সতর্ক না হলে আবার ঘুরে দাঁড়াবে করোনা? শনাক্তের নতুন তথ্য

দেশজুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নির্মূল না হলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ২১ জনের দেহে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। তবে আশার খবর হলো—এই সময়ে কারও মৃত্যু হয়নি।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ৪৪১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ২১ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। ফলে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
নতুন সংক্রমণসহ দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৫২ হাজার ১৮ জনে। তবে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৯ হাজার ৫১৮ জনেই অপরিবর্তিত রয়েছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে এ ভাইরাসে নতুন করে আর কেউ মারা যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। আর একই বছরের ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সেই থেকে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এখন অনেকটাই স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে রয়েছে বাংলাদেশ।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়ন্ত্রণ থাকলেও সচেতনতা এবং টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখা জরুরি। যাতে ভবিষ্যতে নতুন কোনো ঢেউয়ের আশঙ্কা রোধ করা সম্ভব হয়।
ভারতের সাথে গঙ্গার পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে, সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা
আগামী ডিসেম্বরে ভারতের সাথে ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছর মেয়াদী মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এ চুক্তি নবায়ন নাকি নতুন কোনো চুক্তি করা হবে—এ প্রসঙ্গে ভারতের সাথে ভবিষ্যৎ পানি বণ্টন চুক্তিতে বাংলাদেশ নিজের জাতীয় স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার সর্বোত্তম সুরক্ষাকেই মূল অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর সমাপনী দিনে আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বা নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে দেশের নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করাই ঢাকার একমাত্র লক্ষ্য। ভবিষ্যৎ চুক্তিতে কোনো সুনির্দিষ্ট 'গ্যারান্টি ক্লজ' বা নিশ্চয়তা ধারা অন্তর্ভুক্ত থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে যা প্রয়োজন, সরকার সেটাই করবে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান সংলাপ পরিস্থিতি নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত আলোচনা প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তবে শীর্ষপর্যায়ের সফর ও সংলাপের জন্য কূটনৈতিকভাবে অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের সফর অনুষ্ঠিত হলেই কেবল শীর্ষ সংলাপ সম্ভব, যার জন্য সরকারি পর্যায়ের যৌথ আলোচনার কাজ চলমান রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় এসব সংবেদনশীল ইস্যু হুট করে নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করে রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে আগামী নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নতুন দিল্লি সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার প্রধানের উচ্চপর্যায়ের কোনো সফর চূড়ান্ত হলে তার প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য ঢাকা থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে; কোনো বিদেশি সূত্রের ওপর নির্ভর করা সমীচীন নয়।
/আশিক
প্রথম আরব স্বীকৃতিদানকারী দেশের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন উদ্যোগ
বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বেগবান করতে উত্তর আফ্রিকার দেশটিকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) ও ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য আমদানি বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক ও নার্সসহ বিভিন্ন খাতের দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের জন্য আলজেরিয়াকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান তিনি।
সোমবার (০৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলওয়াহাব সাইদানি। পরে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকের বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে উভয় দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বাড়াতে বিশেষায়িত যৌথ প্রশিক্ষণ, কর্মশালা আয়োজন এবং আইনি সহায়তা আদান-প্রদানের ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে সরকারি পর্যায়ে (জি-টু-জি) দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি এবং সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
বৈঠকালে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর আলজেরিয়াই প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছিল। তিনি দুই দেশের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে আলজেরিয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঐতিহাসিক এই বন্ধুত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বাণিজ্য ও জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্র প্রসারের আহ্বান জানান।
আলোচনাকালে বাংলাদেশে বিচারাধীন এক আলজেরীয় নাগরিকের আইনি জটিলতা নিরসনে নিয়মানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে আবেদনের পরামর্শ দেন মন্ত্রী এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে সুবিধাজনক কূটনৈতিক তারিখে এই সফর আয়োজনের ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উক্ত বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
৫২ বছর পর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মাননা পেলেন গাইবান্ধার 'এক টাকার শিক্ষক' লুৎফুর রহমান
সুদীর্ঘ ৫২ বছর ধরে মাত্র এক টাকার বিনিময়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদান করে আসা গাইবান্ধার প্রখ্যাত শিক্ষাব্রতী লুৎফুর রহমানকে বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করেছে সরকার। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের ১০২ জন গুণী শিক্ষকের সাথে তাঁকে এই বিরল সম্মাননা প্রদান করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৪ সাল থেকে অর্থের অভাবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করছেন লুৎফুর রহমান। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালয়ে নিযুক্ত না থেকেও টানা পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়মিত পড়িয়ে গাইবান্ধায় তিনি ‘এক টাকার শিক্ষক’ হিসেবে সর্বজনীন পরিচিতি লাভ করেন। শিক্ষাবিদদের মতে, তাঁর এই সুদীর্ঘ অবদান দেশে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষক ও শিক্ষাব্রতীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ ক্যাটাগরিতে লুৎফুর রহমান ছাড়াও ‘রমনী কান্ত পাঠশালা’র রমনী কান্ত বেপারী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষায় অবদান রাখা প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশনের সহকারী শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হোসেন খানকে সম্মাননা জানানো হয়। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি, বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা, কৃষি ও প্রকৌশলসহ মোট ১০২ জন গুণী শিক্ষককে এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বাছাই করে এই স্মারক দেওয়া হয়।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।
/আশিক
প্রযুক্তিমুখী শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকদের সম্মানি নিয়ে সরকার প্রধানের বড় ঘোষণা
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে রূপকল্পের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা বাজেটের এই পরিধি ক্রমান্বয়ে আরও বৃদ্ধি করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষ্যে এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে যে, চলতি বছর থেকেই দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা যুগোপযোগী নতুন সিলেবাস ও আধুনিক পাঠ্যপুস্তক হাতে পেতে যাচ্ছে। সর্বজনীন শিক্ষা কাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমন এক অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সামাজিক বা আর্থিক কোনো ব্যবধানের কারণে একটি শিশুও যেন শিক্ষাবঞ্চিত না হয়। এ ছাড়া বিশ্বায়নের সঙ্গে তাল মেলাতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞানকে অপরিহার্য বলে তিনি জোর প্রদান করেন।
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তি কখনো শিক্ষকের স্থলাভিষিক্ত বা বিকল্প হতে পারে না; বরং শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিকে শক্তিশালী সহায়ক হিসেবে দেখতে চায় সরকার। দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমন্বিতভাবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা চালুর উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন কারিকুলাম ও শিখন কৌশলে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে ‘আনন্দময় শিক্ষা পরিবেশ’ গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন তিনি।
শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে দেশের টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোকে দ্রুত আধুনিকায়নের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষকতা পেশা সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, শিক্ষকতাকে অন্য কোনো পেশার সুযোগ না পেয়ে গ্রহণ করা ‘উপায়হীন বিকল্প পেশা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশের শীর্ষ মেধাবীরা যাতে শিক্ষকতাকে নিজেদের পছন্দের প্রথম সারিতে স্থান দিতে পারেন, সেভাবেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া ঢেলে সাজানো হচ্ছে এবং শিক্ষকদের সম্পূর্ণ আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
/আশিক
প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমেই শেখ হাসিনাকে ফেরানো সম্ভব, আশাবাদী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠাতে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, বিচার প্রক্রিয়া তরান্বিত করতে ভারত সরকার এই প্রত্যর্পণ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার দিকে নজর দেবে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে এক সৌজন্য আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও অভিযুক্তদের ফেরত আনার জন্য দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে কেবল আইনি মারপ্যাঁচ বা দীর্ঘসূত্রী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর না করে এই আইনি ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নে নয়াদিল্লির ইতিবাচক রাজনৈতিক ইচ্ছাও অত্যন্ত জরুরি।
দ্বিপক্ষীয় চুক্তি প্রয়োগ করে শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দৃঢ়তার সাথে নিশ্চিত করেন যে, সুনির্দিষ্ট চুক্তি ও আইনি কাঠামোর আওতায় যেকোনো আসামিকে ফেরত আনা সম্ভব এবং বাংলাদেশ সরকার সেই পথেই দৃঢ়ভাবে এগোচ্ছে।
প্রসঙ্গক্রমে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিশ্ব সফরের ব্যস্ততার চিত্র তুলে ধরে শামা ওবায়েদ জানান, বিগত ছয় মাসে সরকারপ্রধান অত্যন্ত ঘনঘটাপূর্ণ সময় পার করেছেন। চীন ও মালয়েশিয়াতে সফর সম্পন্ন করার পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও তিনি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনায় দেশের স্বার্থ তুলে ধরে দেশে ফিরেছেন।
/আশিক
প্রতিটি জেলা ও সিটি কর্পোরেশনে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং জলবায়ু-সহনশীল, নিরাপদ ও টেকসই নগর অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রত্যয়ে দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় সমন্বিত 'মাস্টারপ্ল্যান' প্রণয়নের বিশাল উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের সকল নাগরিকের জন্য পর্যাপ্ত, পরিবেশসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি টেকসই সুষম নগর উন্নয়নই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি নীতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যক্ত করেন। ১৯৮৬ সাল থেকে প্রতি বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ বছর ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন’ প্রত্যয় নিয়ে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে দিবসটি।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দিন দিন বাড়তে থাকা আবাসন চাহিদার নিরিখে এবারের প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান শহরগুলো দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানজট, পরিবেশ দূষণ, নাগরিক সেবার ঘাটতি ও জলবায়ুজনিত অভিবাসনের ফলে যেসব জটিল চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে—তা নিরসনে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি জোরদার করার রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের কাজ চলছে, যা জাতিসংঘ নির্ধারিত 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-১১' অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারের দৃষ্টিতে 'সবার জন্য বাসস্থান' কেবল একটি ঘরের সংস্থান নয়; বরং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নাগরিক সুবিধার সমন্বিত অধিকার।
বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার ও বস্তিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিতকরণ, বস্তিবাসী মানুষের নিজস্ব আবাসনের মালিকানা লাভের সুযোগ সৃষ্টি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। টেকসই ও বাসযোগ্য মানবিক বাংলাদেশ গঠনে বেসরকারি বিনিয়োগকারী, এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬-এর সাফল্য কামনা করেন।
/আশিক
তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী মেগা প্রকল্পের সিদ্ধান্ত
দেশের বিশাল তরুণ সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আগামী ডিসেম্বরে দেশজুড়ে 'এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ'-এর প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। বিএনপির রাজনৈতিক ইশতেহার ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে গৃহীত এই পদক্ষেপে তরুণদের মেধার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটিয়ে শ্রমবাজারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই পরিকল্পনার কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, দেশের বিশাল ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা তরুণ জনমিতির সুফল পুরোপুরি কাজে লাগাতে আগামী ডিসেম্বরে রাজধানী ঢাকা থেকে এই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ এবং ক্যারিয়ার ফেয়ারের প্রাথমিক রূপরেখা উন্মোচন করা হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম দেশের বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তারুণ্যের সঠিক ক্ষমতায়ন ও মেধার পূর্ণ বিকাশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা অত্যন্ত জরুরি। বিগত ছয় মাস ধরে একাডেমিয়া, শিল্প খাত, সরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পরেই এই সর্বসম্মত পলিসি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মূল রূপরেখা ব্যাখ্যা করে মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, এই প্ল্যাটফর্মের মূল কাজ হবে দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা ও যোগানের মাঝে একটি শক্তিশালী মেলবন্ধন তৈরি করা। নতুন স্নাতক উত্তীর্ণদের পাশাপাশি প্রথাগত শিক্ষার বাইরে থাকা যুবসমাজকে সরাসরি কাজের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করাই এর প্রধান লক্ষ্য। এর অধীনে একটি সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে, যেখানে একদিকে চাকরিপ্রার্থী তরুণের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষিত থাকবে, অন্যদিকে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদের হিসাব আপডেট থাকবে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার মানসিক দূরত্ব দূর করতে জেলা পর্যায়ে নিয়মিত 'ক্যারিয়ার ফেয়ার' আয়োজন করা হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থীদের সিভি তৈরি, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং চাকরির সাক্ষাৎকার মোকাবিলার উপযোগী প্রশিক্ষণ সুবিধা সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ 'এমপ্লয়মেন্ট ওরিয়েন্টেড ইকোসিস্টেম' গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া যেসব তরুণ বিদেশে কর্মসংস্থান চান, তাদের এই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের পর প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) সাথে যুক্ত করে দেওয়া হবে।
বিগত ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট ও পোশাকশিল্প খাতের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, নানা অপপ্রচারের কথা উঠলেও মূলত বাস্তবে কারখানা বন্ধের সংখ্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ক্ষতি পোষাতে নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং ইতিপূর্বে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালুর মাধ্যমে নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় এই প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানান।
তরুণদের বেকার ভাতার বিষয়ে তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো তরুণদের ভাতা নির্ভর না করে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনায় বেকার ভাতার বিষয়টিও নীতিগতভাবে গুরুত্বের সাথে ভাবা হতে পারে। উক্ত সংবাদ ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
পূর্ণ ক্ষমতায় রামপালের দুই ইউনিট, জাতীয় গ্রিডে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ
বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে যৌথভাবে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা সরাসরি জাতীয় পাওয়ার গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
শনিবার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম এই সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রযুক্তিগত সাময়িক জটিলতার কারণে উৎপাদন সাময়িকভাবে থমকে গেলেও বর্তমানে উভয় ইউনিট থেকেই নিরবচ্ছিন্নভাবে পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হয়েছে।
উৎপাদনের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে বর্তমানে ৬৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৬৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়ে সরাসরি জাতীয় গ্রিডে জমা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক যৌথ অংশীদারিত্বে ২০১০ সালে এই বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি) মধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির আইনি বাধ্যবাধকতার অধীনে যৌথ মালিকানাধীন ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড’ (বিআইএফপিসিএল) গঠিত হয়।
/আশিক
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তাই এখন নতুন স্বাভাবিক: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পেক্ষাপটে অনিয়ম ও অনিশ্চয়তাই এখন নতুন স্বাভাবিক অবস্থা হিসেবে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্থর প্রবৃদ্ধি, ঋণের অনাকাঙ্ক্ষিত উচ্চ ব্যয় এবং বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক সংরক্ষণবাদের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে নিখুঁত ও তথ্যনির্ভর নীতি নির্ধারণই হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) অর্থনীতি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় এবং জুনিয়র ইকোনমিস্টস ফোরামের (জেইএফ) উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি প্রতিযোগিতা ‘ইকনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু নিশ্চিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, যেকোনো কার্যকর নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত সমাধান এবং তথ্যের সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রতিনিয়ত নানাবিধ অপ্রাক্কলিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে সীমাবদ্ধ তথ্যের ওপর নির্ভর করেই সরকারকে অত্যন্ত সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
এ সময় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২২৪টি দল ‘ইকনথন ২০২৬’-এ অংশগ্রহণ করায় আনন্দ প্রকাশ করে তিনি কুইজ, কেস সলভিং ও পলিসি মেকিংভিত্তিক প্রতিযোগিতার কঠিন ধাপগুলো পার হয়ে চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছানো শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বর্তমান অর্থনৈতিক চালচিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রবল চাপ, জলবায়ু পরিবর্তনের নানামুখী নেতিবাচক প্রভাব এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করতে হলে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখার পাশাপাশি বিদ্যমান কর ব্যবস্থার দ্রুত আধুনিকায়ন প্রয়োজন।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, সাধারণ জনগণের কষ্টার্জিত করের প্রতিটি টাকার শতভাগ স্বচ্ছতা ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অর্থমন্ত্রী পরামর্শ দিয়ে বলেন, সঠিক দক্ষতা ছাড়া কোনো জাতি বেশিদূর এগোতে পারে না, আর সততা ও মানবিক মূল্যবোধ ছাড়া সেই অর্জিত দক্ষতা কখনো সমাজকে সঠিক পথের দিশা দেখাতে পারে না। অর্থনীতি কেবল ক্লাসরুমের পরীক্ষা পাসের বিষয় নয়, বরং এটিকে গভীরভাবে অনুধাবন করে নীতি ও সততার সাথে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
ইউআইইউর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আবুল কাশেম মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা হাসান মাহমুদ রাজা এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও ইউনাইটেড গ্রুপের উপদেষ্টা কে এম এ শামীম। সমাপনী পর্বে অর্থমন্ত্রী বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- আবহাওয়া দপ্তরের চারদিনের নতুন পূর্বাভাস জারি, বদলাচ্ছে আবহাওয়ার রূপ
- ভারতের সাথে গঙ্গার পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে, সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা
- কেনাকাটার সময় বাড়ল দুই ঘণ্টা, সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত বহাল ২২ অক্টোবর পর্যন্ত
- প্রথম আরব স্বীকৃতিদানকারী দেশের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন উদ্যোগ
- ষড় ঋতুর পালাক্রমের ছোঁয়ায় কুবিতে শীতের আগমনী বার্তা
- 'নকল ভিনিসিয়ুস খেলছেন মাঠে!' রিয়াল তারকাকে ঘিরে ব্রাজিলে উদ্ভট ষড়যন্ত্র তত্ত্ব
- বিশ্বজুড়ে আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের জরুরি বার্তা
- ইসরায়েলি নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে সেনাবাহিনী: চিফ অব স্টাফ
- ৫২ বছর পর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মাননা পেলেন গাইবান্ধার 'এক টাকার শিক্ষক' লুৎফুর রহমান
- মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ ও ইরানকে যুক্ত করার দাবি পাকিস্তান জামায়াতের
- মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে নতুন মোড়, মার্কিন জবাবে ইরানের কড়া পর্যবেক্ষণ
- কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, থানায় এজাহার দিতে গিয়ে অবরুদ্ধ এনসিপি
- বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আসছে পবিত্র রমজানের নতুন সময়সূচি
- প্রযুক্তিমুখী শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকদের সম্মানি নিয়ে সরকার প্রধানের বড় ঘোষণা
- চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল ২০২৬: আলো দিয়ে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের আবিষ্কারে ৩ বিজ্ঞানীর বাজিমাত
- বয়স বাড়ার সাথে পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোন হ্রাস: চেনার ৯টি লক্ষণ
- যুদ্ধ থামানোর নতুন কৌশল? মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়ীদের নজর রাশিয়ার লুকঅয়েলে
- দক্ষতা উন্নয়নে সেনাবাহিনী কর্তৃক নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে দর্জি প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন
- বিইআরসির নতুন দর: আজ সন্ধ্যা থেকেই অটোগ্যাস ও এলপিজি সিলিন্ডারের দামে বড় লাফ
- ওয়াশিংটনের খবরকে মিথ্যা আখ্যা দিল তেহরান, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন আরাগচির
- কুষ্টিয়ায় লালন শাহের মাজারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা
- বয়স বাড়লেই বাড়ে ঝুঁকি, জেনে নিন প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মূল কারণ ও প্রতিকার
- সপ্তাহজুড়ে ধারাবাহিক ওঠানামার পর স্বর্ণের বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী
- মোস্তাফিজের বাজে ওভার ও অদ্ভুত কৌশলগত ভুলে ক্ষুব্ধ ক্রিকেট অঙ্গন
- প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমেই শেখ হাসিনাকে ফেরানো সম্ভব, আশাবাদী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- আশ্বিনের আবহাওয়ায় নতুন বদল, চার দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জারি
- মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি তে যোগ দিতে চায় ৬টিরও বেশি দেশ, জানালেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- নতুন স্যাটেলাইটের নির্মাণ শেষ করে মহাকাশ বিজ্ঞানে তেহরানের বড় সাফল্য
- প্রতিটি জেলা ও সিটি কর্পোরেশনে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী মেগা প্রকল্পের সিদ্ধান্ত
- শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কড়া বার্তা
- আবারও বাড়ল এলপিজির দাম, নতুন দর ঘোষণা করল বিইআরসি
- পূর্ণ ক্ষমতায় রামপালের দুই ইউনিট, জাতীয় গ্রিডে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ
- ডিজিটাল হচ্ছে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন
- দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি দুই সামরিক যানের সংঘর্ষ
- মহাকাশ থেকে ভেসে এলো নতুন সংকেত: বহির্বিশ্বের গ্রহ থেকে প্রথম রেডিও তরঙ্গ শনাক্ত
- দক্ষিণ এশিয়ার মাটিতে বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা
- বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তাই এখন নতুন স্বাভাবিক: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
- ইসলামাবাদ লং মার্চ বাতিল ও ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে সরগরম পাকিস্তান রাজনীতি
- দলীয় পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা: আখতারুজ্জামানকে নেতা মানতে রাজি নয় জামায়াত
- শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরার বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া প্রকাশ
- বয়স কেবল সংখ্যা মাত্র, বৈশ্বিক মঞ্চে ফের চমক প্রবীণ অভিনেত্রীর
- আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারেরই গোপন যোগাযোগ রয়েছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
- চ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি
- ফুটবলের নতুন ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত কলকাতার ক্রীড়াঙ্গন
- একদিনেই ৬১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি: ফের ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ইলন মাস্ক
- দিল্লিতে ফের বড় ধরনের রাজনৈতিক উত্তাপ ও বিক্ষোভ
- জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে মানবিক প্রয়াসে শীর্ষ নেতৃত্বের সহধর্মিণীরা
- ট্রাম্পের নৈশভোজের বিশেষ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আমি সবসময় এরদোয়ানকে খুশি রাখব: নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
- জনপ্রীয়তায় শীর্ষে ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বিশ্বাস
- প্রবীণদের বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি ও ফ্যামিলি কার্ডে সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ ও মামলা নিয়ে এনসিপি নেতার বিস্ফোরক পোস্ট
- এশিয়ান গেমসে বৃষ্টির থাবা, সেমিফাইনালের আগে নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ
- আদালতে আত্মসমর্পণ করে নতুন সিদ্ধান্ত পেলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা
- আমরা তেল রফতানি করতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যের কেউ বিক্রি করতে পারবে না: ইরান
- টানা ৭ দিনের ছুটি পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা, সরকারি চাকরিজীবীদের ৫ দিন
- স্কুল ভর্তি থেকে জমি কেনাবেচা: রাজ্যগুলোর কাছে ধর্মভিত্তিক হিসাব তলব ভারতের কমিটির
- আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় নতুন মোড়, আদালতে বাদীর বিশেষ আবেদন
- ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে ব্যবসায়ীদের চাপ, বাণিজ্যমন্ত্রীর অবস্থান পরিষ্কার
- এলপিজি আমদানি পর্যাপ্ত, তবু ১৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২৯০০: গ্যাস গেল কোথায়?
- দলীয় পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা: আখতারুজ্জামানকে নেতা মানতে রাজি নয় জামায়াত
- অ্যাপ ইনস্টল না করেই সাইবার ঝুঁকি এড়ানোর উপায় চালু করল ট্রুকলার
- অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের দিনেও ব্রাজিল শিবিরে নতুন অস্বস্তি
- উচ্ছেদের আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের টেকসই ব্যবস্থার তাগিদ আমীরে জামায়াতের








