বহিষ্কৃত ১০ নেতা ফের বিএনপির দলে 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৩ ১০:১৬:৫৪
বহিষ্কৃত ১০ নেতা ফের বিএনপির দলে 
ছবি: সংগৃহীত

দলীয় আবেদনের প্রেক্ষিতে বরিশাল বিভাগের বহিষ্কৃত ও স্থগিতাদেশপ্রাপ্ত ১০ নেতার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। শনিবার (২২ নভেম্বর) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। সিদ্ধান্তটি সংগঠনপর্যায়ে নতুন সমন্বয় ও কাঠামোগত স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বছরের ১১ আগস্ট বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীনের সকল পদ স্থগিত করা হয়েছিল। দলীয় বিবেচনায় আজ সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে তিনি আবারও আগের মতো বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) পদে বহাল থাকবেন।

এ ছাড়া সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ৯ নেতার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ স্থগিত করা হয়েছিল। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে:

দেওয়ান মো. মনির হোসেন (হিজলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব)

মাহফুজ আলম মিঠু (বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি)

নুর হোসেন সুজন (বরিশাল জেলা ছাত্রদল সহসভাপতি)

ইমরান খন্দকার (ছাত্রদল নেতা)

মশিউর রহমান মঞ্জু (বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক)

মাসুদ রাড়ি (বরিশাল মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি)

কামরুল হাসান (বরিশাল স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব)

বেলায়েত হোসেন (বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক)

মো. জাহিদ (৩০ নং ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব)

দলীয় সূত্র মতে, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া এসেছে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, অভ্যন্তরীণ ঐক্য সুসংহত করার লক্ষ্যে এবং আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে একটি অভিন্ন অবস্থান তৈরি করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে।

বিএনপির রাজনীতিতে বরিশাল অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্ব বহন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ১০ নেতার পুনর্বহনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কার্যক্রমেও এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নেতৃত্ব কাঠামোকে আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনে পুনর্বিবেচনা ও পুনর্বিন্যাসের নীতি আগামীতেও বজায় থাকবে।

-রফিক


আবরারের রক্তে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য ও গণপ্রতিরোধের জন্ম: রুহুল কবির রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ২০:১৬:৪৯
আবরারের রক্তে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য ও গণপ্রতিরোধের জন্ম: রুহুল কবির রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মদান গোটা জাতিকে জাগ্রত করেছিল। তার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়েই দেশের ভেতরে আগ্রাসী ও সম্প্রসারণবাদী শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিরোধের শক্তি আরও সংগঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অডিটোরিয়ামে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 'বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি: আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা সুরক্ষার অঙ্গীকার' শীর্ষক এই সভাটির সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাবি কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা মো. বরকত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় রিজভী উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদের করাল গ্রাসে দেশ তলিয়ে যাওয়ার পর এক সময় চারদিকে ভয়াবহ হতাশা তৈরি হয়েছিল এবং আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায় মুক্তির স্বপ্ন ধূসর হয়ে উঠেছিল। সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর 'পার্শ্ববর্তী দেশকে যা দিয়েছি তা মনে রাখবে'— এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে রিজভী বলেন, এর মূল সুরেই লুকিয়ে ছিল সার্বভৌমত্ব দুর্বল করা ও দেশের অস্তিত্ব বিকিয়ে দেওয়ার বার্তা। তিনি বলেন, ইতালি বা জার্মানির নাৎসিবাদ ও ফ্যাসিবাদের মতোই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বৈরাচারী নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে দেশপ্রেমিক পোস্টের কারণে আবরারের ওপর যে নির্মম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, তা সমগ্র জাতির বিবেককে নাড়া দেয় এবং রুশ সাহিত্যিক লিও টলস্টয়ের দর্শন স্মরণ করিয়ে দিয়ে পুরো জাতিকে উদ্দীপ্ত ও ঐক্যবদ্ধ করে তোলে।

রুহুল কবির রিজভী দাবি করেন, আবরারের এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে গণপ্রতিরোধ ও আন্দোলনের ভিত তৈরি হয়েছিল, তারই চূড়ান্ত বহির্প্রকাশ ঘটে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের মাধ্যমে। এ সময় ছাত্রদলের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শত নির্যাতন ও আঘাত সহ্য করেও সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব ও আপসহীন ধারা বিসর্জন দেননি। আওয়ামী লীগ চক্রান্তের মাধ্যমে আবরারকে হত্যা করে চরম ভয়ভীতি ছড়াতে চেয়েছিল, কিন্তু সেই ভুল বার্তা উল্টো জনগণের প্রতিরোধের আগুনকে আরও জ্বালিয়ে তুলেছিল। বর্তমানে অবাধ ও মুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশে দেশের জনগণ আবারও জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে তাদের সমর্থন জানাচ্ছে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

/আশিক


পাঁচ-ই লাগবে, নুরের নির্দেশ: ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলায় গ্রেপ্তার ফারুক হোসেন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ২১:০৯:২৩
পাঁচ-ই লাগবে, নুরের নির্দেশ: ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলায় গ্রেপ্তার ফারুক হোসেন
ছবি : সংগৃহীত

‘পাঁচ, পাঁচ–ই লাগবে, এটা ভিপি নুরের নির্দেশ’—এমন একটি অডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ ও ছড়িয়ে পড়ার পর লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত সভাপতি ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (০৫ অক্টোবর) রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

পরদিন মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) বিকেলে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের নাম ভাঙিয়ে অর্থ দাবি ও ১০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। জেলা গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান চৌধুরী বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত ফারুক হোসেন ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, বিদেশগমনে ইচ্ছুক এক ব্যক্তির কাছে পাসপোর্ট, ভিসা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও বিএমইটি কার্ডের সুবিধার্থ প্রাথমিক খরচের কথা বলে প্রতিমন্ত্রী নুরের নাম ভাঙিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন ফারুক, যা পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে কেন্দ্রীয় দলের ভাবমূর্তি চরম ক্ষুণ্ন হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই ফারুক হোসেনকে সংগঠনের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুব অধিকার পরিষদ। এক বিবৃতিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিস্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর পরপরই সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর; তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তাঁর নাম ভাঙিয়ে বা দলের পরিচয় ব্যবহার করে কোনো প্রকার অনৈতিক ধান্দাবাজি বরদাশত করা হবে না এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত ফারুক নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ করেন যে, স্থানীয় একটি চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে পাঁচ হাজার টাকার কথাকে বিকৃত ও কণ্ঠ সম্পাদনা করে এই বিতর্ক তৈরি করেছে।

/আশিক


ছাত্রদলে ছাত্র নেই: সালমান মুক্তাদিরের মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন নাছির উদ্দীন নাছির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ১৯:৩৩:১৫
ছাত্রদলে ছাত্র নেই: সালমান মুক্তাদিরের মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন নাছির উদ্দীন নাছির
ছবি : সংগৃহীত

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সামাজিক মাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের ‘ছাত্রদলে কোনো ছাত্র নেই’ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। সালমান মুক্তাদিরের দেশের ছাত্ররাজনীতির বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নেই উল্লেখ করে বক্তব্যটিকে ভুল পর্যবেক্ষণ বলে দাবি করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় নাছির উদ্দীন নাছির মন্তব্যটির কড়া জবাব দেন। তিনি লেখেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে তরুণ প্রজন্মের একাংশের মধ্যে যে রাজনীতিবিমুখতা সৃষ্টি হয়েছিল, তার প্রভাবেই মূলত এই ধরনের অবাস্তব ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রকৃত বাস্তবতা হলো—বর্তমানে দেশের দুই হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের নিয়মিত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং এসব কমিটির সিংহভাগই নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত।

নাছির আরও উল্লেখ করেন যে, গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলন এবং সম্প্রতি সমাপ্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ওয়াসিম আকরামসহ অসংখ্য নিয়মিত শিক্ষার্থী অকাতরে জীবন দিয়েছেন ও বন্দি অবস্থায় কারাগার থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের এই ঐতিহাসিক ত্যাগ ও সক্রিয় অংশগ্রহণকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন। একই সাথে ভুল ধারণা অবসানের লক্ষ্যে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে এসে সরাসরি ছাত্রদলের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার জন্য সালমান মুক্তাদিরকে প্রকাশ্য আমন্ত্রণ জানান ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।

/আশিক


কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, থানায় এজাহার দিতে গিয়ে অবরুদ্ধ এনসিপি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১৮:৫৯:২১
কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, থানায় এজাহার দিতে গিয়ে অবরুদ্ধ এনসিপি
ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় সাধক লালন শাহের আখড়াবাড়িতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও তাঁর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার জের ধরে থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উক্ত ঘটনায় রোববার রাতে থানায় লিখিত এজাহার জমা দিতে গিয়ে আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে থাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন দলটির কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতাকর্মীরা। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা পুলিশ স্টেশনের চারপাশ ঘেরাও করে তাদের ওপর ‘মব জাস্টিস’ ও হামলার চেষ্টা চালায় বলে দাবি করেছে এনসিপি।

ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি ও সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহা জানান, রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা ১৭ জন নেতাকর্মী হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এজাহার দিতে কুমারখালী থানায় যান। গভীর রাত হওয়ায় স্থানীয় দোকানপাট বন্ধ থাকায় এজাহার টাইপ করতে না পেরে তারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সহায়তা চান। তবে পুলিশ শুরুতে কম্পিউটার ব্যবহারের অনুমতি ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে নানা টালবাহানায় তা নাকচ করে দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপির প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী থাানার ভেতর প্রবেশ করে এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করে এবং অবরুদ্ধ করে রাখে। অবশেষে পুলিশি নিরাপত্তায় রাত ১টার দিকে তারা নিরাপদে কুষ্টিয়া শহরে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

এদিকে এনসিপির অবরুদ্ধ করার এই দাবি ও হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বী। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনার সাথে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জড়িত নন; স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাথে কথাকাটাকাটির জেরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছিল। তবে কোনো সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

অন্যদিকে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন এনসিপি নেতাদের অবরুদ্ধ করার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, থানা প্রাঙ্গণে জামায়াত, বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। মামলা গ্রহণ না করার বিষয়টি নাকচ করে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এনসিপি প্রতিনিধিরা প্রস্তুতকৃত কোনো লিখিত এজাহার জমা দেননি। থানার পক্ষ থেকে মামলা লিখে দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিক ঘটনার বিবরণ বা আসামিদের পরিচয় না জেনে পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারি কম্পিউটারে নিজ দায়িত্বে মামলা লিখে দেওয়ার কোনো আইনগত বিধান নেই। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এনসিপি নেতাদের প্রটোকল দিয়ে শহরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে লালন আখড়াবাড়ি পরিদর্শন ও সংগীত উপভোগ শেষে বের হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে ডিম ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে একদল দুর্বৃত্ত। হামলায় তাঁর সফরসঙ্গী গাড়িটির কাচ ভেঙে যায়। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে থমথমে পরিস্থিতির মাঝে পুলিশি পাহারায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিরাপদে উদ্ধার করে ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠায় স্থানীয় প্রশাসন।

/আশিক


কুষ্টিয়ায় লালন শাহের মাজারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ২০:৪৫:৫২
কুষ্টিয়ায় লালন শাহের মাজারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা
ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহ ও হবিগঞ্জের পর এবার কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়ায় অবস্থিত বাউল সম্রাট লালন শাহের মাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

স্থানী সূত্রে জানা গেছে, লালনের আখড়াবাড়ি পরিদর্শন শেষে বের হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে অবস্থানরত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে ছবি তোলার মুহূর্তে আচমকা তাকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ে মারা হয়। এরপর একদল লোক তাকে ঘিরে ফেলে ধাওয়া করে এবং প্রায় ৩০ মিনিট তিনি অবরুদ্ধ অবস্থায় আটকে থাকেন।

ঘটনাটির তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন এনসিপি নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আবদুল্লাহ। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এটি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর পঞ্চমবারের মতো হামলার ঘটনা। বারবার ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সুপরিকল্পিত হামলা চালিয়ে তার প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অধিকার ও ন্যায়বিচারের যে সামাজিক লড়াই সূচনা হয়েছে, তা কোনো অপশক্তির বাধায় থমকে যাবে না বলে তিনি ব্যক্ত করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ফুটেজে দেখা গেছে, কিছু লোক উত্তেজিত অবস্থায় ‘ধর, ধর’ বলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার সহযোগীদের ধাওয়া করছে। তবে প্রচারিত ওই ভিডিও ও সার্বিক ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক নিরপেক্ষ যাচাই সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ২২ মে জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার সঙ্গীদের ওপর হামলা হয়। পরবর্তীতে ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের স্টাফ কোয়ার্টার, সোনালী ব্যাংক ও সার্কিট হাউস সংলগ্ন স্থানেও তিনি হামলার শিকার হয়েছিলেন।

/আশিক


দলীয় পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা: আখতারুজ্জামানকে নেতা মানতে রাজি নয় জামায়াত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ২১:০৫:২০
দলীয় পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা: আখতারুজ্জামানকে নেতা মানতে রাজি নয় জামায়াত
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের মামলায় গ্রেফতার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে জামায়াতে ইসলামীর 'নেতা' হিসেবে মানতে রাজি নয় দলটি। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আখতারুজ্জামান জামায়াতের কোনো নেতা নন, তিনি কেবল একজন সহযোগী সদস্য। তিনি ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দলটির সহযোগী সদস্য পদ পাওয়ার জন্য প্রাথমিক ফরম পূরণ করেছিলেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে জেলা জামায়াত কার্যালয়ে রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরামের ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে এটিএম আজহারুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রংপুর বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে দেশের সবচেয়ে অবহেলিত অঞ্চল হিসেবে রয়ে গেছে। এই অঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য নিরসনে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ উপস্থাপিত ১৩ দফা দাবি অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ তুলে ধরেন যে, একটি বিশেষ প্রতিবেশী দেশের আপত্তির মুখেই মূলত সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে এটিএম আজহারুল ইসলাম বিএনপির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের ওপর জুলুম-অত্যাচার চালানো হলে আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিকেও একসময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হবে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে সারা দেশে চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এবং বিএনপি ক্ষমতার দাপটে আওয়ামী লীগের অনুসৃত পথই বেছে নিয়েছে।

জামায়াত নেতা আজহারুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না। দেশে অযোগ্য ও দুর্নীতিপরায়ণ নেতৃত্বের কারণেই সামগ্রিক অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং সরকার সংবিধানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্যগণ ছাড়াও রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ এটিএম আজম খানসহ জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারেরই গোপন যোগাযোগ রয়েছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ১৯:৫২:০৬
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারেরই গোপন যোগাযোগ রয়েছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি ত্যাগ করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের কারণে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, একজন তিনবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং দরকার হলে অদক্ষ ও ব্যর্থ কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার নৈতিক অধিকার তাঁর রয়েছে। কিন্তু প্রশাসন ও সরকার বিমানবন্দরের ওই সাধারণ ঘটনাকে কেন্দ্র বানিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে এবং রিমান্ডে এনে মূলত নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ক্ষোভ চরিতার্থ করছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সমাবেশে জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী কিংবা গোপন দল হিসেবে আখ্যায়িত করার সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতকে নিয়ে কটু মন্তব্য করার আগে বিএনপির উচিত আয়নায় নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ভালোভাবে দেখে নেওয়া।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই, বরং বর্তমান সরকারের সঙ্গেই আওয়ামী লীগের গোপন সখ্য ও তলে-তলে যোগাযোগ রয়েছে। আর এই সুযোগ নিয়েই রাজপথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করার সাহস পাচ্ছে। তবে পলাতক ফ্যাসিবাদী শক্তিকে রুখতে এবং জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে সরকার যদি সদয় পদক্ষেপ নেয়, তবে বিরোধী দলগুলো সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

/আশিক


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ ও মামলা নিয়ে এনসিপি নেতার বিস্ফোরক পোস্ট

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ২১:০১:২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ ও মামলা নিয়ে এনসিপি নেতার বিস্ফোরক পোস্ট
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের পুরোনো দুর্নীতি মামলা, মোট সম্পদের পরিমাণ এবং সেই সম্পদের প্রকৃত উৎস নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি সালাহউদ্দিন আহমেদের অর্জিত সম্পদের স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। একই সঙ্গে সরকারের সমালোচকদের ব্যাংক হিসাব তলবের পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি এমপি-মন্ত্রীসহ তাঁদের নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাবও নিয়মিত রাষ্ট্রীয় তদারকির আওতায় আনার আহ্বান জানান।

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, ৮৫ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় ১৯৯৬ সালে চাকরি ত্যাগ করা সালাহউদ্দিন আহমেদের বেতন-ভাতা ছিল অত্যন্ত সীমিত। কিন্তু বিসিএস ক্যাডার থেকে রাজনীতিতে এসে প্রতিমন্ত্রী হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই কীভাবে গুলশানের মতো অভিজাত এলাকায় কোটি টাকার বিলাসবহুল ‘প্ল্যাটিনাম রেসিডেন্স’-এ ফ্ল্যাট ও একাধিক সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব—তা নিয়ে তিনি চরম বিস্ময় প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই দম্পতির ঘোষিত সম্পদ ৬.৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩০ কোটি টাকায় পৌঁছানোর পেছনের বৈধ উৎসেরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুদকের দায়ের করা ঘুষ গ্রহণ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সালাহউদ্দিন আহমেদের সাজা হওয়া এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে খালাস পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতা ও ভিন্নমত দমনে বিএফইউআইসহ রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার না করে, এমপি-মন্ত্রীদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তাঁর নিজের হিসাব তলবের মধ্য দিয়েই এই প্রক্রিয়ার সূচনা করার চ্যালেঞ্জ জানান।

/আশিক


বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ১৯:০৪:৫৫
বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। পুরোনো ছবি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলদের সঙ্গে অসদাচরণ, সরকারি কাজে বাধাদান এবং লাঞ্ছিত করার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সকালে মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের ব্যাগেজ বেল্টে চাপ ও ট্রলি সংকট তৈরি হলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আখতারুজ্জামান তাঁর দিকে ক্ষিপ্ত হয়ে ধেয়ে যান, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি দেন। একই সময়ে তাঁর প্রটোকল সহকারীরা সংরক্ষিত কেপিআই এলাকায় ভিডিও ধারণ করতে গেলে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তা বাধা দিলে তাঁকেও মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। এছাড়া সাধারণ যাত্রীদের জন্য আনা জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলে ক্ষতিসাধন ও বিমান কর্মকর্তাদের প্রতি মারমুখী আচরণ করে বিমানবন্দরে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। ওই ঘটনায় আজ সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় সরকারি কাজে বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, সাবেক এই রাজনীতিকের অতীত ক্যারিয়ারও নানা বিতর্কে ভরা। তিনি এর আগে তাঁর সাবেক দল বিএনপি থেকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনিয়মের দায়ে মোট ৫ বার বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। উস্কানিমূলক আচরণ ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: