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোকেই এই সফরের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কবর জিয়ারত ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ওই দিন সকাল ১০টায় তিনি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে এই সফরের মাধ্যমে জামায়াত আমির সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ডাক দেবেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না জানানো পর্যন্ত এই নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী নির্বাচনী সফর চলবে বলে দলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।


স্লো পয়জন প্রয়োগ! খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে চিকিৎসকের বিস্ফোরক তথ্য

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ১১:১৬:৩৩
স্লো পয়জন প্রয়োগ! খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে চিকিৎসকের বিস্ফোরক তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি উত্থাপন করেছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। গতকাল শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি অভিযোগ করেন যে, চিকিৎসায় চরম অবহেলা এবং মাত্রাতিরিক্ত মেথোট্রেক্সেট (এমটিএক্স) নামক ওষুধ প্রয়োগের ফলে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। ডা. সিদ্দিকী অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই ওষুধটি খালেদা জিয়ার বিদ্যমান ফ্যাটি লিভার সমস্যাকে আরও জটিল করে লিভার সিরোসিসে রূপান্তর করেছিল, যা মূলত তার যকৃতের জন্য একটি ‘স্লো পয়েন্ট’ বা ধীরগতির বিষক্রিয়া হিসেবে কাজ করেছে।

শোকসভায় উপস্থিত দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজন ও কূটনীতিকদের সামনে ডা. সিদ্দিকী বলেন, খালেদা জিয়ার লিভারের সমস্যা নির্ণয় করা অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয় ছিল, যার জন্য বড় কোনো বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু অত্যন্ত অবিশ্বাস্য ও বেদনাদায়ক বিষয় হলো, বিগত সরকারের আমলে সরকারি মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার লিভার ফাংশন টেস্ট বা যকৃতের কার্যকারিতা পরীক্ষার ফলাফল খারাপ দেখার পরও ন্যূনতম একটি আলট্রাসনোগ্রাম পর্যন্ত করার প্রয়োজন মনে করেনি। এমনকি লিভারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত এমটিএক্স প্রয়োগও তারা বন্ধ করেননি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নৈতিকতার চরম লঙ্ঘনের এই চিত্র তুলে ধরে তিনি দাবি করেন যে, বিষয়টি সাধারণ অবহেলা নয় বরং একে একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা প্রয়োজন।

উদ্ভূত এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী সরকারের কাছে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসাজনিত অবহেলার তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত আইনি তদন্ত হওয়া জরুরি। প্রথমত, সরকার কর্তৃক গঠিত সেই মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা কারা ছিলেন এবং কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে তারা একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসার দায়িত্ব পেয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে হবে। দায়িত্ব পালনে তাদের ব্যর্থতার দায়ভার নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি। দ্বিতীয়ত, খালেদা জিয়া যখন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তখন কোন কোন চিকিৎসক তার সরাসরি চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সেখানে চিকিৎসাগত কোনো অপরাধ বা অবহেলা ছিল কি না, তা খুঁজে বের করতে হবে। তৃতীয়ত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন খালেদা জিয়া আইনজীবীর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানালেও কেন তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল এবং কারা এতে বাধা প্রদান করেছিল, সেই রহস্য উন্মোচন করা প্রয়োজন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে, আজ দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে একটি বড় আফসোস রয়ে গেল। তিনি বলেন, “সারা জীবন যে মানুষটি গণতন্ত্রের জন্য এবং মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করলেন, তিনি যদি আর কিছুদিন বেঁচে থাকতেন তবে নিজ চোখে দেখতে পারতেন যে এ দেশের মানুষ আজ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকার বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবিলম্বে এই চিকিৎসাজনিত অবহেলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। খালেদা জিয়ার মতো একজন জাতীয় নেত্রীর চিকিৎসায় এমন চরম উদাসীনতা কোনোভাবেই ক্ষমাযোগ্য হতে পারে না বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।


ফ্যাসিবাদ পরবর্তী বাংলাদেশের দিশারি যখন খালেদা জিয়ার আদর্শ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ০৯:৫৪:৪০
ফ্যাসিবাদ পরবর্তী বাংলাদেশের দিশারি যখন খালেদা জিয়ার আদর্শ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও কর্মজীবনের অনন্য অবদান এবং গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনরা। গতকাল শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে বেগম জিয়া ছিলেন এক আপসহীন প্রতিমূর্তি। বিগত সরকারের আমলে চরম রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনো আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। এমনকি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর যখন সারা দেশে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল, তখনও তিনি কোনো ধরণের বিদ্বেষ বা প্রতিহিংসা ছড়াননি; বরং তরুণ সমাজকে ধৈর্য ধরার ও দেশ পুনর্গঠনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এক বিরল রাজনৈতিক শিষ্টাচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন শোকসভাটি আড়াই ঘণ্টাব্যাপী চলে এবং শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে। শোকসভার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, লেখক, গবেষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি এবং পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকলেও রাজনৈতিক প্রথা ভেঙে বিএনপি বা খালেদা জিয়ার পরিবারের কোনো সদস্য বক্তব্য দেননি। গত ৩০ ডিসেম্বর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এই বর্ষীয়ান নেত্রী।

শোকসভায় অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, “খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচারপ্রক্রিয়া ছিল অদ্ভুত ও জঘন্য। যখন তাকে ভুয়া মামলায় সাজা দেওয়া হয়, তখন ভয়ের সংস্কৃতি এতটাই প্রকট ছিল যে অনেক গণমাধ্যম তার পক্ষে কোনো বিবৃতি ছাপাতে সাহস পায়নি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সময়ের পরিক্রমায় আজ খালেদা জিয়া মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন, আর তার প্রতিপক্ষ আজ বিতাড়িত। অন্যদিকে দৈনিক যায় যায় দিন সম্পাদক শফিক রেহমান আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, খালেদা জিয়ার শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে সবাইকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

ডেইল স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম গণতন্ত্রের প্রতি খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধাশীল মনোভাবের কথা স্মরণ করে বলেন, “বিগত সরকারের চরম নির্যাতনের পরও ৭ আগস্ট তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তা তার মহানুভবতার পরিচয় দেয়। তিনি ধ্বংসের পরিবর্তে ভবিষ্যতে ভালোবাসা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার ডাক দিয়েছিলেন।” নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর তার আলোচনায় খালেদা জিয়ার রুচিশীলতা ও পরিমিতিবোধের প্রশংসা করে বলেন, চরম রাজনৈতিক সংকটেও তিনি বা তার পরিবারের কেউ কখনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অশালীন শব্দ ব্যবহার করেননি, যা বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরল।

বিস্ময়কর ও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রয়োজনীয় সুচিকিৎসা পাননি। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’ বা উইলফুল নেগলিজেন্স-এর ফলেই তার লিভার ফাংশন দ্রুত অকেজো হয়ে পড়ে এবং তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।” তিনি এই ঘটনার পেছনে কোনো সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানান। অন্যদিকে লেখক ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের পতাকা এখন তারেক রহমানের হাতে এবং এটি তার জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। তিনি তারেক রহমানের সক্ষমতার জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেন।

শোকসভায় পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ডা. জুবাইদা রহমান, ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপক ড. রাশেদ আল তিতুমীর খালেদা জিয়ার শাসনামলে দেশের অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর ও শিল্পায়নের প্রশংসা করেন। সভার সভাপতি বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন রাষ্ট্রীয়ভাবে খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধি দেওয়ার দাবি জানান।

"খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনীতিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক রাজনৈতিক আদর্শ। দেশ, মাটি ও মানুষকে তিনি কতটা ভালোবাসতেন তা তার ত্যাগের মধ্য দিয়েই প্রমাণিত। তার মৃত্যু হলেও তার আদর্শ এ দেশের ভবিষ্যৎ পথচলার মূল শক্তি হয়ে থাকবে।"

— ড. মাহবুব উল্লাহ, শোকসভার প্রধান উদ্যোক্তা।

শোকসভাটি ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় নেওয়া হয়েছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসারসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পুরো এলাকা নজরদারিতে রাখেন। নির্ধারিত কার্ড ছাড়া প্রবেশাধিকার সীমিত থাকলেও হাজার হাজার সমর্থক ও সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে ভিড় করেন। তাদের কথা বিবেচনা করে আয়োজকরা বাইরে বড় স্ক্রিনে পুরো অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেন। শেষে মোনাজাত ও দোয়ার মাধ্যমে এই নাগরিক শোকসভার সমাপ্তি ঘটে।


শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল, কী বললেন তিনি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১৭:২৪:৫৪
শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল, কী বললেন তিনি
ছবি: সংগৃহীত

দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত শহীদ শরীফ ওসমান হাদি–এর হত্যার বিচার দাবিতে আবারও রাষ্ট্রের প্রতি সরব আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন ও দৃঢ় বার্তায় তিনি জানান, দীর্ঘ সময় পার হলেও ন্যায়বিচার না পাওয়ায় তিনি ও তাঁর সন্তান চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

শুক্রবার বিকেলে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে রাবেয়া ইসলাম শম্পা লেখেন, রাষ্ট্রের কাছে তাঁর এবং তাঁর সন্তানের একমাত্র দাবি হলো—শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত সুবিধার দাবি নয়; বরং একজন স্ত্রী ও মায়ের ন্যায্য অধিকার।

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জীবনের সব জাগতিক চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে স্বামীর হত্যার ন্যায়বিচার। বিচার প্রতিষ্ঠিত না হলে ক্ষত কখনো শুকাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষায়, “ন্যায়বিচার ছাড়া শহীদের রক্তের দায় কখনো শেষ হতে পারে না।”

রাবেয়া ইসলাম শম্পা মনে করেন, বিচারহীনতার দীর্ঘসূত্রতা শুধু একটি পরিবারকে নয়, পুরো সমাজকে অনিরাপদ করে তোলে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দোষীরা শাস্তির আওতায় না এলে ভবিষ্যতে এমন হত্যাকাণ্ড আরও উৎসাহিত হবে। তাই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: