‘যত খুশি পুলিশ মোতায়েন করুন, আমরা পিছু হটব না’: মোদিকে রাহুল গান্ধীর চরম চ্যালেঞ্জ

ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী তরুণ সমাজকে আন্দোলন ও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আন্দোলন দমনে যত পুলিশই মোতায়েন করা হোক বা যত নেতাকর্মীকেই আটক করা হোক না কেন, কংগ্রেস বা আন্দোলনকারীরা কোনোভাবেই পিছু হটবে না।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় রাহুল গান্ধী নিজের এই কঠোর মনোভাব তুলে ধরেন। নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে তিনি লেখেন, মোদি যেন তাঁর ইচ্ছামতো পদক্ষেপ নেন। সরকার চাইলে ১০ হাজার, ২০ হাজার কিংবা ৫০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করতে পারে এবং সব নেতা ও তরুণদের গ্রেপ্তার করতে পারে। এমনকি বিরোধীদের সবাইকে গ্রেপ্তার করলেও আন্দোলন থামবে না বলে তিনি জানান।
বার্তায় রাহুল গান্ধী আরও উল্লেখ করেন, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে আসছেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার আলোকেই প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক চাল ও কর্মকৌশল সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট ও গভীর ধারণা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কংগ্রেসের এই প্রভাবশালী নেতা অভিযোগ তোলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক ভীতি কাজ করছে। তাঁর ভাষ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল রাজনৈতিকভাবে চরম চাপে রয়েছেন। বিরোধীদের নিরবচ্ছিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের ফলেই তাঁদের প্রভাব ও কার্যক্রম দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
/আশিক
পতনের দ্বারপ্রান্তে মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক আচরণ ও পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তাঁর সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে—এমন মন্তব্য করেছেন নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল। দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে আয়োজিত বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তীব্র আক্রমণ শানান।
সংবাদ সম্মেলনে কে সি বেণুগোপাল অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যৌথভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাদের এই কৌশল সরকারের শেষ রক্ষা করতে পারবে না এবং এটিই তাদের পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন যে, মোদি সরকার বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভয় পায়; আর সেই ভয়ের কারণেই রাজধানী দিল্লি ও মুম্বাইসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা, কঠোর পুলিশি নিরাপত্তা এবং নির্বিচারে আটকের মতো দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জনগণের সাংবিধানিক ভোটাধিকার রক্ষা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবিতে আগামী সোমবার দিল্লিতে একটি বৃহৎ বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। এর অংশ হিসেবে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যেই ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি, আগামী সোমবার এই দাবির সপক্ষে দেশের প্রধান বিচারপতির (সিজেআই) সঙ্গেও তাদের সাক্ষাতের কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নির্বাচন ব্যবস্থার পূর্ণ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত বিরোধী দলগুলোর এই আন্দোলন সর্বস্তরে অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা।
সূত্র: রেডিফ
ভোটাধিকার রক্ষায় দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিল ইন্ডিয়া জোট
মানুষের সাংবিধানিক ভোটাধিকার রক্ষা ও নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আরও একটি বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’। শনিবার কেরালার আলপ্পুঝায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, সংবিধান ও জনগণের ভোটের অধিকার সুরক্ষার এই চলমান লড়াইয়ের অংশ হিসেবে আগামী সোমবার দিল্লিতে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। এই ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করতে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা ইতিমধ্যে দেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও তাদের দেখা করার কথা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কঠোর সমালোচনা করেন বেণুগোপাল। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনারকে বাঁচানোর এই অপচেষ্টাই বর্তমান সরকারের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনকে সরকার ভয় পাচ্ছে দাবি করে কংগ্রেসের এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সিজেপির শনিবারের পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পণ্ড করতে রাজধানীতে রীতিমতো লকডাউন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং সারা দেশের সঙ্গে দিল্লির রেল যোগাযোগ সীমিত করার পাশাপাশি হাজার হাজার সশস্ত্র পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোট এই আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া কেরালার ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার ওপর দলের কড়া নজরদারি এবং নির্বাচন কমিশনের প্যাডে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দলীয় প্রতীক ফুটে ওঠার মতো সাম্প্রতিক ন্যাক্কারজনক বিতর্কের বিষয়টিও তিনি গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
/আশিক
নরেন্দ্র মোদি জরুরি অবস্থাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন: অভিজিৎ দীপ
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ দমন করতে নয়াদিল্লিতে নজিরবিহীন পুলিশি কড়াকড়ি ও ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনকারীরা এই পরিস্থিতিকে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনের পাশাপাশি ভিন্নমত ও তরুণদের কণ্ঠরোধ করতে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিক্ষোভের ডাক দেওয়া সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে অভিযোগ করেন যে, নরেন্দ্র মোদি সরকার দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ফিরিয়ে এনেছেন। তবে ভীতি প্রদর্শন করে তরুণদের আন্দোলন থেকে সরিয়ে রাখা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সুরে বামপন্থী ছাত্রসংগঠন এআইএসএ-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাও বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিকে ব্রিটিশ আমলের দমনপীড়নের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কড়াকড়ি সত্ত্বেও বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণ ও সাধারণ মানুষ ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সাধারণ নাগরিকদের একাংশ এই পুলিশি ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে বলেন যে রাজধানীতে শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতাই আজ বিপন্ন।
দিল্লির পাশাপাশি উত্তর প্রদেশসহ অন্যান্য রাজ্যেও আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হয়রানি ও নজরদারির অভিযোগ উঠেছে। এসএফআইয়ের এক জেলা সমন্বয়ককে গভীর রাতে পুলিশি হুমকির মুখে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও সামনে এসেছে। মূল বিরোধের সূত্রপাত মূলত ভোটার তালিকা সংশোধন ও ডেটাবেস পরিবর্তন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্য দুই কমিশনারের উদ্বেগ উপেক্ষা করার অভিযোগ রয়েছে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে, যা বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
/আশিক
ভারতের রাজধানীতে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ব্যাপক ধরপাকড়
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে রাজধানী দিল্লি জুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। পূর্বানুমতি না থাকার কারণ দেখিয়ে যন্তর মন্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় হাজার হাজার আন্দোলনকারীকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই এবং দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর পর্যন্ত দিল্লিজুড়ে প্রায় পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শুক্রবার রাত থেকেই দিল্লির যন্তর মন্তরের অভিমুখে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ছাত্রনেতা, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও সাধারণ নাগরিকরা। শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছানো মাত্রই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, এআইএসএর কেন্দ্রীয় সভাপতি নেহা বোরা, জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ বহু শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
আটকদের তালিকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। সিজেপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও রত্না সিং এবং ইনফ্লুয়েন্সার কাব্য কর্ণাটক পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। এছাড়াও কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, নেতা এমভি গোবিন্দন মাস্টার, এ বিজয়রাঘবন, কে কে শৈলজা, জন ব্রিটাস, কে এন বালাগোপাল, বৃন্দা কারাত এবং মুম্বাইয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র ও ‘হাম ভারত কে লগ’ সংগঠনের সভাপতি তুষার গান্ধীকেও আটক করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নয়াদিল্লি জেলাকে মোট ২০টি অপারেশনাল জোনে বিভক্ত করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রতিটি জোনের জন্য আলাদা আটক কেন্দ্র নির্ধারণ করার পাশাপাশি রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী জেলখানায় রূপান্তরিত করা হয়েছে, যেখানে আটককৃতদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
/আশিক
যন্তর মন্তরে তুলকালাম: পুলিশি বাধা ঠেলে রাজপথে ধর্নায় রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
দিল্লির রাজপথে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিরোধী জোটের আন্দোলনে চরম উত্তাপ তৈরি হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং 'ইন্ডিয়া' জোটের একাধিক শীর্ষ নেতাকে টেনে-হিঁচড়ে সরিয়ে দেয় দিল্লি পুলিশ। একপর্যায়ে তাদের আটক করে বাসে তোলা হলেও পরিস্থিতি আরও তীব্র আকার ধারণ করে। নেতারা বাস থেকে নেমে মাঝরাস্তায় অবস্থান ধর্মঘটে বসে পড়েন। মূলত ভোটার তালিকা সংশোধনের তীব্র প্রতিবাদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্তের দাবিতে টানা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার সময় এই আটকের ঘটনা ঘটে। রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সেখানে অবস্থান ধরে রেখে অনড় থাকেন এবং পুলিশের বারবার দেওয়া অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।
এর আগে গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে 'ভোট চুরি'র মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এনে আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে জনপথের সাগর রত্ন রেস্তোরাঁয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আমন্ত্রণে বৈঠকে বসেন 'ইন্ডিয়া' জোটের প্রবীণ সাংসদেরা। খাড়গে সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন, মোদি সরকার ও নির্বাচন কমিশন দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস করছে এবং তারা এই ইস্যুটি রাজপথ হয়ে জনগণের কাছে নিয়ে যাবেন। মধ্যাহ্নভোজ ও কৌশল নির্ধারণ শেষে প্রায় ৩০০ জন সাংসদ যন্তর মন্তরের উদ্দেশ্যে বাসে চড়ে রওয়ানা হলেও পুলিশ আগে থেকেই সব রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পথ রোধ করে। দিল্লি পুলিশের পক্ষে দাবি করা হয়, যন্তর মন্তরে কর্মসূচির জন্য অন্তত ১০ দিন আগে আগাম অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিরোধীরা কোনো অনুমতি গ্রহণ করেননি।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ জোরপূর্বক রাহুল গান্ধীসহ নেতাদের বাসে তোলে। কিন্তু পুলিশ অন্য সাংসদদের আটক করতে গেলে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাসহ অন্য শীর্ষ নেতারা দ্রুত বাস থেকে নেমে রাস্তায় বসে পড়েন। এ সময় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, জ্ঞানেশ কুমার ভারতের কোনো বৈধ নির্বাচন কমিশনার নন; প্রধানমন্ত্রী মোদি, অমিত শাহ ও মোহন ভাগবতের সঙ্গে মিলে তিনি দেশের নির্বাচনী নিরাপত্তাকে বিপন্ন করেছেন। আগের দিনের আটের ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচির জেরে মামলা হওয়া প্রসঙ্গে ঠাট্টা করে লোকসভার বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ৪৫টি এফআইআর রয়েছে এবং তিনি চান সেই সংখ্যা যেন খুব দ্রুত ১০০-তে পৌঁছায়। সার্বিকভাবে, রাজপথে শীর্ষ নেতাদের এই নজিরবিহীন টানাহেঁচড়া ও দীর্ঘ ধর্নার কারণে দিল্লিতে রাজনৈতিক সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে।
/আশিক
দিল্লিতে ফের বড় ধরনের রাজনৈতিক উত্তাপ ও বিক্ষোভ
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়াদিল্লি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে অনিয়মসহ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে শনিবারও (৩ অক্টোবর) রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন আন্দোলনকারীরা।
দিল্লির যন্তর মন্তরের দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের পথ আটকে দেয়। এ সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।
শনিবারের এই প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিল সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠন 'আইসা' (AISA)। শুক্রবারের বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় সংগঠনের নেত্রী নেহা বোরা আন্দোলনকারীদের পুনরায় যন্তর মন্তরে জমায়েত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে শনিবার দুপুর ১টা থেকে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় আইসার নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন।
বিক্ষোভকারীরা যেন কোনোভাবেই যন্তর মন্তরের দিকে এগোতে না পারেন, সেজন্য সকাল থেকেই রাজধানীজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি নয়াদিল্লি এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করে প্রশাসন। পুলিশের পক্ষ থেকে আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, যন্তর মন্তর বা তার আশপাশের এলাকায় কোনো ধরনের মিছিল বা বিক্ষোভের অনুমতি নেই।
তবে পুলিশের নির্দেশ ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে সামনের দিকে এগোতে থাকেন। এই প্রতিবাদ মিছিলে আইনজীবী কপিল সিব্বল ও প্রশান্ত ভূষণসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সংহতি জানিয়ে অংশ নেন। মিছিলটি মাঝপথে পৌঁছালে পুলিশ পথরোধ করে, যার ফলে আন্দোলনকারীদের একাংশ রাস্তায় বসেই প্রতিবাদ শুরু করেন। পরবর্তীতে পুলিশ সেখান থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করে।
এর আগে শুক্রবারও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বড় ধরনের গণবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। আম আদমি পার্টি, কংগ্রেস এবং বামপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা একযোগে রাজপথে নেমে আসেন। সেই বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ রাজধানীর একাধিক স্থানে ব্যারিকেড দেয়, যা নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়। ওই দিন সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতিশী মারলেনা, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং আইসা নেত্রী নেহা বোরাসহ এক হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
আন্দোলনকারীদের প্রধান অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কারণে কমিশনের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে দাবি করে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করলে আগামী ১০ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের কর্মীরা এসে যন্তর মন্তরে আবারও বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবেন। পুলিশ বাধা দিলে যেখানে আটকানো হবে, ঠিক সেখানেই অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হবে বলেও জানান তিনি। ফলে আগামী দিনগুলোতে রাজপথে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক উত্তাপ বজায় থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
/আশিক
স্কুল ভর্তি থেকে জমি কেনাবেচা: রাজ্যগুলোর কাছে ধর্মভিত্তিক হিসাব তলব ভারতের কমিটির
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত জনসংখ্যা পরিবর্তন পর্যালোচনা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটি রাজ্যগুলোর কাছে নাগরিকদের ধর্মভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে। সাবেক বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলকরের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি সম্প্রতি রাজ্য সরকারগুলোর কাছে ৩৫ দফার একটি প্রশ্নাবলি পাঠিয়েছে, যেখানে বিগত ১৫ বছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি, গাড়ি বেচাকেনা, জন্ম নিবন্ধন এবং জমি ও সম্পত্তি হস্তান্তরের মতো ক্ষেত্রগুলোতে ধর্ম অনুযায়ী পৃথক হিসাব চাওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মান্তরসংক্রান্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদন, বিভিন্ন জেলায় উপাসনালয়ের তালিকা এবং আধার, ভোটার কিংবা রেশন কার্ডের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রশাসনিক স্তরে এ ধরনের তথ্য ধর্মভিত্তিকভাবে আলাদা করার প্রচলিত কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এত বিপুল ও জটিল পরিসংখ্যান সরবরাহ করা কার্যত অসম্ভব বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজ্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বিরোধী দল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। দলটির বর্ষীয়ান নেতা জয়রাম রমেশ বিষয়টিকে একটি খারাপ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মসূচি হিসেবে আখ্যায়িত করে অভিযোগ করেন, কমিটির আগে থেকেই নির্ধারিত একটি পক্ষপাতদুষ্ট লক্ষ্য রয়েছে এবং হয়তো চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগেই তৈরি করে রাখা হয়েছে। জনসংখ্যা রূপান্তর পর্যালোচনার আড়ালে বিশেষ কোনো সম্প্রদায় ও সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও হেনস্তা করতেই এমন তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করে বিরোধী শিবির।
অন্যদিকে, দেশের স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলোতে ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তনের ওপর নজরদারি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতোমধ্যেই এই কমিটির কাজ দ্রুত শেষ করতে গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বিরোধীদের মূল আশঙ্কা, নিরপেক্ষ পর্যালোচনার দোহাই দিয়ে শিক্ষা, সম্পত্তি হস্তান্তর ও নাগরিক সেবার মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে, যা সীমান্তবর্তী অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের স্বাভাবিক অধিকারকে সংকুচিত করার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে।
/আশিক
সন্ত্রাসবাদের সাথে বন্ধুত্ব চলতে পারে না: জাতিসংঘে পাকিস্তানকে জয়শঙ্করের তোপ
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিক চর্চাকারী’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র আক্রমণ চালিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বিশ্বমঞ্চে নাম না নিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ না হলে প্রতিবেশীদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সুসম্পর্ক বজায় থাকা সম্ভব নয়।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে জয়শঙ্কর আগের দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দেওয়া ভাষণের কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসবাদের চর্চা করে বিশ্ব দরবারে তথ্য বিকৃত করে উপস্থাপন করছে এবং সন্ত্রাসকে একটি স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এর দায় থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ভারত নিজের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জনগণের সুরক্ষায় আত্মরক্ষার অধিকার পূর্ণমাত্রায় প্রয়োগ করবে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদকে সরাসরি হুমকি উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, যেসব রাষ্ট্র বা সরকার সরাসরি সন্ত্রাসবাদে মদদ জোগায়, তাদের আন্তর্জাতিক কাঠামোর আওতায় এনে কঠোর জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে। এর পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের মূল চালিকাশক্তি অর্থাৎ অর্থনৈতিক অর্থায়নের পথগুলো চিহ্নিত করে তা চিরতরে বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ২০২৫ সালের মে মাসে সংঘটিত ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি ভারতের চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’-কে একটি মিথ্যা অজুহাতে বহিরাগত আক্রমণ বলে দাবি করেন এবং পাকিস্তানের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপকে জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদের আওতায় আত্মরক্ষা হিসেবে উপস্থাপন করেন। শেহবাজ এই সংঘাত বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতা ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পাহালগামে ২৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার পর ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়েছিল ভারত। তবে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার দাবি শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে ভারত জানিয়েছে, দুই দেশের সামরিক উচ্চপর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই কেবল যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
সূত্র: এনডিটিভি
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের বিষয়ে যা জানাল নয়াদিল্লি
আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশগ্রহণ করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নতুন তথ্য নেই বলে স্পষ্ট করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে এবারের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার দিনক্ষণ নির্ধারিত রয়েছে। সম্মেলনের বর্ধিত আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত এই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ভারত সফরে যাচ্ছেন কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এই সম্ভাব্য সফর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জয়সোয়াল জানান, এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানানোর মতো নতুন কোনো অগ্রগতি বা হালনাগাদ তথ্য তাঁর হাতে নেই।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে দৃশ্যমান টানাপোড়েন তৈরি হয়। বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে দফায় দফায় প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এই প্রত্যর্পণ ইস্যুতে এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক এক বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়—সেখানে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর কিংবা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট আলোচনা হয়েছে কি না। জবাবে জয়সোয়াল স্পষ্ট করেন, বৈঠকটি ছিল মূলত একটি আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ। সেখানে মূলত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্কের নানাদিক, দুই ভূখণ্ডের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতি এবং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কীভাবে আরও ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সেসব বিষয় নিয়েই মতবিনিময় হয়েছে। এ ছাড়া টানা দুই বছর বন্ধ থাকার পর আগামী অক্টোবর মাস থেকে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল পুনরায় সচল হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মুখপাত্র জানান, এ সংক্রান্ত বিষয়েও তাঁর কাছে তাৎক্ষণিক কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ‘যত খুশি পুলিশ মোতায়েন করুন, আমরা পিছু হটব না’: মোদিকে রাহুল গান্ধীর চরম চ্যালেঞ্জ
- ‘মোদির পতন দেখার অপেক্ষায় আছি’: মোদির বিদায় নিয়ে আসিফ নজরুলের পোস্ট
- রোমান সম্রাটের নতিস্বীকারের ইতিহাস টেনে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম হুঁশিয়ারি ইরানের
- মন ভালো রাখতে দৈনন্দিন জীবনে যে ছোট্ট পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি
- পর্দার পেছনের অভিনব কায়দা নিয়ে এল নতুন প্ল্যাটফর্ম
- নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার
- মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্যে জানা গেল রোজা শুরুর সম্ভাব্য সময়
- রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান দুর্বল করতে ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী
- পতনের দ্বারপ্রান্তে মোদি
- বিশ্বমানের কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি করেও নোবেল না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ
- ভোটাধিকার রক্ষায় দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিল ইন্ডিয়া জোট
- রাজশাহীর পুঠিয়ায় স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে
- মেগা প্রকল্পের অংশীদার জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ঘোষণা
- নরেন্দ্র মোদি জরুরি অবস্থাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন: অভিজিৎ দীপ
- ভারতের রাজধানীতে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ব্যাপক ধরপাকড়
- গড়াই নদীতে আবরার ফাহাদের নামে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- চম্পাফুলে তরুণ দলের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও আমের চারা বিতরণ
- বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় অস্থিরতা: রেকর্ড বাড়ল তেলের দাম
- আমরা ভারতবিরোধী নই, আধিপত্যবাদের বিরোধী: আসিফ মাহমুদ
- জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পথে রূপপুরের প্রথম ইউনিট
- রাজনৈতিক ভাষণে স্ত্রীর দেয়া বিশেষ বার্তার কথা ফাঁশ করলেন ট্রাম্প
- ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও রিজভীউল হাসান মুন্সী
- ভারতীয় চলচ্চিত্রে গভীর শোকের ছায়া: হঠাৎ থমকে গেল এক রূপালী পথচলা
- বিশ্বজুড়ে মহাবিপর্যয়ের সংকেত: সতর্কবার্তা দিল জাতিসংঘ
- আবহাওয়া দপ্তরের নতুন পূর্বাভাস: বর্ষার শেষে বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটুকু?
- ইতালিয়ান ফুটবলে কিংবদন্তি তারকার নতুন অধ্যায়: সূচি নিয়ে জল্পনা
- এলপিজি আমদানিতে ফ্রেইট চার্জের নাটকীয়তা: বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বিপিসি
- শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যে বড় পদক্ষেপ: দুই মাসে দেশজুড়ে ১ হাজার খেলার মাঠের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- ঢাবিতে শান্তি বৈঠক রূপ নিল সংঘর্ষে: সূর্যসেন ও জহুরুল হক হলের ৪ জন গুরুতর আহত
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর নির্দেশ গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর
- আবরার হত্যার আসামিদের আইনজীবী শিশির মনিরকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাশেদ খাঁন
- রমজানে পণ্য সংকটের আশঙ্কা নেই: পর্যাপ্ত আমদানির আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর
- চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত
- বিশ্বসাহিত্যের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করল সুইডিশ একাডেমি
- ১১ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আভাস: নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে ফোনালাপে মিলিত হলেন দুই বিশ্বনেতা
- ধর্ম-বর্ণ যেন নাগরিকের অধিকার ও সুযোগের বাধা না হয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছাবে সরকার: এক বছরব্যাপী ক্যাম্পেইনের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
- উচ্চদক্ষ প্রবাসীদের জন্য বড় স্বস্তি: কাজের ভিসার সাথেই মিলবে সৌদি পরিবারের এন্ট্রি ভিসা
- আবরারের রক্তে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য ও গণপ্রতিরোধের জন্ম: রুহুল কবির রিজভী
- আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এক যুগের অবসান ঘিরে দেশে দেশে আবেগের ঢল
- যন্তর মন্তরে তুলকালাম: পুলিশি বাধা ঠেলে রাজপথে ধর্নায় রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
- চিকিৎসা জার্নালে পুষ্টি ও লিভারের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন গবেষণা প্রকাশ
- রিয়াল মাদ্রিদের অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিয়ে স্প্যানিশ গণমাধ্যমের নতুন খবর
- গুহাবাড়ির কঠিন লড়াই থেকে লাল চীনের মসনদ: শি জিনপিংয়ের ক্ষমতার রূপকথা
- জ্বালানি খাতে বিইআরসির নতুন দর পুনর্নির্ধারণের ঘোষণা
- জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন অগ্রগতি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ
- তিন বছর ধরে জ্বলছে গাজা: ৭ অক্টোবরের হামলার বার্ষিকীতে শোক ও অস্থিরতা
- ফেডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিশ্ববাজার: দরপতনের মুখে স্বর্ণের দাম
- দেশে মূল্যস্ফীতি ও মজুরি হারের নতুন তথ্য প্রকাশ করল বিবিএস
- দলীয় পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা: আখতারুজ্জামানকে নেতা মানতে রাজি নয় জামায়াত
- ষড় ঋতুর পালাক্রমের ছোঁয়ায় কুবিতে শীতের আগমনী বার্তা
- ভারতের সাথে গঙ্গার পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে, সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা
- বয়স বাড়লেই বাড়ে ঝুঁকি, জেনে নিন প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মূল কারণ ও প্রতিকার
- যন্তর মন্তরে তুলকালাম: পুলিশি বাধা ঠেলে রাজপথে ধর্নায় রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
- দক্ষিণ এশিয়ার মাটিতে বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা
- পূর্ণ ক্ষমতায় রামপালের দুই ইউনিট, জাতীয় গ্রিডে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ
- সপ্তাহজুড়ে ধারাবাহিক ওঠানামার পর স্বর্ণের বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী
- প্রতিটি জেলা ও সিটি কর্পোরেশনে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ডিজিটাল হচ্ছে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন
- কুষ্টিয়ায় লালন শাহের মাজারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা
- কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, থানায় এজাহার দিতে গিয়ে অবরুদ্ধ এনসিপি
- মোস্তাফিজের বাজে ওভার ও অদ্ভুত কৌশলগত ভুলে ক্ষুব্ধ ক্রিকেট অঙ্গন
- শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কড়া বার্তা
- ৫২ বছর পর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মাননা পেলেন গাইবান্ধার 'এক টাকার শিক্ষক' লুৎফুর রহমান








