ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যারা: জেনে নিন ৮টি বর্জনীয় শর্ত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৯:২১:২৪
ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যারা: জেনে নিন ৮টি বর্জনীয় শর্ত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের অতি দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় দুই কোটি নারীকে পরিবারপ্রধান হিসেবে মাসিক নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে কর্মসূচির খসড়া এবং উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে। এই নীতিমালার আওতায় সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত বা বর্জনীয় বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে আট ধরনের পরিবার এ সুবিধার আওতার বাইরে থাকবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারের নির্ধারিত প্রক্সি মিনস টেস্ট বা পিএমটি স্কোরের ঊর্ধ্বসীমা অতিক্রম করা সচ্ছল, মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত কোনো পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না। একই সঙ্গে, পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতন-ভাতা পান কিংবা এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী হন, তবে তিনি এ সুবিধা পাবেন না। এ ছাড়া পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অবসরকালীন সুবিধা পেলেও ওই পরিবার এ সুবিধার বাইরে থাকবে, যদিও প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য প্রাপ্ত বিশেষ পেনশনের ক্ষেত্রে এই নিয়মে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং সম্পত্তির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করেও বেশ কিছু পরিবারকে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিবারের কোনো সদস্যের নামে সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে অথবা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ টাকার বেশি স্থায়ী আমানত বা এফডিআর থাকলে তারা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না। পাশাপাশি, পরিবারের যেকোনো সদস্যের নামে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান—যেমন ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, বাস, ট্রাক বা সিএনজিচালিত থ্রি-হুইলার থাকলে পরিবারটি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। একইভাবে, পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিকভাবে নিবন্ধিত হালনাগাদ লাইসেন্স বা ব্যবসা থাকলে এবং নিয়মিত কর প্রদানকারী করযোগ্য আয়ের কেউ পরিবারে থাকলে তারা এ সুবিধা পাবেন না।

জমির মালিকানার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক পাঁচ শূন্য একর বা তার বেশি হলে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে না। এ ছাড়া পরিবারের অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমির বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও এই সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকছে না।

আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্য সম্পূর্ণ নির্ভুল ও স্বচ্ছ রাখতে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই করতে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিআরটিএ, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সরাসরি এপিআই সংযোগ ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে আবেদনকারীর তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। এছাড়া তথ্যে কোনো ধরনের অসংগতি দেখা দিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে আবেদন বাতিল করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে কেবল প্রকৃত ও প্রাপ্য অভাবী পরিবারগুলোই এই সহায়তা লাভ করতে পারে।

/আশিক


শেখ হাসিনা ও বেনজীর আহমেদের বিষয়ে যৌথ তদন্ত দলের কার্যক্রম অব্যাহত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৮:৪৬:১৯
শেখ হাসিনা ও বেনজীর আহমেদের বিষয়ে যৌথ তদন্ত দলের কার্যক্রম অব্যাহত
ছবি : সংগৃহীত

দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রমে কোনো ধরনের ফাইল বা মামলা আটকে নেই এবং পুরো কার্যক্রম নিজস্ব গতিতেই পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ দেশের আলোচিত বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান ও মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দুদকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির মহাপরিচালক।

ব্রিফিংয়ে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৪১ দিনের ব্যবধানে কমিশন মোট ১২১টি নতুন মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে। একই সময়ের মধ্যে ৬১টি মামলার অভিযোগপত্র বা চার্জশিটও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সারা দেশজুড়ে দুর্নীতি দমনে ৬১টি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। আদালতের মাধ্যমে মোট ৬৮টি নথির বিপরীতে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং তা অবরুদ্ধ করার আইনি অনুমোদন পাওয়া গেছে। এমনকি আলোচিত দুর্নীতির অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২২ জন ব্যক্তির বিদেশ গমনেও নিষেধাজ্ঞা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে সংস্থাটি।

সাংবাদিকরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলমান মামলার সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, এসব উচ্চপর্যায়ের বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্তের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। যৌথ তদন্ত দল বা জেআইটির (JIT) মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগের সুনির্দিষ্ট অনুসন্ধান ও আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং জেআইটির সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটর করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অনুসন্ধান ও তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও সাক্ষ্যগ্রহণ করছেন। আইনের বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই প্রতিটি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানের সুনির্দিষ্ট কোনো বড় অগ্রগতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি জানান যে এ বিষয়ে একেকটি অনুসন্ধানের দায়িত্বে পৃথক কর্মকর্তারা নিয়োজিত আছেন এবং তাঁদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তা পরে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

সাংবাদিকরা এ সময় প্রশ্ন তোলেন যে দুদক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলমান রাখবে, কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তর যদি কেবল ‘কার্যক্রম চলমান’ হয় তবে মামলার সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হয় না। এর জবাবে মহাপরিচালক মন্তব্য করেন যে বর্তমান কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণের সময় খুব বেশি দিন হয়নি, সবেমাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময় পার হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সংস্থাটি যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য কাজ সম্পন্ন করেছে, মূলত সেই পরিসংখ্যানই সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে এবং কমিশনের আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, বিদেশে পালিয়ে থাকা সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ফিরিয়ে আনার কার্যক্রমও চলমান। কেবল দুদক একা নয়, এর সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও গভীরভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এসব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে এবং দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি ঘটলেই তা গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।

/আশিক


সিকা সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করল বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৮:২৮:৪০
সিকা সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করল বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল
ছবি : সংগৃহীত

আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত কনফারেন্স অন ইন্টারঅ্যাকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার্স ইন এশিয়ার (সিকা) সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে সম্মেলন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাকুতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট তাঁর ভাষণ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল প্রতিবাদস্বরূপ সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও এই ওয়াকআউটে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সম্পূর্ণ বয়কট করেন। উল্লেখ্য, এশিয়া অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতা, পারস্পরিক নিরাপত্তা এবং আস্থা বৃদ্ধির বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে আজারবাইজানের রাজধানীতে বর্তমানে এই সপ্তম সিকা শীর্ষ সম্মেলনটি চলছে।

/আশিক


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে নতুন কমিটি গঠন সরকারের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৮:০৭:৫৯
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে নতুন কমিটি গঠন সরকারের
ছবি : সংগৃহীত

শের বিমানবন্দরগুলোর সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও আধুনিক ও উন্নত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। গত ১৩ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নবগঠিত এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। কমিটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ সরকারের নিকট জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, বিমানবাহিনী প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কমিটি প্রয়োজনে সভা করতে পারবে এবং প্রয়োজনবোধে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও তাদের রয়েছে। পাশাপাশি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এই কমিটিকে সার্বিক সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। দেশের বিমানবন্দরগুলোর বিদ্যমান নিরাপত্তার পরিস্থিতি গভীরভাবে মূল্যায়ন করে তা আরও সুদৃঢ় করার রূপরেখা তৈরি করতেই মূলত এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

/আশিক


সৌদিগামী প্রবাসীদের জন্য বিকল্প যাত্রাপথের ব্যবস্থা করল বিমান কর্তৃপক্ষ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৭:৫৫:৫৩
সৌদিগামী প্রবাসীদের জন্য বিকল্প যাত্রাপথের ব্যবস্থা করল বিমান কর্তৃপক্ষ
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা থেকে দাম্মাম এবং রিয়াদগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সকল ফ্লাইট আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থাটি। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্মানিত যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে স্থগিত হওয়া এসব ফ্লাইটের পরবর্তী আপডেট ও নতুন সময়সূচি সম্পর্কে যথাসময়ে যাত্রীদের অবহিত করা হবে।

জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীদের যাতায়াত সচল রাখতে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যাত্রীরা চাইলে জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন এবং বাংলাদেশেও ফিরে আসতে পারবেন। বর্তমান পরিস্থিতি ও অতিরিক্ত চাহিদা বিবেচনা করে মদিনা রুটে ছোট উড়োজাহাজের পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ সংযোজন করা হয়েছে, যার ফলে প্রতিটি ফ্লাইটে ১৪৮টি আসন বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, জেদ্দা রুটেও অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। টিকিট পরিবর্তন ও ভ্রমণসংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজনে যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেলস সেন্টারে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

/আশিক


নেপালি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণে নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ২১:০৩:৫৪
নেপালি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণে নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা
ছবি : সংগৃহীত

আগামী মাসে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পর নেপালের হিমালয়া এয়ারলাইন্স সেখানে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই প্রত্যাশার কথা জানান।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হলে নেপালি পর্যটকদের সরাসরি বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের এই শহরে ভ্রমণের দারুণ সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দুই দেশের মধ্যকার পর্যটন সহযোগিতায় এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এই প্রেক্ষাপটেই তিনি হিমালয়া এয়ারলাইন্সকে কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, বৈঠকে নেপালি পক্ষ থেকেও ঢাকা-পোখারা রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর বিষয়ে জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি আকাশপথে যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় দুই দেশের পর্যটক বিনিময় বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং পর্যটন প্রসারে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। পরিশেষে, আকাশপথের এই যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের অংশীদারত্ব সুদৃঢ় হলে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে উভয়পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।

/আশিক


সৌদি বিমানবন্দরে হামলার জেরে ঢাকা থেকে ১০০ ফ্লাইট বাতিল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৯:৫৮:০৬
সৌদি বিমানবন্দরে হামলার জেরে ঢাকা থেকে ১০০ ফ্লাইট বাতিল
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ফাইল ছবি

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত ঢাকা থেকে মোট ১০০টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, এই ফ্লাইটগুলোর মাধ্যমে ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী ভ্রমণের কথা ছিল। ফ্লাইট বাতিলের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা, যার মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে থাকা প্রবাসী কর্মীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া এই ১০০টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪১টি সরাসরি এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের সাতটি রয়েছে। বর্তমানে ঢাকা থেকে রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দায় সরাসরি এবং ট্রানজিটের মাধ্যমে ফ্লাইট চলাচল করে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মাম রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে। তবে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণ সচল রয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্সগুলো বিকল্প বিমানবন্দরের মাধ্যমে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হলেও তা সম্পূর্ণভাবে বিকল্প ফ্লাইটে আসন খালি থাকার ওপর নির্ভর করছে। ফলে টিকিট পরিবর্তন করেও অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রা নিশ্চিত করতে পারছেন না। এয়ারলাইন্সগুলো টিকিটের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে রিয়াদ ও দাম্মামের যাত্রীদের মদিনা ও জেদ্দা বিমানবন্দরে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে। তবে নতুন রুটে আসনসংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে যেসব প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষের পথে, তাদের বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিমানের কোনো ফ্লাইটে আসন খালি না রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে মাঝে মাঝে ওভারবুকিংয়ের পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে। বিমান সংশ্লিষ্টরা জানান, ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পরও কয়েকজন যাত্রীকে ফিরিয়ে আনার ঘটনা ঘটেছে, তবে পরবর্তীতে তাদের আবার সৌদি আরবে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগের থেকেই এসব রুটে যাত্রীদের বুকিং থাকায় বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের নতুন আসন বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা কাটানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৯:২৬:৩৬
ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
ছবি : সংগৃহীত

সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, এ ধরনের মহতী প্রচেষ্টা সমাজে অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করবে।

বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নিজ নিজ কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এই সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সাক্ষাৎকালে অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বাংলাদেশ গঠনে এ ধরনের মানুষদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের অনন্য কাজের প্রশংসা করেন, কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেন এবং প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এই তিন ব্যক্তির মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পাশ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ। বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী এবং পরবর্তীতে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা পদে নিয়োজিত ছিলেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে তিনি শিক্ষকতায় আসেন। গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত এই শিক্ষক শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে নানা ধরনের শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে আসছেন।

অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং তাঁর দুই হাত নেই। তবে অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পা দিয়ে লেখা শিখে ২০০৭ সালে তিনি নরসিংদীর পাঁচদোনা এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’। নিজের জমানো টাকা ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং ১০ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। তিনি নিজেই পা দিয়ে বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা ও লেখালেখির কাজ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর গল্প শুনে বিদ্যালয়টির জন্য নতুন একটি ভবন তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সাক্ষাৎ করা তৃতীয় ব্যক্তি হলেন ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল, যিনি দীর্ঘ তিন দশক ধরে নিজ উদ্যোগে এলাকা জুড়ে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন। পেশায় একজন ইমাম হওয়া সত্ত্বেও তিনি পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রথমে একটি নার্সারি গড়ে তোলেন এবং পরবর্তীতে নিজের অর্থ ও শ্রমে বিভিন্ন রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ করেন। তাঁর লাগানো এসব গাছ এখন পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি পথচারীদের ছায়া জোগাচ্ছে।

/আশিক


ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যুক্ত হচ্ছে জনপ্রিয় ট্রেন ‘মহানগর এক্সপ্রেস’

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৭:২০:০৮
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যুক্ত হচ্ছে জনপ্রিয় ট্রেন ‘মহানগর এক্সপ্রেস’
ছবি : সংগৃহীত

পর্যটনপ্রেমীদের জন্য একটি দারুণ সুসংবাদ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। দেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজারের সঙ্গে যাতায়াত আরও সহজ ও যুগোপযোগী করতে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যুক্ত হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় ট্রেন ‘মহানগর এক্সপ্রেস’। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে এই বর্ধিত সেবা চালুর সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ সফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ বা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’-এর মতো মহানগর এক্সপ্রেস সরাসরি বা বিরতিহীনভাবে চলাচল করবে না। এটি যাত্রাপথে বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে যাত্রাবিরতি নেবে, যার ফলে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের যাত্রীরা কোনো ধরনের ট্রেন পরিবর্তন করার ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি কক্সবাজারে যাতায়াত করার দারুণ সুযোগ পাবেন।

নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রতিদিন রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজারে পৌঁছাবে। অপরদিকে, ৭২১ নম্বর ট্রেনটি সকাল ৮টায় কক্সবাজার থেকে রওনা দিয়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে এবং সেখানে যাত্রাবিরতি শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় এসে পৌঁছাবে।

নতুন এই যাত্রাপথে ট্রেনটি নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট এবং ফেনী জংশন বা স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। তবে নতুন এই সূচি অনুযায়ী ট্রেনটি আর চট্টগ্রামের কুমিরা স্টেশনে থামবে না।

যাত্রীদের দীর্ঘপথের যাতায়াত আরও আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে এই ট্রেনে শোভন চেয়ারের পাশাপাশি স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার), এসি সিট এবং এসি বার্থ-এর আধুনিক সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে পর্যটকরা তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী সহজেই সিট বা বার্থ বেছে নিতে পারবেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ‘সৈকত এক্সপ্রেস’ ও ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ নিয়মিতভাবে চলাচল করছে। এর সঙ্গে নতুন করে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ যুক্ত হওয়ায় দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও গতিশীল ও সহজতর হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

/আশিক


অপারেশন ক্লিন হার্ট বা বিশেষ কোনো যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৭:১৪:৫০
অপারেশন ক্লিন হার্ট বা বিশেষ কোনো যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বক্তব্য দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : সংগৃহীত

অপারেশন ক্লিন হার্টের আদলে বিশেষ কোনো যৌথ অভিযান পরিচালনার আপাতত সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং আসামি গ্রেপ্তারে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে বা অপরাধীদের সহায়তা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন্সে সিআইডির সাইবার কার্যালয় ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আধুনিক যুগে অপরাধের প্রকৃতি বদলানোর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। সাইবার স্পেসের অপব্যবহার করে ডিজিটাল জালিয়াতি, স্ক্যাম এবং স্টক মার্কেট ম্যানিপুলেশনের মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এই ধরনের সাইবার অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই। এই অপরাধ মোকাবিলায় গত ১ অক্টোবর থেকে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পুলিশ সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রামে সিআইডির নতুন এই সাইবার কার্যালয় ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এবং কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কয়কা) সহযোগিতা করেছে। এই প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় দেশের বাকি সাতটি বিভাগীয় সদরেও খুব দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

মন্ত্রী আরও জানান, বিচারপ্রক্রিয়ায় মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ত্বরান্বিত করতে এবং নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করতে এই আধুনিক ল্যাবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পর্যায়ক্রমে কেন্দ্র থেকে শুরু করে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল অপরাধ বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের ধরতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝেমধ্যে হামলার শিকার হলেও অপরাধ দমনের কার্যক্রম থেকে পিছু হটবে না সরকার। আসামি গ্রেপ্তারে বাধা প্রদানকারী বা আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: