ইসরায়েলের সহায়তা প্রস্তাব সৌদি আরবের নেওয়া উচিত: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ১৯:১৯:৩০
ইসরায়েলের সহায়তা প্রস্তাব সৌদি আরবের নেওয়া উচিত: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাত মোকাবিলায় ইসরায়েলের দেওয়া সহায়তার প্রস্তাব সৌদি আরবের গ্রহণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইসরায়েলের এই সহায়তার মনোভাবকে ‘অত্যন্ত সাহায্যকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং একই সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নিকট ভবিষ্যতে রিয়াদ ও জেরুজালেমের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া নতুন করে বেগবান হতে পারে।

গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জর্জিয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। সৌদি আরবের ইসরায়েলি সহায়তা নেওয়া উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান যে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় ইসরায়েল সৌদি আরবকে উল্লেখযোগ্য সহায়তা করতে সক্ষম।

একই সঙ্গে ২০২০ সালের ঐতিহাসিক ‘আব্রাহাম চুক্তি’তে সৌদি আরবের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সৌদি আরব ইসরায়েল ও আমেরিকার সমর্থন পেয়ে সন্তুষ্ট এবং চুক্তি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা এখন আগের চেয়েও অনেক বেশি। এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় প্রতিটি দেশই এখন নানা প্রয়োজনে তাদের কাছে সাহায্য চাইছে।

চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর থেকেই হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামো, তেল ট্যাংকার এবং বিমানবন্দরে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড্ডয়নের অপেক্ষায় থাকা কায়রোগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানের কাছে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে এবং প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন।

ওদিকে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন যে সৌদি জোট সানা, হোদেইদা, মারিবসহ বিভিন্ন স্থানে দুই হাজার চার শরও বেশি বিমান হামলা চালিয়ে সাধারণ বেসামরিক মানুষদের হতাহত করেছে। সৌদি আরবে উদ্ভূত এই টানা সংঘাতের কারণে সেদেশে মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের জন্য আকাশসীমা বন্ধ ও ভ্রমণ সতর্কবার্তা জারি করেছে।

তবে হুথি বাহিনীদের পরিচালিত এই হামলাগুলোতে ইরানের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও সমর্থন রয়েছে বলে রিয়াদ যে অভিযোগ তুলেছে, তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেন যে দীর্ঘদিনের বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ ও অবরোধ কোনো টেকসই সমাধান আনতে পারেনি। ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের সিদ্ধান্তেই সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান যে, সংঘাত থামানোর স্বার্থে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো রাজি থাকলে ইরান যেকোনো ধরনের মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

/আশিক


জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে ফ্রান্স

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ১৭:৫৪:৪৯
জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে ফ্রান্স
ছবি : সংগৃহীত

ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম এবং সরকারি পরিষেবার মান অবনতির প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেছেন। গত শনিবার অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য, বিভিন্ন পেশার শ্রমিক এবং সুপরিচিত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। উন্নত ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা, পর্যাপ্ত উচ্চ মজুরি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দাম কমানো এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়নের দাবিতে মূলত সাধারণ মানুষ একত্রিত হন, যা বর্তমান সরকারের ওপর সামাজিক অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাজধানী প্যারিসে কয়েক শ বিক্ষোভকারী, যাদের অধিকাংশই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গার দু নরড রেলস্টেশনের নিকটবর্তী এলাকায় জড়ো হয়ে প্রধান সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলে, অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করে এবং প্লাস দ্য লা রিপাবলিকসহ গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলের আশপাশের বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধদের একাংশ একটি স্মৃতিস্তম্ভে উঠে পড়ে এবং পুলিশের দিকে জ্বলন্ত ফ্লেয়ার বা অগ্নিসঙ্কেত ছুড়ে মারলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাধ্য হয়ে কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়েও মুখোশধারী বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে একই ধরনের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালের মধ্যেই প্যারিস থেকে অন্তত ৪০ জনকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচালিত তল্লাশির সময় কাছে অস্ত্র বা নিষিদ্ধ সুরক্ষাসামগ্রী রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। দেশজুড়ে চলমান এই ব্যাপক বিক্ষোভ মূলত দেশের তীব্র অর্থনৈতিক সংকট এবং শিক্ষা খাতের দীর্ঘস্থায়ী বিভিন্ন সমস্যার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ‘ইউনিয়ন সাঁদিকাল লিসেয়েন’-এর মতো বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠন বেশ কিছুদিন ধরেই শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ জনাকীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং স্কুলগুলোর জরাজীর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছিল।

শিক্ষার্থীদের এই স্থানীয় আন্দোলন পরবর্তীতে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ও চড়া জ্বালানি মূল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের সঙ্গে একাকার হয়ে যায়। ফলে এতে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন এবং ২০১৮ সালে ফরাসি ভূখণ্ডে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করতে ইচ্ছুক বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীও সমর্থন জুগিয়েছে। চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বিক্ষোভকারীদের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার কড়া তাগিদ দেন।

ওদিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সংঘটিত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মন্তব্য করেন যে, এই অস্থিরতাকে কেবল সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হিসেবে দেখা ভুল হবে, বরং এটি অনেকাংশেই একধরনের শহুরে সহিংসতা। এ সময় তিনি বামপন্থী রাজনৈতিক দল ‘লা ফ্রঁস ইনসুমিজ’ এবং দলটির শীর্ষ নেতা জঁ-লুক মেলঁশোঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের এই পুঞ্জীভূত অসন্তোষকে নিজেদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে অপব্যবহার করার জোরালো অভিযোগ তোলেন। অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে অবিলম্বে সব ধরনের সহিংসতা ও ভাঙচুর বন্ধের আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীদের মূল দাবি ও উদ্বেগগুলো আলোচনার মাধ্যমে নিরসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বিদ্যালয় সরেজমিন পরিদর্শন করেন। অন্যদিকে, অতি ডানপন্থী ‘ন্যাশনাল র‍্যালি’ দলের নেতা জর্দান বারদেলা সামগ্রিক বিক্ষোভের এই অবনতিশীল পরিস্থিতি এবং বামপন্থী নেতা মেলঁশোঁর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সবমিলিয়ে বহুমুখী অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মুখে ফরাসি সরকারের ওপর এই তীব্র গণবিক্ষোভ বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। যদিও সরকার আলোচনার মাধ্যমে খুব দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং জনজীবনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে আসছে, তবুও বিক্ষোভকারীরা পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস, শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবার মান বাড়ানোর দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।

সূত্র: বিবিসি


হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করল ইরানের আইআরজিসি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ১৭:৪৩:৪৫
হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করল ইরানের আইআরজিসি
ছবি : সংগৃহীত

পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযোগকারী অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজ চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি। সাম্প্রতিক সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে একের পর এক তেলবাহী ট্যাংকারে রহস্যজনক হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশটির সামরিক বাহিনী এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) আইআরজিসির নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো দেশেরই কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যদি কোনো জলযান প্রণালি অতিক্রম করার দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের অত্যন্ত কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষা বা সহায়তার ওপর ভরসা করে এই নৌপথ পাড়ি দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করা হবে এবং এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।

এর আগে সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির পানির নিচে পেতে রাখা মাইনের আঘাতে একটি বিশালাকার তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন ধরে যাওয়ার সংবাদ বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। ঠিক তার পরের দিনই সৌদি আরবের সমুদ্রসীমার কাছাকাছি এলাকায় আরও অন্তত দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে। পরপর সংঘটিত এই বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সামগ্রিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরল গ্যাস বিশ্ববাজারে পরিবাহিত হয়। ফলে এই কৌশলগত নৌপথে জাহাজ চলাচল আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ চেইনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

/আশিক


জাহাজে হামলার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৯:০৪:১৬
জাহাজে হামলার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি
ছবি : সংগৃহীত

গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির কাছে গত ২৪ ঘণ্টায় জোড়া কার্গো জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পৃথক হামলায় অজ্ঞাত বস্তু বা প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজ দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর লোহিত সাগর ও সংলগ্ন আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিমজ্জিত হয়। এই মর্মান্তিক ও নাশকতামূলক ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল পরিবহন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বিশালাকার কনটেইনার জাহাজ ‘জিএফএস প্রাইড’ আচমকা প্রজেক্টাইলের আঘাতের শিকার হয়। এতে জাহাজটিতে মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং পরবর্তীতে তা সমুদ্রের পানিতে ডুবে যায় বলে সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি নিশ্চিত করেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জাহাজটির সব নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

সিএনএন কর্তৃক যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, জাহাজটি সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার সময় সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উদগিরণ হচ্ছিল। স্যাটেলাইট চিত্রেও ঘটনাস্থলজুড়ে পণ্যসামগ্রী এবং তেলের বড় স্তর ভাসতে দেখা গেছে। যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি দাবি করেছে যে অননুমোদিত পথে চলার সময় এটি সমুদ্রের মাইন বিস্ফোরণে ডুবেছে, তবে সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা—এটি ড্রোন বা প্রজেক্টাইল হামলার ফল।

অন্যদিকে, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘কেপ দাও’ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) নিশ্চিতকরণ অনুযায়ী বুধবার সাগরে ডুবে যায়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং ওই ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারান। আইএমওর তথ্য মতে, চলতি বছর হরমুজ প্রণালিতে একাধিক জাহাজে নাশকতা চালানো হলেও ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত জোরদার হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় জাহাজ ডুবে যাওয়ার এটি দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঘটনা। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে আন্তর্জাতিক এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও লাফিয়ে বেড়েছে।

সূত্র: সিএনএন


সিরিয়ার দারা প্রদেশে বাড়ি ও গুদামে ইসরায়েলি সেনাদের অগ্নিসংযোগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৮:০২:১৯
সিরিয়ার দারা প্রদেশে বাড়ি ও গুদামে ইসরায়েলি সেনাদের অগ্নিসংযোগ
ছবি : সংগৃহীত

সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের পশ্চিম দারার ওয়াদি আল-রাক্কাদ এলাকায় একটি বাড়ি ও পশুখাদ্য সংরক্ষণের গুদামে অগ্নিসংযোগ করেছে ইসরায়েলি সেনারা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল ইখবারিয়া টিভির খবরে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনারা ওই এলাকায় আকস্মিক অভিযান চালিয়ে একটি আবাসিক বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। পরবর্তীতে বাড়িটিতে এবং তার কাছাকাছি অবস্থিত পশুখাদ্য সংরক্ষণের একটি গুদামে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই আকস্মিক নাশকতার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। পুরো বিষয়টির ওপর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

উল্লেখ্য, সিরিয়ায় বাশার আল আসাদ সরকারের পতনের পর গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে দেশটিতে নিজেদের সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। বিভিন্ন কৌশলগত সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলার পাশাপাশি ইসরায়েল-অধিকৃত গোলান মালভূমির বাফার জোনে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারিত করে চলেছে দেশটি। ইসরায়েলি এই অনধিকার প্রবেশ এবং ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ। দামেস্কের স্পষ্ট অভিযোগ, ইসরায়েলের এই ধরনের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড সরাসরি সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

একই সঙ্গে ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নতা চুক্তিতে নির্ধারিত নির্দিষ্ট অবস্থানে ইসরায়েলি বাহিনীকে অবিলম্বে ফিরে যাওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়ে আসছে সিরিয়া। এদিকে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করার লক্ষে পারস্পরিক সমঝোতা এবং ১৯৭৪ সালের ঐতিহাসিক চুক্তি পুনর্বহালের লক্ষ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় মধ্যস্থতায় দামেস্ক ও তেল আবিবের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: আল-ইখবারিয়া টিভি ও আনাদোলু এজেন্সি


সৌদি আরবে হামলায় ইরাকি ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ২০:০৯:২৯
সৌদি আরবে হামলায় ইরাকি ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশের ওপর হামলা চালানোর জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালিহ আল-জাইদি। গত মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রথমবারের মতো সৌদি আরব সফরে গিয়ে দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।

ইরাকি বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর শান্তি ও নিরাপত্তায় ব্যাঘাত ঘটে—এমন কোনো কর্মকাণ্ড ইরাকের মাটি থেকে হতে দেওয়া হবে না। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সবসময় সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই তাদের মূল নীতি।

এই সফরের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি বড় নিরাপত্তা ঘটনা। গত মাসে সৌদি আরবের প্রধান ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনে যে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল, তা পরবর্তীতে ইরাক থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে নিশ্চিত করা হয়। ওই হামলার জেরে সৌদি আরবকে সাময়িকভাবে তাদের তেল রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হতে হয়েছিল। প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল স্থানান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইনটিতে বর্তমানে পুনরায় তেল সরবরাহ ও কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে এই নাশকতার ঘটনার পরেই ইরাকি প্রধানমন্ত্রী নিজে রিয়াদ সফরে গিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো আগ্রাসন ও হামলা রোধে সৌদি যুবরাজকে দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করলেন।

সূত্র: আল-জাজিরা


মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা দেখছে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৮:৫৬:৪৬
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা দেখছে ইরান
ছবি : সংগৃহীত

সাম্প্রতিক ‘চল্লিশ দিনের যুদ্ধ’-এর পরবর্তী সময়ে নিজেদের অস্ত্রাগারে আরও বেশি উন্নত ও অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র যুক্ত করার বড় দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মহেব্বি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ভবিষ্যতে তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য আগ্রাসনের মুখে ইরান আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি শক্তিশালী ও কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

সাক্ষাৎকারে হোসেইন মহেব্বি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত অবাস্তব ও অযৌক্তিক একটি সিদ্ধান্ত হবে। তবে এরপরেও যুদ্ধের বড় ধরনের ঝুঁকি বা আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এর পেছনের মূল কারণ হিসেবে তিনি মন্তব্য করেন যে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সফলতা অর্জন বা একটি দৃশ্যমান ‘জয়’ দেখানোর জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যেকোনো ধরনের অবিবেচকের মতো হঠকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

ইরান কর্র্তৃক উচ্চারিত এই নতুন ও কঠোর সতর্কবার্তা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আগে থেকেই বিরাজমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পারদকে আরও বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র অত্যন্ত জোরালো ভাষায় জানান যে, দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ড নিরাপত্তা রক্ষায় দেশের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ মাত্রায় প্রস্তুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো সামরিক সংঘাতের সৃষ্টি হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এর জন্য অত্যন্ত চড়া মূল্য ও উপযুক্ত মাশুল গুনতে হবে।

সূত্র: আল-জাজিরা


ইরানে নতুন করে হামলা চালানো এখন উপযুক্ত নয়: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৮:৫১:২০
ইরানে নতুন করে হামলা চালানো এখন উপযুক্ত নয়: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর বিষয়ে নিজের সতর্ক অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানে পুনরায় হামলা চালানো একেবারেই ‘উপযুক্ত নয়’। একই সঙ্গে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, আসন্ন নির্বাচনে তাঁর রাজনৈতিক জোট বিজয়ী হলেও কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভিরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে না।

ইসরায়েলের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘আর্মি রেডিও’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যগুলো করেন। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে এই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইসরায়েলের নির্বাচন এবং এর ঠিক এক সপ্তাহ পর অনুষ্ঠেইয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই সামরিক এই পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে নেতানিয়াহু বেশ আগ্রহী ছিলেন। তবে ওই প্রতিবেদন প্রকাশের মাত্র এক দিন পর নেতানিয়াহুর এই নতুন মন্তব্য সামনে এল, যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই বক্তব্যকে আগের রিপোর্টের সরাসরি বিরোধিতা হিসেবে দেখার আগে সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি।

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু আরও উল্লেখ করেন যে, আসন্ন নির্বাচনে তাঁর জোট জয়লাভ করলেও কট্টরপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বেন-গভির এই পদের প্রতি প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁর একক ইশারায় হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মূল নেতৃত্ব তাঁর নিজের দল ‘লিকুদ পার্টি’র হাতেই ন্যস্ত থাকবে।

নেতানিয়াহুর এই দ্বিমুখী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের ঠিক আগে সম্ভাব্য সরকার গঠন প্রক্রিয়া এবং দেশের অতি সংবেদনশীল মন্ত্রণালয়গুলোর ভবিষ্যৎ দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় ও যৌক্তিকতা নিয়ে তাঁর সংযত মন্তব্য এবং অন্যদিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর কঠোর অবস্থান—এই দুটি বিষয়ই ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের আগের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

আল জাজিরা


সানায় আক্রমণের পাল্টা জবাবে সৌদির ৩ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলার হুশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ২০:১১:০৪
সানায় আক্রমণের পাল্টা জবাবে সৌদির ৩ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলার হুশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের রাজধানী সানার একটি তেল স্থাপনায় বিমান হামলার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থাপনা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হুথিদের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, সৌদি জোট যদি সানায় তাদের ঘোষিত বিমান হামলা বাস্তবায়ন করে, তবে তার উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ইয়েমেনি গোষ্ঠীটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সম্ভাব্য পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রয়েছে সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত জ্বালানি জায়ান্ট আরামকোর সদর দপ্তর, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদস্থ আরামকোর তেল শোধনাগার। সাধারণ মানুষের সুরক্ষার স্বার্থে এই সংবেদনশীল এলাকাগুলো থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

এর আগে সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি সানার উক্ত তেল স্থাপনায় সামরিক অভিযানের কথা জানান এবং সেখানকার বাসিন্দাদের এলাকা ত্যাগ করার বার্তা দেন।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব ও হুথি বাহিনীর মধ্যকার প্রত্যক্ষ সংঘাত এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। এর ধারাবাহিকতায় গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয় রিয়াদ।

এদিকে মঙ্গলবারও রিয়াদ অভিমুখে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়, যা সৌদি জোটের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করার দাবি করেছে। তবে এসব ড্রোন ঠিক কোন লক্ষ্যবস্তুতে কিংবা কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে তুর্কি আল মালিকি বিস্তারিত কিছু জানাননি। সানায় বিমান হামলার তোড়জোড় এবং হুথিদের পাল্টা রিয়াদ-দাম্মামে আক্রমণের সতর্কবার্তায় পুরো অঞ্চলে চরম সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

/আশিক


জনমতের আশঙ্কায় ইসরায়েলি সহায়তা নিতে নারাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১৯:১১:১২
জনমতের আশঙ্কায় ইসরায়েলি সহায়তা নিতে নারাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাতে যৌথভাবে যুক্ত হওয়ার জন্য ইসরায়েলের দেওয়া এক প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। সোমবার হিব্রু ভাষার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে আনাদোলু আরবি।

প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় রিয়াদকে এই প্রস্তাবে রাজি করানোর জোর চেষ্টা চালিয়েছিল তেল আবিব। মূলত হুথিবিরোধী অভিযানে সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সমন্বয় সাধন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির পথ সুগম করাই ছিল ইসরায়েলের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

তবে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের সরাসরি সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়ে একেবারেই আগ্রহী নন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। যুবরাজের ধারণা, ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান না করে তেল আবিবের সঙ্গে হাত মেলালে কিংবা ইসরায়েলের সহায়তায় জোট গড়লে সৌদি আরবসহ পুরো মুসলিম বিশ্বের জনমনে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। সৌদি যুবরাজের এই কঠোর ও নীতিগত আপত্তির কারণে ইয়েমেন ও হুথিবিরোধী কার্যক্রমে ইসরায়েলের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা আপাতত সম্পূর্ণভাবে নাকচ হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রিয়াদ সবসময় বলে আসছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক সমাধান ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে রোববার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের প্রাণঘাতী হামলায় হতাহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদ সবসময় নিরপরাধ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ভয় ও অস্থিতিশীলতা ছড়াতে চায়। একটি শক্তিশালী মধ্যপ্রাচ্য গড়ে তুলতে আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে সব দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি সৌদি আরবে হুথিদের হামলা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। গত শনিবার রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় বিভিন্ন দেশের ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এর পাশাপাশি চলতি অক্টোবর মাসের ৫ তারিখ থেকে সৌদির পাঁচটি বিমানবন্দরে অন্তত ১০টি পৃথক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে এ পর্যন্ত ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন। এসব হামলায় বিমান চলাচলের পাশাপাশি দেশটির অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মূলত গত জুলাই থেকে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ও সৌদি সামরিক বাহিনীর মধ্যে নতুন করে এই তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়, যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে সৌদির বেসামরিক বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলো।

/আশিক

পাঠকের মতামত: