স্থানীয় সরকারের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৮:২৫:২৩
স্থানীয় সরকারের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন
ছবি : সংগৃহীত

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন সব নির্বাচন একসঙ্গে সম্পন্ন করা কঠিন হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি জানান, বর্তমানে কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত রয়েছে। ইউপি নির্বাচনের কাজ উল্লেখযোগ্য ধাপে এগিয়ে নেওয়ার পরই কেবল অন্যান্য স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এসব তথ্য জানান। চলতি অর্থবছরের মধ্যে স্থানিক সরকারের সব নির্বাচন শেষ করা সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজ ব্যক্তিগত অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, এই সময়ের মধ্যে সব নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব নাও হতে পারে। আবহাওয়া, মাঠপর্যায়ের সার্বিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন অনিবার্য কারণে নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতি ও নির্ধারিত সময়সূচিতে নমনীয়তা বা পরিবর্তন আনতে হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে কি না, কিংবা নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রথম ধাপে সেনা মোতায়েন করা হবে কি না—এসব প্রশ্নের জবাবে ইসি মাছউদ জানান, তফসিল পূর্ববর্তী পর্যায়ে আলোচনার বিষয়গুলো বিবেচনায় থাকবে, তবে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশের সুযোগ নেই। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে আইনি পরিবর্তন না করেও ইসির সেনা মোতায়েনের সাংবিধানিক ও আইনি এখতিয়ার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে কমিশন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

/আশিক


সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে অর্থ বিভাগের অতি জরুরি প্রজ্ঞাপন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৮:২১:৪০
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে অর্থ বিভাগের অতি জরুরি প্রজ্ঞাপন
ছবি : সংগৃহীত

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সার্বিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও সরকারি চাকরিজীবীরা আপাতত পুরোনো বা আগের হারেই তাদের যাবতীয় ভাতা পাবেন। অর্থাৎ, চলতি বছরের ৩০ জুন যে হারে ভাতা দেওয়া হতো, পরবর্তী সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক আদেশ না আসা পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরা সেই হারেই ভাতা পেতে থাকবেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এই নির্দেশনা কার্যকর হবে। ভাতা আপাতত বৃদ্ধি না পেলেও চলতি মাস (অক্টোবর) থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন স্কেল অনুযায়ী বাড়তি মূল বেতন উত্তোলন করতে পারবেন। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মূল বেতন বাস্তবায়নের ধাপে ভাতা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত মূল বেতনের শতকরা হারেই তা প্রদান করা হবে। নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ধরা হয়েছে, যা ২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮—এই দুই অর্থবছরে মোট তিনটি ধাপে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হবে। সে অনুযায়ী ভাতার নতুন হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের আইবাস ডাবল প্লাস (iBAS++) পদ্ধতিতে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’ (Pay Fixation) প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গত ৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এই পে ফিক্সেশন কার্যক্রম আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, চলতি মাসের শেষেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্ধিত মূল বেতন হাতে পাবেন এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

/আশিক


ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও নিরাপদ উপাসনা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব: সালাহউদ্দিন আহমদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৮:০৮:৫৮
ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও নিরাপদ উপাসনা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব: সালাহউদ্দিন আহমদ
ছবি : সংগৃহীত

দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সকল ধর্মের মানুষের উৎসব নিরাপদে উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ এবং মাসব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য ‘কঠিন চীবর দান’ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ সমন্বিত নিরাপত্তার ঘোষণা দেওয়া হয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৌদ্ধ ধর্মীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করার সুযোগ নেই এবং স্বাধীন উপাসনা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা (খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান) সহ সমতলের পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রংপুরে প্রবারণা পূর্ণিমার ঐতিহ্যবাহী ফানুস ওড়ানো ও কঠিন চীবর দান উৎসবকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত নজরদারি ও কঠোর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান দুর্গাপূজায় ব্যবহৃত বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি এবং অ্যাপভিত্তিক মনিটরিং সেলের আধুনিক নিরাপত্তা কাঠামোর মতোই প্রবারণা পূর্ণিমাতেও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো উস্কানিমূলক গুজব ও ব্যক্তিগত বিরোধকে ধর্মীয় ইস্যু বানিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন মন্ত্রী। সভায় উপস্থিত আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথেরসহ বিশিষ্ট বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা দেশের সকল বৌদ্ধ বিহারের তালিকা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিলে মন্ত্রী তা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পাঠানোর আশ্বাস দেন। চলমান দুর্গাপূজার মতোই আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমাও অত্যন্ত উৎসবমুখর, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

/আশিক


রাজধানী ঢাকার প্রশাসনিক মানচিত্রে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের বড় সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৮ ২০:০৩:১২
রাজধানী ঢাকার প্রশাসনিক মানচিত্রে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের বড় সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায়
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর আব্দুল গনি রোডের বর্তমান সচিবালয় প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আগারগাঁওয়ের নতুন ভবনে সচিবালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম স্থানান্তরের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই সচিবালয় স্থানান্তর প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা। চলতি বছরের নভেম্বর মাস থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এর বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান সচিবালয়ের ১৭.৫৭ একর জমির ওপর অবস্থিত ১৩টি ভবনের মধ্যে ৮টি ভবনই দেশভাগের আগে অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের পূর্বে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত। বিশেষ করে ১, ২, ৩, ৫ ও ৮ নম্বর ভবনগুলো ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে তৈরি হওয়ায় আধুনিক ভূমিকম্প সহনীয় প্রকৌশল বিধিমালার আওতায় নির্মিত নয়। ফলে ভূমিকম্পপ্রবণ ঢাকা শহরে সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ ছাড়া বর্তমান সচিবালয় ভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত অফিস স্পেস বা কর্মপরিবেশের মারাত্মক সংকট রয়েছে। বিদ্যমান সচিবালয়ে মোট অফিস স্পেসের পরিমাণ প্রায় ১৮.৭৬ লাখ বর্গফুট হলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে বাইরে অবস্থিত বিভাগগুলোকে এক ছাদের নিচে আনতে আরও অন্তত ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি অতিরিক্ত স্পেসের প্রয়োজন। বর্তমান ভবনে স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশ-ব্লক ও স্যানিটেশন সুবিধারও যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। নতুন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন সচিবালয় নির্মিত হলে প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


মিথ্যা তথ্য দিয়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে সাইমা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৮ ১৯:২২:৫২
মিথ্যা তথ্য দিয়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে সাইমা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে ব্যক্তিগত বৃত্তান্তে (সিভি) মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সাইমা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভের উদ্দেশ্যে সাইমা ওয়াজেদ সংস্থাতটিতে দাখিল করা জীবনবৃত্তান্তে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) ‘সম্মানিত বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে কর্মরত থাকার মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য প্রদান করেন। তিনি ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অন অটিজম অ্যান্ড নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ডব্লিউএইচও-তে আবেদন করার সময় প্রতারণামূলকভাবে এই বানোয়াট তথ্য ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর অহেতুক চাপ প্রয়োগ করে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ না দিয়েই জাতিসংঘের স্থায়ী মিশন ও জেনেভায় ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে উক্ত নথি পাঠাতে বাধ্য করা হয় এবং প্রতারণামূলক তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি ওই আন্তর্জাতিক উচ্চপদে নিয়োগ পান।

দুদক তদন্তে এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রীয় সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করার অপরাধমূলক অসদাচরণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। এ ঘটনায় গত বছরের ২০ মার্চ দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৪০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় সাইমা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন।

/আশিক


বাংলাদেশে ৩৯০ কোটি টাকার অনুদান ও নতুন বিনিয়োগ ঘোষণা করল কানাডা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৮ ১৮:৩৩:২১
বাংলাদেশে ৩৯০ কোটি টাকার অনুদান ও নতুন বিনিয়োগ ঘোষণা করল কানাডা
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে ৩৯০ কোটি টাকা (৪৫ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার) অনুদান ও বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই। গত ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত চার দিনের কৌশলগত বাংলাদেশ সফর শেষে আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকার কানাডীয় হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন।

ঘোষিত ৩৯০ কোটি টাকার এই অনুদান মোট চারটি কৌশলগত খাতে বণ্টন করা হবে। এর মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উদ্ভাবনে ‘বায়োএন্টারপ্রাইজ কানাডা’কে ১ কোটি ৮০ লাখ কানাডিয়ান ডলার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণে ‘কোওয়াটার ইন্টারন্যাশনাল’কে ১ কোটি ৮০ লাখ কানাডিয়ান ডলার দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক কাঠামোগত সংস্কারের জন্য বিশ্বব্যাংককে ৫০ লাখ এবং বেসরকারি খাতে অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশনকে (আইএফসি) ৪০ লাখ কানাডিয়ান ডলার প্রদান করা হবে। বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা কৃষি, জলবায়ু অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সফরকালে কানাডীয় প্রতিমন্ত্রী ঢাকার আশকোনায় ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও মহাখালীর আইসিডিডিআর,বি হাসপাতাল পরিদর্শনের পাশাপাশি কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির এবং আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিমিট) প্রদর্শনী ক্ষেত্র ঘুরে দেখেন। তা ছাড়া বাংলাদেশের পোশাক খাতে কানাডার সর্ববৃহৎ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘গিলডান অ্যাকটিভওয়্যার’ পরিদর্শন করে কর্মী কল্যাণ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি। স্বাধীনতা-উত্তর সময় থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ৬.৩ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের বেশি উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে কানাডা, যা দুই দেশের ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা সুদৃঢ় বন্ধুত্বের এক বাস্তব নিদর্শন।

/আশিক


প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ২০:৪৬:৪৭
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার সেবার মান উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে তাঁদের ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে সরকার। রাষ্ট্রের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে এই ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হবে, যাতে তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের সার্বিক অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রতিটি নাগরিক ও সরকারের দায়িত্ব। অতীত সরকারের ঘাটতিগুলো কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তিনি সরকারি নানা প্রতিষ্ঠান ও আদালতগুলোতে সাংকেতিক ভাষা (সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ) ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যুক্ত করার ওপর জোর দেন। এ ছাড়া হাসপাতালগুলোতে সাংকেতিক ভাষায় দক্ষ কর্মী নিয়োগ এবং নারী প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষায় সমাজকল্যাণ, আইন ও নারী মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরের কথা মনে করিয়ে দেন তিনি।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে পরিসংখ্যান ব্যুরোকে সঠিক তথ্য সংগ্রহের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিবন্ধী কৃষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবং সরকারি চাকরিতে তাঁদের বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। এ ছাড়া শহরের গণপরিবহনে প্রতিবন্ধীবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা, ‘পিংক বাস’ পরিষেবার উন্নয়ন এবং প্রবেশগম্যতা না থাকলে কোনো নতুন ভবনের নকশা অনুমোদন না দেওয়ার মতো কঠোর নীতি অনুসরণের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ এবং জাতীয় সংসদে তাঁদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি সাংবিধানিক পর্যালোচনার মাধ্যমে সুসংহত করার বিষয়ে দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিপিকেএস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের পরিচালনায় দেশজুড়ে আসা ৩০ জন প্রতিনিধি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের নানা দাবিনামা তুলে ধরেন। মতবিনিময়কালে মো. মহসিন নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ প্রধানমন্ত্রীর জন্য উপহারস্বরূপ একটি ক্যাপ নিয়ে আসলে তারেক রহমান নিজে মঞ্চ থেকে নেমে এসে সহমর্মিতার সঙ্গে উপহারটি গ্রহণ করেন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের দলগত সহযোগিতার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বক্তব্য দেন।

/আশিক


ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, সংবিধান প্রদত্ত অধিকার রক্ষা করতে হবে: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ১৮:৪৮:২০
ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, সংবিধান প্রদত্ত অধিকার রক্ষা করতে হবে: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই অধিকার রাষ্ট্র ও সংবিধান থেকেই পাওয়া গেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে যে অধিকার প্রদান করেছে, তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে শারদীয় দুর্গা উৎসব উপলক্ষে রাজধানীর ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলো বলেন।

সভায় দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দীর্ঘ ঐতিহ্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অভূতপূর্ব নিদর্শনের দেশ। বর্তমান সময়ের হঠাৎ কোনো ঘটনা নয়, বরং যুগান্তর ধরে এই ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষ সুপ্রাচীনকাল থেকে একসঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। এ দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পকলা—সবকিছুর মধ্যেই এই সুদৃঢ় সম্মিলন ও সম্প্রীতির সোনালী নিদর্শন সবসময় খুঁজে পাওয়া যায়। তবে এই অসাম্প্রদায়িক বন্ধন ও সৌহার্দ্য নষ্ট করার জন্য নানা মহলে কুচক্রী মহল বিভিন্নভাবে বিভাজন সৃষ্টি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে বলে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

একাত্তরের মুক্তিযাহের চেতনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার বহু আগে থেকেই এই দেশের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে বেড়ে উঠেছে এবং ১৯৭১ সালে যুদ্ধের ময়দানে একসঙ্গে রক্ত দিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিল। আজও সেই অবস্থানেই দেশ অনড় রয়েছে এবং এই সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে যে কোনো ধরনের মূল্য দিতে প্রস্তুত রয়েছে জাতি। এ দেশের সাধারণ মানুষ কখনোই উগ্রবাদী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ স্বভাবগতভাবেই চরমপন্থা পছন্দ করে না, আর আমাদের এই উদার ও মধ্যপন্থী ধারাটিকেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখতে হবে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি জানান যে দেশ বর্তমানে একটি বড় ট্রানজিশন বা রূপান্তরকালের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। একটি দীর্ঘ ও ভয়াবহ অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি থেকে একটি পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দিকে যাত্রার এই সময়টিতে তিনি সকলকে অত্যন্ত ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে দেশের কাজ এগিয়ে নেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে তিনি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তার সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়ার আশা প্রকাশ করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগণের বিভিন্ন ন্যায্য দাবি-দাওয়া পূরণের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের যথাযথ সহযোগিতার জোরালো আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছে পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন এবং সেখানে পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

/আশিক


ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ১৮:৩৫:১০
ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদগামী ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ২১ অক্টোবর দাম্মামের ফ্লাইট চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে ঢাকা থেকে রিয়াদের ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

এ সময় সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন যে, এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি বড় শিক্ষা। তিনি স্পষ্ট করে জানান, বাংলাদেশিরা বিশ্বের যে দেশেই বসবাস করুন না কেন, তাদের অবশ্যই সেই দেশের প্রচলিত আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

/আশিক


মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টায় রাজধানীর ১৩টি স্পট আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ১৭:৩১:২৭
মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টায় রাজধানীর ১৩টি স্পট আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্পট আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে এই আকস্মিক পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু হয়ে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত চলে। এই সময় তিনি রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি মিরপুর-১০ নম্বরের হকারমুক্ত ফুটপাতও স্বচক্ষে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সেবার মান এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি একে একে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ এবং মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে যান। এই ধারাবাহিক পরিদর্শনের পরবর্তী ধাপে তিনি মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার এবং সরকারি বাংলা কলেজ ঘুরে দেখেন। এরপর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালও পরিদর্শন করেন তিনি।

এই পরিদর্শনের একটি বিশেষ মুহূর্ত ছিল প্রধানমন্ত্রীর তার নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ পরিদর্শন। সেখানে তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিশেষ বক্তব্য রাখেন এবং একটি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা ও দেশজুড়ে বেশি বেশি গাছ লাগানোর উদাত্ত আহ্বান জানান। এরপর তিনি ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিদর্শন করেন।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আকস্মিক পরিদর্শনের সময় অনেক স্থানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার বড় ধরনের ঘাটতি দেখে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের সময় বেঁধে দেন। এর আগে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল পরিদর্শনকালে হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন তিনি।

পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ধূমপানরত অবস্থায় দেখতে পান প্রধানমন্ত্রী। সে সময় ওই চিকিৎসকের কক্ষের ভেতরের পরিবেশও অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। এই গুরুতর অনিয়মের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন, যার ফলশ্রুতিতে অভিযুক্ত চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর বাইরে মিরপুর-১০ নম্বরে গিয়ে হকারমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শন করেন তিনি, যেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

এই অভাবনীয় ও আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং পথচলতি মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি, চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বদা অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর তিনি জোরালো গুরুত্বারোপ করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: