কোথায় হচ্ছে আগামী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন? সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত!

বাংলাদেশের আগামী প্রধানমন্ত্রী থাকবেন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার ভেতরেই। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের জন্য নির্ধারিত পাশাপাশি অবস্থিত দুটি আবাসিক ভবন একীভূত করে সেখানে গড়ে তোলা হবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন। ভবন দুটির মাঝে সরাসরি যাতায়াতের জন্য নির্মাণ করা হবে দুই স্তরবিশিষ্ট একটি আধুনিক করিডর। সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই এ–সংক্রান্ত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে।
গণভবন, যা দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, এখন আর সেই ভূমিকায় নেই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে এবং বিক্ষুব্ধ জনতা গণভবনে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এক মাসের মাথায় অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে ঐতিহাসিক গণভবনকে রূপান্তর করা হয় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ, যেখানে এক দশকের বেশি সময়ের গুম-খুন, ভোট ডাকাতি, শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ, পিলখানা ট্র্যাজেডি ও দমননীতির দলিল সংরক্ষণ করা হবে। আগামী নভেম্বরে এই জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বসবাস করছেন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়। তবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রীর নতুন সরকারি বাসভবন প্রয়োজন হবে—এই বিষয়টি মাথায় রেখে গত জুলাইয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে সরকার। প্রথমে যমুনা ভবন এবং হেয়ার রোডের বাংলোগুলো বিবেচনায় আনা হলেও শেষ পর্যন্ত সংসদ ভবন চত্বরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনকে একীভূত করার প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়।
গত সপ্তাহে গৃহায়ণ ও গণপূর্তসচিব নজরুল ইসলাম, সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা, এসএসএফ মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুব উস সামাদ, প্রধান উপদেষ্টার সামরিক সচিবসহ উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদল বাসভবন দুটি পরিদর্শন করেন। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও এলাকায় কয়েক দফা পরিদর্শন চালান।
দুটি বাসভবনই লাল ইটের দোতলা স্থাপনা, দক্ষিণমুখী এবং চারদিকে সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘেরা। সামনে বাগান ও খোলা জায়গা থাকায় নিরাপত্তা ও প্রটোকল মেনে এগুলোকে আধুনিক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে রূপান্তর করতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। শুধু করিডর, নিরাপত্তা অবকাঠামো ও কিছু সংস্কারকাজ করলেই ব্যবহারের উপযোগী হবে বলে কর্মকর্তাদের মত।
তবে এই পরিকল্পনাকে ঘিরে নতুন বিতর্কও রয়েছে। বিখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের নকশায় জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্সে এ ধরনের আবাসিক ভবনের স্থান ছিল না। ২০০২ সালে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে এগুলো নির্মাণ শুরু হয়, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও স্থপতিদের সংগঠন আদালতে রিটও করে। ২০০৪ সালে হাইকোর্ট নির্মাণকে অবৈধ ঘোষণা করলেও ২০২২ সালে আপিল বিভাগ সেই রায় বাতিল করে। ফলে বর্তমানে ভবন দুটি আইনি বৈধতা পেয়েছে।
বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ বলেন, “জাতীয় সংসদ ভবন বিশ্বে আধুনিক স্থাপত্যশৈলির সেরা নিদর্শনগুলোর একটি। এর মূল নকশা ভঙ্গ করে কিছু করা হলে স্থাপত্যের ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা চাই এই স্থাপত্যকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক, তাহলে ব্যত্যয়গুলো ঠেকানো সহজ হবে।”
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময় গণভবন নির্মিত হলেও তিনি সেখানে থাকেননি। এরশাদের আমলে গণভবনকে ‘করতোয়া’ নামে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন করা হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে সেটিকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করে। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কখনো গণভবনে ওঠেননি। শেখ হাসিনা ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সেখানে ছিলেন।
গণভবন আজ ইতিহাস হয়ে উঠলেও নতুন বাসভবন নিয়ে প্রস্তুতি জোরদার। সংসদ ভবন এলাকার ভেতরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন স্থাপন শুধু নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সুবিধার জন্যই নয়, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে। সরকার-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংস্কারের কাজ শেষ হলে প্রয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাও সেখানে বসবাস করতে পারবেন।
প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমেই শেখ হাসিনাকে ফেরানো সম্ভব, আশাবাদী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠাতে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, বিচার প্রক্রিয়া তরান্বিত করতে ভারত সরকার এই প্রত্যর্পণ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার দিকে নজর দেবে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে এক সৌজন্য আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও অভিযুক্তদের ফেরত আনার জন্য দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে কেবল আইনি মারপ্যাঁচ বা দীর্ঘসূত্রী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর না করে এই আইনি ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নে নয়াদিল্লির ইতিবাচক রাজনৈতিক ইচ্ছাও অত্যন্ত জরুরি।
দ্বিপক্ষীয় চুক্তি প্রয়োগ করে শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দৃঢ়তার সাথে নিশ্চিত করেন যে, সুনির্দিষ্ট চুক্তি ও আইনি কাঠামোর আওতায় যেকোনো আসামিকে ফেরত আনা সম্ভব এবং বাংলাদেশ সরকার সেই পথেই দৃঢ়ভাবে এগোচ্ছে।
প্রসঙ্গক্রমে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিশ্ব সফরের ব্যস্ততার চিত্র তুলে ধরে শামা ওবায়েদ জানান, বিগত ছয় মাসে সরকারপ্রধান অত্যন্ত ঘনঘটাপূর্ণ সময় পার করেছেন। চীন ও মালয়েশিয়াতে সফর সম্পন্ন করার পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও তিনি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনায় দেশের স্বার্থ তুলে ধরে দেশে ফিরেছেন।
/আশিক
প্রতিটি জেলা ও সিটি কর্পোরেশনে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং জলবায়ু-সহনশীল, নিরাপদ ও টেকসই নগর অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রত্যয়ে দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় সমন্বিত 'মাস্টারপ্ল্যান' প্রণয়নের বিশাল উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের সকল নাগরিকের জন্য পর্যাপ্ত, পরিবেশসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি টেকসই সুষম নগর উন্নয়নই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি নীতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যক্ত করেন। ১৯৮৬ সাল থেকে প্রতি বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ বছর ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন’ প্রত্যয় নিয়ে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে দিবসটি।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দিন দিন বাড়তে থাকা আবাসন চাহিদার নিরিখে এবারের প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান শহরগুলো দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানজট, পরিবেশ দূষণ, নাগরিক সেবার ঘাটতি ও জলবায়ুজনিত অভিবাসনের ফলে যেসব জটিল চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে—তা নিরসনে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি জোরদার করার রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের কাজ চলছে, যা জাতিসংঘ নির্ধারিত 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-১১' অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারের দৃষ্টিতে 'সবার জন্য বাসস্থান' কেবল একটি ঘরের সংস্থান নয়; বরং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নাগরিক সুবিধার সমন্বিত অধিকার।
বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার ও বস্তিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিতকরণ, বস্তিবাসী মানুষের নিজস্ব আবাসনের মালিকানা লাভের সুযোগ সৃষ্টি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। টেকসই ও বাসযোগ্য মানবিক বাংলাদেশ গঠনে বেসরকারি বিনিয়োগকারী, এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬-এর সাফল্য কামনা করেন।
/আশিক
তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী মেগা প্রকল্পের সিদ্ধান্ত
দেশের বিশাল তরুণ সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আগামী ডিসেম্বরে দেশজুড়ে 'এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ'-এর প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। বিএনপির রাজনৈতিক ইশতেহার ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে গৃহীত এই পদক্ষেপে তরুণদের মেধার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটিয়ে শ্রমবাজারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই পরিকল্পনার কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, দেশের বিশাল ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা তরুণ জনমিতির সুফল পুরোপুরি কাজে লাগাতে আগামী ডিসেম্বরে রাজধানী ঢাকা থেকে এই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ এবং ক্যারিয়ার ফেয়ারের প্রাথমিক রূপরেখা উন্মোচন করা হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম দেশের বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তারুণ্যের সঠিক ক্ষমতায়ন ও মেধার পূর্ণ বিকাশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা অত্যন্ত জরুরি। বিগত ছয় মাস ধরে একাডেমিয়া, শিল্প খাত, সরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পরেই এই সর্বসম্মত পলিসি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মূল রূপরেখা ব্যাখ্যা করে মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, এই প্ল্যাটফর্মের মূল কাজ হবে দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা ও যোগানের মাঝে একটি শক্তিশালী মেলবন্ধন তৈরি করা। নতুন স্নাতক উত্তীর্ণদের পাশাপাশি প্রথাগত শিক্ষার বাইরে থাকা যুবসমাজকে সরাসরি কাজের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করাই এর প্রধান লক্ষ্য। এর অধীনে একটি সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে, যেখানে একদিকে চাকরিপ্রার্থী তরুণের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষিত থাকবে, অন্যদিকে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদের হিসাব আপডেট থাকবে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার মানসিক দূরত্ব দূর করতে জেলা পর্যায়ে নিয়মিত 'ক্যারিয়ার ফেয়ার' আয়োজন করা হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থীদের সিভি তৈরি, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং চাকরির সাক্ষাৎকার মোকাবিলার উপযোগী প্রশিক্ষণ সুবিধা সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ 'এমপ্লয়মেন্ট ওরিয়েন্টেড ইকোসিস্টেম' গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া যেসব তরুণ বিদেশে কর্মসংস্থান চান, তাদের এই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের পর প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) সাথে যুক্ত করে দেওয়া হবে।
বিগত ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট ও পোশাকশিল্প খাতের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, নানা অপপ্রচারের কথা উঠলেও মূলত বাস্তবে কারখানা বন্ধের সংখ্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ক্ষতি পোষাতে নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং ইতিপূর্বে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালুর মাধ্যমে নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় এই প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানান।
তরুণদের বেকার ভাতার বিষয়ে তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো তরুণদের ভাতা নির্ভর না করে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনায় বেকার ভাতার বিষয়টিও নীতিগতভাবে গুরুত্বের সাথে ভাবা হতে পারে। উক্ত সংবাদ ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
পূর্ণ ক্ষমতায় রামপালের দুই ইউনিট, জাতীয় গ্রিডে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ
বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে যৌথভাবে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা সরাসরি জাতীয় পাওয়ার গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
শনিবার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম এই সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রযুক্তিগত সাময়িক জটিলতার কারণে উৎপাদন সাময়িকভাবে থমকে গেলেও বর্তমানে উভয় ইউনিট থেকেই নিরবচ্ছিন্নভাবে পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হয়েছে।
উৎপাদনের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে বর্তমানে ৬৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৬৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়ে সরাসরি জাতীয় গ্রিডে জমা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক যৌথ অংশীদারিত্বে ২০১০ সালে এই বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি) মধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির আইনি বাধ্যবাধকতার অধীনে যৌথ মালিকানাধীন ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড’ (বিআইএফপিসিএল) গঠিত হয়।
/আশিক
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তাই এখন নতুন স্বাভাবিক: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পেক্ষাপটে অনিয়ম ও অনিশ্চয়তাই এখন নতুন স্বাভাবিক অবস্থা হিসেবে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্থর প্রবৃদ্ধি, ঋণের অনাকাঙ্ক্ষিত উচ্চ ব্যয় এবং বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক সংরক্ষণবাদের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে নিখুঁত ও তথ্যনির্ভর নীতি নির্ধারণই হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) অর্থনীতি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় এবং জুনিয়র ইকোনমিস্টস ফোরামের (জেইএফ) উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি প্রতিযোগিতা ‘ইকনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু নিশ্চিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, যেকোনো কার্যকর নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত সমাধান এবং তথ্যের সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রতিনিয়ত নানাবিধ অপ্রাক্কলিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে সীমাবদ্ধ তথ্যের ওপর নির্ভর করেই সরকারকে অত্যন্ত সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
এ সময় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২২৪টি দল ‘ইকনথন ২০২৬’-এ অংশগ্রহণ করায় আনন্দ প্রকাশ করে তিনি কুইজ, কেস সলভিং ও পলিসি মেকিংভিত্তিক প্রতিযোগিতার কঠিন ধাপগুলো পার হয়ে চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছানো শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বর্তমান অর্থনৈতিক চালচিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রবল চাপ, জলবায়ু পরিবর্তনের নানামুখী নেতিবাচক প্রভাব এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করতে হলে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখার পাশাপাশি বিদ্যমান কর ব্যবস্থার দ্রুত আধুনিকায়ন প্রয়োজন।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, সাধারণ জনগণের কষ্টার্জিত করের প্রতিটি টাকার শতভাগ স্বচ্ছতা ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অর্থমন্ত্রী পরামর্শ দিয়ে বলেন, সঠিক দক্ষতা ছাড়া কোনো জাতি বেশিদূর এগোতে পারে না, আর সততা ও মানবিক মূল্যবোধ ছাড়া সেই অর্জিত দক্ষতা কখনো সমাজকে সঠিক পথের দিশা দেখাতে পারে না। অর্থনীতি কেবল ক্লাসরুমের পরীক্ষা পাসের বিষয় নয়, বরং এটিকে গভীরভাবে অনুধাবন করে নীতি ও সততার সাথে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
ইউআইইউর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আবুল কাশেম মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা হাসান মাহমুদ রাজা এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও ইউনাইটেড গ্রুপের উপদেষ্টা কে এম এ শামীম। সমাপনী পর্বে অর্থমন্ত্রী বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন।
/আশিক
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে মানবিক প্রয়াসে শীর্ষ নেতৃত্বের সহধর্মিণীরা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি নিউইয়র্কে এক মানবিক প্রয়াসের চিত্র দেখা গেছে। অধিবেশনের ব্যস্ততার মাঝে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সহধর্মিণীদের নিয়ে এক বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।
এই অনুষ্ঠানে মেলানিয়া ট্রাম্প তার নতুন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। বিশ্বজুড়ে শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য, যার মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মেধা ও সুপ্ত সম্ভাবনাকে বিকশিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং তাদের মধ্যে আন্তরিক কুশল বিনিময় হয়। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই বিশেষ মুহূর্তের একটি আলোকচিত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ পৃথিবী গড়ে তুলতে শিশুদের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের শিশুরা যেন তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সমান সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যে তিনি উপস্থিত সকল ফার্স্ট লেডিদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
মার্কিন ফার্স্ট লেডির এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সহধর্মিণীদের এই উদ্যোগ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা ও সাধুবাদ দেখা যাচ্ছে।
/আশিক
ট্রাম্পের নৈশভোজের বিশেষ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজের একটি আলোকচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উন্মুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তার নিজস্ব ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজে এই আলোকচিত্রটি পোস্ট করেন।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগ দিতে আসা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে এই নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত সেই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
‘আমরা শেখ হাসিনাকে নিয়ে যাইনি’: ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর স্পষ্ট বক্তব্য
ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ও বাস্তব প্রেক্ষাপট নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভার্সেশন ২০২৬’-এর একটি বিশেষ সেশনে এক শিক্ষার্থীর করা প্রশ্নের জবাবে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার নানা বিষয় তুলে ধরেন তিনি।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিউপি) শিক্ষার্থী ইফতেখার সম্পূর্ণ জাতির হয়ে ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের নির্দিষ্ট সময়সীমা জানতে চান। জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী হালকা রসিকতার ছলে ইতিবাচক মন্তব্য করে জানান, হস্তান্তর প্রক্রিয়ার পেছনে একটি নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ আইনি পদ্ধতি রয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করেই বিষয়টি এগোচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনাকে ভারতের সামরিক বাহিনী বা বিমানবাহিনী নিয়ে যায়নি, বরং বাংলাদেশের তৎকালীন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও ট্র্যাজিক ঘটনার পর বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এয়ারক্রাফটেই তিনি ভারতে পৌঁছান।
তৎকালীন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে মানবিক ও ঐতিহাসিক কারণে ভারত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। ভারতে এবং বাংলাদেশে উভয় স্থানেই কার্যকর ও স্বাধীন গণতন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, নির্দিষ্ট আইনি পদ্ধতির মাধ্যমেই পুরো বিষয়ের নিষ্পত্তি হবে এবং সেই আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
/আশিক
৩ মাসের মধ্যে দেশ থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাতের ঘোষণা চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির
আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশ থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। কিশোরদের পথভ্রষ্টতা ও অপরাধ থেকে ফিরিয়ে লেখাপড়া এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এক ছায়া সংসদ বিতর্কে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, কিশোর গ্যাং কালচারের পেছনে যারা মদদদাতা বা তথাকথিত ‘বড় ভাই’ হিসেবে পৃষ্ঠপোষকতা জোগায়, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধীর ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্ষমতার রদবদলের সুযোগে অপরাধীরা রাজনৈতিক পরিচয় বদলে অপরাধ করার চেষ্টা করে, যা রোধে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ঢালাওভাবে সরকারের ওপর দায় না চাপিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি কিশোরদের হাতে অস্ত্রের বদলে বই এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবটিকসের মতো আধুনিক প্রযুক্তি তুলে দেওয়ার তাগিদ দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি কিশোর অপরাধ রোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়ে সামাজিক আন্দোলনই অধিক কার্যকর’ শীর্ষক এই ছায়া সংসদে সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিতার্কিক দল বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- বয়স বাড়ার সাথে পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোন হ্রাস: চেনার ৯টি লক্ষণ
- যুদ্ধ থামানোর নতুন কৌশল? মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়ীদের নজর রাশিয়ার লুকঅয়েলে
- দক্ষতা উন্নয়নে সেনাবাহিনী কর্তৃক নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে দর্জি প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন
- বিইআরসির নতুন দর: আজ সন্ধ্যা থেকেই অটোগ্যাস ও এলপিজি সিলিন্ডারের দামে বড় লাফ
- ওয়াশিংটনের খবরকে মিথ্যা আখ্যা দিল তেহরান, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন আরাগচির
- কুষ্টিয়ায় লালন শাহের মাজারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা
- বয়স বাড়লেই বাড়ে ঝুঁকি, জেনে নিন প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মূল কারণ ও প্রতিকার
- সপ্তাহজুড়ে ধারাবাহিক ওঠানামার পর স্বর্ণের বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী
- মোস্তাফিজের বাজে ওভার ও অদ্ভুত কৌশলগত ভুলে ক্ষুব্ধ ক্রিকেট অঙ্গন
- প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমেই শেখ হাসিনাকে ফেরানো সম্ভব, আশাবাদী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- আশ্বিনের আবহাওয়ায় নতুন বদল, চার দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জারি
- মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি তে যোগ দিতে চায় ৬টিরও বেশি দেশ, জানালেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- নতুন স্যাটেলাইটের নির্মাণ শেষ করে মহাকাশ বিজ্ঞানে তেহরানের বড় সাফল্য
- প্রতিটি জেলা ও সিটি কর্পোরেশনে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী মেগা প্রকল্পের সিদ্ধান্ত
- শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কড়া বার্তা
- আবারও বাড়ল এলপিজির দাম, নতুন দর ঘোষণা করল বিইআরসি
- পূর্ণ ক্ষমতায় রামপালের দুই ইউনিট, জাতীয় গ্রিডে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ
- ডিজিটাল হচ্ছে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন
- দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি দুই সামরিক যানের সংঘর্ষ
- মহাকাশ থেকে ভেসে এলো নতুন সংকেত: বহির্বিশ্বের গ্রহ থেকে প্রথম রেডিও তরঙ্গ শনাক্ত
- দক্ষিণ এশিয়ার মাটিতে বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা
- বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তাই এখন নতুন স্বাভাবিক: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
- ইসলামাবাদ লং মার্চ বাতিল ও ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে সরগরম পাকিস্তান রাজনীতি
- দলীয় পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা: আখতারুজ্জামানকে নেতা মানতে রাজি নয় জামায়াত
- শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরার বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া প্রকাশ
- বয়স কেবল সংখ্যা মাত্র, বৈশ্বিক মঞ্চে ফের চমক প্রবীণ অভিনেত্রীর
- আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারেরই গোপন যোগাযোগ রয়েছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
- চ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি
- ফুটবলের নতুন ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত কলকাতার ক্রীড়াঙ্গন
- একদিনেই ৬১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি: ফের ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ইলন মাস্ক
- দিল্লিতে ফের বড় ধরনের রাজনৈতিক উত্তাপ ও বিক্ষোভ
- জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে মানবিক প্রয়াসে শীর্ষ নেতৃত্বের সহধর্মিণীরা
- ট্রাম্পের নৈশভোজের বিশেষ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আমি সবসময় এরদোয়ানকে খুশি রাখব: নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
- ‘আমরা শেখ হাসিনাকে নিয়ে যাইনি’: ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর স্পষ্ট বক্তব্য
- বিশ্বজুড়ে ডিজেলের চরম সংকটের আশঙ্কা, বৈশ্বিক সরবরাহ ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের তড়িঘড়ি
- প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে তোলপাড় দিল্লি, যন্তর মন্তরে বন্ধ ইন্টারনেট
- পরমাণু অস্ত্রসহ সব ধরণের অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি পুতিনের
- ফেডের সিদ্ধান্তের আগে ডলারের সূচকে পতন, স্বর্ণের বাজারে নতুন মোড়
- ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে ৩৫ যাত্রীকে রক্ষা, প্রাণ গেল চালকের
- লন্ডনে সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের উপস্থিতিতে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময়
- খানাখন্দে ভরা সড়কের দিন শেষ: এমপি হাসনাত আবদুল্লাহর বরাদ্দে পাকা হচ্ছে ইউছুফপুর সড়ক
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ ও মামলা নিয়ে এনসিপি নেতার বিস্ফোরক পোস্ট
- ১৪তম ওয়ানডে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ও ভেন্যু ঘোষণা
- মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে ইয়েমেনে নতুন করে বিমান হামলা শুরু
- 'বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ ঠান্ডা মাথায় ভালো': রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার পর বোনের বিস্ফোরক মন্তব্য
- শপথ নেওয়ার পরের দিনগুলোর বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন ড. আসিফ নজরুল
- ৯টি প্রাকৃতিক সীমানার ৭টিই অতিক্রম করেছে মানুষ, ধেয়ে আসছে অপূরণীয় পরিবেশ বিপর্যয়
- ৩ মাসের মধ্যে দেশ থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাতের ঘোষণা চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির
- জনপ্রীয়তায় শীর্ষে ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বিশ্বাস
- পৈতৃক জমির ওপর পিচঢালাই রাস্তার আশঙ্কায় আইনি নোটিশ, যৌথ ভূ-জরিপের দাবি
- এশিয়ান গেমসের নকআউট পর্বের আগে বড় ধাক্কা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে
- চীনের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
- জাতীয় নাগরিক পার্টির বড় সিদ্ধান্ত: নতুন জাতীয় দায়িত্বে সারজিস আলম
- শেষ হলো ভোট গ্রহণ, ব্যালন ডি'অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যারা
- প্রবীণদের বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি ও ফ্যামিলি কার্ডে সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- 'ছাত্ররা নামলেই গুলি করে মারা হবে' ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলেন জুলাইযোদ্ধা
- এশিয়ান গেমসে বৃষ্টির থাবা, সেমিফাইনালের আগে নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ
- আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আমদানির নতুন সংকট: বিশেষ প্রতিবেদন
- বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূলে নিম্নচাপ: জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের নতুন পাঁচ দিনের তথ্য
- আমরা তেল রফতানি করতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যের কেউ বিক্রি করতে পারবে না: ইরান
- টানা ৭ দিনের ছুটি পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা, সরকারি চাকরিজীবীদের ৫ দিন
- বিয়ে সাড়ে চার মাসের মাথায় বিয়োগান্তক পরিণতি: কড়া বিচারে কারাগারে গাজী নজরুল
- ইরানে আর কখনো বিদেশি আধিপত্য ফিরবে না, আরব সাগর থেকেও তাড়ানো হবে শত্রুদের: খামেনি








