ট্রাম্প: ৩ হাজার বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ইহুদি-মুসলিম বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ

গাজা-ইসরায়েলের সংঘাতের অবসান ঘটেছে এবং মধ্যপ্রাচ্য এখন ‘স্বাভাবিক’ অবস্থায় ফিরতে চলেছে বলে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১২ অক্টোবর) ওয়াশিংটন থেকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ইসরায়েল যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “জেনে রাখুন, যুদ্ধ শেষ।”
ঐতিহাসিক চুক্তি ও মধ্যপ্রাচ্যের ঐক্য
ট্রাম্প এই শান্তি চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, ৩ হাজার বছরের মধ্যে এই প্রথম ইহুদি, মুসলিম ও আরব দেশগুলো একসঙ্গে রাস্তায় নেমে আনন্দ উদযাপন করছে। তিনি বলেন, “এই চুক্তির মাধ্যমে একসময়ের কট্টর শত্রুরাও আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। মিশর, সৌদি আরবসহ এ অঞ্চলের শক্তিধর দেশগুলো সবাই এই চুক্তির পক্ষে।”
ট্রাম্প আরও বলেন, এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে, কারণ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা সংঘাতে মানুষ এখন ‘ক্লান্ত’। তিনি জানান, খুব শিগগিরই ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি নতুন আন্তর্জাতিক পর্ষদ গঠিত হবে। সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে তিনি সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের নামও উল্লেখ করেন।
জিম্মি মুক্তি ও পুনর্গঠন
জিম্মি মুক্তি: ইসরায়েলি সরকারের মুখপাত্র সাশা বেড্রোসিয়ান জানান, সোমবার ভোর থেকেই জিম্মিদের মুক্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে। জীবিত ২০ জন জিম্মিকে একসঙ্গে মুক্তি দেওয়া হবে, এরপর বাকি ২৮ জন মৃত জিম্মির দেহ হস্তান্তর করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী, সোমবার দুপুরের মধ্যে হামাসের পক্ষ থেকে সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা।
পুনর্গঠন: ট্রাম্প স্বীকার করেন, গাজার এলাকা এখন ‘ধ্বংসস্তূপে’ পরিণত হয়েছে। পুনর্গঠনের আগে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা অপসারণ এবং মৌলিক সেবা পুনরায় চালুর কাজ শুরু হবে।
নেতানিয়াহুর বার্তা: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, “আগামীকাল একটি নতুন পথের সূচনা—বিনির্মাণের পথ, নিরাময়ের পথ।”
ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাবর্তন
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হাজার হাজার ফিলিস্তিনি গত দুই মাস ধরে ইসরায়েলি হামলার কেন্দ্রে থাকা গাজা সিটির উত্তরে ফিরে আসা শুরু করেছেন। তবে উত্তর গাজায় ফিরে আসা অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা অবিশ্বাস্য ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখেছেন।
৩৭ বছর বয়সী রামি মোহাম্মদ আলি, যিনি পায়ে হেঁটে গাজা সিটিতে ফিরেছেন, বলেন, “যে ধ্বংস আমরা দেখেছি, তা বিশ্বাস করা কঠিন। আমরা গাজায় ফিরে আনন্দিত, কিন্তু এই ধ্বংস দেখে মন তিক্ততায় ভরে গেছে।”
মধ্যপ্রাচ্যে হামলা বাড়ার আশঙ্কা: ১২ দেশে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরান ও দেশটির সমর্থিত মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কায় উপসাগরীয় অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলোতে উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ওমানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলো থেকে আলাদা আলাদা বার্তা প্রকাশ করে নিজ নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আকাশসীমা বন্ধ, আকস্মিক বিমান ফ্লাইট বাতিল এবং সার্বিক যাতায়াত ব্যবস্থায় চরম বিঘ্ন ঘটার মারাত্মক ঝুঁকি সম্পর্কে হুশিয়ার করা হয়েছে।
তুর্কিভিত্তিক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাত দ্রুত সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত এবং এ অঞ্চলে সফরের পরিকল্পনা করা মার্কিন নাগরিকদের আগাম বিকল্প ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ইউএই ও সৌদি আরবের মার্কিন দূতাবাসের বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি রিয়াদসহ সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যাতে প্রাণহানির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলাচলে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। সংঘাতের তীব্রতা অতি দ্রুত আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বিদেশে মার্কিন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে টার্গেট করা হতে পারে বলে ওয়াশিংটন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার জবাবে হুথিরা তেল স্থাপনা ও মূল অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাতের হুমকি দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে রূপ নিয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ার মুখে মার্কিন নাগরিকদের কনস্যুলার অ্যারফেয়ার্স ব্যুরো ও বিমান সংস্থার হালনাগাদ তথ্যের ওপর নজর রাখতে সতর্ক করা হয়েছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
আমাদেরও অসম্পূর্ণ কাজ রয়েছে: ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর নতুন হুমকির কড়া জবাব ইরানের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নতুন হুংকারকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের শঙ্কা তীব্র হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের "খুব শীঘ্রই কাজ শেষ করে দেওয়ার" হুঁশিয়ারি এবং ওয়াশিংটনের সাহায্য ছাড়াই ইসরায়েলের একলা আক্রমণের প্রস্তুতির কথা প্রকাশের পর তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে ভূরাজনৈতিক টানাপড়েন চরম সীমায় পৌঁছেছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো নিজ নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই সামরিক বার্তার কড়া জবাব দিয়েছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যকে লক্ষ্য করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, "আমাদেরও কিছু কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে" এবং ডেনাল্ড ট্রাম্পকে আবারও ভাগ্য পরীক্ষা না করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নিজের রাজনৈতিক সংকট ও কারাদণ্ড এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে জোর করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে টেনে আনার অভিযোগ এনেছেন আরাগচি।
অন্যদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, যেকোনো নতুন আগ্রাসনের ক্ষেত্রে সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ও সামুদ্রিক তথ্যপ্রযুক্তি নেটওয়ার্কে সমন্বিত পাল্টা আঘাত হানা হবে।
সামরিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত থাকলেও আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার টেবিল বজায় থাকবে নাকি দুর্ঘটনাবশত নতুন এক পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা হবে—তা নিয়ে গভীর চিন্তায় রয়েছেন বৈশ্বিক রাজনীতি ও সামরিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ব্লক বা সচল রাখার ওপর বিশ্ববাজারের তেলের সরবরাহ ও বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে দখলকৃত ভূখণ্ড পুড়িয়ে ছাই করার হুমকি আইআরজিসির
ইরানের কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর শত্রুপক্ষ যেকোনো ধরনের হামলা চালালে তার চরম জবাবে দখলকৃত ভূখণ্ডকে পুড়িয়ে চিরতরে ছাই করে দেওয়ার নজিরবিহীন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির পরাক্রমশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিরোধ লড়াইয়ের মুখে দখলদারদের সিনাই মরুভূমিতে উদ্বাস্তু হতে হবে বলেও চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাহিনীটির মুখপাত্র।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাত দিয়ে পার্সটুডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এই বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
বার্তায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহেব্বি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উল্লেখ করেন, ইরানের জাতীয় জ্বালানি কাঠামোর ওপর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত আক্রমণ হলে দেশটির প্রতিভাবান তরুণ বিজ্ঞানীরা অতি দ্রুত তা পুনর্নির্মাণ ও সচল করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু ইরানের ওপর হামলার কোনো দুঃসাহস দেখালে তার পাল্টা জবাবে দখলকৃত সমগ্র অঞ্চলকে পোড়ামাটিতে পরিণত করা হবে এবং শত্রুদের সেখান থেকে পালিয়ে সিনাই মরুভূমিতে গিয়ে আশ্রয় ও উদ্বাস্তু জীবন বেছে নিতে হবে। পরিশেষে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, "বিশ্ব খুব শিগগিরই দেখতে পাবে, প্রকৃতপক্ষে কী ঘটতে যাচ্ছে।"
/আশিক
হরমুজ প্রণালি কি আবার খুলে যাচ্ছে? শর্ত সাপেক্ষে তেহরানের নতুন বার্তা
বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান লাইফলাইন এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে নতুন কূটনৈতিক শর্ত ও টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরাকের বাগদাদে এক ধর্মীয় সম্মেলনে যোগ দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেওয়া শর্ত ও কথা মেনে চললে মাত্র ছয় থেকে সাত দিনের মধ্যেই এই জলপথ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব। গত সেপ্টেম্বরে দুই পক্ষের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ওয়াশিংটনের কাছে এই বিশেষ প্রস্তাব পেশ করেছিল তেহরান।
মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি ওই প্রস্তাবের জবাবে কিছু মতামত পাঠালেও মূল আলোচনা মূলত হোয়াইট হাউসের পূর্বশর্তের কারণে থমকে রয়েছে। ইরানের স্পষ্ট দাবি, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আগে ইরানি বন্দর ও তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত মার্কিন একতরফা অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধ করতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থান থেকে সরে এসে আগে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে গত আট মাস ধরে চলা এই সংকটের অবসান ঘটাতে হলে ইরানকে পারমাণবিক বিষয়ে বড় ছাড় দিতে হবে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের বাণিজ্যিক চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মারাত্মক অস্থিরতা তৈরি করেছে। তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের দাবি মেনে নিলে প্রস্তাবিত ৭ দিনের সময়সীমার মধ্যেই জলপথ সচল করা এবং পরের দিনই বৈঠকে বসা সম্ভব, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই পরাশক্তির অনড় অবস্থানের কারণে অচলাবস্থা কাটেনি।
সূত্র: রয়টার্স
ইউরোপজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষোভ: মিলানে সংঘর্ষ, লিসবনে তাঁবু ফেলে বিক্ষোভ
ফ্রান্স ও স্পেনে শুরু হওয়া জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয় ও আবাসন সংকটের তীব্র ক্ষোভের উত্তাপ এবার দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ইতালি ও পর্তুগালেও। জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী খরচ ও লাগামহীন বাসা ভাড়ার প্রতিবাদে শনিবার ইতালির মিলানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে, অন্যদিকে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে তাঁবু গেড়ে অবরুদ্ধ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন হাজার হাজার ক্ষুব্ধ নাগরিক।
মিলানের রাজপথে শনিবার অনুষ্ঠিত একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা হঠাৎই সহিংস রূপ নেয়, যখন মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারী পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে এবং রাস্তার পাশের বারের টেবিল দিয়ে ব্যারিকেড গড়ে তুলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। দাঙ্গাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও প্রচুর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘লাপ্রেস’-এর তথ্যমতে, এই সংঘর্ষে অন্তত দুজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন এবং অপ্রাপ্তবয়স্কসহ প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই সহিংসতার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেন, "বিক্ষোভ করার অধিকার সবার আছে, কিন্তু শহরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া ও নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
এদিকে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের বিখ্যাত ‘রসিও স্কয়ারে’ তীব্র আবাসন সংকট সমাধানের দাবিতে প্রতীকী তাঁবু শিবির স্থাপন করেছেন আন্দোলনকারীরা। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্তুগালে আবাসন ও বাসা ভাড়া খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১২৪ শতাংশে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গড় বৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ। সরকারের নেওয়া ভাড়ানীতি সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলেছে অভিযোগ তুলে পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রোকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন লিসবনবাসী। পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা মেনে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্টিনিগ্রো জানান, তিনি জনগণের কষ্ট বুঝতে পারছেন, তবে ফ্রান্সের উগ্র বিক্ষোভের মতো কোনো বাহ্যিক শক্তি যেন দেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
/আশিক
পুতিনের পক্ষ নিলে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক ভুল করবে: সতর্ক করলেন জেলেনস্কি
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষ নিলে যুক্তরাষ্ট্র এক চরম ঐতিহাসিক ভুল করবে বলে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই কঠিন বার্তা দিলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিজেদের অন্যতম বড় মিত্র হিসেবেই বিবেচনা করেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসি নিউজের বিখ্যাত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার প্রদানকালে জেলেনস্কি বলেন, "আমরা এখনও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশ্বাস করতে চাই।" ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রপ্রধান আশা প্রকাশ করেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট খুব শিগগিরই তাঁর নেওয়া সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো পরিবর্তন করবেন, কারণ ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ ইউক্রেন বা যুক্তরাষ্ট্র কারও স্বার্থ রক্ষা করবে না। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া রাশিয়াবিরোধী নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সাময়িক ছাড় দিয়েছেন ট্রাম্প, যাকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের অনুকূল বলে উল্লেখ করেন। তা ছাড়া, বিশ্ববাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণে পুতিনের সঙ্গে সমঝোতা করে প্রচুর পরিমাণ রুশ ডিজেল আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়ার পথ সুগম করেছেন ট্রাম্প।
সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় রাশিয়ার ছোড়া প্রাণঘাতী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আগাম সতর্কতা পেতে ব্যর্থ হয় ইউক্রেন। যদিও বর্তমানে গোয়েন্দা সহযোগিতা পুনরায় চালু করা হয়েছে, তবুও ইলন মাস্কের মালিকানাধীন উপগ্রহ যোগাযোগব্যবস্থা ‘স্টারলিংক’ ও ‘স্টারশিল্ড’ ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ এখনো পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়নি।
এর পেছনে ট্রাম্প ও ইলন মাস্ক উভয়ের হাত থাকতে পারে বলে ধারণা জেলেনস্কির। ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার পক্ষ গ্রহণ করলে ইউক্রেনের জন্য টিকি থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে স্বীকার করে নিয়ে জেলেনস্কি জানান, ভুল বোঝাবুঝি অবসানে রোববারের শেষভাগে মার্কিন আলোচকদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলবেন এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রত্যক্ষ বৈঠকে বসার জন্য কিয়েভ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
হুথি হামলার মুখে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত মিশর: প্রেসিডেন্ট সিসি
ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ বাহিনীর ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় যেকোনো প্রয়োজনীয় সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিশর। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে কায়রোর আল-ইত্তিহাদিয়া প্রাসাদে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বৈঠক শেষে মিশরের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জানানো হয়, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলোর সুরক্ষায় কায়রো পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে রিয়াদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংঘাত নিরসনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনা জোরদারের তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি রিয়াদের পক্ষ থেকে সামরিক সমর্থনের সুনির্দিষ্ট অনুরোধ আসলে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে মিশর প্রস্তুত রয়েছে। এ উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট সিসিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় মিশরীয় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন বা প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা অনুমোদনের বিশেষ এখতিয়ার দিতে দেশের পার্লামেন্টে একটি বিশেষ জরুরি অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে।
ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর সৌদি সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে হুথিদের লড়াই নতুন মাত্রা নিয়েছে। সম্প্রতি রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা ‘সৌদি আরামকো’র শোধনাগার লক্ষ্য করে হুথিদের একের পর এক আক্রমণের প্রেক্ষাপটে মিশরীয় প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে সৌদি রাজা সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে যৌথ পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। মূলত লোহিত সাগরের কৌশলগত নৌপথ ও সুয়েজ খালের অর্থনৈতিক রাজস্ব রক্ষা কায়রোর জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে লোহিত সাগরে তেহরান সমর্থিত হুথিদের একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে কায়রো এই প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নিয়েছে, যদিও ইরানের পক্ষ থেকে হুথি হামলায় ইন্ধন জোগানোর অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করা হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
বিশ্ব রাজনীতির দৃশ্যপটে দুই মিত্র দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপড়েন
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে বড় ধরনের টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ বা সীমিত করার হুমকির পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা এবং মস্কো থেকে ডিজেল আমদানির বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের এসব নীতিগত পরিবর্তনে ইউক্রেন শিবিরে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় মার্কিন সাহায্য সংকুচিত হওয়ার পথ উন্মুক্ত করেছে।
জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজার ও অভ্যন্তরীণ উচ্চমূল্যের জন্য ইউক্রেন কর্তৃক রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে চালানো আক্রমণকে আংশিকভাবে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ নিয়ে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির তীব্র সমালোচনাও করেন। জবাবে জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে জানান যে, রাশিয়া অবিরাম আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ায় কিয়েভ তাদের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করবে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ তোলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল অবস্থান গ্রহণ করছে এবং মস্কোর সঙ্গে জ্বালানি চুক্তি স্বাক্ষর ইউক্রেনের সঙ্গে একপ্রকার প্রতারণার শামিল।
এদিকে ওয়াশিংটনের নতুন পদক্ষেপের কারণে কিয়েভের সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে মার্কিন উপগ্রহভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা 'স্টারশিল্ড' নেটওয়ার্কে হঠাৎ বিধিনিষেধ ও ধীরগতি তৈরি হওয়ায় এবং গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ সীমিত করার আশঙ্কায় কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষা ও ড্রোন কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ড্যানিয়েল ফ্রিডের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ন করে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াবে। তবে সব উত্তেজনার মধ্যেও ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কের সুতা টিকিয়ে রাখতে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কিয়েভের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
সূত্র: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে প্রবাসীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনি বিতর্ক
মসজিদে ‘অনৈতিক’ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাঁদের পরিবার কিংবা বাংলাদেশ দূতাবাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানানোয় দেশটি কূটনৈতিক ও কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ‘ভিয়েনা সনদ’ লঙ্ঘন করেছে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক ও আইনি বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ইতিমধ্যে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ও ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
জেদ্দায় বাংলাদেশ দূতাবাসের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে ওই দুই বাংলাদেশির আটক, বিচারিক প্রক্রিয়া কিংবা চরম দণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কতৃপক্ষ পূর্বাহ্নে দূতাবাসকে কোনো তথ্য জানায়নি। বিষয়টি তারা প্রথম জানতে পারে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যমের সংবাদের মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক কনস্যুলার আইন (ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদ) অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক অন্য কোনো দেশে আটক বা অভিযুক্ত হলে তাঁকে কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার অধিকার সম্পর্কে অবহিত করা এবং তাঁর সম্মতিক্রমে নিজ দেশের দূতাবাসকে অবিলম্বে জানানোর সুস্পষ্ট নিয়ম রয়েছে। তবে সৌদি আরব তাঁদের অভ্যন্তরীণ শরিয়াহ বিচারব্যবস্থার আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাংলাদেশকে আগে থেকে অবহিত করার বিষয়ে তাঁরা কতটা বাধ্য ছিল, তা নিয়ে কূটনৈতিকদের মধ্যে কিছুটা দ্বিমত রয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবিরের মতে, বিচার কার্যক্রম সৌদি আরবের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামোর অধীনে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো তাদের জন্য বাধ্যতামূলক নাও হতে পারে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তাঁরা জবাব দিতে পারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ড. রায়হান রশীদ মনে করেন, দীর্ঘ বিচারিক ও আপিল প্রক্রিয়া শেষে যেহেতু রাজকীয় আদেশে এই রায় কার্যকর হয়েছে, সেহেতু এটি এক দিনে ঘটা বিষয় নয়। ফলে দূতাবাস বা ভিকটিম পরিবারকে বারবার কনস্যুলার সুবিধার কথা অবহিত করা সৌদি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল এবং এ ক্ষেত্রে বিষয়টি দূতাবাসের নজর এড়ানো বা না জানতে পারাটাও একটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন তৈরি করে।
উল্লেখ্য, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের বরাতে জানা যায়, মক্কার একটি মসজিদে পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করে অশালীন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সৌদি পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে শরিয়াহ আইনের ‘তাআজির’ (বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তি) বিধানে বিচারিক আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন, যা পরবর্তীতে উচ্চতর আদালত ও রাজকীয় নির্দেশে বহাল থেকে গত বুধবারে কার্যকর করা হয়। বর্তমানে তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে নাকি সৌদি আরবেই দাফন করা হবে—তা নিয়ে প্রক্রিয়াগত জটিলতা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
পাঠকের মতামত:
- প্রবাসে এক যুবকের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি ঘিরে গ্রামের বাড়িতে শোক ও চরম হাহাকার
- বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার ফিরিয়ে আনা শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আগামীকাল উত্তরাঞ্চল ও বন্দরনগরী চষে বেড়াবেন দেশের প্রধান নির্বাহী
- আগামীকাল উত্তরাঞ্চল ও বন্দরনগরী চষে বেড়াবেন দেশের প্রধান নির্বাহী
- জ্বালানি খাতই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, দ্রুত স্থিতিশীলতার আশ্বাস অর্থমন্ত্রী আমির খসরুর
- ওমানে ইতিহাস গড়া ম্যাচ: আফগানিস্তান যুব দলের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ড্র বাংলাদেশের
- মধ্যপ্রাচ্যে হামলা বাড়ার আশঙ্কা: ১২ দেশে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি যুক্তরাষ্ট্রের
- আমাদেরও অসম্পূর্ণ কাজ রয়েছে: ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর নতুন হুমকির কড়া জবাব ইরানের
- বলিউডের জনপ্রিয় তারকার ওপর হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ও বড় ধরনের সাফল্য
- বিশ্বজুড়ে সংঘাতের মাঝে বাংলাদেশে সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত দুর্গাপূজা: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে ভিসামুক্ত ভ্রমণ: ৩৫টি দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা
- গেমিং দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আসর বসতে চলেছে আগামী মাসেই
- স্থানীয় সরকারের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন
- সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে অর্থ বিভাগের অতি জরুরি প্রজ্ঞাপন
- আন্তর্জাতিক ত্রিদেশীয় ক্রিকেটে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নজিরবিহীন সমীকরণের মুখে জাতীয় দল
- সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও পবিত্র স্থানের সুরক্ষায় আপস নয়: পাকিস্তান সেনাবাহিনী
- ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও নিরাপদ উপাসনা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব: সালাহউদ্দিন আহমদ
- জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে দখলকৃত ভূখণ্ড পুড়িয়ে ছাই করার হুমকি আইআরজিসির
- বিশ্ব অর্থনীতির নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে গতিশীল মূল্যবান ধাতুর বাজার
- প্রশাসনিক দায়িত্ব ছাড়লেও সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার ঘোষণা শীর্ষ নেতার
- প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- হরমুজ প্রণালি কি আবার খুলে যাচ্ছে? শর্ত সাপেক্ষে তেহরানের নতুন বার্তা
- অক্টোবরের বাকি দিনগুলোতে রাতের আকাশে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি ও হান্টার্স মুনের মেলা
- ইউরোপজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষোভ: মিলানে সংঘর্ষ, লিসবনে তাঁবু ফেলে বিক্ষোভ
- পুতিনের পক্ষ নিলে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক ভুল করবে: সতর্ক করলেন জেলেনস্কি
- সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান, প্রকাশ্যে নতুন ডিজিটাল টুলস
- রাজধানী ঢাকার প্রশাসনিক মানচিত্রে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের বড় সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায়
- মেধা বিকাশে নতুন উদ্যোগ: এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ দেবে সরকার
- মিথ্যা তথ্য দিয়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে সাইমা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট
- হুথি হামলার মুখে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত মিশর: প্রেসিডেন্ট সিসি
- এআই ভুয়া আইডি ও গুজব রুখতে সাধারণদের জন্য বিনামূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ আনছে ফেসবুক
- জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে বিএনপি: জামায়াত আমির
- বাংলাদেশে ৩৯০ কোটি টাকার অনুদান ও নতুন বিনিয়োগ ঘোষণা করল কানাডা
- পাকিস্তানে প্রতি ৩ জন প্রাপ্তবয়স্কের ১ জন মানসিক রোগে আক্রান্ত: ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল
- আওয়ামী লীগকে জামায়াতই মাফ করে দিতে চেয়েছিল, বিএনপি নয়: রুহুল কবির রিজভী
- বিশ্ব রাজনীতির দৃশ্যপটে দুই মিত্র দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপড়েন
- তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার সতর্কবার্তা
- সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে অনিশ্চয়তা ও দরপতন
- এক হাতে পিস্তল ও অন্য হাতে মাইক নিয়ে ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী ধাওয়া
- সংযুক্ত আরব আমিরাতে আন্তর্জাতিক সিরিজের প্রথম ম্যাচে টানটান উত্তেজনা
- প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ৩ দফা দাবি জানাল জাতীয় নাগরিক পার্টি
- মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে প্রবাসীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনি বিতর্ক
- ইসরায়েলের সহায়তা প্রস্তাব সৌদি আরবের নেওয়া উচিত: ডোনাল্ড ট্রাম্প
- দিল্লিতে নতুন মুচলেকায় স্বাক্ষর করে শর্তসাপেক্ষ জামিন পেলেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে
- বিদেশের ঘরোয়া লিগে বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডারের নতুন গন্তব্য
- ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, সংবিধান প্রদত্ত অধিকার রক্ষা করতে হবে: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুতে বড় ধরনের ধাক্কা খেল টাইগাররা
- ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- মহাকাশে সবুজ ও গোলাপি রঙের ব্যতিক্রমী শ্বেত বামন নক্ষত্রের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা
- ২০২৭ সালে কবে শুরু রোজা? সম্ভাব্য তারিখ জানাল আমিরাত
- জনমতের আশঙ্কায় ইসরায়েলি সহায়তা নিতে নারাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
- বোলারদের ব্যর্থতা ও ক্যাচ মিসে জয় হাতছাড়া নাজমুল হোসেন শান্তদের
- নেপালি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণে নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা
- হামলার পূর্বভাস কেন দেওয়া হলো না? সৌদি সরকারের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন
- আত্মপ্রকাশের দুই বছরে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি
- বৈশ্বিক এক মঞ্চে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন রূপরেখা তুলে ধরল ঢাকা
- আসন্ন আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের আগে বাংলাদেশ শিবির নিয়ে বড় আপডেট
- রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপদ আশ্রয়ের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা
- বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় সেশনে কমল স্বর্ণের দাম
- জেএফকে বিমানবন্দরে হেনস্তার পর ড. ইউনূসকে নিয়ে বড় আপডেট দিলেন লামিয়া মোর্শেদ
- বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা ও সহিংসতার বিচার চেয়ে সাদপন্থিদের ৬ দফা দাবি
- টিকটকের মোহে নতুন জীবনের খোঁজে ঘর ছেড়েছিল চার স্কুলছাত্রী
- আর কখনো ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে চুয়েট ছাড়লেন নতুন উপাচার্য
- সৌদি আরবে হামলায় ইরাকি ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী








