ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ নাকচ করলেন নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ১১:৪৩:১৮
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ নাকচ করলেন নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন প্রশ্নে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট করেছেন, পুনরায় ক্ষমতায় ফিরলে ভূমধ্যসাগর থেকে জর্ডান নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ডে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের ধারণাকে তাঁর সরকার সমর্থন করবে না।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি যে জাতীয় সরকারের নেতৃত্ব দিতে চান, তার অন্যতম মূলনীতি হবে দুই রাষ্ট্র সমাধান প্রত্যাখ্যান করা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সমুদ্র ও জর্ডান নদীর মধ্যবর্তী এলাকায় দুই স্বাধীন রাষ্ট্রের সহাবস্থানের কোনো বাস্তব জায়গা নেই।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য নতুন নয়, তবে নির্বাচন সামনে রেখে তা আরও রাজনৈতিক তাৎপর্য পেয়েছে। কারণ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলি রাজনীতি, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে রয়েছে।

নেতানিয়াহুর দাবি, তিন বছর আগে যুদ্ধ শুরুর আগে দুই রাষ্ট্র সমাধান নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে মতভেদ ছিল। তাঁর মতে, তখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইসরায়েলি নাগরিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণাকে সমর্থন করতেন।

তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই জনমত বদলে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন ইসরায়েলি সমাজের বড় অংশের মধ্যে নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন ধরনের জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

তিনি মনে করেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। তাই নির্বাচনে জয়ী হলে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও এই অবস্থান থেকে সরে আসবে না।

নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন গাজা যুদ্ধ, পশ্চিম তীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বন্দি বিনিময়, মানবিক সংকট এবং আঞ্চলিক কূটনীতি ঘিরে ইসরায়েল প্রবল আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে।

দুই রাষ্ট্র সমাধান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ এবং আরব বিশ্বের বড় অংশের কূটনৈতিক অবস্থানের কেন্দ্রে ছিল। এই ধারণার ভিত্তিতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার কথা বলা হয়।

কিন্তু নেতানিয়াহুর বক্তব্য সেই আন্তর্জাতিক কাঠামোকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে। তাঁর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে, নির্বাচনের পর ডানপন্থী ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নীতিই ইসরায়েলের রাজনীতিতে আরও প্রভাবশালী হতে পারে।

এর পাশাপাশি লেবাননের সঙ্গে সই হওয়া ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিকেও বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন নেতানিয়াহু। তিনি এই চুক্তিকে ইসরায়েলের জন্য একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অর্জন বলে বর্ণনা করেছেন।

নেতানিয়াহুর দাবি, লেবাননের সঙ্গে নতুন বোঝাপড়া ইরান ও ইরানসমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর বড় কৌশলগত চাপ তৈরি করেছে। তাঁর মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় সই হওয়া ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির লক্ষ্য হলো লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা, লেবাননের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং হিজবুল্লাহসহ অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণের পথ তৈরি করা।

তবে ইসরায়েলি দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চল। নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী ওই অঞ্চলে অবস্থান বজায় রাখবে।

চুক্তির আওতায় লেবাননের সেনাবাহিনী নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় দায়িত্ব নিতে পারে। তবে ইসরায়েলের অবস্থান হলো, এই প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে হবে এবং হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ভেঙে ফেলার অগ্রগতির ওপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।

নেতানিয়াহু আরও দাবি করেছেন, নতুন বোঝাপড়ার ফলে ইসরায়েল নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে দক্ষিণ লেবাননে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার সুযোগ পেয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যতদিন নিরাপত্তা হুমকি থাকবে, ততদিন ইসরায়েল ওই অঞ্চলে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ রাখবে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক কমাতে সম্মত চীন ও যুক্তরাষ্ট্র: এআই নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংলাপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ১৭:৫৮:০১
৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক কমাতে সম্মত চীন ও যুক্তরাষ্ট্র: এআই নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংলাপ
ছবি : সংগৃহীত

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক উত্তেজনা হ্রাসে ঐতিহাসিক অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। দুই বিশ্ব পরাশক্তি ৩০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পারস্পরিক বাণিজ্য শুল্ক কমানোর বিষয়ে একমত হওয়ার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির উদীয়মান ঝুঁকি ও সম্ভাবনা নিয়ে নতুন দ্বিপাক্ষিক সংলাপ প্রক্রিয়া শুরু করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে গৃহীত আট দফা শীর্ষ চুক্তির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করে নতুন একটি বাণিজ্য পরিষদ গঠন এবং ইতিপূর্বে কুয়ালালামপুরে হওয়া আলোচনার সিদ্ধান্তগুলোকে আরও জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ১০ নভেম্বর দুই দেশের মধ্যকার ঘোষিত বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সম্ভাব্য বড় অর্থনৈতিক চুক্তি বাস্তবায়নের সুবিধার্থে সেই সময়সীমা আরও দুই মাস বাড়ানোর বিষয়ে সম্প্রতি মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট একমত হন।

এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্র পুনর্গঠনে দুই দেশ একটি সমন্বিত আলোচনা কাঠামো চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা আগামী নভেম্বরেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত প্রযুক্তিগত সংকট বা সাইবার ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত নিরসনে একটি ডেডিকেটেড বা পৃথক যোগাযোগের চ্যানেল স্থাপনের বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ফ্রন্টের বাইরেও এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) এবং জি-২০ (G20) সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনে ওয়াশিংটন ও বেইজিং পরস্পরকে পূর্ণ সহায়তা দেবে বলে জানানো হয়।

পররাষ্ট্র নীতি ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির বিচারেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি প্রসঙ্গে দুই নেতাই স্পষ্ট করেন যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে। একই সাথে লোহিত সাগর বা হরমুজ প্রণালির মতো আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর কোনো দেশ বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর একতরফা ট্রানজিট টোল আরোপের ধারণাকে সরাসরি নাকচ করেন তারা। ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব স্মরণ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দুই দেশের মিত্র শক্তির ভূমিকা পুনরুল্লেখের মধ্য দিয়ে তিন দিনের সফর শেষে চিনের প্রেসিডেন্ট বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স


মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার নেপথ্যে চীনা প্রযুক্তি? সিএনএনের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ১৭:৩৪:১৬
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার নেপথ্যে চীনা প্রযুক্তি? সিএনএনের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন
ইরানের হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর স্যাটেলাইট চিত্র। ছবি: রয়টার্স

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের এই প্রযুক্তিগত ও সামরিক নির্ভুলতা বৃদ্ধির পেছনে চীনা বিভিন্ন গোষ্ঠীর সরবরাহ করা উচ্চমানের স্যাটেলাইট ছবি ও ভূ-স্থানিক গোয়েন্দা তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সম্প্রতি তৈরি একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, চীনা স্যাটেলাইটের সরবরাহ করা সুনির্দিষ্ট তথ্য ব্যবহার করে গত জুলাই মাসে জর্ডানের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে হামলা চালায় ইরানি বাহিনী, যাতে তিন জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই ধরনের উচ্চ প্রযুক্তির বাইরের গোয়েন্দা সহায়তা ছাড়া এমন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালানো ইরানের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াতকারী মার্কিন পাহারাদারি জাহাজ ও বাণিজ্যিক নৌযান শনাক্ত করতেও ইরানি বাহিনীকে চীনা জিওস্প্যাশিয়াল ডেটা সাহায্য করছে। এর ফলে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার নিখুঁত সম্ভাবনা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করে আরও জানা গেছে, চীনা ভূ-স্থানিক ডেটা ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান তাপ-অনুসরণকারী এক বিশেষ ধরনের ড্রোন কৌশলগতভাবে প্রয়োগ করছে, যা উড্ডয়নের পর মাঝপথে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। জাহাজগুলো একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পয়েন্টে (যাকে মার্কিন কর্মকর্তারা 'নাকল' হিসেবে অভিহিত করেছেন) পৌঁছানোর সঠিক সময় হিসাব করে একসাথে বিপুল সংখ্যক ড্রোন উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে, যা জাহাজের কাঠামো থেকে নির্গত তাপ শনাক্ত করে আঘাত হানে।

সম্প্রতি লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের এক ডজনের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত এবং প্রায় ২০টি ড্রোন ভূপাতিত করলেও, চীনের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত হয়েছে।

তবে চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতিপূর্বে এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং চীনের স্যাটেলাইট কোম্পানিগুলোর ওপর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। যদিও চীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনে চলার দাবি করেছে এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ইরান সংঘাতের গতিপথ নিয়ন্ত্রণে চীনের কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন।

তবুও দীর্ঘ সাত মাস ধরে চলা এই মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চীন ও রাশিয়ার পরোক্ষ কারিগরি সহায়তায় ইরান যে তাদের ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক হামলা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে শক্তিশালী করেছে—সে বিষয়ে একমত মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র : সিএনএন


হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা মিসরের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ২১:২১:৫৮
হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা মিসরের
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করে দেশটির পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে মিসর। মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। এর আগে সৌদি আরবের সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশে সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

সাক্ষাৎকারে আবদেলাত্তি আরও বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তার বিষয়টি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ এবং যেকোনো সংকটে মিসর সবসময় রিয়াদের পাশেই অবস্থান করবে।

একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়েও কায়রোর শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বদর আবদেলাত্তি জানান, গাজা উপত্যকায় আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে ইসরায়েলের কাছ থেকে গঠনমূলক ও ইতিবাচক পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে মিসর।

তিনি আরও দাবি করেন, আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়ে যথেষ্ট দায়িত্বশীল ও পরিপক্ব অবস্থান গ্রহণ করেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসার দাবিদার।

এছাড়া ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বা উচ্ছেদের যেকোনো চক্রান্তকে মিসরের জন্য একটি স্পষ্ট 'রেড লাইন' বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, কায়রো কখনোই ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত হতে দেবে না।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে যুদ্ধ ভারত মহাসাগরে ছড়ানোর হুমকি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৯:২১:০৩
যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে যুদ্ধ ভারত মহাসাগরে ছড়ানোর হুমকি ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক আক্রমণ চালালে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই সতর্কবার্তা ব্যক্ত করেন। আধা-সরকারি ফার্স বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন যে, সংঘাত ইতোমধ্যে পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে ইরান ও তার মিত্রদের পাল্টা জবাবে সংঘাতের পরিধি ভারত মহাসাগর এবং তারও বাইরের অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।

সম্প্রতি সৌদি জোটের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, যার ফলে বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের অবস্থান রাজনৈতিক ও সামিরকভাবে আরও শক্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, এই প্রণালিটি সুয়েজ খালের মাধ্যমে এশিয়ার সঙ্গে ইউরোপকে সংযুক্তকারী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বাণিজ্য পথ। পশ্চিমাবিশ্ব ও আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ইরান ইয়েমেনের হুতিদের অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা দিচ্ছে, যদিও তেহরান শুরু থেকেই এই সংঘাতে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করে আসছে।

মার্কিন হামলা ঠেকাতে এর আগেও ইরানি প্রশাসনিক ও সামরিক কর্মকর্তারা যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর বিস্তৃত করার হুমকি দিলেও, এবারই প্রথম সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় থেকে সরাসরি ভারত মহাসাগরের ভৌগোলিক অঞ্চলকে সম্ভাব্য যুদ্ধের আওতাভুক্ত করার কথা স্পষ্টভাবে বলা হলো। উল্লেখ্য, ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা ইরান সীমান্ত থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

তবে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই সংঘাত কমানো ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ হিসেবে চলতি সপ্তাহে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিউইয়র্কে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়। উক্ত বৈঠকে অর্থনৈতিক ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবিলম্বে মুক্ত করার শর্ত প্রদান করে তেহরান। এ দিকে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, এই চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় ইয়েমেনের যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের বিষয়টিও তাদের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে টেবিলে রাখা হয়েছে।

/আশিক


হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ দিনের আলটিমেটাম দিল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৯:০৫:৫১
হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ দিনের আলটিমেটাম দিল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক কৌশলগত জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের উত্থাপিত পূর্বশর্ত মেনে নিতে পাঁচ দিনের সময়সীমা বা আলটিমেটাম বেঁধে দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওয়াশিংটন শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে প্রণালিটি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধই থাকবে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমেরিকার সাথে কোনো কূটনৈতিক আলোচনায় বসবে না তেহরান। পাকিস্তানের গণমাধ্যম সামা টিভি এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

মেজর জেনারেল রেজাই দাবি করেন, জাতিসংঘে চলমান আন্তর্জাতিক বৈঠকের সুযোগে আমেরিকার কাছে ইরানের শর্তাবলী আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরিত করা হয়েছে। প্রণালি সচল করার প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বপ্রথমে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তেহরানের দৃষ্টিকোণ থেকে হরমুজ প্রণালি এখন কূটনৈতিক দরকষাকষির মূল হাতিয়ার ও কৌশলগত নিশ্চয়তা হিসেবে কাজ করছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান আর অতীতের শিথিল কূটনৈতিক অবস্থানে ফিরে যাবে না এবং পূর্বে স্বাক্ষরিত 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক'-এর পুরনো শর্তসমূহ গ্রহণ করতে আর বাধ্য নয়। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল মৌখিক আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে কাজের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্যতার প্রমাণ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পাশাপাশি ইরানি আকাশসীমা ও বিমান চলাচলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহায়তাকারী আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোকেও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, যেসব দেশ ইরানি বেসামরিক বা বাণিজ্যিক বিমানকে নিজেদের বিমানবন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেবে না, পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সেসব দেশের বিমানবন্দরগুলো অচলাবস্থায় ফেলে দেবে ইরান। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই নৌপথটি দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক সমুদ্র যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ধস ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুত্র: রয়টার্স


সরকারি নথিতে আর 'এআই' নয়, নাম বদলে 'সুপার ইন্টেলিজেন্স' রাখার ঘোষণা ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ২১:৫৫:১৭
সরকারি নথিতে আর 'এআই' নয়, নাম বদলে 'সুপার ইন্টেলিজেন্স' রাখার ঘোষণা ট্রাম্পের
ছবি : সংগৃহীত

দ্রুত অগ্রসরমাণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক ঝুঁকি মোকাবিলা নিয়ে বিশ্বনেতাদের ব্যাপক আলোচনার মধ্যেই সরকারি যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘এআই’ নাম পরিবর্তন করে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বিশ্বজুড়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া প্রযুক্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন ঘটনা এবং বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের মুখে সাধারণ পরিষদে এআই নিয়ন্ত্রণ একটি প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হলেও ট্রাম্প এই প্রযুক্তির ওপর যেকোনো বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোর বিরোধিতা করেন। তিনি যুক্তি দেন, ‘আর্টিফিশিয়াল’ বা কৃত্রিম শব্দটি এই প্রযুক্তির প্রকৃত সক্ষমতাকে ছোট করে দেখায়, আর তাই ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামটি অনেক বেশি যথার্থ। ট্রাম্প আশা করেন অন্যান্য দেশও এই নাম গ্রহণ করবে। উল্লেখ্য, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের নাম পরিবর্তনের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ—এর আগে তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম ‘গালফ অব আমেরিকা’ এবং অন্টারিও হ্রদের নাম ‘লেক আমেরিকা’ করেছিলেন।

অধিবেশনে ট্রাম্প এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কবার্তাকে জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাসের সঙ্গে তুলনা করে কটাক্ষ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এআই নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গঠিত যেকোনো বৈশ্বিকতাবাদী কাঠামো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি দাবি করেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যারা আগে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, তারাই এখন এআই নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

ইউরোপের প্রধান দেশগুলোসহ ২০টিরও বেশি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা উন্নত এআইয়ের ওপর বাধ্যতামূলক আইনি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানালেও এআই খাতের দুই প্রধান পরাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাতে সায় দেয়নি। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানান, ২০২৭ সালে ব্রিটেন জি-২০ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে এআইয়ের বৈশ্বিক নীতি ও একক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। পাশাপাশি তিনি আমেরিকার সঙ্গে সাইবার ডিফেন্স অংশীদারত্বের ঘোষণাও দেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের আধিপত্যমুক্ত একটি স্বতন্ত্র ও সবার জন্য উন্মুক্ত 'ওপেন সোর্স' এআই ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো দেশেরই বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর দাস বা প্রজা হওয়া উচিত নয়।

এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি বিবেচনা করে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে স্নায়ুযুদ্ধের আদলে দ্বিপক্ষীয় সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে ফরাসি উদ্যোগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এ সংক্রান্ত আলোচনায় ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রপিকের দারিও আমোদেই এবং হাগিং ফেসের ক্লেমঁ দেলাংওয়ে যুক্ত হতে যাচ্ছেন। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের হাই-ভোল্টেজ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও এআই সংক্রান্ত একটি হটলাইন বা যোগাযোগ চ্যানেল তৈরির বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে।

সূত্র: বাসস


'আত্মসমর্পণ করানো অসম্ভব, হাঁটু গেড়ে বসব না': জাতিসংঘে গর্জে উঠলেন পেজেশকিয়ান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ২১:৫১:৫৩
'আত্মসমর্পণ করানো অসম্ভব, হাঁটু গেড়ে বসব না': জাতিসংঘে গর্জে উঠলেন পেজেশকিয়ান
ছবি : সংগৃহীত

ইরান আন্তর্জাতিক কূটনীতির দরজা খোলা রাখতে প্রস্তুত থাকলেও কোনো বহিরাগত চাপের মুখে মাথা নত করবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান, ইরানকে বলপ্রয়োগে বা ভয় দেখিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা অসম্ভব।

পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেন, পশ্চিমারা শেষপর্যন্ত বুঝতে পেরেছে যে ইরানকে কখনোই নতি স্বীকার করানো যাবে না। নিজেদের অবস্থানের স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, ইরান কখনো আগ্রাসী শক্তি হিসেবে কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি, বরং সার্বভৌম মর্যাদা বজায় রেখে সব সময়ই আলোচনার টেবিলে সমাধানের বিষয়ে সদিচ্ছা দেখিয়েছে। তা সত্ত্বেও কোনো ধরনের হুমকি বা রক্তচক্ষুর সামনে তারা কখনো মাথা নত করবে না।

ভাষণের শুরুতেই পেজেশকিয়ান আগের দিন জাতিসংঘে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানকে 'সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক' হিসেবে অভিহিত করার জবাবে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, বাস্তবতা হলো ইরান নিজেই দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি চক্রান্ত ও সন্ত্রাসবাদের প্রধান ভুক্তভোগী।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘে দেওয়া সেই ভাষণে ট্রাম্প ইরানের ওপর যৌথ মার্কিন সামরিক অভিযানের তীব্র সাফাই গেয়ে দাবি করেন, শক্ত সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা থেকে বিরত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ সমঝোতায় না আসলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে পুরোপুরি ‘ধ্বংস করে দেওয়া’র হুমকিমূলক বক্তব্যও প্রদান করেন ট্রাম্প।

সাধারণ পরিষদের বক্তব্য প্রদানকালে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একটি ছবি প্রদর্শনী আকারে তুলে ধরেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় তেহরানের নিজ বাসভবনে প্রাণ হারান খামেনি। ভাষণের একপর্যায়ে মার্কিন হামলায় নিহত বহু নিষ্পাপ ইরানি শিশুর করুণ ছবি তুলে ধরে বৈশ্বিক বিচার দাবি করেন পেজেশকিয়ান।

এদিকে জাতিসংঘ অনুসন্ধানী দল চলতি মাসের শুরুতেই এক স্বাধীন প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের একটি স্কুল ও ক্রীড়া সংস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট আলামত মিলেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।

দেশটির বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তাদের কেবল পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ও প্রযুক্তিগত ব্যবহার প্রয়োজন, কোনো ধ্বংসাত্মক পারমাণবিক বোমা নয়। তিনি আরও যোগ করেন, চিকিৎসাসহ জাতীয় কল্যাণে শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি ইরানের সার্বভৌম উন্নতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদিও পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কৌশলগত সক্ষমতা অর্জন করতে চাইছে।

সূত্র: রয়টার্স


বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস নিয়ে হাই-ভোল্টেজ বৈঠক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৯:১৬:৪১
বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস নিয়ে হাই-ভোল্টেজ বৈঠক
ছবি : সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অভ্যর্থনা জানাতে ওয়াশিংটনে অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন সামরিক আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রায় এক দশক পর শি জিনপিংয়ের এই ঐতিহাসিক মার্কিন সফর ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বয়ং উপস্থিত থেকে তাকে স্বাগত জানাবেন।

হোয়াইট হাউসে প্রায় ৫০০ সামরিক সদস্যের উপস্থিতিতে কুচকাওয়াজ, নজরকাড়া সামরিক ফ্লাইওভার, জমকালো নৈশভোজ ও প্রদর্শনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এশিয়া ট্রাস্টের গবেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বন্ধুভাবাপন্ন বা মিত্র দেশকে এ ধরনের সর্বোচ্চ সামরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান দেওয়া হয়নি, যা প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র চীনের ক্ষেত্রে এক বিরল ঘটনা।

উভয় শীর্ষ নেতার বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ হতে যাওয়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি। ২০১৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ট্রাম্প-শি আলোচনার ভিত্তিতে ওয়াশিংটন অতিরিক্ত শুল্ক স্থগিত রেখেছিল এবং বেইজিং বিরল খনিজ রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল, যার মেয়াদ চলতি বছরের নভেম্বরে শেষ হতে চলেছে। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ইতিমধ্যেই ৯১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করায় এবং সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় নতুন একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্প চীনা আমদানির ওপর কঠোর মনোভাব বজায় রাখার কৌশল নিলেও বেইজিং মার্কিন ব্যবসার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী।

বাণিজ্যিক স্বার্থের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সসহ একাধিক মার্কিন আইনপ্রণেতা ও প্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বিকাশ স্থগিত রাখতে বৈশ্বিক বিরতি চুক্তির দাবি জানালেও, ট্রাম্প এআই ক্ষেত্রে চীনকে পরাজিত করাকে আমেরিকার অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক শক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে দেখছেন। তা সত্ত্বেও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি মোকাবিলায় দুই পক্ষ সীমিত কিছু সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাইওয়ান ইস্যুটি আলোচনার টেবিল গরম রাখবে। মার্কিন কংগ্রেসে পাশ হওয়া কয়েক বিলিয়ন ডলারের তাইওয়ান সামরিক সহায়তা ও অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবটিতে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত স্বাক্ষর না করে তা চীনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ঝুলিয়ে রেখেছেন। অন্যদিকে বেইজিং তাইওয়ানকে নিজ ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ বিবেচনা করায় শি জিনপিং এই সফরের মাধ্যমে মার্কিন অস্ত্র বিক্রয় বিলম্বিত করা বা বাতিল করার লিখিত প্রতিশ্রুতি আদায়ের চেষ্টা করবেন। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক সদস্য ও বিশ্বস্ত সমর্থক চীনের আগ্রাসী নীতি নিয়ে বেশ সংশয়ী, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে পরমাণু শক্তিধর দুই পরাশক্তির প্রত্যক্ষ সংঘাত এড়িয়ে সমঝোতার পথ খুঁজছেন।

সূত্র: বিবিসি


যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল তেহরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৮:৫৯:৫৭
যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল তেহরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সহায়তায় অবরুদ্ধ করা মার্কিন ও ইসরায়েলি বাণিজ্যিক জাহাজ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। আটককৃত এসব জাহাজ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ যুদ্ধবিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষদের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট মনিটর’–এর এক প্রতিবেদনে ইরানের বিচার বিভাগের আইনজীবী কেন্দ্রের প্রধান হাসান আবদোলিয়ানপুরের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'মিজান নিউজ এজেন্সি' জানায়, আদালতের সুনির্দিষ্ট বিচারিক আদেশের ভিত্তিতে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি এবং সংলগ্ন পারস্য উপসাগরীয় জলসীমা থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মালিকানাধীন বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু সমুদ্রগামী বাণিজ্যিক জাহাজ ক্রোক করা হয়েছে।

হাসান আবদোলিয়ানপুর স্পষ্ট জানান, এসব জলযান বিক্রির পুরো অর্থ সাম্প্রতিক সামরিক যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাহায্য ও পুনর্বাসনে ব্যয় করা হবে। তবে অবরুদ্ধ করা নৌযানের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কিংবা নিলামের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি বিচার বিভাগ।

এর পাশাপাশি, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে মার্কিন সামরিক হামলায় কী পরিমাণ অবকাঠামোগত ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পরিমাপের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। দেশটির কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে এই মূল্যায়নের কাজ পরিচালনা করছে বলে উল্লেখ করেন ওই ইরানি কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, ইরানের দাবি অনুযায়ী গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে দেশটির ওপর সামরিক হামলা শুরু করে, যাতে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। জবাবে ইরানও আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সংঘাত চলাকালে বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়লে বৈশ্বিক বাণিজ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

পাঠকের মতামত: