সবজির পর এবার অন্য যেসব খাতে আগুন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১১:৩৪:১০
সবজির পর এবার অন্য যেসব খাতে আগুন
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই সবজির দাম চড়া অবস্থায় থাকলেও নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে আটা, ময়দা ও মসুর ডালের মতো মুদি পণ্যের দাম। এর পাশাপাশি মুরগি, ডিম ও পেঁয়াজের উচ্চমূল্যও ভোক্তাদের কষ্ট আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, কয়েকদিনের মধ্যেই খুচরা পর্যায়ে আলুর দামও বাড়তে পারে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়— তিন-চার দিন আগেও কোম্পানিভেদে এক কেজি প্যাকেটজাত আটা ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। খোলা আটার দামও কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে বর্তমানে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ময়দার দাম কোম্পানিভেদে কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়ে এখন ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় পৌঁছেছে। খোলা ময়দার দামও বেড়ে কেজিতে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা হয়েছে।

ভালো মানের মসুর ডাল যেখানে এক সপ্তাহ আগে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় উঠেছে। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। বড় দানার মসুর ডালের দামও একই সময়ে ১১৫-১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১২৫-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারে আগের চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। বেগুন এখনো কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকা, করলা ৯০-১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০-১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৭০-৮০ টাকা, কচুর মুখি ৮০-৯০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা এবং চিচিংগা-ঝিঙ্গা ৯০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম আরও বেশি; বর্তমানে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের ক্ষেত্রে আমদানি বাড়লেও দাম কমেনি উল্লেখযোগ্যভাবে। খুচরায় এখনো প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৮০-৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তালতলা বাজারের ব্যবসায়ী বুলু মিয়া বলেন, “ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজও দেশি পেঁয়াজের সমান দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে আমদানি থাকা সত্ত্বেও দামের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি।” কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকা কেজিতে, যেখানে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭২ টাকায়।

এছাড়া ডিম ও মুরগির দামও উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০-১৮০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ৩২০-৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও অপরিবর্তিত আছে— প্রতি ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা।

এদিকে, আলুর বাজারেও দাম বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘদিন লোকসানে আলু বিক্রি করার অভিযোগের পর কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবির ভিত্তিতে সরকার সম্প্রতি হিমাগার পর্যায়ে আলুর ন্যূনতম দাম ২২ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর আগে দীর্ঘদিন হিমাগারে আলু ১২-১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। এখন হিমাগারে প্রতি কেজির দাম ৭-১০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব খুব শিগগিরই খুচরা বাজারে পড়বে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।

বর্তমানে খুচরায় আলু ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হলেও আগামী দিনে তা ৩৫-৪০ টাকায় উঠতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন। কারওয়ান বাজারের আলুর আড়তদার জাহাঙ্গীর বলেন, “হিমাগারে ২২ টাকায় আলু কিনলে আমাদের পাইকারি বিক্রি করতে হবে অন্তত ২৪ টাকায়। অন্যান্য খরচ যোগ করলে খুচরায় ২৭-২৮ টাকা দাঁড়াবে। তখন স্বাভাবিকভাবেই ভোক্তার দামে এর প্রভাব পড়বে।”

গত ২৭ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ের নীতি শাখা থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে আলুর ন্যূনতম হিমাগার মূল্য নির্ধারণ করা হলেও খুচরা বিক্রির সর্বোচ্চ মূল্য ঠিক করা হয়নি। ফলে বাজারে চাহিদা ও যোগানের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত দাম নির্ধারিত হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার যদি সরবরাহ চেইন মনিটরিংয়ে শক্ত ভূমিকা রাখে, তবে খুচরা পর্যায়ে হঠাৎ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।

রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, আপাতত আলুর দাম বাড়েনি। তবে সবজির স্থায়ী উচ্চমূল্য, মুদি পণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আসন্ন আলুর দামের চাপ সব মিলিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের দৈনন্দিন খরচ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

-রাফসান


বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার ফিরিয়ে আনা শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ২০:১৮:২৮
বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার ফিরিয়ে আনা শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

গঠনমূলক বিরোধিতার চর্চা না করে কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত করা হলে তা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের সঙ্গে চরম গাদ্দারি করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ ও আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যানের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমানসহ শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সরকার আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সবার আসা উচিত ছিল। তিনি বলেন, “বিএনপি বহুদলীয় ও সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক। আমরা জনগণের ভোটে সরকার পরিচালনায় এসেছি আর অন্য দলগুলো বিরোধী দল হয়েছে। বিরোধী দল মানেই গঠনমূলক সমালোচনা করা, শুধু বিরোধিতার স্বার্থে বিরোধিতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।” পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মৌলিক অধিকার ও পরিবেশ সুরক্ষায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান তিনি।

উদ্বোধন শেষে উদ্যান প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী এবং উদ্যানসংলগ্ন আধুনিক গ্রন্থাগার, জলাশয় ও রিলিফ ভাস্কর্যগুলো ঘুরে দেখেন। ঐতিহাসিক ২৩ একর আয়তনের ওসমানী উদ্যানে প্রায় এক একর জুড়ে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই ছাড়াও ১৯৫২, ’৭১ ও ২০২৪-এর ইতিহাস সংবলিত ১৭১ ফুট দীর্ঘ রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, শহীদ পরিবারের সদস্যগণ এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


আগামীকাল উত্তরাঞ্চল ও বন্দরনগরী চষে বেড়াবেন দেশের প্রধান নির্বাহী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৯:৫৭:০৬
আগামীকাল উত্তরাঞ্চল ও বন্দরনগরী চষে বেড়াবেন দেশের প্রধান নির্বাহী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে পুরো উত্তরাঞ্চলে এখন সাজসাজ রব ও ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী এক ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ দিনে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম—এই তিন অঞ্চলে সফর করবেন। সফরকালে তিনি বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ ও বিভিন্ন পূজামণ্ডপ সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনসহ উচ্চপদস্থ সরকারি ও দলীয় কর্মকর্তারা। মাঠ পরিদর্শন শেষে ভূমিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান সরাসরি রাজশাহী এসে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজামণ্ডপে গিয়ে শারদীয় শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে সৈয়দপুর হয়ে রংপুরের ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পরিদর্শনের পর দুপুরে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করবেন তিনি। এরপর বিকাল ৩টায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। জনসভা শেষে তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং সেখানে জে এম সেন হলের রহমতগঞ্জ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে রাতেই ঢাকায় ফিরবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন ঘিরে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে সড়ক সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন ও জনসভার মঞ্চ তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় মন্ত্রী ও নেতারা জানান, জনসভাস্থল থেকে রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—ঢাকা-সৈয়দপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ বৃদ্ধি, বিমানবন্দরে কার্গো চলাচল এবং আখচাষিদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণা আসতে পারে। অন্যদিকে, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির ও বিভাগীয় কমিশনারের সমন্বয়ে চার শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থার মাধ্যমে গোটা শহরে নজিরবিহীন ও সর্বোচ্চ ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

/আশিক


আগামীকাল উত্তরাঞ্চল ও বন্দরনগরী চষে বেড়াবেন দেশের প্রধান নির্বাহী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৯:৫৪:২৩
আগামীকাল উত্তরাঞ্চল ও বন্দরনগরী চষে বেড়াবেন দেশের প্রধান নির্বাহী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে পুরো উত্তরাঞ্চলে এখন সাজসাজ রব ও ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী এক ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ দিনে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম—এই তিন অঞ্চলে সফর করবেন। সফরকালে তিনি বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ ও বিভিন্ন পূজামণ্ডপ সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনসহ উচ্চপদস্থ সরকারি ও দলীয় কর্মকর্তারা। মাঠ পরিদর্শন শেষে ভূমিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান সরাসরি রাজশাহী এসে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজামণ্ডপে গিয়ে শারদীয় শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে সৈয়দপুর হয়ে রংপুরের ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পরিদর্শনের পর দুপুরে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করবেন তিনি। এরপর বিকাল ৩টায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। জনসভা শেষে তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং সেখানে জে এম সেন হলের রহমতগঞ্জ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে রাতেই ঢাকায় ফিরবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন ঘিরে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে সড়ক সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন ও জনসভার মঞ্চ তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় মন্ত্রী ও নেতারা জানান, জনসভাস্থল থেকে রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—ঢাকা-সৈয়দপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ বৃদ্ধি, বিমানবন্দরে কার্গো চলাচল এবং আখচাষিদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণা আসতে পারে। অন্যদিকে, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির ও বিভাগীয় কমিশনারের সমন্বয়ে চার শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থার মাধ্যমে গোটা শহরে নজিরবিহীন ও সর্বোচ্চ ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

/আশিক


জ্বালানি খাতই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, দ্রুত স্থিতিশীলতার আশ্বাস অর্থমন্ত্রী আমির খসরুর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৯:৪৯:২৩
জ্বালানি খাতই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, দ্রুত স্থিতিশীলতার আশ্বাস অর্থমন্ত্রী আমির খসরুর
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত এখন জাতীয় অর্থনীতির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিশাল রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা ও বিদেশে অর্থ পাচারের গভীর ধাক্কা সামলে নিয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘সাসটেইনেবল পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি: ড্রাইভিং ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাস সংকট মেটাতে ৩ থেকে ৪টি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের পাশাপাশি মাতারবাড়ীর পর খুলনার কাছে ২০ মিটার গভীরতার একটি স্থানে আধুনিক জ্বালানি হাব গড়ে তোলার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া দেশের অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সকে শক্তিশালী করে ১৫০টি নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে এবং আবাসিক ও শিল্পখাতে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে পূর্ণাঙ্গ কর অব্যাহতি ও প্রণোদনা সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে দুর্নীতি কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুটি আলাদা বিভাগে বিভক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার পুনর্গঠনে হংকং পুঁজিবাজারে একটি ডেডিকেটেড ইকুইটি ফান্ড গঠনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সাথে সফল আলোচনা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবসার খরচ কমিয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত পুনরায় দ্রুত প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। উক্ত সম্মেলনে এফআইসিসিআই প্রতিনিধি, শেভরন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও দেশি-বিদেশি বিন্যোগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


বিশ্বজুড়ে সংঘাতের মাঝে বাংলাদেশে সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত দুর্গাপূজা: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৮:৪৫:৩৬
বিশ্বজুড়ে সংঘাতের মাঝে বাংলাদেশে সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত দুর্গাপূজা: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও হিংসা-বিদ্বেষের আবহ বিরাজ করলেও বাংলাদেশে পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপন করছেন—এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের এক অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় এবং এর আগে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী রমনা কালী মন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

গত রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬ উপলক্ষে রমনা কালী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশে বিদ্যমান ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ইতিহাস বিশ্বের বুকে বিরল। রমনা কালী মন্দিরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ ও পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা গোষ্ঠীর হাতে এই পবিত্র স্থানটি ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। কিন্তু ২০০১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পদক্ষেপে এই মন্দিরটি পুনরায় তার পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনা হয়। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।

দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের অপপ্রচার ও অপব্যাখ্যার কড়া সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি ফখরুল ইসলাম আলমগীর সবাইকে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যমান সব জটিলতা ও সমস্যা নিরসনে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রীতি, ন্যায় ও মানবকল্যাণের বার্তা দেওয়া শারদীয় দুর্গোৎসবের সার্বিক সাফল্য কামনা করে আয়োজক ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান তিনি। এ সময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার ও মন্দির কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে ভিসামুক্ত ভ্রমণ: ৩৫টি দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৮:৪১:৪৭
শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে ভিসামুক্ত ভ্রমণ: ৩৫টি দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি ও পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন অনেক বাংলাদেশি। ভিসা প্রাপ্তির জটিলতা ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ার কারণে অনেকেরই বিদেশ ভ্রমণ বাধাগ্রস্ত হলেও ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে ৩৫টি দেশে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ‘হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স’-এর প্রকাশিত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচক অনুযায়ী, বিশ্বে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান এখন ৯৭তম।

সর্বশেষ সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা পূর্ব-অনুমোদিত ভিসা ছাড়াই অথবা অন-অ্যারাইভাল ভিসা ও ট্রাভেল অথরাইজেশনের মাধ্যমে বিশ্বের ৩৫টি গন্তব্যে ভ্রমণের সুবিধা পাচ্ছেন। এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের পাশাপাশি আফ্রিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং ওশেনিয়ার বেশ কিছু আকর্ষণীয় দ্বীপরাষ্ট্র রয়েছে। তবে এ বছর উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তালিকার শীর্ষে যথারীতি অবস্থান করছে সিঙ্গাপুর।

বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধাপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় হলো নেপাল ও মালদ্বীপ, যেখানে বিমানবন্দর বা সীমান্তেই সরাসরি বিনামূল্যে অন-অ্যারাইভাল ভিসা পাওয়া যায়। তবে সংশ্লিষ্ট ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, ছুটির দিনগুলোতে বিদেশ ভ্রমণের আগে ফ্লাইট বুকিংয়ের পাশাপাশি নির্দিষ্ট দেশের হালনাগাদ প্রবেশ নীতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

/আশিক


স্থানীয় সরকারের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৮:২৫:২৩
স্থানীয় সরকারের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন
ছবি : সংগৃহীত

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন সব নির্বাচন একসঙ্গে সম্পন্ন করা কঠিন হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি জানান, বর্তমানে কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত রয়েছে। ইউপি নির্বাচনের কাজ উল্লেখযোগ্য ধাপে এগিয়ে নেওয়ার পরই কেবল অন্যান্য স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এসব তথ্য জানান। চলতি অর্থবছরের মধ্যে স্থানিক সরকারের সব নির্বাচন শেষ করা সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজ ব্যক্তিগত অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, এই সময়ের মধ্যে সব নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব নাও হতে পারে। আবহাওয়া, মাঠপর্যায়ের সার্বিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন অনিবার্য কারণে নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতি ও নির্ধারিত সময়সূচিতে নমনীয়তা বা পরিবর্তন আনতে হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে কি না, কিংবা নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রথম ধাপে সেনা মোতায়েন করা হবে কি না—এসব প্রশ্নের জবাবে ইসি মাছউদ জানান, তফসিল পূর্ববর্তী পর্যায়ে আলোচনার বিষয়গুলো বিবেচনায় থাকবে, তবে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশের সুযোগ নেই। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে আইনি পরিবর্তন না করেও ইসির সেনা মোতায়েনের সাংবিধানিক ও আইনি এখতিয়ার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে কমিশন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

/আশিক


সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে অর্থ বিভাগের অতি জরুরি প্রজ্ঞাপন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৮:২১:৪০
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে অর্থ বিভাগের অতি জরুরি প্রজ্ঞাপন
ছবি : সংগৃহীত

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সার্বিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও সরকারি চাকরিজীবীরা আপাতত পুরোনো বা আগের হারেই তাদের যাবতীয় ভাতা পাবেন। অর্থাৎ, চলতি বছরের ৩০ জুন যে হারে ভাতা দেওয়া হতো, পরবর্তী সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক আদেশ না আসা পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরা সেই হারেই ভাতা পেতে থাকবেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এই নির্দেশনা কার্যকর হবে। ভাতা আপাতত বৃদ্ধি না পেলেও চলতি মাস (অক্টোবর) থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন স্কেল অনুযায়ী বাড়তি মূল বেতন উত্তোলন করতে পারবেন। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মূল বেতন বাস্তবায়নের ধাপে ভাতা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত মূল বেতনের শতকরা হারেই তা প্রদান করা হবে। নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ধরা হয়েছে, যা ২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮—এই দুই অর্থবছরে মোট তিনটি ধাপে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হবে। সে অনুযায়ী ভাতার নতুন হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের আইবাস ডাবল প্লাস (iBAS++) পদ্ধতিতে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’ (Pay Fixation) প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গত ৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এই পে ফিক্সেশন কার্যক্রম আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, চলতি মাসের শেষেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্ধিত মূল বেতন হাতে পাবেন এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

/আশিক


ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও নিরাপদ উপাসনা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব: সালাহউদ্দিন আহমদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৮:০৮:৫৮
ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও নিরাপদ উপাসনা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব: সালাহউদ্দিন আহমদ
ছবি : সংগৃহীত

দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সকল ধর্মের মানুষের উৎসব নিরাপদে উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ এবং মাসব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য ‘কঠিন চীবর দান’ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ সমন্বিত নিরাপত্তার ঘোষণা দেওয়া হয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৌদ্ধ ধর্মীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করার সুযোগ নেই এবং স্বাধীন উপাসনা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা (খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান) সহ সমতলের পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রংপুরে প্রবারণা পূর্ণিমার ঐতিহ্যবাহী ফানুস ওড়ানো ও কঠিন চীবর দান উৎসবকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত নজরদারি ও কঠোর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান দুর্গাপূজায় ব্যবহৃত বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি এবং অ্যাপভিত্তিক মনিটরিং সেলের আধুনিক নিরাপত্তা কাঠামোর মতোই প্রবারণা পূর্ণিমাতেও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো উস্কানিমূলক গুজব ও ব্যক্তিগত বিরোধকে ধর্মীয় ইস্যু বানিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন মন্ত্রী। সভায় উপস্থিত আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথেরসহ বিশিষ্ট বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা দেশের সকল বৌদ্ধ বিহারের তালিকা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিলে মন্ত্রী তা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পাঠানোর আশ্বাস দেন। চলমান দুর্গাপূজার মতোই আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমাও অত্যন্ত উৎসবমুখর, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

/আশিক

পাঠকের মতামত: