ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও ইরানে হামলার সম্ভাবনা কম: আরাগচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, দেশটির সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আন্দোলন মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণেই সহিংস রূপ নিয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) লেবানন সফরকালে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই দুই দেশ প্রকাশ্যেই বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের প্ররোচনাতেই আন্দোলনের চরিত্র বদলে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে।
আরাগচির মতে, শুরুতে ইরানের জনগণ অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। কিন্তু বিদেশি শক্তি এই স্বাভাবিক অসন্তোষকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন ও তেলআবিব ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে কাজ করছে, যাতে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের হুমকি প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, এসব বক্তব্য সত্ত্বেও ইরানে সরাসরি বিদেশি হামলার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ হিসেবে তিনি অতীতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগের সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের কৌশলগুলো কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইরানে চলমান এই সংকটের সূচনা হয় গত ২৮ ডিসেম্বর। ওই দিন তীব্র মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং জাতীয় মুদ্রার রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে তেহরানের ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটে নামেন। কয়েক দিনের মধ্যেই সেই আন্দোলন দেশটির ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে সরকারের বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ গণআন্দোলনের রূপ নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত করে দেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র ও মার্কিন সাময়িকী টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় ১৩ দিনের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০০ ছাড়িয়েছে, যদিও সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানালেও ইসরাইল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার সতর্ক করে বলেছেন, ইরানি সরকার যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়ন চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে বৈরুত থেকে দেওয়া বক্তব্যে আরাগচি জানান, ইরান যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত এবং দেশের জনগণের মনোবল দৃঢ় রয়েছে। তার ভাষায়, বিদেশি হুমকি বা চাপ ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ভাঙতে পারবে না।
-রফিক
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় অস্থিরতা: রেকর্ড বাড়ল তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মেক্সিকো উপসাগরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা ও মার্কিন জ্বালানি উত্তোলনে বড় ধরনের ধাক্কা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর বরাতে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর দেশটির সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডকে (সেন্টকম) ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নির্বাচনের আগেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে যৌথ হামলা চালানো হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক একাধিক সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটির শীর্ষ নেতৃত্বের উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাকদি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই প্রণালি বন্ধ রাখা হবে।
ভূরাজনৈতিক এই সংকটের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ যুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। মেক্সিকো উপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের আঘাতে সেখানকার মার্কিন তেল ও গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ১১ হাজার ৬১৯ ব্যারেল উত্তোলন বন্ধ রাখতে হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের মোট ক্ষমতার এক-চতুর্থাংশ। শেল ও শেভরনের মতো শীর্ষ সংস্থাগুলো তাদের একাধিক অফশোর স্থাপনায় কার্যক্রম স্থগিত করেছে। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অপরিশোধিত তেলের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এক দিনেই আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪.৪৩ ডলারে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৪.৬ শতাংশ বেড়ে ৯২.৪২ ডলারে পৌঁছেছে।
/আশিক
রাজনৈতিক ভাষণে স্ত্রীর দেয়া বিশেষ বার্তার কথা ফাঁশ করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় নিজের বৈবাহিক জীবনের এক কৌতূহলোদ্দীপক কথা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, দীর্ঘ ২১ বছরের দাম্পত্য সম্পর্কের পর আজও তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প তাঁকে প্রথাগত সম্মান দেখিয়ে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেন, ঠিক যেভাবে সরকারি কর্মচারীরা তাঁর সাথে কথা বলেন। টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল ও রিপাবলিকান পার্টির সিনেট প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের সমর্থনে আয়োজিত এই সমাবেশে ট্রাম্প রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কড়া সমালোচনা করেন।
ভাষণ চলাকালে তিনি ডেমোক্র্যাট দলের সিনেট প্রার্থী জেমস তালারিকোর ওপর আক্রমণাত্মক বক্তব্য রেখে তাঁকে ভিগান (পূর্ণ নিরামিষভোজী) হিসেবে দাবি করেন। তবে তালারিকো ট্রাম্পের এই দাবি শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে ট্রাম্প জানান, তিনি আগে ‘ভিগান’ শব্দটি সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারতেন না এবং মেলানিয়া ট্রাম্পই তাঁর সেই ভুল শুধরে দেন। স্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মেলানিয়া তাঁকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়ে বলেছিলেন, শব্দটির সঠিক উচ্চারণ ‘ভেগান’ নয়, বরং ‘ভিগান’।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় রাজনীতির উত্তাপ ও সাম্প্রতিক জরিপে পিছিয়ে থাকার পটভূমিতে টেক্সাসের সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্যাক্সটনের অবস্থান শক্তিশালী করতেই ট্রাম্পের এই সফর। রাজনৈতিক মঞ্চে টেক্সাস সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী প্যাক্সটনের চেয়ে ৩৭ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী তালারিকো ক্রমাগত এগিয়ে আছেন।
বিপরীতে, তালারিকো নিজের নিরামিষাশী হওয়ার খবর গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সমাবেশে ট্রাম্প ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেন, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে সুবিধা করতে বাধ্য হয়ে আমিষ খাওয়া শুরু করায় এখন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। টেক্সাসের স্যান অ্যান্টোনিওতে গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে এটি ছিল ট্রাম্পের চতুর্থ সফর। সাম্প্রতিক জরিপগুলো যেমন সিয়েনা কলেজের ৫১-৪৫ শতাংশ ব্যবধান কিংবা ফক্স নিউজের ব্যবধানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর এগিয়ে থাকার চিত্র প্রকাশের প্রেক্ষাপটেই এই জোর প্রচারণা চালাচ্ছে রিপাবলিকান শিবির।
সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট
বিশ্বজুড়ে মহাবিপর্যয়ের সংকেত: সতর্কবার্তা দিল জাতিসংঘ
বিশ্বজুড়ে এল নিনোর তীব্রতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এবং এর প্রভাবে বৈশ্বিক আবহাওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মেয়াদের মধ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে রেকর্ড ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাবে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাতের ধরন এবং সামগ্রিক আবহাওয়ায় মারাত্মক পরিবর্তন আসার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ডব্লিউএমওর সাম্প্রতিক ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগামী ডিসেম্বরে চূড়ান্ত রূপ নেওয়ার আগে এই এল নিনো প্রক্রিয়াটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো জানিয়েছেন, এল নিনো ইতোমধ্যেই সক্রিয় হয়ে দ্রুত তীব্র হচ্ছে এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বহাল থাকার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। ভূতাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, এবারের এল নিনোটি ১৯৫০ সালের পর থেকে রেকর্ড করা অন্যতম শক্তিশালী ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে নথিভুক্ত হতে পারে।
প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার এই প্রাকৃতিক ঘটনা বিশ্বজুড়ে খরা ও অতিবৃষ্টির মতো চরম দুর্যোগ ডেকে আনে। এবার প্রাকৃতিকভাবে সমুদ্রের তাপমাত্রা আগে থেকেই উঁচুতে থাকায় বায়ুমণ্ডলে রেকর্ড পরিমাণ তাপ নির্গত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বায়ুমণ্ডলে যে উষ্ণতা তৈরি হয়েছে, তার সাথে শক্তিশালী এল নিনোর যুক্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে চরম খরা, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এবং নজিরবিহীন দাবদাহের ঝুঁকি তৈরি হবে। এই পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী কৃষি উৎপাদন, বাস্তুতন্ত্র, সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনজীবনের ওপর মারাত্মক দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি
বিশ্বসাহিত্যের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করল সুইডিশ একাডেমি
ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যের নতুন রূপ সৃষ্টির স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর সাহিত্যে সম্মানজনক নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন কানাডিয়ান লেখক, কবি ও অনুবাদক অ্যান কারসন। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে দ্য সুইডিশ একাডেমি তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। একাডেমির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দীর্ঘ কর্মজীবনে সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত থাকা অ্যান কারসন তাঁর সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে বিশ্বসাহিত্যে বিশেষ অবদান রেখেছেন।
১৯০১ সালে প্রবর্তনের পর থেকে এ পর্যন্ত ১১৮ বার সাহিত্যে নোবেল দেওয়া হয়েছে। অ্যান কারসনসহ এখন পর্যন্ত মোট ১৯ জন নারী সাহিত্যে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি পেলেন। প্রসঙ্গত, এর আগের বছর (২০২৫ সালে) হাঙ্গেরির প্রখ্যাত লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন, যাঁর আলোচিত উপন্যাস ‘হার্শট ০৭৭৬৯’-এ সামাজিক অস্থিরতা ও মানবজীবনের টানাপোড়েন নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছিল।
চলতি বছরের নোবেল ঘোষণার ধারাবাহিকতায় আগামী শুক্রবার নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এবং ১৩ অক্টোবর অর্থনীতিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। নোবেল পুরস্কারের অংশ হিসেবে বিজয়ী পান একটি সম্মাননা ডিপ্লোমা, একটি স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের চেক। মানবকল্যাণে অসামান্য অবদানের জন্য ডিনামাইটের আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী ১৯০১ সাল থেকে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
/আশিক
গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে ফোনালাপে মিলিত হলেন দুই বিশ্বনেতা
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, কৃষ্ণসাগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে টেলিফোনে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। বুধবার তুর্কি যোগাযোগ অধিদপ্তরের এক বিবৃতির বরাতে বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই ফোনালাপের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান কৃষ্ণসাগরে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদারে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এই অঞ্চলে নিরাপদ নৌ চলাচল সুনিশ্চিত করতে তুরস্কের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার বিষয়টি পুতিনকে পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু করার ক্ষেত্রে তুরস্ক যেকোনো ধরণের সহযোগিতা প্রদান করতে প্রস্তুত বলে পুতিনকে নিশ্চিত করেছেন এরদোয়ান। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় এই ফোনালাপে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দেশটির দুমা নির্বাচনে পুতিনের রাজনৈতিক দলের সফলতায় অভিনন্দন জানান তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য, জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোতে আঙ্কারা ও মস্কোর মধ্যে নিবিড় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, যেখানে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কৃষ্ণসাগরের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন নৌ চলাচল উভয় দেশের আলোচনার মূল কেন্দ্রে স্থান পাচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
গুহাবাড়ির কঠিন লড়াই থেকে লাল চীনের মসনদ: শি জিনপিংয়ের ক্ষমতার রূপকথা
চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রায় ১৪ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন শি জিনপিং। এই সময়ে দেশটির কমিউনিস্ট পার্টি এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চীনের শক্ত অবস্থান তৈরিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন তিনি। তবে ৭৩ বছর বয়সী এই প্রভাবশালী নেতার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন সবসময় এতটা মসৃণ ছিল না। একসময় তিনি ছিলেন চীনের ক্ষমতাসীন রাজ রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান, যা তাকে 'রাজপুত্র' উপাধি দিয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতির আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে এক পর্যায়ে পরিবারের প্রায় সব সুবিধাই হারাতে হয়েছিল তাকে।
১৯৫৩ সালে বেইজিংয়ে জন্মগ্রহণ করেন শি জিনপিং। তার বাবা শি ঝংজুন ছিলেন চীনা কমিউনিস্ট বিপ্লবের অন্যতম প্রথম সারির নেতা ও গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী। শৈশবে নামকরা স্কুলে পড়াশোনা এবং বিশেষ কিছু সুবিধা পেলেও ১৯৬০-এর দশকের গোড়ার দিকে বদলে যায় পরিস্থিতি। শি ঝংজুনকে 'দলবিরোধী' চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করে গ্রামাঞ্চলের কারখানায় পাঠানো হয় এবং দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বাবার পতনের প্রভাবে কিশোর শি জিনপিংকেও 'প্রতিবিপ্লবী' সন্তান হিসেবে পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়। মাও জেদংয়ের আহ্বানে শহরের লাখো তরুণের মতো ১৫ বছর বয়সে শি-কেও গ্রামে চলে যেতে হয়। শানসি প্রদেশের লিয়াংজিয়াহে গ্রামের একটি গুহাবাড়িতে টানা সাত বছর কাটান তিনি। এই কঠিন সময়ে কৃষিকাজ, সার বহন ও নালা খননের মতো তীব্র শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে, যা তাকে বাস্তবিক জীবনবোধ ও প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখায়।
২২ বছর বয়সে গ্রাম ছেড়ে বেইজিংয়ের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চিংহুয়া বিশ্বিবদ্যালয়ে রাসায়নিক প্রকৌশলে ভর্তি হন শি। পড়ালেখা শেষে ফুজিয়ান ও ঝেজিয়াং প্রদেশে স্থানীয় কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন, যা পরবর্তীতে দেশের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত হয়। মাও জেদংয়ের মৃত্যুর পর তার বাবা রাজনৈতিক পুনর্বাসন পেলে বাবার পুরোনো যোগাযোগও শি-র রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে গতি আনে। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৭৯ সালে সাবেক চীনা রাষ্ট্রদূতের মেয়ে কে লিংলিংকে বিয়ে করলেও তিন বছর পর তাদের বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে তিনি খ্যাতনামা সামরিক লোকসংগীত শিল্পী পেং লিউয়ানকে বিয়ে করেন। ১৯৯২ সালে জন্ম নেওয়া তাঁদের একমাত্র কন্যা শি মিংজে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্বিবদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন বলে জানা যায়।
২০০৭ সালে সাংহাইয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক পদের দায়িত্ব সামলানোর পর শি জিনপিং চীনের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা পলিটব্যুরো স্থায়ী কমিটিতে জায়গা করে নেন। এরপর ২০১২ সালে হু জিনতাওয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং পরের বছর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার মেয়াদে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মতো বিশাল প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিশ্চিত করেছে চীন।
একই সময়ে হংকং, শিনজিয়াং ও তিব্বতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে ‘শি জিনপিং চিন্তাধারা’ নামে নতুন রাজনৈতিক মতাদর্শ সংবিধানে যুক্ত করেন তিনি। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ায় তার দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পথ সুগম হয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন, যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা ভারতের নরেন্দ্র মোদীর মতো বিশ্বনেতাদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালনা করছেন কিশোর বয়সে কঠিন বাস্তবতা পার করে উঠে আসা এই লৌহমানব।
/আশিক
তিন বছর ধরে জ্বলছে গাজা: ৭ অক্টোবরের হামলার বার্ষিকীতে শোক ও অস্থিরতা
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে ইসরাইলজুড়ে নানা স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। এই দিনটিতে নিহতদের স্মরণে বুধবার দেশটির বিভিন্ন স্থানে প্রার্থনা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, তিন বছর আগের ওই হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। ইসরাইলের ইতিহাসে অন্যতম প্রাণঘাতী সেই ঘটনার পরই গাজায় পূর্ণ মাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী।
ইসরাইলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত গাজায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যদিও ২০২৫ সালের অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তবুও উপত্যকাটিতে হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় আরও ১,৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ইসরাইল তাদের এসব পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে দাবি করে আসছে, হামলার মূল লক্ষ্য কেবল হামাসের সামরিক অবকাঠামো ও সশস্ত্র যোদ্ধাদের পরাস্ত করা।
হামলার তিন বছর পূর্তিতে ইসরাইলের বিভিন্ন শহর এবং যেসব এলাকা সরাসরি আক্রান্ত হয়েছিল, সেখানে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বিশেষ করে কিবুতজ কাফার আজা এলাকায় নিহতদের স্মরণে নিস্তব্ধতা পালন ও বিশেষ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অনেক বাসিন্দা আজও নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরতে পারেননি। এছাড়া যে নোভা সংগীত উৎসবে শত শত মানুষ নিহত হয়েছিলেন, সেখানে জড়ো হয়ে স্বজনেরা তাঁদের প্রিয়জনদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য জানান।
তিন বছর আগে শুরু হওয়া এই সহিংসতা ও যুদ্ধ গাজা এবং ইসরাইল অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় এক সুদূরপ্রসারী ও গভীর প্রভাব ফেলে চলেছে। বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এসব কর্মসূচি একদিকে যেমন ইসরাইলে নিহত ও জিম্মিদের স্মৃতিকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে পুরো অঞ্চলের অস্থিতিশীল বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।
/আশিক
নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৬: মহাকাশ স্টেশন নাকি ট্রাম্প, আলোচনায় যাদের নাম
এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতুহল ও আলোচনা তীব্র হচ্ছে। সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় এবার অন্যতম বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) নাম। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপির বরাতে বেশ কয়েকটি পূর্বাভাসদানকারী প্রতিষ্ঠান ও বিশ্লেষক এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জাতীয় স্বার্থের সংঘাত বৃদ্ধির মধ্যে বিভিন্ন দেশের যৌথ অংশগ্রহণে পরিচালিত এই মহাকাশ স্টেশনকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি অনন্য প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নোবেল কমিটির পূর্বাভাসদাতা হাকন গেরলোভের মতে, আইএসএস-কে পুরস্কৃত করা হলে তা বিশ্বশান্তি ও বৈশ্বিক ঐক্যের জন্য একটি ব্যতিক্রমী এবং জোরালো বার্তা পাঠাবে।
চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে। যার মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংস্থা রয়েছে। সম্ভাব্য বিশ্বনেতাদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য আলোচনায় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প একাধিকবার শান্তি পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা তাকে মনোনীত করার দাবি করলেও, নোবেল কমিটি সাধারণত ব্যক্তিগত মনোনয়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে না। বৈশ্বিক সংঘাত ও আন্তর্জাতিক নীতি সংক্রান্ত ইস্যুতে ট্রাম্পকে ঘিরে নানান বিতর্ক বিদ্যমান থাকায় তার সম্ভাব্য নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্কনীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ কাড়া কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও এই তালিকায় অন্যতম নাম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বাইরে বিশ্বব্যাপী চলমান যুদ্ধ, মানবিক সংকট ও অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত বেশ কয়েকটি সংস্থাও জোর আলোচনায় রয়েছে। সুদান, ইউক্রেন ও গাজা সংকট মোকাবিলায় বিশেষ অবদানের জন্য সুদানের জরুরি ত্রাণকর্মীদের নেটওয়ার্ক, ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মিকোলা কুলেবা এবং আন্তর্জাতিক শিশুবিষয়ক সংগঠন 'সেভ দ্য চিলড্রেন'-এর নাম তালিকায় এসেছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও বাকস্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করা সংগঠন 'কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস' (সিপিজে) এবং দুটি বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক আদালতের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে যখন সামরিক উত্তেজনা ও সহিংস সংঘাত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন মানবিক কাজ ও আন্তর্জাতিক মেলবন্ধনকে উৎসাহিত করতে এ বছরের শান্তি পুরস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। নরওয়ের অসলোতে আগামী ৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। ৯ অক্টোবরের সেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্য দিয়েই অবসান ঘটবে বিশ্বজুড়ে চলা সমস্ত জল্পনা-কল্পনার।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
হামলা হলে আরও ভয়াবহ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের, অস্ত্র উৎপাদন বাড়ল আড়াই গুণ
যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে কোনো সামরিক দুঃসাহস দেখালে তার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ও ধ্বংসাত্মক পাল্টা জবাব দেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক আক্রমণের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষের সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত ও প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে তেহরান।
মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালায়ি-নিক দেশটির বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব হবে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও কঠোর, যা প্রতিপক্ষের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে। বিশেষ করে 'কুহ-ই কোলাং' বা 'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন' অঞ্চলে কোনো আক্রমণের চেষ্টা করা হলে তার সমুচিত জবাব দিতে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী ইতোমধ্যেই শত্রুদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ও স্পর্শকাতর স্থানগুলো লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চূড়ান্ত করে রেখেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান তার নিজস্ব প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র, আধুনিক ড্রোন, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নৌ ও স্থলভাগের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন বিপুল পরিমাণে বাড়িয়েছে। বর্তমানে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও পার্টনার নেটওয়ার্কের আওতায় এক হাজারের বেশি সামরিক উপকরণ ও সরঞ্জাম তৈরি হচ্ছে, যেখানে কিছু বিশেষ প্রযুক্তির অস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা পূর্বের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি অর্জিত হয়েছে।
এ ছাড়াও মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে কৌশলগত সামরিক সম্পর্কের বিষয় তুলে ধরে তালায়ি-নিক জানান, চলমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা কূটনীতি, চুক্তি ও পরামর্শ মূলক লেনদেন বিন্দুমাত্র কমেনি; বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আরও বেশি জোরদার ও সুসংহত হয়েছে। ইসরায়েল মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের (CENTCOM) সহায়তায় নতুন করে ইরানে আগ্রাসনের পরিকল্পনা করছে—এমন সংবাদ প্রকাশের পরই তেহরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর সতর্কবার্তা ও সক্ষমতার তথ্য সামনে আনা হলো।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
পাঠকের মতামত:
- গড়াই নদীতে আবরার ফাহাদের নামে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- চম্পাফুলে তরুণ দলের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও আমের চারা বিতরণ
- বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় অস্থিরতা: রেকর্ড বাড়ল তেলের দাম
- আমরা ভারতবিরোধী নই, আধিপত্যবাদের বিরোধী: আসিফ মাহমুদ
- জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পথে রূপপুরের প্রথম ইউনিট
- রাজনৈতিক ভাষণে স্ত্রীর দেয়া বিশেষ বার্তার কথা ফাঁশ করলেন ট্রাম্প
- ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও রিজভীউল হাসান মুন্সী
- ভারতীয় চলচ্চিত্রে গভীর শোকের ছায়া: হঠাৎ থমকে গেল এক রূপালী পথচলা
- বিশ্বজুড়ে মহাবিপর্যয়ের সংকেত: সতর্কবার্তা দিল জাতিসংঘ
- আবহাওয়া দপ্তরের নতুন পূর্বাভাস: বর্ষার শেষে বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটুকু?
- ইতালিয়ান ফুটবলে কিংবদন্তি তারকার নতুন অধ্যায়: সূচি নিয়ে জল্পনা
- এলপিজি আমদানিতে ফ্রেইট চার্জের নাটকীয়তা: বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বিপিসি
- শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যে বড় পদক্ষেপ: দুই মাসে দেশজুড়ে ১ হাজার খেলার মাঠের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- ঢাবিতে শান্তি বৈঠক রূপ নিল সংঘর্ষে: সূর্যসেন ও জহুরুল হক হলের ৪ জন গুরুতর আহত
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর নির্দেশ গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর
- আবরার হত্যার আসামিদের আইনজীবী শিশির মনিরকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাশেদ খাঁন
- রমজানে পণ্য সংকটের আশঙ্কা নেই: পর্যাপ্ত আমদানির আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর
- চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত
- বিশ্বসাহিত্যের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করল সুইডিশ একাডেমি
- ১১ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আভাস: নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে ফোনালাপে মিলিত হলেন দুই বিশ্বনেতা
- ধর্ম-বর্ণ যেন নাগরিকের অধিকার ও সুযোগের বাধা না হয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছাবে সরকার: এক বছরব্যাপী ক্যাম্পেইনের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
- উচ্চদক্ষ প্রবাসীদের জন্য বড় স্বস্তি: কাজের ভিসার সাথেই মিলবে সৌদি পরিবারের এন্ট্রি ভিসা
- আবরারের রক্তে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য ও গণপ্রতিরোধের জন্ম: রুহুল কবির রিজভী
- আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এক যুগের অবসান ঘিরে দেশে দেশে আবেগের ঢল
- যন্তর মন্তরে তুলকালাম: পুলিশি বাধা ঠেলে রাজপথে ধর্নায় রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
- চিকিৎসা জার্নালে পুষ্টি ও লিভারের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন গবেষণা প্রকাশ
- রিয়াল মাদ্রিদের অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিয়ে স্প্যানিশ গণমাধ্যমের নতুন খবর
- গুহাবাড়ির কঠিন লড়াই থেকে লাল চীনের মসনদ: শি জিনপিংয়ের ক্ষমতার রূপকথা
- জ্বালানি খাতে বিইআরসির নতুন দর পুনর্নির্ধারণের ঘোষণা
- জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন অগ্রগতি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ
- তিন বছর ধরে জ্বলছে গাজা: ৭ অক্টোবরের হামলার বার্ষিকীতে শোক ও অস্থিরতা
- ফেডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিশ্ববাজার: দরপতনের মুখে স্বর্ণের দাম
- দেশে মূল্যস্ফীতি ও মজুরি হারের নতুন তথ্য প্রকাশ করল বিবিএস
- নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৬: মহাকাশ স্টেশন নাকি ট্রাম্প, আলোচনায় যাদের নাম
- শ্বাসনালির জমে থাকা মিউকাস দূর করতে পেঁয়াজ ও অলিভ অয়েলের জাদুকরী মিশ্রণ
- হামলা হলে আরও ভয়াবহ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের, অস্ত্র উৎপাদন বাড়ল আড়াই গুণ
- সরকারের ভুল নীতি ও সিন্ডিকেটের খেসারত দিচ্ছে নিম্নবিত্ত: নাহিদ ইসলাম
- ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল, সাথে থাকছে মার্কিন বাহিনী
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪২ ও তত্ত্বাবধায়ক কাঠামো নিয়ে সরকারের নয়া ঘোষণা
- পাঁচ-ই লাগবে, নুরের নির্দেশ: ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলায় গ্রেপ্তার ফারুক হোসেন
- গ্রাহকদের জন্য জরুরি নোটিশ, সাময়িকভাবে মিলবে না একাধিক কার্ড সেবা
- বিশ্বমঞ্চে অনিয়ম ঢাকার অভিযোগ, তোপের মুখে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি
- অনুশোচনা ছাড়া আওয়ামী লীগের সাথে মীমাংসা অসম্ভব: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
- সৌদি আরবের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা
- মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসন ও ইরানি উত্তেজনার মাঝে রিয়াদে নতুন কূটনৈতিক সেশন
- ছাত্রদলে ছাত্র নেই: সালমান মুক্তাদিরের মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন নাছির উদ্দীন নাছির
- ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্তিম পর্বে মেসি, প্রস্তুত ফুটবল বিশ্ব
- পাঁচ দিনের নতুন আবহাওয়া বুলেটিন প্রকাশ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বর্ষণের আভাস
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ ও মামলা নিয়ে এনসিপি নেতার বিস্ফোরক পোস্ট
- দলীয় পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা: আখতারুজ্জামানকে নেতা মানতে রাজি নয় জামায়াত
- এলপিজি আমদানি পর্যাপ্ত, তবু ১৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২৯০০: গ্যাস গেল কোথায়?
- ৩ মাসের মধ্যে দেশ থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাতের ঘোষণা চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির
- ষড় ঋতুর পালাক্রমের ছোঁয়ায় কুবিতে শীতের আগমনী বার্তা
- বয়স বাড়লেই বাড়ে ঝুঁকি, জেনে নিন প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মূল কারণ ও প্রতিকার
- বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার
- মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে ইয়েমেনে নতুন করে বিমান হামলা শুরু
- ভারতের সাথে গঙ্গার পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে, সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা
- ফেডের সিদ্ধান্তের আগে ডলারের সূচকে পতন, স্বর্ণের বাজারে নতুন মোড়
- প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে তোলপাড় দিল্লি, যন্তর মন্তরে বন্ধ ইন্টারনেট
- 'বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ ঠান্ডা মাথায় ভালো': রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার পর বোনের বিস্ফোরক মন্তব্য
- একদিনেই ৬১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি: ফের ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ইলন মাস্ক
- ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে ৩৫ যাত্রীকে রক্ষা, প্রাণ গেল চালকের
- পূর্ণ ক্ষমতায় রামপালের দুই ইউনিট, জাতীয় গ্রিডে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ








