১ আগস্ট থেকে অনলাইনে বয়স্ক-প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন, জানুন নিয়ম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নতুন উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির আবেদন আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে গ্রহণ করা হবে। এ উপলক্ষে পুরো জুলাই মাসজুড়ে দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদফতর।
সমাজসেবা অধিদফতরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা থেকে ৩০ জুন জারি করা এক প্রশাসনিক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। নির্দেশনাটি দেশের আটটি বিভাগ—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহের বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে, যাতে মাঠপর্যায়ে আবেদন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলোর যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় শর্ত সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা পরিচালনা করা হবে। এরপর ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম dss.bhata.gov.bd/online-application-এর মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে।
সমাজসেবা অধিদফতর জানিয়েছে, আবেদনকারীদের অবশ্যই নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানার ভিত্তিতে আবেদন করতে হবে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ভাতার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নামে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে নিবন্ধিত একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর, ব্যক্তিগত মোবাইল আর্থিক সেবার (MFS) হিসাব অথবা নিজস্ব ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রদান করতে হবে। ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করলে যোগাযোগের জন্য একটি কার্যকর মোবাইল নম্বরও যুক্ত করতে হবে।
অধিদফতর আরও স্পষ্ট করেছে, বর্তমানে যারা অন্য কোনো নিয়মিত সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন, তারা নতুন করে এই কর্মসূচিগুলোর জন্য নির্বাচনের সুযোগ পাবেন না। একই সঙ্গে যারা পূর্ববর্তী সময়ে অনলাইনে আবেদন করে অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন, তাদের পুনরায় আবেদন করার প্রয়োজন হবে না; আগের আবেদনই বিবেচনায় থাকবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে আবেদন ও বাছাই প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হচ্ছে। এর ফলে আবেদন গ্রহণ, তথ্য যাচাই, উপকারভোগী নির্বাচন এবং ভাতা বিতরণ—সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা জালিয়াতি, দ্বৈত আবেদন ও অনিয়ম কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি সহায়তা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
-রফিক
৩ মাসের মধ্যে দেশ থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাতের ঘোষণা চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির
আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশ থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। কিশোরদের পথভ্রষ্টতা ও অপরাধ থেকে ফিরিয়ে লেখাপড়া এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এক ছায়া সংসদ বিতর্কে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, কিশোর গ্যাং কালচারের পেছনে যারা মদদদাতা বা তথাকথিত ‘বড় ভাই’ হিসেবে পৃষ্ঠপোষকতা জোগায়, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধীর ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্ষমতার রদবদলের সুযোগে অপরাধীরা রাজনৈতিক পরিচয় বদলে অপরাধ করার চেষ্টা করে, যা রোধে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ঢালাওভাবে সরকারের ওপর দায় না চাপিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি কিশোরদের হাতে অস্ত্রের বদলে বই এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবটিকসের মতো আধুনিক প্রযুক্তি তুলে দেওয়ার তাগিদ দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি কিশোর অপরাধ রোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়ে সামাজিক আন্দোলনই অধিক কার্যকর’ শীর্ষক এই ছায়া সংসদে সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিতার্কিক দল বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
/আশিক
ইউরেনিয়াম নিয়ে ঢাকার পথে রাশিয়ার বিশেষ বিমান
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম পারমাণবিক জ্বালানিবাহী একটি বিশেষ কার্গো বিমান রাশিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে পৌঁছানোর কথা থাকলেও ফ্লাইট সময় পরিবর্তন করে রাত সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ করার কথা রয়েছে। বিকেলে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সকল নিয়ম মেনে সংবেদনশীল এই জ্বালানি রূপপুর প্রকল্পে স্থানান্তরের জন্য সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও রসাটম সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে উড্ডয়ন করা এই বিশেষ বিমানটি কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে। রাতেই বিমানবন্দরে অবতরণের পর শনিবার ভোরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কঠোর ও সুসংহত নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামের এই চালান সড়কপথে সরাসরি পাবনার রূপপুরে নিয়ে যাওয়া হবে। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম তিন বছর রাশিয়া থেকে এই জ্বালানি সরবরাহ করা হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুরের দুটি ইউনিটের জন্য মোট ৯টি কার্গোতে পারমাণবিক জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
দুটি ইউনিটে ২,৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা সম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যেই প্রাথমিক জ্বালানি লোড করা হয়েছে এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য কারিগরি প্রস্তুতি চলছে। অতি সম্প্রতি সেফটি ভালভের ত্রুটি সফলভাবে মেরামতের পর চূড়ান্ত পরীক্ষার ধাপগুলো সম্পন্ন হলে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
/আশিক
‘স্বৈরাচার ও গুপ্ত দল আবার এক হয়েছে’: ফেনী থেকে সতর্ক করলেন তারেক রহমান
দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে ‘স্বৈরাচার ও গুপ্ত দল আবার এক হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-পুরোহিতসহ ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সম্মানী ও বিভিন্ন সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সমাজকল্যাণ, কৃষি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় ভাতা প্রদান কার্যক্রমও উদ্বোধন করেন তিনি।
‘এক দফা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আসলে কী চায়?’
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল ‘এক দফা, এক দফা’ বলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু তারা আসলে কী চায়, সেটি জনগণের কাছে স্পষ্ট নয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, যারা গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে গেছে এবং যারা এখন এক দফার কথা বলছে, তাদের কাছে প্রশ্ন রাখতে হবে, তারা দেশের উন্নয়ন চায় কি না।
তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের সমর্থন নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। অন্য রাজনৈতিক শক্তিগুলো কী চায়, সেটিও জনগণের সামনে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
নির্বাচনের আগে একটি দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দল ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রি করেছিল। অথচ বেহেশত ও দোজখের মালিক একমাত্র আল্লাহ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘শিরক ও মুনাফেকি’ কি না, সে প্রশ্নও উপস্থিত জনতার কাছে রাখেন তিনি।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মী মামলা, হামলা ও গুমের শিকার হয়েছেন। সেই সময়ে যারা নীরব ছিলেন, তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
‘তারা ৭১-এর ভূমিকায় ফিরে গেছে’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তারা ৭১-এর ভূমিকায় ফিরে গেছে। মনে রাখতে হবে, মানুষ জীবন ও ইজ্জত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে।”
তার দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে গণতন্ত্রের কার্যকর চর্চা না থাকায় উন্নয়নের গতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশের ২০ কোটি মানুষের ‘৪০ কোটি হাতকে’ কর্মক্ষম শক্তিতে পরিণত করতে চায়।
উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থিতিশীল পরিবেশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি যখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, দেশ ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছে। এখন সময় সামনে এগিয়ে যাওয়ার। সেজন্য অনুকূল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ প্রয়োজন।
কেউ যেন অযথা পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে না পারে এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও সহায়তা কর্মসূচির সুবিধা দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ পাচ্ছে।
ফেনী ‘নিজের বাড়ি’, বললেন প্রধানমন্ত্রী
বক্তব্যের শুরুতে ফেনীর সঙ্গে নিজের পারিবারিক ও আবেগের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ফেনীতে এসে তিনি উৎফুল্ল এবং জায়গাটিকে নিজের বাড়ির মতো মনে হচ্ছে। তার মা-বাবা কেউই এখন বেঁচে নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফেনী তার মায়ের বাড়ি, নানার বাড়ি। তাই ফেনীবাসী তার আপনজন ও অভিভাবক।
এ সময় উপস্থিত জনতা হাত তুলে তাকে সমর্থন জানান।
কৃষক কার্ড থেকে ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী
অনুষ্ঠান থেকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতসহ ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান এবং ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ফেনী জেলায় পাঁচ হাজার ৬৪৩ জন কৃষককে কার্ড দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এক হাজার ১২ জন কৃষক। তাদের মধ্য থেকে ১০ জন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি কৃষক কার্ড গ্রহণ করেন।
জেলার বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও সেবায়েতদের জন্যও সম্মানী ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফেনীতে এ কর্মসূচির আওতায় ২৭৫ জনকে মনোনীত করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাদের মধ্য থেকে ছয়জন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম, দুজন সেবায়েত এবং দুজন পুরোহিত প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি সম্মানী গ্রহণ করেন।
১,৫৪২ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধন
দিনব্যাপী ফেনী সফরের শুরুতে দুপুরে পরশুরামে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বৃষ্টির মধ্যেই ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। প্রকল্পটির মোট ব্যয় এক হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৮ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প উদ্বোধনের পর নদীপাড়ে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
‘দল যার, দেশটা সবার’
পরশুরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, জনবহুল একটি দেশে কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডকে পুঁজি করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এর ফলে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্টদের তার দায় নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ডে শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
দেশকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষায় ১৯৭১ এবং ১৯৮৬ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা জনগণের সামনে তুলে ধরার কথাও বলেন তিনি।
অরাজকতা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “দল যার, দেশটা সবার।”
গণতান্ত্রিক ধারা ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অপপ্রচারের বিরুদ্ধেও জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দয়া করে আগে নিজের ঘর সামলান, পরে অন্যদের নসিয়ত করুন।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১৫০ শয্যার
স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ নিয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদের মধ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ের এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষকদের জন্য সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকার গঠনের পর বিএনপি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এতে সরকারের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও দেশের ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
৩৪ হাজার হেক্টর জমি আসবে আবাদের আওতায়
মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে অনেকাংশে সুরক্ষা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে নতুন করে প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমি আবাদের আওতায় আসবে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন বছরে প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন বাড়বে। উৎপাদন বাড়লে কৃষিপণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে খাদ্যশস্য রাখা সহজ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি
পরশুরামের কর্মসূচি শেষে ফুলগাজীতে প্রতিষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিএনপির পূর্ববর্তী সরকারগুলোর বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ২০০১ সালে বিএনপি তৃতীয়বার সরকার গঠনের পর পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সরকারের সময় দেশ ‘নকলমুক্ত’ হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বেগম খালেদা জিয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত মহিলা কলেজটি জাতীয়করণের দাবি জানান। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কলেজটি জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এর সঙ্গে ভালো ও গুণগত ফলাফল অর্জনের শর্তও দেন তিনি। পরে কলেজ মাঠে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তারেক রহমান।
সফরে ছিলেন যারা
প্রধানমন্ত্রীর ফেনীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড জাহিদ হোসেন, কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ এয়াছিন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল এবং ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এলপিজি আমদানি পর্যাপ্ত, তবু ১৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২৯০০: গ্যাস গেল কোথায়?
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) আমদানিতে দৃশ্যত কোনো ঘাটতি নেই। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর, টানা দুই মাসেই চাহিদা মেটানোর মতো এলপিজি দেশে এসেছে। অথচ খুচরা বাজারে তৈরি হয়েছে তীব্র সংকট। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত এক হাজার ৫৮৫ টাকার ১২ কেজির সিলিন্ডার কোথাও কোথাও বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ৯০০ টাকায়। অনেক দোকানে আবার ক্রেতাকে বলা হচ্ছে, সিলিন্ডারই নেই।
আমদানি স্বাভাবিক থাকার পরও বাজারে এমন পরিস্থিতি কেন, সেই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে আসছে সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে মজুত, অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টা এবং আসন্ন মূল্য ঘোষণাকে ঘিরে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা। তবে এর দায় কার, তা নিয়ে অপারেটর, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা একে অপরের দিকে আঙুল তুলছেন।
দুই মাসে ৩ লাখ ১৩ হাজার টন আমদানি, তবু সংকট কেন?
বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে প্রায় এক লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আগস্টে আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় এক লাখ ৫৭ হাজার টন। অর্থাৎ দুই মাসে মোট প্রায় তিন লাখ ১৩ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে।
এই পরিসংখ্যান বিবেচনায় আমদানি ঘাটতির কারণে বাজারে বর্তমান সংকট হওয়ার কথা নয় বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
বিইআরসি সাধারণত প্রতি মাসের ২ তারিখে এলপিজির নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম ঘোষণার ঠিক আগে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রশ্ন উঠেছে, পরবর্তী মাসে দাম বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশা থেকে কোনো পর্যায়ে সিলিন্ডার আটকে রাখা হচ্ছে কি না।
বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মো. মিজানুর রহমানও বলেছেন, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দুই মাসেই পর্যাপ্ত এলপিজি আমদানি হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি থাকার কথা নয়।
তার মতে, মাসের শেষ দিকে কোনো কোনো ব্যবসায়ী মনে করতে পারেন, সামনে দাম বাড়লে বর্তমান মজুত পরে বিক্রি করলে বেশি লাভ হবে। যদিও পরবর্তী মাসে দাম বাড়বে নাকি কমবে, তা আগে থেকে নিশ্চিত নয়। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস (Saudi CP), জাহাজ ভাড়াসহ কয়েকটি উপাদানের ওপর দেশের এলপিজির মূল্য নির্ভর করে।
১,৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২,৯০০ টাকা
বাজারের বাস্তবতা অবশ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মূল্য থেকে অনেক দূরে। ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য এক হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তা দুই হাজার ৭০০, দুই হাজার ৮০০ এমনকি দুই হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্রেতাকে প্রায় ৮৩ শতাংশ বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, বেশি দাম দিয়েও সব জায়গায় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো বিক্রেতা দোকান বন্ধ রাখছেন। আবার কোনো দোকানে প্রথমে ‘সিলিন্ডার নেই’ বলা হলেও বেশি দাম দিতে রাজি হলে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা।
রাজধানীর আজিমপুরের বাসিন্দা সোনিয়া পারভীন জানান, আগে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে যে সিলিন্ডার কেনা যেত, এখন সেটির জন্য দুই হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ৯০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। তার অভিযোগ, দোকানে প্রথমে সিলিন্ডার নেই বলা হলেও বেশি দাম দিলে তা পাওয়া যাচ্ছে।
কলাবাগানের বাসিন্দা মো. আমিনুরের অভিজ্ঞতাও একই। বাসাবাড়িতে নিয়মিত পাইপলাইনের গ্যাস না থাকায় রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভর করতে হয় তাকে। এখন রান্নার গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় অন্যান্য নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পরিবারের ওপর নতুন আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারাও কিনছেন চড়া দামে
অস্বাভাবিক দামের জন্য শুধু খুচরা বিক্রেতাদের দায়ী করতে নারাজ ব্যবসায়ীরা।
হাতিরপুলের এক খুচরা বিক্রেতা ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার ৯০০ টাকা দাবি করে বলেন, তারাই দুই হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনছেন। ফলে কিছু লাভ রেখে বিক্রি করতে গেলে দুই হাজার ৯০০ টাকা নিতে হচ্ছে।
ধানমন্ডির আরেক খুচরা ব্যবসায়ীর দাবি, মূল সমস্যা ডিলার পর্যায়ে। ডিলারদের কাছ থেকে নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। ফলে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে সিলিন্ডারই পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দোকান বন্ধ রেখেও কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ বহন করতে হচ্ছে।
এখানেই তৈরি হয়েছে সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আমদানি যদি পর্যাপ্ত হয় এবং অপারেটর পর্যায়েও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, তাহলে ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই সিলিন্ডারের দাম এতটা বেড়ে যাচ্ছে কীভাবে?
অপারেটরদের দাবি, সমস্যা খুচরা বাজারে
বাংলাদেশ এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (লোয়াব) সভাপতি এবং ডেল্টা এলপি গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক অবশ্য সংকটের জন্য খুচরা পর্যায়কে দায়ী করেছেন।
তার দাবি, এলপিজি আমদানি কমেনি। খুচরা বিক্রেতাদের একটি অংশ বাজারে সমস্যা তৈরি করছেন। প্রশাসন কয়েকদিন কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলেও মনে করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কোনো এলপিজি অপারেটর নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করলে এবং তার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের লাইসেন্স বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা ডিলার পর্যায়েই বেশি দাম দিচ্ছেন। ফলে সংকটের উৎস নিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।
নতুন দাম ঘোষণার আগে মজুতের আশঙ্কা
বিইআরসির কর্মকর্তাদের বক্তব্যে আরেকটি সম্ভাব্য কারণ সামনে এসেছে। প্রতি মাসের ২ তারিখে নতুন মূল্য ঘোষণার আগে বাজারের কোনো কোনো অংশে সিলিন্ডার ধরে রাখার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
পরবর্তী মূল্য যদি বাড়ে, তাহলে বর্তমান মজুত নতুন ও বেশি দামে বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা করা সম্ভব। ফলে মূল্য ঘোষণার ঠিক আগের কয়েকদিন বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অর্থনৈতিক প্রণোদনা থাকে।
তবে বিইআরসি বলছে, নতুন দাম বাড়বে না কমবে, সেটি আগেভাগে নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক বাজারের সৌদি সিপি, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য মূল্য উপাদানের ভিত্তিতে নতুন দাম নির্ধারিত হয়।
বিইআরসি বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে। এর আগে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য গঠিত কমিটিকেও আবার সক্রিয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের বাজার তদারকি করতে বলা হয়েছে।
ক্যাবের প্রশ্ন, ব্যবস্থা কোথায়?
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা অবশ্য শুধু বাজার মনিটরিংয়ের আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলমের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির দায় বিইআরসি এড়াতে পারে না।
তার বক্তব্য, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মূল্য অমান্য করে যারা অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কার্যকর প্রয়োগ না থাকায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে।
পাইপলাইনে গ্যাস নেই, এলপিজিতেও স্বস্তি নেই
বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে সাধারণ পরিবারের ওপর। রাজধানীর বহু এলাকায় পাইপলাইনে নিয়মিত গ্যাস পাওয়া যায় না। ফলে রান্নার জন্য এলপিজি এখন অনেক পরিবারের বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য জ্বালানি।
এমন পরিস্থিতিতে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য নির্ধারিত দামের চেয়ে এক হাজার থেকে এক হাজার ৩০০ টাকারও বেশি অতিরিক্ত ব্যয় করতে হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেটে বড় ধাক্কা লাগে।
বিশেষ করে খাদ্যসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে রান্নার জ্বালানির এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে।
আমদানি আছে, তাহলে গ্যাস কোথায়?
এলপিজি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই শুধু ‘সংকট’ শব্দটি দিয়ে সমস্যার ব্যাখ্যা করা কঠিন। কারণ আমদানির পরিসংখ্যান বলছে দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি এসেছে। অপারেটররাও বলছেন আমদানিতে সমস্যা নেই। অথচ খুচরা বিক্রেতারা বলছেন তারা সিলিন্ডার পাচ্ছেন না অথবা অনেক বেশি দামে কিনছেন। অন্যদিকে ভোক্তারা নির্ধারিত মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ দাম দিয়েও সিলিন্ডার পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।
ফলে এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে, আমদানি থেকে অপারেটর, ডিলার, পরিবেশক হয়ে খুচরা বাজার পর্যন্ত সরবরাহ শৃঙ্খলের ঠিক কোন পর্যায়ে স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে?
বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য থাকার পরও যদি ভোক্তার কাছে তা না পৌঁছায়, তাহলে শুধু নতুন মূল্য ঘোষণা কিংবা সাময়িক অভিযান দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে কি না, সেই প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে মূল্য ও মজুতের তথ্য নজরদারির আওতায় আনা এবং নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শেষ পর্যন্ত এর মূল্য দিতে হবে সাধারণ ভোক্তাকেই।
চলতি বছর ৪৩ লাখ কৃষক পাবেন ‘কৃষক কার্ড’ ও প্রণোদনা: কৃষি মন্ত্রী
চলতি বছরের মধ্যে দেশের মোট ৪৩ লাখ কৃষকের তথ্য নিয়ে ডাটাবেজ তৈরি সম্পন্ন করে তাঁদের কাছে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। পাইলট পর্বের উদ্বোধনী দিনেই এক লাখ ৪৭ জন কৃষক কৃষি উপকরণ ক্রয় বাবদ সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক প্রণোদনা পাবেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যক্তিবর্গের সম্মানী প্রদান’ অনুষ্ঠানের ভেন্যু পরিদর্শন শেষে এক সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
কৃষি মন্ত্রী জানান, প্রাক-পাইলটিং সফলতার মুখ দেখার পর পাইলট ধাপে প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে এই বিশেষ সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আগামী কাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) উদ্বোধনী দিনে সারা দেশের নির্ধারিত কৃষকদের পাশাপাশি কেবল ফেনী জেলারই ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক তাঁদের মুদ্রিত ‘কৃষক কার্ড’ হাতে পাবেন। আগামীকালের মূল উদ্বোধনী আয়োজনে দেশের ৫৬টি জেলার মোট ৭৭টি উপজেলা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত থাকবে, যার মধ্যে ১৩টি উপজেলার সঙ্গে সরাসরি দ্বিমুখী সম্প্রচার অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি এই সহায়তার লক্ষ্য হলো কৃষকদের কৃষি উপকরণ ক্রয় সহজ করা এবং আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের শতভাগ প্রকৃত কৃষকের কাছে এই স্মার্ট ডিজিটাল কার্ড পৌঁছে দেওয়া।
অনুষ্ঠানের সার্বিক রূপরেখা ও প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিরলস সমন্বয়ে সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম এবং ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
সূত্র: বাসস
দেশে এলপিজি গ্যাসের ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট রোধে ডিসিদের কড়া নির্দেশ
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সামগ্রিক সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তবে কিছু সুনির্দিষ্ট এলাকায় পর্যাপ্ত সরবরাহের স্বল্পতা রয়েছে বলে মাঠপর্যায় থেকে জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি) তাকে অবহিত করেছেন।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এলপি গ্যাসের সংকট নিয়ে গণমাধ্যমের বিভিন্ন খবর পর্যালোচনা করতেই ডিসিদের সঙ্গে এই বিশেষ মতবিনিময় করা হয়।
ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বাজার স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও কোনো অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে কি না, তা কঠোরভাবে নজরদারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো অঞ্চলে সরবরাহজনিত বড় কোনো সমস্যা দেখা দিলে জেলা প্রশাসকদের সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ দ্রুত মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমদানিকারক ও পরিবেশকদের ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যেসব এলাকায় ঘাটতি রয়েছে সেখানে দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সাথে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী বা অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী।
/আশিক
রাড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুরে এমপি মিষ্টির নাম, তদন্তে অপরাধী মিললে ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুরের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বুধবার সচিবালয়ে সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, বিতর্কিত এই ভাঙচুরের ঘটনায় সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে বা অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে কাউকেই কোনো ধরনের আইনি ছাড় দেওয়া হবে না।
সারাদেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সারাদেশে সক্রিয় চাঁদাবাজসহ চিহ্নিত অপরাধীদের তালিকা নতুন করে হালনাগাদ করছে পুলিশ প্রশাসন। তালিকা ধরে অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে জমি দখল বা চাঁদাবাজির মতো অপরাধে লিপ্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছ সরকার। একই সাথে রাজনৈতিকভাবে ঢালাওভাবে কাউকেই চাঁদাবাজ বলে চিহ্নিত করার প্রবণতার কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
/আশিক
প্রবীণদের বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি ও ফ্যামিলি কার্ডে সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
দেশের প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী কাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বব্যাপী মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে, যা একাধারে সম্ভাবনা সৃষ্টির পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষাবেষ্টনী সময়োপযোগী করার তাগিদ তৈরি করেছে। একটি মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে প্রবীণদের বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণ, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা, প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধার বিস্তার এবং সামাজিক নিরাপত্তাকাঠামো সুসংহত করার জন্য সরকার নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকেই এসব কল্যাণমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের ওপরই আজকের বাংলাদেশের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—তিন স্তরেই তাদের প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি, সহানুভূতি ও সম্মান বজায় রাখার তাগিদ দেন। একই সাথে প্রবীণদের কেবল ঘরে বসিয়ে না রেখে সুস্বাস্থ্য রক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার ওপর জোর দেন তিনি। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আবহমান ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন এবং দেশের সকল প্রবীণ নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
সূত্র: বাসস
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই, রাজনীতি শেষ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ও ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আর কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তার মতে, জনগণের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়া সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আগের বিএনপি সরকারের আমলে গৃহীত ‘কেইপিজেড’ প্রকল্পটি পরবর্তী শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে যথাযথভাবে ব্যবহৃত না হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে দায়ী করেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের হিংসাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি চর্চা বন্ধের ওপর জোর দিয়ে তিনি তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ টি এম আফজলের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারিক পর্যালোচনার উল্লেখ করেন, যেখানে শেখ হাসিনাকে ‘একগুঁয়ে’ বা ‘রং হেডেড’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে অতীতের ভালো উদ্যোগগুলো বন্ধ করে দেওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা থেকে বর্তমান সরকার বের হয়ে আসার চেষ্টা করছে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, অযথা অর্থের অপচয় এড়াতে বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন না করার নীতিই তার প্রমাণ। এছাড়া ভারতে অবস্থানকালে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য বা বৈঠককে মূল্যহীন কাজ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস ও দুর্নীতিতে জড়িত হয়ে জনগণের দ্বারা বিতাড়িত কোনো স্বৈরাচারের পক্ষে পুনরার রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ নেই।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ফেডের সিদ্ধান্তের আগে ডলারের সূচকে পতন, স্বর্ণের বাজারে নতুন মোড়
- ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে ৩৫ যাত্রীকে রক্ষা, প্রাণ গেল চালকের
- লন্ডনে সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের উপস্থিতিতে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময়
- খানাখন্দে ভরা সড়কের দিন শেষ: এমপি হাসনাত আবদুল্লাহর বরাদ্দে পাকা হচ্ছে ইউছুফপুর সড়ক
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ ও মামলা নিয়ে এনসিপি নেতার বিস্ফোরক পোস্ট
- ১৪তম ওয়ানডে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ও ভেন্যু ঘোষণা
- মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে ইয়েমেনে নতুন করে বিমান হামলা শুরু
- 'বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ ঠান্ডা মাথায় ভালো': রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার পর বোনের বিস্ফোরক মন্তব্য
- শপথ নেওয়ার পরের দিনগুলোর বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন ড. আসিফ নজরুল
- ৯টি প্রাকৃতিক সীমানার ৭টিই অতিক্রম করেছে মানুষ, ধেয়ে আসছে অপূরণীয় পরিবেশ বিপর্যয়
- ৩ মাসের মধ্যে দেশ থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাতের ঘোষণা চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির
- জলপথ থেকে আকাশসীমা: ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
- ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা ঘিরে শাশুড়ির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য
- ইউরেনিয়াম নিয়ে ঢাকার পথে রাশিয়ার বিশেষ বিমান
- বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার
- ‘স্বৈরাচার ও গুপ্ত দল আবার এক হয়েছে’: ফেনী থেকে সতর্ক করলেন তারেক রহমান
- এলপিজি আমদানি পর্যাপ্ত, তবু ১৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২৯০০: গ্যাস গেল কোথায়?
- চলতি বছর ৪৩ লাখ কৃষক পাবেন ‘কৃষক কার্ড’ ও প্রণোদনা: কৃষি মন্ত্রী
- জ্বালানি তেলের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি: অক্টোবর মাসের দর ঘোষণা
- স্কুল ভর্তি থেকে জমি কেনাবেচা: রাজ্যগুলোর কাছে ধর্মভিত্তিক হিসাব তলব ভারতের কমিটির
- উচ্ছেদের আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের টেকসই ব্যবস্থার তাগিদ আমীরে জামায়াতের
- দেশে এলপিজি গ্যাসের ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট রোধে ডিসিদের কড়া নির্দেশ
- রাড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুরে এমপি মিষ্টির নাম, তদন্তে অপরাধী মিললে ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- জনপ্রীয়তায় শীর্ষে ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বিশ্বাস
- মধ্যপ্রাচ্য সংকট: তেহরানে পৌঁছাল যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাব
- লাইন পরিবর্তন কাজ: বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় জরুরি বার্তা তিতাসের
- কলকাতায় ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের টিকিটে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ধামাকা অফার
- নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষে প্রথমবার ড্রিলিং, ভূগর্ভে মিলল অস্বাভাবিক বস্তুর সংকেত
- এক দশক পর চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর ও গদর বন্দর ঘিরে নতুন সমীকরণ
- প্রবীণদের বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি ও ফ্যামিলি কার্ডে সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে ব্যবসায়ীদের চাপ, বাণিজ্যমন্ত্রীর অবস্থান পরিষ্কার
- এশিয়ান গেমসে বৃষ্টির থাবা, সেমিফাইনালের আগে নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ
- আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় নতুন মোড়, আদালতে বাদীর বিশেষ আবেদন
- ডলারের দাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে নতুন টানাপোড়েন
- বিইআরসির নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বাড়ল শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম
- শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই, রাজনীতি শেষ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ নীতিতে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশসহ ২০ দেশ
- দলীয় বিবেচনা নয়, সর্বজনীন কল্যাণে কাজ করবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়: মন্ত্রী জাহিদ হোসেন
- সাত মাসের সংঘাত থামাতে সক্রিয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, নতুন আলোচনার ইঙ্গিত
- দাম বাড়তেই তেল সংকট কীভাবে মিটল? বিপিসির ব্যাখ্যায় অসন্তুষ্ট সংসদীয় কমিটি
- সব পক্ষের মতামতেই আসবে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধান সংশোধনী: সালাহউদ্দিন আহমদ
- চরম অর্থনৈতিক সংকটে ইরান, নতুন রেকর্ড স্পর্শ করল দেশটির মুদ্রা
- অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের দিনেও ব্রাজিল শিবিরে নতুন অস্বস্তি
- টানা ৭ দিনের ছুটি পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা, সরকারি চাকরিজীবীদের ৫ দিন
- অ্যাপ ইনস্টল না করেই সাইবার ঝুঁকি এড়ানোর উপায় চালু করল ট্রুকলার
- যুদ্ধ নাকি কূটনীতি? নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে বার্তা দিলেন আব্বাস আরাগচি
- আদালতে আত্মসমর্পণ করে নতুন সিদ্ধান্ত পেলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা
- ২৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক উপদেষ্টাকে দুদকের জরুরি তলব
- সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর নিয়ে গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন নেতানিয়াহু
- আমরা তেল রফতানি করতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যের কেউ বিক্রি করতে পারবে না: ইরান
- ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের আস্থার প্রতীক: গাজী শওকাত হোসেনের পরিবার-সাড়ে পাঁচ দশকের জনসেবা
- ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বার্তা দিল চীন
- পৈতৃক জমির ওপর পিচঢালাই রাস্তার আশঙ্কায় আইনি নোটিশ, যৌথ ভূ-জরিপের দাবি
- বৈশ্বিক সংকট ও জ্বালানি বাজার: কোন পথে বাংলাদেশ ও বিশ্ব?
- জুলাই যোদ্ধা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরে আমরা ব্যথিত: ন্যায়বিচারের আশ্বাস রাশেদ খাঁনের
- ক্রিকেট খেলায় নতুন দিগন্ত: সারা দেশে ট্রায়াল পর্বের সূচনা
- বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- সরকারি কর্মচারীদের সঞ্চয় ও অনুদান তহবিলে নতুন অর্থবছরীয় নির্দেশনা জারি
- জনপ্রীয়তায় শীর্ষে ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বিশ্বাস
- মাথার কাছে মোবাইল রেখে ঘুমানো: ব্রেন টিউমার ও রেডিয়েশন দাবির বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা
- বিশ্বমঞ্চে শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে বিরাট কোহলি
- আমরা জয়ী হয়েছি তবে বিজয় সুসংহত করতে হবে: তেহরানে ইরানি সেনাপ্রধান
- জাতীয় দল ও ইতালিয়ান ক্লাবের টানাপোড়েন: বড় সিদ্ধান্তের মুখে বিশ্বজয়ী তারকা
- এশিয়ান গেমসের নকআউট পর্বের আগে বড় ধাক্কা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে
- জাতীয় নাগরিক পার্টির বড় সিদ্ধান্ত: নতুন জাতীয় দায়িত্বে সারজিস আলম








